চট্রগ্রামের সাগর সৈকত গুলোর মধ্যে খেজুরতলা বীচ (Khejurtala Sea Beach) সৌন্দর্য্যপ্রেমী মানুষের কাছে ক্রমেই আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। আর খেজুরতলা বীচের রুপের যথার্থতা বুঝতে হলে ভোর কিংবা বিকেল বেলা খেজুরতলা বীচে যেতে হবে। নেভাল পরিবেশ, জেলেদের কর্ম ব্যস্ততা কিংবা সবুজ ঘাসের চাদরে মোড়ানো বাধ ধরে হাটতে হাটতে খেজুরতলা বীচের বৈচিত্রতা দেখে কাটিয়ে দিতে পারবেন একটি অপূর্ব বিকেল।
এছাড়াও সাগর পাড়ের জেলেদের সংগ্রামী জীবন কাছ থেকে দেখতে চলে যেতে পারেন খেজুরতলা বীচের দক্ষিণে অবস্থিত জাইল্লাপাড়া বীচে। ভোরে জেলে পাড়ায় গেলে বাড়তি পাওনা হিসাবে কিনে আনতে পারবেন তাজা ইলিশ কিংবা বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টি আর ট্রাভেলস, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী, সোহাগ, এস. আলম, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহনের এসি-নন এসি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৬৫০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে পর্যটক এক্সপ্রেস, কক্সবাজার, সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এছাড়া বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
চট্রগ্রাম শহরের যেকোন স্থান থেকে ষ্টীলমিল বাজারে এসে ইজিবাইক কিংবা রিকশাওয়ালাকে বললেই দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত খেজুরতলা বীচ নিয়ে যাবে।
কোথায় থাকবেন
রাত্রি যাপনের জন্য চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে হোটেল প্যারামউন্ট ( 031-2856771 , +88 01713-248754 ) রুম ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। হোটেল পার্ক ( +88 01521-328482 ) রুম ভাড়া ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা। হোটেল অবকাশ ( 031-266543 ) রুম ভাড়া ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা। হোটেল লর্ডস ইন, সি এন্ড বি জিইসি মোড়, প্রতি রুম ভাড়া ২০০০ থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত। হোটেল সিলমুন ( +88 01823-287464 ) প্রতি রুম ভাড়া ১৮০০ হতে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। গোধুলী গেস্ট ইনন ( +88 01976-123017 ) প্রতি রুম ভাড়া ১৮০০ হতে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। হোটেল এশিয়ান এসআর ( +88 01711-889555 ) রুম ভাড়া ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা। এনায়েত বাজারে অবস্থিত হোটেল সাফিনার ( +88 031-0614004 )রুম ভাড়া ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। হোটেল নাবা ইন ( +88 01755-564382 ) হোটেলের রুম ভাড়া ৩০০০ থেকে শুরু। ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ অবস্থিত হোটেল ল্যান্ডমার্ক ( +88 01820-141995 , +88 01731-886997 ) এ রাত্রি যাপন করতে গেলে রুম প্রতি নূন্যতম ২৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। আর হোটেল রেডিসন ব্লু-তে থাকতে গেলে এক রাতের জন্য গুনতে হবে ১৮০০০ টাকা।
উপরে উল্লেখিত আবাসিক হোটেল এছাড়াও চট্রগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। একটু যাচাই করে আপনার সুবিধামত হোটেল ম্যানেজ করতে পারবেন নিশ্চিন্তে।
কোথায় খাবেন
যদি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার চেখে দেখতে চান তবে আপনার জন্য রয়েছে সুখবর! ঐতিহবাহী খাবারে চট্ট্রগ্রাম বেশ সমৃদ্ধ, আর এ জন্য চলে যেতে পারেন হোটেল জামান-এ। আর মেজবানি খেতে চাইলে চলে যেতে পারেন চকবাজারে অবস্থিত “মেজবান হাইলে আইয়্যুন” রেস্তোরায়। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহরে ছড়িয়ে আছে বেশকিছু ভাল মানের রেস্টুরেন্ট এদের মধ্যে বারকোড ক্যাফে, মিলেঞ্জ রেস্টুরেন্ট, গ্রিডি গাটস, ক্যাফে ৮৮, সেভেন ডেইজ, ধাবা, হান্ডির নাম, গলফ গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, কোষ্টাল মারমেইড রেস্টুরেন্ট এন্ড লাউঞ্জ, বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।