ইটের পর ইট গেঁথে তৈরি ঢাকা শহরে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার মতো খোলা জায়গার অনেক অভাব। নাগরিক জীবনের এই ব্যস্ততা আর ক্লান্তি দূর করতে ঢাকার বুকে যে কয়েকটি মনোরম সবুজ চত্বর গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে বর্তমানে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক (Bashundhara Community Park) অন্যতম। ঢাকা শহরের অন্যতম সুপরিকল্পিত এবং অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিকের (Basundhara Residential Area) ভেতরে এই পার্কটি অবস্থিত। মূলত যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীদের একটু প্রশান্তি ও সুস্থ বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে (N Block) এই পার্কটির অবস্থান। চারদিকে সুউচ্চ ভবনের মাঝে এই পার্কটি যেন এক টুকরো মরূদ্যান। পার্কটির চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও ছায়ানিবিড়। সবুজে ঘেরা এই পার্কটিতে প্রতিনিয়ত সকাল এবং বিকেলে অসংখ্য মানুষ প্রাতঃভ্রমণ ও সান্ধ্যকালীন ভ্রমণের জন্য আসেন। বিশেষ করে পরিবার পরিজন বা বন্ধুদের সাথে কিছুটা কোয়ালিটি টাইম কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। ঢাকা শহরের অন্যান্য পাবলিক পার্কগুলোর তুলনায় এটি অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন এবং সুরক্ষিত, যা দর্শনার্থীদের এক অন্যরকম স্বস্তি দেয়।
যেহেতু এটি একটি ওয়াকিং ও ফিটনেস ফ্রেন্ডলি পার্ক, তাই এখানে আসার সময় আরামদায়ক পোশাক এবং হাঁটার উপযোগী জুতো (স্নিকার্স) পরে আসা ভালো।
বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কে কি আছে
বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কে প্রবেশ করলেই এর চমৎকার ল্যান্ডস্কেপিং দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। নাগরিক কোলাহলমুক্ত এই পার্কে দর্শনার্থীদের দেখার এবং উপভোগ করার মতো বর্তমানে বেশ কিছু সুন্দর উপাদান রয়েছে।
লেক: পার্কটির ঠিক মাঝখান জুড়ে রয়েছে পাড় বাঁধানো একটি চমৎকার ও সুবিশাল লেক। এটি দর্শনার্থীদের নগরজীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি দিয়ে শান্ত পরিবেশের অনুভূতি দেয়।
হাঁটার পথ ও সাইক্লিং লেন: লেকটিকে ঘিরে হাঁটার জন্য রয়েছে প্রশস্ত জগিং ট্র্যাক (Jogging Track) এবং সাইকেল চালানোর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা সাইক্লিং লেন (Cycling Lane)।
শিশুদের প্লে জোন: বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন রাইড, দোলনা ও স্লাইডসহ একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় খেলার মাঠ বা প্লে জোন রয়েছে।
ওপেন জিম ও ফিটনেস এরিয়া: স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য পার্কের ভেতরে আধুনিক শরীরচর্চার বিভিন্ন সরঞ্জাম বা ওপেন জিমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
হেরিটেজ এক্সপ্রেস ক্যাফে: হাঁটাচলা বা আড্ডার ফাঁকে একটু প্রশান্তির জন্য পার্কের ভেতরেই রয়েছে সবুজে ঘেরা একটি সুন্দর ক্যাফে ও বসার জায়গা।
অন্যান্য সুবিধা: পার্কটিতে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্নত পাবলিক টয়লেটের সুবিধা রয়েছে। পার্কটি হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের প্রবেশ ও পার্কিংয়ের জন্যও সম্পূর্ণ উপযোগী।
প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচি
বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কে প্রবেশের জন্য কোনো প্রবেশ মূল্য বা টিকিটের প্রয়োজন হয় না, এটি এখনও সবার জন্য উন্মুক্ত। পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৭:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে পার্কটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
কীভাবে যাবেন
বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কে যাওয়া বেশ সহজ। ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে আপনাকে প্রগতি সরণি হয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল গেটে (বসুন্ধরা গেট) আসতে হবে। আপনি কুড়িল বিশ্বরোড বা নদ্দা বাস স্টপেজে নেমে রিকশা বা সিএনজি নিয়ে বসুন্ধরা গেটে আসতে পারেন। বসুন্ধরা মূল গেট থেকে পার্কটির দূরত্ব কিছুটা বেশি হওয়ায় হেঁটে যাওয়ার চেয়ে রিকশা বা অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস (যেমন পাঠাও বা উবার) নেওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক। গেট থেকে রিকশায় চড়ে সরাসরি ‘বসুন্ধরা এন ব্লক কমিউনিটি পার্ক’ বললেই আপনাকে পার্কের সামনে নামিয়ে দেবে।
কোথায় খাবেন
পার্কের ভেতরেই রয়েছে হেরিটেজ এক্সপ্রেস ক্যাফে। এখানে চা-কফি, কোল্ড ড্রিংকস, পেস্ট্রি এবং হালকা স্ন্যাক্স পাওয়া যায়। দিনশেষে লেকের পাড়ে বসে কফির কাপে চুমুক দেওয়ার অনুভূতি সত্যিই দারুণ। এছাড়া পার্ক থেকে সামান্য দূরত্বে বসুন্ধরা অ্যাভিনিউ বা অন্যান্য ব্লকগুলোতে রয়েছে নামিদামি সব রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুডের চেইন শপ। বার্গার, পিৎজা, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে সব ধরনের দেশি-বিদেশি খাবারের জন্য আপনি পার্কের কাছাকাছি যেকোনো ভালো রেস্তোরাঁ বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পার্কের আশেপাশের ফুড কোর্টগুলো এখন বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে।