বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খুলনা জেলার রূপসা-ভৈরব বিধৌত অঞ্চলের কাছে, খুলনা সেনানিবাস (Jahanabad Cantonment) এলাকায় গিলাতলার শিরোমণি নামক স্থানে যশোর রোডের পাশেই অবস্থিত জাহানাবাদ অ্যাডভেঞ্চার বেস (Jahanabad Adventure Base)। সবুজ প্রকৃতির মাঝে রোমাঞ্চের এক অপার বিস্ময় আর শিহরনের নাম এই পার্কটি। আপনি যদি নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে একটি স্মরণীয় দিন কাটাতে চান, তবে এটি আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে।
প্রায় কয়েক একর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ জুড়ে গড়ে ওঠা এই আধুনিক বিনোদন পার্কটি তার রোমাঞ্চকর রাইড এবং চমৎকার প্রাকৃতিক আবহের জন্য খুলনার অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নামের উৎপত্তি ও ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই অঞ্চলটি ঐতিহাসিক খান জাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত হওয়ায় পার্কটির নামকরণ সেনা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে “জাহানাবাদ” হিসেবে করা হয়েছে। এর মূল বিশেষত্ব হলো, এখানে একই সাথে আধুনিক বিশ্বমানের রাইডের অভিজ্ঞতা এবং পাশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বনবিলাস চিড়িয়াখানার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
প্রধান আকর্ষণ ও রাইড
দর্শনার্থীদের বিনোদন ও রোমাঞ্চের স্বাদ দিতে পার্কটিতে বেশ কিছু বিশ্বমানের ও বৈচিত্র্যময় রাইড স্থাপন করা হয়েছে। ছোট-বড় সবার জন্যই এখানে রয়েছে আনন্দের ভরপুর খোরাক:
Khulna Eye: এটি পার্কের অন্যতম প্রধান এবং আকর্ষণীয় রাইড (জায়ান্ট হুইল)। এই রাইডে চড়ে যখন আপনি একদম উঁচুতে উঠবেন, তখন পুরো জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট এলাকা এবং আশেপাশের চমৎকার দৃশ্য ওপর থেকে উপভোগ করতে পারবেন।
Gyroscope: আপনি যদি চরম অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তবে এই রাইডটি আপনার জন্য। শূন্যে উল্টো হয়ে ঝুলে চারদিকে ঘোরার এক দারুণ ও রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেয় এই জাইরোস্কোপ।
Voltage Point: এটি মূলত তরুণ ও শিশুদের ব্যালেন্সিং করার জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং নিরাপদ জাম্পিং জোন।
Hill Tracing: যারা ট্রেকিং বা পাহাড়ে চড়া পছন্দ করেন, তাদের জন্য এখানে রয়েছে কৃত্রিম পাহাড়ে চড়ার (Artificial Rock Climbing) চমৎকার ব্যবস্থা।
Water Park: গরমের সময়ে দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম সেরা আকর্ষণ হলো এখানকার শীতল জলের ওয়াটার রাইড ও পুল। কৃত্রিম ঝরনা আর পানিতে মেতে ওঠার জন্য এটি চমৎকার।
এছারাও সব বয়সীদের জন্য বাম্পার কার, বাচ্চাদের বাস্কেটবল গ্রাউন্ড, একটি চমৎকার ট্রি-হাউস (Tree House) এবং বড় গ্রুপের জন্য ফুতসাল ফিল্ডসহ (Futsal Field) ডেডিকেটেড পিকনিক স্পটের ব্যবস্থা রয়েছে।
সময়সূচী ও প্রবেশ টিকেট
জাহানাবাদ অ্যাডভেঞ্চার বেস পার্কটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। এই পার্কে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি প্রবেশ টিকিটের মূল্য মাত্র ৮০ টাকা। পার্কের ভেতরে বৈচিত্র্যময় ও রোমাঞ্চকর রাইডগুলো উপভোগ করতে রাইডভেদে টিকিটের মূল্য ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
যোগাযোগ যশোর রোড, শিরোমণি, খুলনা মোবাইলঃ 01329-634420 ই-মেইলঃ info@jabbd.com Website | Facebook Page
কিভাবে যাবেন
জাহানাবাদ অ্যাডভেঞ্চার বেস পার্কটি খুলনা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে কিছুটা দূরে গিলাতলা ও শিরোমণি এলাকার কাছাকাছি খুলনা-যশোর মহাসড়কের একদম পাশেই অবস্থিত, ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ। আপনি যদি দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে খুলনা শহরে আসেন, তবে শহরের প্রধান কেন্দ্র শিববাড়ী মোড় অথবা দৌলতপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন। শিববাড়ী বা দৌলতপুর থেকে লোকাল বাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা কিংবা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে সরাসরি যশোর রোডের শিরোমণিতে অবস্থিত এই পার্কের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছানো যায়। খুলনা শহরের শিববাড়ী মোড় থেকে সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে এখানে পৌঁছাতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার উপায়
কোথায় থাকবেন
পার্কটি খুলনা শহরের কাছে হওয়ায় পর্যটকরা রাতে থাকার জন্য খুলনা শহরেই ফিরে আসেন। খুলনায় শহরে আপনার পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী অনেক হোটেল পেয়ে যাবেন। এর মধ্যে হোটেল সিটি ইন, টাইগার গার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল, সিটি ইন লিমিটেড, হোটেল ক্যাসল সালাম, ওয়েস্টার্ন ইন, হোটেল হলিডে ইন্টারন্যাশনাল ও হোটেল মিলেনিয়াম উল্লেখযোগ্য।
কোথায় খাবেন
জাহানাবাদ অ্যাডভেঞ্চার বেস পার্কের ভেতরেই রয়েছে একটি চমৎকার আধুনিক রেস্তোরাঁ। এখানে আপনি পাবেন দেশী ও বিদেশী নানা পদের সুস্বাদু খাবার। বিশেষ করে দুপুরের লাঞ্চ বা বিকেলের স্ন্যাক্সের জন্য এই রেস্টুরেন্ট অনেক জনপ্রিয়। এছাড়াও আপনি যদি খুলনার ঐতিহ্যবাহী চুইঝাল দিয়ে গরুর মাংসের স্বাদ নিতে চান, তবে পার্কের বাইরে যশোর রোডের আশেপাশের স্থানীয় জনপ্রিয় হোটেল কিংবা খুলনা শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকার চুইঝালের হোটেলগুলোতে খেয়ে দেখতে পারেন।
ভ্রমণ টিপস
রাইড সতর্কতা: জাইরোস্কোপ (Gyroscope) এর মতো উচ্চ রোমাঞ্চকর রাইডগুলোতে চড়ার আগে অবশ্যই নিজের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করবেন। হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
সময় নির্বাচন: দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে বিকেল ৩:০০ টার পর পার্কে প্রবেশ করলে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানো যায় এবং চমৎকার ছবি তোলা যায়।
এক সাথে দুটি ভ্রমণ: পার্কটির একদম পাশেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বনবিলাস চিড়িয়াখানা (Bonobilas Zoo)। কোনো কারণে যদি আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে, তবে একই সাথে পার্ক ও চিড়িয়াখানা ভ্রমণের দ্বিগুণ অভিজ্ঞতা নিতে ভুলবেন না।