কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামের মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় আদিনাথ মন্দির (Adinath Temple) অবস্থিত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই মন্দিরের রয়েছে আধ্যাত্মিক গুরুত্ব। হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবতা মহাদেবের নামানুসারে মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে আদিনাথ। আবার আদিনাথের অন্য নাম মহেশ, যা থেকে মহেশখালী নামের সৃষ্টি। মন্দিরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৫.৩ মিটার (প্রায় ২৮০ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত এবং মন্দিরে উঠতে হয় ৬৯টি সিঁড়ি বেয়ে। বর্তমানে এই মন্দির কমপ্লেক্সের ভেতরে রাখাইন বৌদ্ধ বিহার ও মসজিদ আছে এজন্য অনেকে মন্দিরটিকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসাবে আখ্যায়িত করেন। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে শিব চতুর্দশী উপলক্ষে ১০/১৫ দিনব্যাপী মেলা বসে তখন হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
কিভাবে যাবেন
কক্সবাজার থেকে যেতে হবে কস্তুরী ঘাট বা ৬ নং জেটি। কক্সবাজারের যেকোন জায়গা থেকে অটো রিক্সা অথবা সিএনজি নিয়ে চলে যান ঘাটে। কক্সবাজারের কস্তুরী ঘাট বা ৬ নং জেটি ঘাট থেকে জনপ্রতি ৮০-৮৫ টাকা ভাড়ায় স্পিডবোট করে মহেশখালী যাওয়া যায়, মহেশখালী পৌঁছাতে সময় লাগবে ১৫-২০ মিনিট। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কক্সবাজারের ৬ নম্বর জেটিঘাট থেকে মহেশখালীর গোরকঘাটা পর্যন্ত সি-ট্রাক সার্ভিস চালু হয়েছে। এতে একসঙ্গে ২৫০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন এবং ভাড়া মাত্র ৩৫ টাকা। এছাড়া ইঞ্জিন নৌকা দিয়েও যাওয়া যায়। চাইলে স্পিডবোট বা ইঞ্জিন নৌকা রিজার্ভ করে নিতে পারবেন। মহেশখালী ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য জানতে পড়তে পারেন আমাদের মহেশখালী ভ্রমণ গাইড ।
কোথায় খাবেন
মহেশখালীতে খাবার জন্য ইদানিং বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। সেখান থেকে পছন্দের খাবার খেতে পারেন। তবে খাওয়ার আগে দাম ভালো করে যাচাই করে নিবেন।
কোথায় থাকবেন
এখানে পর্যটকদের জন্য কোনো আবাসন গড়ে উঠেনি তাই মহেশখালিতে রাত্রি যাপন তেমন নিরাপদ নয়। রাতে কক্সবাজার কিংবা সুবিধাজনক স্থানে ফিরে যাওয়াই উত্তম। কক্সবাজার থাকা ও খাওয়ার বিস্তারিত জানতে পড়ে ফেলুন কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড ।
মহেশখালীর আরও যা দেখবেন
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে বৌদ্ধ বিহার, রাখাইন পাড়া, স্বর্ণমন্দির, ঝাউবন ও চরপাড়া বীচ, পান বরজ ও লবণের মাঠ। এছাড়া এই পাহাড়ি দ্বীপের চারপাশ ঘুরে দেখতে খারাপ লাগবেনা আপনার।