সংক্ষিপ্ত বিবরণ
কেওক্রাডং (Keokradong) পাহাড় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। প্রায় ৩১৭২ ফুট উঁচু এ পর্বতকে এক সময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মনে করা হত কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে পরিমাপে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসাবে এর অবস্থান পঞ্চম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর নিখুঁত উচ্চতা এবং চারপাশের পাহাড়ী ল্যান্ডস্কেপ একে ট্র্যাকার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে একটি স্বর্গরাজ্য বানিয়ে তুলেছে।
বিস্তারিত বিবরণ
কেওক্রাডং (Keokradong) পাহাড় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। প্রায় ৩১৭২ ফুট উঁচু এ পর্বতকে এক সময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মনে করা হত কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে পরিমাপে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসাবে এর অবস্থান পঞ্চম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর নিখুঁত উচ্চতা এবং চারপাশের পাহাড়ী ল্যান্ডস্কেপ একে ট্র্যাকার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে একটি স্বর্গরাজ্য বানিয়ে তুলেছে।
কেওক্রাডং নামটি এসেছে স্থানীয় আদিবাসী মারমাদের থেকে। মারমা ভাষায় কেওক্রাডং মানে সবচেয়ে উঁচু পাথরের পাহাড়। দূর থেকে কেওক্রাডাং এর উচ্চারণ বা চূড়া শূন্যে মিলিয়ে আছে বলে মনে হয়। আর চূড়ায় উঠলে পাহাড় মেঘের মিতালী আপনাকে আন্দোলিত করবে মায়াবী আকর্ষনে। বিশেষ করে বর্ষা এবং শীতের শুরুতে এখানে মেঘের যে রূপ দেখা যায়, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চূড়ার জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে চারদিকের দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের সারি দেখলে মনে হয় যেন এক সবুজ সমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন।
কেওক্রাডং যাবার উপায়
দেশের যে প্রান্তেই থাকেন আপনাকে প্রথমে বান্দরবান আসতে হবে কেওক্রাডং যাবার জন্যে। তারপর বান্দরবান থেকে সরাসরি গাড়ি রিজার্ভ করে রুমাবাজার ও বগালেক হয়ে কেওক্রাডং যেতে পারবেন। অথবা বান্দরবান থেকে প্রথমে রুমা বাজার, তারপর রুমা বাজার থেকে বগালেক হয়ে কেওক্রাডং ভেঙ্গে ভেঙ্গেও যেতে পারবেন। বান্দরবান থেকে সরাসরি গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে গেলে খরচ বেশি হয় বলে অনেকেই বান্দরবান থেকে প্রথমে রুমা বাজার চলে যায়, তারপর সেখান থেকে আবার গাড়ি নিয়ে কেওক্রাডং যাত্রা করে থাকেন। তবে পরিবার বা বয়স্ক মানুষ সাথে থাকলে সরাসরি গাড়ি রিজার্ভ করাই সবচেয়ে আরামদায়ক এবং সময়সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত। শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক বান্দরবান যাবার উপায়।
ঢাকা থেকে বান্দরবান
ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে এস. আলম, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন পরিবহন, ইউনিক, হানিফ, শ্যামলি, ডলফিন ইত্যাদি পরিবহনের বাস বান্দারবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জনপ্রতি এসব বাসের ভাড়া যথাক্রমে নন এসি ৮০০-৯০০ টাকা ও এসি ১২০০-১৮০০ টাকা। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান যেতে সময় লাগে ৭-৯ ঘন্টা।
ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে পর্যটক এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস , সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিতা, মহানগর গোধূলি এইসব ট্রেনে করে চট্রগ্রাম যেতে পারবেন। শ্রেনীভেদে ভাড়া ৪০৫ থেকে ১৩৯৮ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে আকাশ পথে সরাসরি চট্রগ্রাম আসতে পারবেন। চট্টগ্রাম থেকে বাসে বা প্রাইভেট কারে বান্দরবান যেতে পারবেন।
অন্যান্য জেলা থেকে বান্দরবান
দেশের অন্য যে জেলা থেকেই আসেন, সরাসরি বান্দরবান যাবার উপায় না থাকলে চট্টগ্রাম চলে আসুন। উত্তরবঙ্গ বা সিলেট থেকে সরাসরি বাস না থাকলে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম এসে সেখান থেকে খুব সহজেই বান্দরবান যাওয়ার কানেক্টিং বাহন পেয়ে যাবেন।
চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান
চট্টগ্রামের নতুন ব্রীজ বাস স্টেশন থেকে পূবালী ও পূর্বানী বাস বান্দারবান যায়। এ দুটি বাসে জনপ্রতি ১৫০-১৮০ টাকা ভাড়া লাগে। সময় লাগবে প্রায় ২ ঘন্টা। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে প্রাইভেট কার বা হাইace মাইক্রোবাস ভাড়া করেও যেতে পারবেন বান্দরবান। যদি গ্রুপ বড় হয়, তবে প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস নেওয়াটাই টাকা উসুল পারফরম্যান্স দেবে।
আরও পড়ুনঃ বান্দরবান যাওয়ার উপায়, ভাড়া ও অন্যান্য তথ্য
বান্দরবান থেকে কেওক্রাডং যাওয়ার উপায়
বর্তমানে বান্দরবান থেকে গাড়ি নিয়ে রুমা বাজার ও বগালেক হয়ে সরাসরি কেওক্রাডং পর্যন্ত যাবার রাস্তা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। তাই বান্দরবান শহর থেকেই চান্দের গাড়ি বা জীপ গাড়ি নিয়ে সরাসরি কেওক্রাডং যাওয়া যায়। বান্দরবান থেকে কেওক্রাডং এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। বান্দরবান থেকে সরাসরি কেওক্রাডং যাবার ভাড়া ১৩,০০০-১৪,০০০ টাকা পর্যন্ত। এক গাড়িতে ১০-১৫ জন যেতে পারবেন। পাহাড়ের খাড়া ও আঁকাবাঁকা রাস্তায় জীপের এই জার্নি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই কিছুটা শারীরিক পরিশ্রমেরও।
এছাড়া বান্দরবান থেকে রুমা বাজার গিয়ে সেখান থেকে গাড়ি ও গাইড নিয়ে যেতে পারবেন কেওক্রাডং। বান্দরবান থেকে রুমা বাজার এর দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটার। লোকাল বাস কিংবা চাঁন্দের গাড়ি/জীপে করে রুমা বাজার যাওয়া যায়। বান্দরবানের রুমা বাস স্ট্যান্ড থেকে সকাল ৭ঃ৩০ হতে ১ ঘন্টা পর পর বাস রুমার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জনপ্রতি ভাড়া ১৪০ টাকা, সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘন্টার মত।
দলগত ভাবে গেলে রুমা বাজার যেতে পারেন জীপ/চান্দের গাড়িতে করে। বান্দরবান শহরের জীপ স্টেশন থেকে ৪০০০-৪৫০০ টাকা ভাড়ায় গাড়ি নিতে হবে। গাড়িতে রুমা যেতে সময় লাগবে ২ ঘন্টার মত।
রুমা বাস স্ট্যান্ডের আগেই রুমা টুরিস্ট এসিস্ট্যান্স সেন্টারে আপনার ও আপনার সঙ্গী সকলেরই নাম ঠিকানা মোবাইল নাম্বার এন আইডি নাম্বার সহ সকল তথ্য পূরণ করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়মটি কঠোরভাবে পালন করা হয়, তাই জাতীয় পরিচয়পত্রের একাধিক কপি সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এর পর রুমা বাজার পৌঁছে কেওক্রাডং যাবার জন্যে প্রথমেই আপনাকে গাইড ঠিক করে নিতে হবে। গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক। গাইড সমিতির অফিস থেকে যে কোন রেজিস্টার্ড গাইড ঠিক করে নিতে হবে। গাইডের থাকা খাওয়ার খরচ আপনাকেই বহন করতে হবে। চাইলে আগেই কোন গাইডের সাথে কথা বলে রাখতে পারেন। একজন ভালো ও অভিজ্ঞ গাইড আপনার পুরো ট্রিপের নিরাপত্তা ও আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
