গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রামে অবস্থিত ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার (Friendship Center)। এটি মূলত একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ২০০২ সালে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ফ্রেন্ডশিপ’ নামের এই সংস্থাটি যাত্রা শুরু করে। তাদের নির্মিত ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়।
সম্পূর্ণ মাটির নিচে অবস্থিত এই ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার তার নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণশৈলীর জন্য ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে, যার মধ্যে স্থাপত্য শিল্পের নোবেলখ্যাত ‘আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার ২০১৬’ (Aga Khan Award for Architecture) অন্যতম। প্রাচীন মহাস্থানগড় বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষের অনুপ্রেরণায় নির্মিত এই অনন্য ভবনের স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। ভূমি সমতলে এই ভবনের ছাদের অবস্থান, আর ছাদের উপর শোভাবর্ধন করে আছে চোখ জুড়ানো সবুজ ঘাসের গালিচা।
২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর গাইবান্ধা-বালাসী সড়ক ঘেঁষে নির্মিত ব্যতিক্রমী এই স্থাপনাটিতে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা ছাড়াও রয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অভ্যন্তরীণ খেলাধুলা, লাইব্রেরি এবং সুনির্দিষ্ট পদের কর্মকর্তাদের থাকা-খাওয়ার আয়োজন। প্রায় ৮ বিঘা জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা এই ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটিতে আরও আছে ওয়াইফাই ইন্টারনেট সুবিধা, নিজস্ব সোলার ও ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিষমুক্ত সবজি চাষের জমি এবং ঔষধি গাছের বাগান।
ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার প্রবেশের নিয়ম ও অনুমতি
ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার কোনো বাণিজ্যিক পর্যটন কেন্দ্র বা সাধারণ পার্ক নয়, এটি মূলত একটি অফিস ও ট্রেনিং সেন্টার। তাই ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। তবে আপনি যদি এই অনন্য স্থাপত্যশৈলী দেখতে চান, তাহলে আগে থেকে ফ্রেন্ডশিপের অফিশিয়াল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে লিখিত বা ইমেইলের মাধ্যমে অনুমতি নিলে তবেই ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। অনুমতি ছাড়া সরাসরি চলে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় না।
যোগাযোগ ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ K-14/2A, বারিধারা উত্তর রোড (কালাচাঁদপুর), ঢাকা-1212 টেলিফোন: +88 02 8417733-39 ইমেইল: info-bd@friendship.ngo
ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের অনন্য নির্মাণশৈলী
সবুজ ঘাসে ঢাকা এবং চারদিকে মাটির দেয়ালবেষ্টিত ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের কক্ষগুলো প্রাকৃতিকভাবেই বেশ ঠাণ্ডা থাকে। তীব্র গরমেও এই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে এক ধরণের শীতল অনুভূতি পাওয়া যায়, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত। কক্ষগুলোতে সঠিকভাবে আলো এবং বাতাস চলাচলের জন্য রয়েছে ছাদ খোলা এক ধরণের অত্যাধুনিক ভেন্টিলেশন ও স্কাইলাইট ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য রয়েছে সুদৃশ্য জলাধার বা প্যাটিও। বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সভা, সেমিনার বা করপোরেট সমাবেশ আয়োজনের জন্য এই অপূর্ব স্থাপনাটি ভাড়ার বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
কিভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান হতে এসি/নন-এসি বেশকিছু বাস ঢাকা-গাইবান্ধা রুটে চলাচল করে। এদের মধ্যে এস আর ট্রাভেলস, আল হামরা পরিবহন, অরিন ট্রাভেলস, শ্যামলী উল্লেখযোগ্য। বাসের ধরণ অনুযায়ী জনপ্রতি বাস ভাড়া ৬৫০ থেকে ১১০০ টাকা। এছাড়া ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস এবং লালমনিরহাট এক্সপ্রেস ট্রেনে করে গাইবান্ধা আসতে পারবেন।
গাইবান্ধা বাস টার্মিনাল বা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজি অটোরিকশা অথবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে সরাসরি ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে পৌঁছাতে পারবেন। শহর থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে পৌঁছাতে।
কোথায় থাকবেন
গাইবান্ধায় রাত যাপনের জন্যে আছে গাইবান্ধা সার্কিট হাউজ, এসকেএস ইন হোটেল ও গণ উন্নয়ন কেন্দ্র । এরমধ্যে কলেজ রোডে অবস্থিত এসকেএস ইন হোটেলের মান সবচেয়ে ভাল। রুমের সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী ভাড়া ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা।