দয়াময়ী মন্দির (Doyamoyee Temple) জামালপুর জেলা শহরের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। ১৬৯৮ খ্রিস্টাব্দে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর আমলে শ্রীকৃষ্ণ রায় চৌধুরী এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ৬৫ শতাংশ জমির উপর নির্মিত দয়াময়ী মন্দিরে আলাদাভাবে শিব, কালি, নাটমন্দির এবং মনসা দেবীর মন্দির স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দয়াময়ী মন্দিরে শতবর্ষ পুরনো কারুকার্য খচিত বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন চিত্রকর্ম রয়েছে।
প্রায় ৩২১ বছরের পুরনো দয়াময়ী মন্দিরে প্রতিদিনই বিভিন্ন পূজা অর্চণা আয়োজন করা হয়ে থাকে এবং প্রতি বছর অষ্টমী মেলায় আগত হিন্দুধর্মালম্বীরা বিভিন্ন দেবতার উদ্দেশ্যে মানত করে থাকেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সুবিধার জন্য ঐতিহাসিক মন্দিরটি প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
জামালপুর কিভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেনে জামালপুর (Jamalpur) যাওয়া যায়। তবে ঢাকা হতে জামালপুর যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেনই বেশি সুবিধাজনক। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যমুনা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে জামালপুর যাওয়া যায়। আসনভেদে ট্রেনের টিকিটের ভাড়া লাগবে ১৭৫ থেকে ৪৭৮ টাকা। ঢাকা থেকে বাসে করে জামালপুর যেতে চাইলে মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে মহানগর, এনা কিংবা রাজীব পরিবহণের বাসে যেতে পারবেন। শ্রেণীভেদে বাসের ভাড়া লাগবে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা।
বাস কিংবা ট্রেনে জামালপুর জেলায় পৌঁছে রিক্সা বা ইজিবাইক ভাড়া করে পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মন্দির দর্শনে যেতে পারবেন।
জামালপুর কোথায় থাকবেন
জামালপুর সদরে অবস্থিত আবাসিক হোটেলগুলোতে রাতে থাকতে পারবেন। জামালপুরের আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল রায়ান ইন্টারন্যাশনাল ( 01735-544650 ), হোটেল তাজমহল ( 0981-63133 ), গ্র্যান্ড দেলোয়ার ( 01723-230002 ), হোটেল শাহজামাল ( 01712-225622 ), হোটেল সজিব ( 0981-62666 ) ও হোটেল আল সিরাজ ( 0981-62592 ) উল্লেখযোগ্য।