রওনা হবার আগে রুমা বাজার আর্মি ক্যাম্প থেকে কেওক্রাডং যাবার অনুমতি নিতে হবে। অনুমতির জন্যে ভ্রমণকারী সকল সদস্যের পরিচয় লিখিত কাগজে জমা দিতে হবে। NID কার্ড অথবা জন্মনিবন্ধনের কপি জমা দিতে হবে। বিদেশী পর্যটকদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের কপি এবং বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। এই কাজ গুলো করার জন্যে গাইড আপনাকে সাহায্য করবে। রুমাবাজার থেকে নিজেদের দরকারি জিনিস কিনে নিবেন। বগালেক ও কেওক্রাডং যাবার পথে কিছু আদিবাসী দোকান আছে, কিন্তু সেখানে আপনার প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যানিটারি আইটেম বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের জিনিস নাও পেতে পারেন।
অনুমতি নেবার পর রুমাবাজার থেকে ল্যান্ডক্রুজার জীপ বা চান্দের গাড়ী ভাড়া করতে হবে। রুমা বাজার থেকে কেওক্রাডং যাওয়ার ভাড়া ৫০০০ টাকা, যদি যাওয়া ও আসার জন্যে একসাথে করেন তাহলে ভাড়া লাগবে ৭০০০ টাকা। প্রতি রাত থাকার জন্যে অতিরিক্ত ১০০০টাকা দিতে হবে। মোটরবাইকে রুমা থেকে কেওক্রাডং যাওয়া ও আসার ভাড়া ২০০০ টাকা, এক বাইকে ২জন যাওয়া যাবে। তবে বর্ষাকালে মোটরবাইকে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা এড়িয়ে চলাই ভালো।
এইসব কাজে গাইডের সাহায্য নিতে পারেন। গাইডকে কি প্রয়োজন তা বুঝিয়ে বললে সাধারণত সেই সব কিছুর ব্যবস্থা করবে। আপনাদের সদস্য সংখ্যা কম থাকলে অন্য কোন গ্রুপ পেলে তাদের সাথে কথা বলে একসাথে একটা গাড়ি ঠিক করে নিতে পারেন। এতে করে যাতায়াত খরচ অনেকটাই কমে আসে।
সাধারণত পর্যটকগন প্রথমদিন বগালেকে এক রাত থেকে তার পরদিন সকালে কেওক্রাডং ভ্রমণে যায়। অথবা প্রথম দিন কেওক্রাডং গিয়ে ফেরার পথে বগালেক এক রাত থেকে পরিকল্পনা করে থাকেন। বগালেক দেখা ও সেখানে থাকা আপনার কেওক্রাডং ভ্রমণ আরও সুখময় করে তুলবে। পাহাড়ের কোলে এই প্রাকৃতিক হ্রদের শান্ত পরিবেশ মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়।
বগালেক পৌঁছে সেখানের আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে। সেই রাত বগালেকে থেকে পরদিন সকালে রওনা হয়ে যাবে কেওক্রাডং যাবার। রাস্তার সমস্যা না থাকলে ঘন্টাখানেক সময়েই পৌছে যাবেন কেওক্রাডং।
চাইলে সেইদিন কেওক্রাডং থেকে পরদিন বগালেক হয়ে রুমা বাজার তারপর বান্দরবান পৌঁছতে পারবেন। নয়তো সেইদিন কেওক্রাডং থেকে নেমে বগালেকে এসে রাতে থেকে তারপর দিন রুমা হয়ে বান্দরবান পৌঁছতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় এক রাত কেওক্রাডং পাহাড় চুড়ায় থাকা। বাংলাদেশের পঞ্চম উঁচু পাহাড় থেকে সুর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। বিশেষ করে গোধূলির সময়ে পাহাড়ের পেছনে সূর্যের লুকিয়ে যাওয়া এবং ভোরে মেঘের সমুদ্রের মধ্য থেকে সূর্যের আত্মপ্রকাশ জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হতে পারে। এক সময় কেওক্রাডং যাবার গাড়ির রাস্তা ছিলো না। তখন বগালেক থেকে ট্রেকিং করেই কেওক্রাডং যেতে হতো। আগের দিনের মত সেই ট্রেকিং এক্সপেরিয়েন্স ও নিতে পারেন। সেইক্ষেত্রে বগালেক থেকে ৩-৪ ঘন্টা পায়ে হেঁটে(ট্রেকিং) কেওক্রাডং এর চূড়ায় পৌঁছতে হবে। মোটামুটি বেশ কিছু খাড়া পাহাড় পার হতে হবে। চিংড়ি ঝরণা পার হয়ে দার্জিলিং পাড়ার বুক চিরে হেঁটে যাওয়ার এই ট্রেইলটি আপনাকে সত্যিকারের পাহাড়ি জীবনের গভীর অনুভূতি দেবে।
