বিভাগীয় শহর খুলনা থেকে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দূরত্বে ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রাম অবস্থিত। দক্ষিণডিহি গ্রামেই রয়েছে একসময়ের জাঁকজমকপূর্ণ রায় বাড়ি তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয়। বর্তমানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয় (Father-In-Law’s House of Rabindranath) ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ নামে পরিচিত। এখানে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কবিপত্নী মৃণালিনী দেবীর আবক্ষ ভাস্কর্য এবং মূল দ্বিতল ভবন। এছাড়াও ঘন সবুজ বাগান, পুকুরঘাট, পান বরজ এবং সুসজ্জিত নার্সারি এই বাড়িটির শোভাবর্ধন করেছে।
জানা যায়, এই দক্ষিণডিহি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাতা সারদা সুন্দরী দেবী এবং কাকি ত্রিপুরা সুন্দরী দেবী। রবীন্দ্রনাথের পত্নী মৃণালিনী দেবীর (পূর্বনাম ভবতারিণী) পৈত্রিক ভিটাও এটি। যৌবনে বিশ্বকবি বেশ কয়েকবার এই দক্ষিণডিহি গ্রামের মামা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তাই কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে (২৫শে বৈশাখ ও ২২শে শ্রাবণ) প্রতিবছর জাতীয় পর্যায়ে এবং স্থানীয়ভাবে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে এই রবীন্দ্র কমপ্লেক্স।
শুরুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয় তথা বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত এ স্থানটি অবহেলিত থাকে। যার কারণে কবির অনেক স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয় প্রথম সংস্কার করা হয় এবং ১৯৯৯ সালে এই স্থানটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তির স্বীকৃতি লাভ করে।
শুরুতে বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত এ স্থানটি অবহেলিত থাকলেও বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সংরক্ষিত। ১৯৯৫ সালে এটি প্রথম সংস্কার করা হয় এবং ১৯৯৯ সালে স্থানটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তির স্বীকৃতি লাভ করে। আধুনিক সীমানা প্রাচীর ও মূল ভবনের অবকাঠামোগত সংস্কারের পর পর্যটকদের কাছে এই স্থানটি এখন আরও বেশি আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয় পরিদর্শনের সময় ও টিকেট
রোববার বাদে সপ্তাহের ছয় দিন দর্শনার্থীদের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয় খোলা থাকে। গ্রীষ্মকালে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা এবং শীতকালে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। দেশি দর্শনার্থীদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ৫০ টাকা ফির বিনিময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয় ঘুরে দেখতে পারেন।
কিভাবে যাবেন
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে ঢাকা থেকে সড়কপথে মাত্র ৪-৫ ঘন্টায় খুলনা পৌঁছানো সম্ভব। ঢাকা থেকে সোহাগ, হানিফ, গ্রিনলাইন বা দেশ ট্রাভেলস-এর মতো এসি/নন-এসি বাসে খুলনা আসা যায়। এছাড়া রেলপথে সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস অথবা জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ব্যবহার করে সরাসরি খুলনা স্টেশনে নামতে পারেন। ট্রেনে গেলে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ব্যাবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। খুলনা শহর থেকে সিএনজি অথবা ইজিবাইকে করে ফুলতলা উপজেলা সদর হয়ে সহজেই দক্ষিণডিহি গ্রামে অবস্থিত এই কমপ্লেক্সে পৌঁছানো যায়।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার উপায়
কোথায় থাকবেন
খুলনা শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে টাইগার গার্ডেন, হোটেল রয়েল, ক্যাসল সালাম, ওয়েস্টার্ন ইন, হোটেল হলিডে ইন্টারন্যাশনাল এবং হোটেল মিলেনিয়াম অন্যতম।
আরও পড়ুনঃ খুলনার সেরা ১০ আবাসিক হোটেল
কোথায় খাবেন
খুলনা শহরের শিববাড়ী মোড়, মজিদ সরণি এবং সোনাডাঙ্গা এলাকায় আধুনিক মানের অসংখ্য রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। খুলনার ঐতিহ্যবাহী চুইঝাল দিয়ে খাসির মাংসের স্বাদ নিতে চুকনগর বা শহরের মেজবানি রেস্টুরেন্টগুলোতে ঢুঁ মারতে পারেন। এছাড়া রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের আশেপাশেও সাধারণ মানের খাবার হোটেল পাওয়া যায়।