কমলক ঝর্ণা (Komlok Waterfalls) দেখতে সাজেক ভ্যালির রুইলুই পাড়া হতে দুই/আড়াই ঘন্টা ট্রেকিং করতে হয়। সাজেক ভ্যালির পাহাড়ের সাথে মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখার পর আরো রোমাঞ্চিত হতে চাইলে ঘুরে আসুন কমলক ঝর্ণাটি। তবে এর জন্য অন্তত একদিন সাজেক ভ্যালিতে অবস্থান করা ভাল। কমলক ঝর্ণার স্থানীয় নাম পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম তৈসা। সুন্দর ঝিরিপথ ধরে চলতে চলতে বিভ্রান্ত হতে পারেন কিংবা অতি বর্ষণে কোথাও কোথাও ঝিরিপথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে সুতরাং প্রথমবার ঝর্ণাটি দেখতে গিয়ে থাকলে একজন গাইড সাথে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক।
বর্ষা মৌসুমে ঝিরিপথ বেশ পিচ্ছিল থাকে আবার মাঝে মাঝে খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠতে ও নামতে হয় তাই সতর্ক থাকুন সবসময়। আর গাইড নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকদের এড়ানোর চেষ্টা করুন। কিছু টাকা দিলেই সাধারণত এরা রাজি হয়ে যায় তবে এদের সবাই বিশ্বস্ত নয়। অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতায় না পড়তে গাইডের জন্য আপনার রিসোর্ট কতৃপক্ষের সাথে আলাপ করে নিতে পারেন।
কমলক ঝর্ণা দেখতে কিভাবে যাবেন
বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে কমলক ঝর্ণা দেখতে যেতে চাইলে প্রথমে খাগড়াছড়ি আসতে হবে। রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ, কমলাপুর, কলাবাগান এবং ফকিরাপুল থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি যাওয়ার বিভিন্ন বাস সার্ভিস রয়েছে। আপনার পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী শান্তি পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া অথবা শ্যামলী পরিবহন হতে যেকোন একটিকে ভ্রমণ সঙ্গী হিসাবে বেছে নিতে পারেন। বাসভেদে এসি/নন-এসি জনপ্রতি টিকেটের ভাড়া ৭৫০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা।
চট্রগ্রামের কদমতলী থেকে বিআরটিসি এসি বাস খাগড়াছড়ির পথে চলাচল করে, ভাড়া লাগে ২০০ টাকা। আর অক্সিজেন মোড় থেকে ১ ঘণ্টা পর পর শান্তি পরিবহনের (ভাড়া ১৯০টাকা) বাস চলাচল করে। চট্রগ্রাম থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে ৪-৫ ঘন্টা।
খাগড়াছড়ি থেকে চান্দের গাড়িতে (জীপগাড়ি) করে সাজেক যেতে পারবেন। রিজার্ভ নিলে ভাড়া লাগবে ৬৫০০ থেকে ৭৫০০ টাকা। এক গাড়িতে ১৫ জন বসা যায়। সিএনজি নিয়েও সাজেক যাওয়া যায়, ভাড়া লাগে প্রায় ৩০০০ টাকা।
সাজেকে যাওয়া আসার আরও বিস্তারিত জানতে পড়ে নিন আমাদের সাজেক ভ্রমণ গাইড ।
সাজেকে কোথায় খাবেন
সাজেকে খাওয়ার জন্যে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট আছে। অনেক রিসোর্টে নিজস্ব খাবার ব্যবস্থাও আছে। তবে বেশিরভাগ রেস্টুরেন্টেই আগেই খাবার অর্ডার করে রাখতে হবে। কতজন খাবেন কি দিয়ে খাবেন তা বলে রাখতে হবে।
সাজেক ভ্যালিতে কোথায় থাকবেন
সাজেক (Sajek) ভ্যালিতে থাকার জন্যে সুন্দর সুন্দর অনেক রিসোর্ট আছে। রিসোর্টের অবস্থান ও সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী সাধারণত কাপল রুপ ১৫০০-৩০০০ টাকা, ৪ জনের শেয়ার করে থাকার জন্যে রুম ২০০০-৩৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে। আপনার বাজেট এবং পছন্দ অনুযায়ী রিসোর্টে থাকতে পারবেন। তবে ছুটির দিন কিংবা পিক সময়ে গেলে আগে থেকে রিসোর্ট বুকিং করে যাওয়া ভাল। সাজেকের সকল রিসোর্টের তথ্য জানতে পড়ে নিন আমাদের সাজেক রিসোর্ট গাইড।
সাজেক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের সাজেক ভ্রমণ গাইড পড়ুন।
ঝর্ণা ভ্রমণের জন্যে ভাল সময় বর্ষাকাল।
পাহাড়ি পথে ট্রেকিং এ সতর্ক থাকুন।
ট্রেকিং এর জন্যে ভাল মানের গ্রীপ সহ জুতা ব্যবহার করুন।