গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজারে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সফিপুর বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমী (Bangladesh Ansar VDP Academy) অবস্থিত। ১৯৭৬ সালে শুধুমাত্র আনসার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলেও ১৯৮৫ সালে এর সাথে ভিডিপি যুক্ত করা হয়। প্রায় ৩৫৯ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা এই একাডেমীতে মৌলিক শিক্ষাক্রম, দক্ষতা বৃদ্ধি, যুদ্ধ কৌশল, মাঠ কৌশল, অফিস ব্যবস্থাপনা ও আর্থ সামজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া পিকনিক ও শুটিং স্পট হিসেবেও সফিপুর আনসার একাডেমীর বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে।
সফিপুর আনসার একাডেমীর (Shafipur Ansar Academy) ভিতরে গাছগাছালিতে ঘেরা পাখ-পাখালির কুঞ্জনে মুখর লেকভিউ, তপবন, মালঞ্চ, জুঁই, হাসনাহেনা, আনন্দ ও বর্ণালী প্রভৃতি নামের প্রায় ২১টি পিকনিক স্পট বর্তমানে চালু আছে, যার মধ্যে একটি শুধুমাত্র ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত। আর একাডেমীর বিশাল প্যারেড মাঠে একসাথে ২,০০০ জন সদস্য কুচকাওয়াজ করতে পারে। ১৯৭১ সালে শহীদ হওয়া অফিসার ও আনসার সদস্যদের জন্য প্যারেড গ্রাউন্ডের দক্ষিণ পাশে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের কর্মব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে স্বস্থির নিঃশ্বাস নিতে অনেকেই ছায়া সুনিবিড় পরিবেশের এই আনসার একাডেমীতে ঘুরতে আসেন।
খরচ ও বুকিং দেয়ার নিয়ম
সফিপুর আনসার একাডেমীতে ২০০ থেকে ৩০০ জনের পিকনিকের জন্য স্পট ভাড়া সাধারণত ৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা এবং শুটিং স্পটের জন্য ভাড়া ১০,০০০ টাকা হয়ে থাকে। তবে সরকারি নীতি বা বুকিংয়ের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এই খরচের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি হেডঅফিস থেকে লিখিত অনুমতি বা অনুমোদন নিয়ে একাডেমীর পিকনিক স্পটগুলো ব্যবহার করা যাবে।
আনসার একাডেমির স্পটগুলো বুকিং করার জন্য সরাসরি খিলগাঁওয়ে অবস্থিত সদর দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়। ভাড়া নেয়ার জন্য আনসার একাডেমীর অফিশিয়াল বা আনসার ভিডিপির হেড কোয়ার্টার থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করতে হয়। এরপর তার সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা পে অর্ডার করে ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হয়। বড় গ্রুপের ক্ষেত্রে (যেমন ২০০ জনের বেশি) ক্যাটারিং বা খাবারসহ প্যাকেজ বুকিং করলে অনেক সময় স্পট ভাড়ার উপর বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়।
সরকারি অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে কিছুটা সময় লাগে। তাই পিকনিকের ভরা মৌসুমে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) অন্তত ২-৩ সপ্তাহ আগে আবেদন করা উচিৎ। কারন এই সময়ে বড় বড় গ্রুপের ভিড় থাকায় প্রক্রিয়াটিতে বাড়তি সময় লাগার সম্ভাবনা থাকে।
যোগাযোগ ওয়েলফেয়ার শাখা আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তর খিলগাঁও, ঢাকা মোবাইল নং: ০১৭৭৭৭১৫৮১৮, ০১৩১৩৪৯৯০৩২ ই-মেইল: ansarvdp@gmail.com Website | Facebook Page
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে নিজস্ব পরিবহন অথবা সায়েদাবাদ, মহাখালী বা গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা কালিয়াকৈর বা টাঙ্গাইলগামী যেকোনো বাসে (যেমন আজমেরি গ্লোরি বা অন্যান্য পরিবহন) সরাসরি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে সফিপুর আনসার একাডেমিতে যেতে পারবেন। গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় থেকে ৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে এই আনসার একাডেমী অবস্থিত। মহাসড়কের ঠিক পাশেই এর মূল ফটক হওয়ায় যাতায়াত বেশ সহজ।
কোথায় থাকবেন
অনুমতি সাপেক্ষে এবং সরকারি কোয়ার্টার বা রেস্টহাউজ খালি থাকা সাপেক্ষে আনসার একাডেমীর অভ্যন্তরে রাতে থাকার সুযোগ মিলতে পারে। তবে সাধারণ পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো গাজীপুরের স্বনামধন্য রিসোর্টগুলো। গাজীপুরে ভাওয়াল রিসোর্ট, নক্ষত্রবাড়ী, জল ও জঙ্গলের কাব্য, সোহাগ পল্লী, স্প্রিং ভ্যালী ও ছুটি রিসোর্ট সহ বেশকিছু অত্যাধুনিক রিসোর্ট রয়েছে। যেখানে আগে থেকে বুকিং করে রাতে বিলাসবহুল বা প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থান করা যায়।
কোথায় খাবেন
সফিপুর আনসার একাডেমীতে আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখলে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্যাকেজে খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া একাডেমীর বাইরে সফিপুর বাজারেও ভালো মানের বেশ কিছু স্থানীয় হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে দেশি খাবার, বিরিয়ানি ও বিভিন্ন স্ন্যাক্স মিলবে। তবে আপনারা যদি ভেতরে নিজেরা রাঁধতে চান, তাহলে নিরাপত্তার স্বার্থে রান্নার সরঞ্জাম বা বাবুর্চি নিয়ে প্রবেশের বিষয়টি আগেই বুকিং ফরমে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে হবে।
গাজীপুর জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
গাজীপুরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে নুহাশ পল্লী , ভাওয়াল রাজবাড়ি , সেইন্ট নিকোলাস চার্চ ও ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান উল্লেখযোগ্য। একই দিনে সফিপুর আনসার একাডেমীর সাথে নুহাশ পল্লী কভার করা সহজেই সম্ভব, কারণ দুটি স্থানই কাছাকাছি অবস্থিত।