কক্সবাজার জেলার ফতেখারকুল ইউনিয়নে রামু চৌমুহনী বাসস্ট্যান্ড থেকে ১ কিলোমিটার দূরে বাকখালী নদীর তীরে লামাপাড়া খিয়াং (Lamapara Khiang) অবস্থিত। উনিশ শতকের শুরুর রামুর থু অং গিয়াও চৌধুরী লামাপাড়া খিয়াং নির্মাণ করেন। লামাপাড়া খিয়াংয়ে মার্বেল পাথরের মঞ্চের উপর স্থাপিত পিতলের বুদ্ধ মূর্তি আকারের দিক দিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বুদ্ধ মূর্তি হিসাবে স্বীকৃত। খিয়াংয়ের স্থাপত্যশৈলী আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। কক্সবাজার জেলার প্রায় সকল থানায় এই ধরনের খিয়াং রয়েছে। এদের মধ্যে কেবল মাত্র রামুতে প্রায় ২৩টি খিয়াং রয়েছে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকার বিভিন্ন স্থান হতে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এনা ট্রান্সপোর্ট, স্টার লাইন স্পেশাল, সেন্টমার্টিন ট্র্যাভেলস, রয়াল কোচ, সৌদিয়া, শ্যামলী, নাবিলা এক্সপ্রেস, দেশ ট্র্যাভেলস ইত্যাদি বাস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে এসব বাসের সীট প্রতি ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা।
ঢাকা থেকে ট্রেনে সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে কক্সবাজার এক্সপ্রেস অথবা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রা করতে পারেন। এছারা ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার আসতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী ট্রেনে সুবিধানুযায়ী যাত্রা করতে পারেন। ট্রেনে ভাড়া লাগবে ৪০৫-১৩৯৮ টাকা। এরপর চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকা, অলংকার মোড়, সিনেমা প্যালেস অথবা দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে এস আলম, হানিফ অথবা ইউনিক পরিবহনের বাসে কক্সবাজার আসতে পারবেন। বাস ভেদে ভাড়া ৪২০ থেকে ১০০০ টাকা নিবে।
এছাড়া বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা সহ বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
কক্সবাজারে হতে বিভিন্ন স্থানীয় যানবাহনে চড়ে লামাপাড়া খিয়াং যেতে পারবেন। রামু পৌরসভার ফতেখারকুল ইউনিয়নে অবস্থিত রামু চৌমুহনী বাসস্ট্যান্ড হতে ১ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহার পৌঁছে যাবেন।
কোথায় থাকবেন
কক্সবাজারে বিভিন্ন মানের প্রায় পাঁচশতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজ আছে। এদের মধ্যে মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সায়মন বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে, হেরিটেজ, সী প্যালেস, সী গাল, কোরাল রীফ, নিটোল রিসোর্ট, আইল্যান্ডিয়া, বীচ ভিউ, সী ক্রাউন, ইউনি রিসোর্ট, উর্মি গেস্ট হাউজ, কোরাল রীফ, ইকরা বিচ রিসোর্ট, অভিসার, মিডিয়া ইন, কল্লোল, হানিমুন রিসোর্ট, নীলিমা রিসোর্ট উল্লেখ্য।
খাওয়া দাওয়া
কক্সবাজারে নানা মানের রেস্টুরেন্টের মধ্য থেকে আপনার পছন্দমত জায়গায় খেতে পারবেন। প্রায় প্রতিটি আবাসিক হোটেলে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সুলভ মূল্যে খাবার খেতে চাইলে চলে যান রোদেলা, ঝাউবন, ধানসিঁড়ি, পৌষি, নিরিবিলি, আল বোগদাদিয়া ইত্যাদি রেস্তোরায়।