কেওক্রাডং গাইড ভাড়া
কেওক্রাডং থাকা ও খাওয়া ব্যবস্থা
কেওক্রাডং যদি রাত কাটাতে চান তাহলে কেওক্রাডং এর চূড়াতেই একটি হোটেল আছে (যা লালা বমের কটেজ নামেও পরিচিত)। এক রুমে ৪-৮জন থাকা যায়। রুম ভাড়া ১৫০০-২৫০০ টাকা। সেখানে আছে কিছু আদিবাসী কটেজ। সেগুলোতে জনপ্রতি ২০০-৩০০ টাকায় থাকতে পারবেন। গাইডের মাধ্যমে আগে থেকেই কথা বলে রাখতে পারেন অথবা গিয়ে সেখানে কথা বলে থাকতে পারবেন। তবে ছুটির দিন বা পিক সিজনে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) গেলে আগেই কটেজ বুকিং নিশ্চিত করে যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ, অন্যথায় চূড়ায় গিয়ে থাকার জায়গা না পাওয়ার একটি বড় ঝুঁকি থাকে।
খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা্র জন্যে সেখানে একটি আদিবাসী হোটেল আছে। সাধারণত ১৫০-৩০০ টাকার খাবার প্যাকেজ পাওয়া যায়। ভাত, ডিম, আলুভর্তা, পাহাড়ি মুরগি দিয়েই হয় খাবারের আয়োজন। পাহাড়ি জুমের চালের ভাত এবং দেশী মুরগির কারি দীর্ঘ ট্র্যাকিংয়ের ক্লান্তি এক নিমেষেই দূর করে দেয়। খাবার কি খাবেন তা আগেই অর্ডার করে রাখতে হবে। পৌঁছেই খাবার খেতে চাইলে যাবার সময়ই গাইডের সাহায্যে বলে রাখতে পারবেন। পাহাড়ে সব রসদ নিচ থেকে বয়ে নিয়ে যেতে হয় বলে খাবারের অপচয় না করার অনুরোধ রইল।
বগালেকে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা
আদিবাসীদের ছোট ছোট কিছু কটেজ আছে। আপনাকে সেই সব কটেজের কোন একটায় থাকতে হবে। একেবারে প্রাকৃতিক পরিবেশে আদিবাসীদের এই কটেজ গুলোতে থাকতে জনপ্রতি খরচ হবে ২০০-৩০০ টাকা করে। এক রুমের কটেজে ৪-১০ জন থাকা যাবে। এছাড়া কাপল কিংবা মহিলাদের জন্য চাইলে আলাদা কটেজের ব্যবস্থা করা যায়। আগে থেকে কোন পছন্দ থাকলে যাবার সময় গাইডকে বললে সেই ঠিক করে রাখবে কটেজ। কিংবা গিয়েও ঠিক করতে পারবেন। খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা কেওক্রাডং এর মতই।
কেওক্রাডং ট্যুর প্ল্যান
কেওক্রাডং ঘুরতে যাবার পথেই আছে রুমা বাজার, মুনলাই পাড়া, বগালেক ও দার্জিলিং পাড়া। কেওক্রাডং ঘুরতে গেলে অবশ্যই এক রাত সেখানে থাকার পরিকল্পনা করা উচিত। পাহাড়ের सौंदर्य বিকেলে আর সকালে। এই দুইটি মুহুর্ত পেতে হলে আপনাকে থাকতেই হবে রাতে। আর যদি ২রাত থাকার পরিকল্পনা করেন, তাহলে চাইলে এক রাত বগালেক পাড়াতেও কাটাতে পারেন। সেটা যাত্রার প্রথম দিন কাটালে ভালো হবে। দ্বিতীয় রাত কাটাবেন কেওক্রাডং চূড়ায়।
এছাড়া মুনলাই পাড়া (যা বাংলাদেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন এবং ইকো-ট্যুরিজম ভিলেজ) ও দার্জিলিং পাড়া খুবই পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে পরিচিত। যাত্রাপথে কিছু সময় এই দুই আদিবাসী পাড়াতে কাটাতে পারেন। দার্জিলিং পাড়ার স্থানীয় কফি শপ থেকে এক কাপ গরম পাহাড়ি কফি খাওয়া আপনার যাত্রার ক্লান্তি দূর করতে টনিকের মতো কাজ করবে।
কেওক্রাডং ভ্রমণ টিপস
