ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফানসিটি শিশু পার্ক (Funcity Amusement Park)। সকল বয়সের মানুষের চিত্তবিনোদনের উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই পার্কটি অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার অন্যতম পিকনিক স্পটে পরিণত হয়েছে। ফানসিটি শিশু পার্কের চমৎকার স্থাপত্য শৈলী এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড আগত দর্শনার্থীদের বিনোদিত করে।
ফানসিটি শিশু পার্কে আছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাবলির নিদর্শন, সাম্পান নৌকা, টয় ট্রেন, মিউজিক চেয়ার, মোটরকার, ভিডিও গেমস, দোলনা, দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ, আম ও লিচুর বাগান এবং নিজস্ব কার পার্কিং ব্যবস্থা। আর পার্কের প্রতিটি দেওয়ালে অঙ্কিত রয়েছে বিভিন্ন বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক এবং বিজ্ঞানীদের ছবি।
ফানসিটি শিশু পার্কের প্রবেশ ফি জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং প্রতিটি রাইড উপভোগ করতে ২০-৩০ টাকা করে ব্যয় করতে হয়। পিকনিকের জন্য আগত মিনিবাসের প্রবেশ ফি ৫০০ টাকা এবং মাইক্রো বাসের প্রবেশ ফি ৩০০ টাকা।
যোগাযোগ মোবাইল: 01712-061076
কিভাবে যাবেন
ফানসিটি শিশু পার্কটি পীরগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ রাস্তার উত্তর পার্শ্বে (পুরাতন আরডিআরএস মোড়) অবস্থিত। ঠাকুরগাঁও, বীরগঞ্জ এবং দিনাজপুর থেকে সরাসরি সড়ক পথে মিনিবাস বা মাইক্রোতে চড়ে পার্কে যাওয়া যায়।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও থেকে বাস বা সিএনজিযোগে রাণীশংকৈল বাস স্ট্যান্ড এসে সেখান থেকেও সড়ক পথে পার্কে যেতে পারবেন।
ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে ঠাকুরগাঁও আসা যায়। সড়ক পথে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও এর পথে বেশকিছু বাস সার্ভিস চলাচল করে তাদের মধ্যে কর্ণফুলী পরিবহন ( 01674-805164 ), হানিফ এন্টারপ্রাইজ, নাবিল পরিবহন, বাবলু এন্টারপ্রাইজ এবং কেয়া পরিবহন অন্যতম। এসি/নন-এসি এসব বাসের জনপ্রতি টিকেটের ভাড়া ৮০০-১৮০০ টাকা।
এছাড়া ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে ঠাকুরগাঁও আসতে পারেন। শ্রেণী অনুযায়ী ট্রেন টিকেটের ভাড়া জনপ্রতি ৬৯৫ থেকে ২,৪৪৮ টাকা পর্যন্ত।
কোথায় থাকবেন
ঠাকুরগাঁও-এ বেশকিছু সরকারি ডাকবাংলো বা রেস্ট হাউস রয়েছে। কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এসব রেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল সালাম ইন্টার ন্যাশনাল, প্রাইম ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল শাহ্ জালাল, হোটেল সাদেক উল্লেখযোগ্য।
কোথায় খাবেন
প্রাত্যহিক খাবারের চাহিদা পূরণের জন্য এখানে সাধারণ ও মধ্যম মানের হোটেল-রেস্তোরাঁ পাবেন। তবে আমের সিজনে ঠাকুরগাঁও গেলে অবশ্যই এখানকার বিখ্যাত সূর্যপুরী আম খেয়ে আসবেন।