সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বাংলাদেশ থেকে এত দূরের পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়া খুবই চমৎকৃত হবার মতই দৃশ্য।
বিস্তারিত বিবরণ
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বাংলাদেশ থেকে এত দূরের পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়া খুবই চমৎকৃত হবার মতই দৃশ্য।
বছরের একটি বিশেষ সময়েই শুধুমাত্র বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় খুব ভালো ভাবে। তাই বছরের এই সময়টিতে সকলেই ভিড় করেন পঞ্চগড়ে, বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলাতে।
কখন দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা?
সারা বছর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আকাশ মেঘহীন থাকলে দূরে বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের চূড়া দেখতে পাওয়া যায়। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যেতে চাইলে আপনাকে উপরোক্ত সময়ের ভিতর যেতে হবে এবং ঐ সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে।
তবে অনেকসময় উপযুক্ত সময়ে গেলেও ভাগ্য খারাপ থাকলে কাঞ্চনজঙ্গার দেখা পাওয়া যায় না। দেখা গেলো আপনি গেলেন, কিন্তু সেইসময় কুয়াশা বা আকাশে মেঘের দেখা দিলো, তখন আর দেখতে পেলেন না। আবার কাঞ্চনজঙ্গা ভোরের আলো ফোটার পর থেকে সকালের কিছু সময় ভালো দেখা যায়। তাই দেখতে হলে আপনার উপযুক্ত সময়ে যেমন যেতে হবে তেমনি ভাগ্যও সহায়ক হতে হবে। আসার আগে অবশ্যই আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা জেনে আসবেন। নয়তো কষ্ট করে অনেক দূর থেকে হতাশা নিয়ে ফিরতে হবে।
টিপসঃ আপনার উদ্দেশ্য যদি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার হয় অন্তত দুই দিনের প্ল্যানে যাবেন, যেন একদিন দেখতে না পেলেও অন্যদিন দেখতে পাবার সুযোগ তৈরি হয়।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সেরা স্থান
আকাশ ভালো থাকলে পঞ্চগড়ের প্রায় সব ফাঁকা জায়গা হতেই কাঞ্চনজংঘা দেখা যায়। এমকি মাঝে মাঝে ঠাকুরগাঁও থেকেও দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে কাঞ্চনজংঘা দেখার সবচেয়ে ভালো স্থান তেঁতুলিয়া। সবচেয়ে ভালো দেখতে হলে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, শালবাহান, মাঝিপাড়া, রণচন্ডী, বেরং ব্রীজ এই জায়গা গুলোতে অবস্থান নিতে পারেন।
তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরে কুচবিহারের রাজা কতৃক নির্মিত ভিক্টোরিয়ান ধাঁচে বানানো একটি ঐতিহাসিক ডাকবাংলো রয়েছে। মহানন্দা নদীর তীরে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা ডাকবাংলো থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় সবচেয়ে সুন্দর ভাবে। তাই সবারই পছন্দ এই জায়গাটিই।
তেঁতুলিয়া/পঞ্চগড় যাবার উপায়
ঢাকা থেকে সরাসরি তেঁতুলিয়া যেতে চাইলে হানিফ অথবা বুড়িমারী এক্সপ্রেস বাসে যাওয়া যাবে। এসি/নন এসি এসব বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৯০০ থেকে ১৯০০ টাকা। এছাড়া পঞ্চগড় হয়ে তেতুলিয়া যেতে পারবেন।
ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস , একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় আসতে পারেন। শ্রেণী অনুযায়ী ট্রেন টিকেটের ভাড়া জনপ্রতি ৭৪০ থেকে ২,৫৯৮ টাকা পর্যন্ত।
পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ায় পথে সারাদিন নিয়মিত বিরতিতে লোকাল বাস চলাচল করে। বাসের টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ৮০ টাকা। পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন এবং চৌরঙ্গী মোড় থেকে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার জন্য প্রাইভেট কার ও মাইক্রো ভাড়া করতে পারবেন। প্রাইভেট কার ও মাইক্রো রিজার্ভ করতে আনুমানিক ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা ভাড়া লাগবে।
কোথায় থাকবেন
তেতুলিয়ায় কাজী ব্রাদার্স হোটেল ও সীমান্তের পাড় নামে দুইটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে নন এসি রুম ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা ও এসি ডাবল বেডের ভাড়া ১,১০০-১,৫০০ টাকা।
মহানন্দা নদী তীরের ডাকবাংলোতে থাকতে চাইলে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। বন বিভাগের রেস্টহাউস এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে পূর্ব অনুমতি সাপেক্ষ্যে থাকতে পারবেন।
এছাড়া পঞ্চগড়ের সাধারণ মানের আবাসিক হোটেলে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকায় নন-এসি কক্ষে থাকতে পারবেন। ১০০০-১৫০০ টাকায় এসি কক্ষ ভাড়া করতে পারবেন।
পঞ্চগড়ে আর দেখার মত কি কি আছে?
আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেয়ে অনেককেই হতাশ হতে হয়। শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় পঞ্চগড় না গিয়ে পঞ্চগড় সহ আশেপাশের জায়গা ঘুরে দেখা সহ প্ল্যান করুন। হেমন্তের এই সময় উত্তরবঙ্গ এর আলাদা এক সৌন্দর্য আছে যা আপনাকে বিমোহিত করবে। উত্তরের হিমালয় থেকে ভেসে আসা হালকা হিম বাতাসে দেহ প্রাণ জুড়াবে।
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট
তেতুলিয়া ডাকবাংলো
কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট
মিনি মিনা বাজার
আনন্দধারা রিসোর্ট (পূর্ব অনুমতি নিতে হবে)
মহারাজার দিঘী
সলিল্যান্ড টি গার্ডেন
রকস্ মিউজিয়াম
মির্জাপুর শাহী মসজিদ
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
আরও দেখুন
সব দেখুন
সাজেক ভ্যালি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

সাজেক ভ্যালি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

মেলখুম গিরিপথ
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আটোয়ারী ইমামবাড়া
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

বাড়বকুণ্ড ট্রেইল
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