ট্রেকিং করতে চাইলে ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবহার করতে হবে।
আপনার ব্যাগপ্যাক এর ওজন যত কম রাখতে পারবেন ট্রেকিং ততই সহজ হবে।
বগালেকে ও কেওক্রাডং এ বিদ্যুৎ নেই, সোলার পাওয়ার সিস্টেম থাকলেও মোবাইল চার্জ দেয়ার জন্যে সাথে করে পাওয়ার ব্যাংক নিতে পারেন।
সাথে কয়েক প্যাকেট স্যালাইন বা গ্লুকোজ নিয়ে নিন।
সব মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না, টেলিটক ও রবির নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।
বগালেকে গোসল করার সময় সতর্ক থাকুন, গভীরতা অনেক।
আদীবাসী মানুষের জীবন যাত্রা সমতলের মানুষের মত নয়, তাদের অসম্মান হয় এমন কিছু করবেন না।
বান্দরবান থেকে কেওক্রাডং এর পুরো রাস্তাই পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা, ভ্রমণে সতর্ক থাকুন।
রুমা বাজার থেকে অবশ্যই আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিতে হবে, বাগলেক আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে। কেওক্রাডং ক্যাম্পেও তাই।
শীতকালে গেলে রাতে অনেক ঠান্ডা থাকবে, পর্যাপ্ত কাপড় সাথে রাখুন।
কেওক্রাডং ভ্রমণ নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)
১. পরিবার ও শিশুদের নিয়ে কি কেওক্রাডং যাওয়া সম্ভব?
হ্যাঁ, বর্তমানে বগালেক হয়ে কেওক্রাডং এর চূড়ার কাছাকাছি পর্যন্ত চান্দের গাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরি হওয়াতে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হয়েছে। তবে পাহাড়ের ভাঙাচোরা এবং খাড়া রাস্তায় ঝাঁকুনি সহ্য করার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। খুব ছোট শিশু বা তীব্র কোমর/হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত বয়স্কদের এই ট্রিপে না নেওয়াই ভালো।
২. কেওক্রাডং ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?
কেওক্রাডং ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। এই সময়ে আবহাওয়া চমৎকার থাকে, ট্রেইলগুলো শুকনো থাকে এবং ট্রেকিং করা সহজ হয়। তবে আপনি যদি পাহাড়ের কোলে মেঘের খেলা বা সবুজ সতেজ রূপ দেখতে চান, তবে জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ষার সময়ে যেতে পারেন, যদিও বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৩. এই ট্রিপে আনুমানিক লুকানো খরচ (Hidden Costs) কেমন হতে পারে?
মূল যাতায়াত ও কটেজ ভাড়ার বাইরে কিছু অতিরিক্ত খরচ মাথায় রাখতে হবে। যেমন—প্রতিটি আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্টিং পেপারের ফটোকপি খরচ, গাইডকে বকশিস (বাধ্যতামূলক নয় তবে প্রচলিত), বগালেকে বা দার্জিলিং পাড়ায় লোকাল ফল বা কফি খাওয়া এবং রুমাবাজারে বাড়তি লাগেজ রেখে যাওয়ার লকার ভাড়া। এই বাবদ জনপ্রতি ৫০০-১০০০ টাকা অতিরিক্ত সাথে রাখা ভালো।
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
দ্রুত তথ্য
ঠিকানা
বান্দরবান, চট্টগ্রাম
প্রবেশ মূল্য
বিনামূল্যে
সময়সূচি
সর্বদা খোলা
আরও দেখুন
সব দেখুন
আগুন পাহাড়
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আলীর গুহা বা আলীর সুড়ঙ্গ
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আমিয়াখুম জলপ্রপাত
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

বার্গি লেক ভ্যালি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

বাটালি হিল
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
