গান্ধী আশ্রম (Jamalpur Gandhi Ashram) জামালপুর জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের কাপাশহাটিয়া গ্রামে অবস্থিত। ১৯৩৪ সালে মহাত্মা গান্ধিজীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন জামালপুর মহকুমা কংগ্রেসের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন সরকার। এই আশ্রমে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নানা কর্মপরিকল্পনা করা হত। এছারাও এই আশ্রম থেকে চরকায় সুতা তৈরি, হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ, লেখাপড়া ও শরীরচর্চা কার্যক্রম চালানো হত। এই আশ্রম তখন পরিণত হয়েছিল ঐ অঞ্চলের মুক্তিকামী মানুষের মিলনমেলায়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এ আশ্রমের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয় আশ্রমটির কার্যক্রম।
স্থানীয় সরকার ও জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধায়নে এখানে একটি দ্বিতল মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম জাদুঘর ভবন (Freedom Struggle Museum) ও অডিটরিয়াম তৈরি করা হয়েছে। ব্রিটিশ শাসন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তি সংগ্রামের নানা ছবি ও মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এক একর জমির ওপর স্থাপিত জামালপুরের এই গান্ধী আশ্রম ও মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘর হাজারো দর্শনার্থীর ইতিহাস চেতনাকে করছে সমৃদ্ধ। নতুন প্রজন্ম ও দর্শনার্থীর মনে ছড়িয়ে দিচ্ছে দেশপ্রেম, সংগ্রামের সাহস ও প্রেরণা।
কিভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেনে করে জামালপুর যাওয়া যায়। তবে জামালপুর যাওয়ার জন্য ট্রেন সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিস্তা এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, জামালপুর এক্সপ্রেস, যমুনা এক্সপ্রেস ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে জামালপুর যাওয়া যায়। ট্রেনের আসনভেদে ভাড়া লাগবে ১৭৫ টকা থেকে ৪০৩ টকা পর্যন্ত। ঢাকা থেকে বাসে করে জামালপুর যেতে চাইলে মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে মহানগর, এনা কিংবা রাজীব পরিবহণের বাসে ৫০০ টকা থেকে ৬০০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন।
জামালপুর সদর উপজেলা থেকে কাপাসহাটিয়া যেতে খরচ পড়বে জনপ্রতি ৭০-১০০ টাকা। রাস্তা সরু হওয়ায় মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও বড় বাস নিয়ে যাওয়া যাবে না।
কোথায় থাকবেন
গান্ধী আশ্রম এলাকায় থাকার কোনো সুব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। রাতে থাকার জন্য জামালপুরের আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল গ্র্যান্ড সেফির, হোটেল রওশন ইন, হোটেল রাইয়ান ইন.(রিস), হোটেল আল সামাদ ও হোটেল সুন্দরবন উল্লেখযোগ্য।
কোথায় খাবেন
গান্ধী আশ্রম এলাকায় বেশ কিছু ছোট রেস্তোরা পাবেন সেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার খেতে পারবেন। এছাড়াও জামালপুর শহরে হোটেল, সম্রাট, তাজ হোটেল নামক কয়েকটি রেস্তোরা সহ অনেক ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে, যেখানে আপনি জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবার পাবেন।
জামালপুর জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
জামালপুর জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে মালঞ্চ মসজিদ , শাহ জামালের মাজার , দয়াময়ী মন্দির , লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্ক , লাউচাপড়া পিকনিক স্পট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।