বাংলা ভাষার ইতিহাস রক্তক্ষয়ী ত্যাগের ইতিহাস। ১৯৫২ সালে সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউর সহ নাম না জানা আরো অনেক শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই ভাষা অর্জিত হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মৃতি চির স্মরণীয় করে রাখতে ২০১০ সালে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের দ্বিতীয় তলায় ভাষা আন্দোলন জাদুঘর (Language Movement Museum) উদ্বোধন করা হয়।
বাংলা একাডেমিতে স্থাপিত ভাষা জাদুঘরের প্রতিটি কক্ষে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস স্মৃতির স্মারক হিসাবে সংরক্ষিত আছে। সংগ্রহশালায় রয়েছে ভাষা শহীদ রফিকের ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেট, ভাষা শহীদ শফিউর রহমানের কোট, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কাছে রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের প্রেরিত স্মারকলিপি, বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থের পৃষ্ঠা, ভাষা শহীদ শফিউর রহমানের ব্যবহৃত চটের ব্যাগ ইত্যাদি। এসব ছাড়াও ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলি সম্পর্কিত বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ, তৎকালীন সময়ে প্রকাশিত পত্রপত্রিকার কপি এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক আলোকচিত্র প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষিত আছে।
পরিদর্শনের সময়সূচী
ভাষা আন্দোলন জাদুঘরটি সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহের অন্যান্য কার্যদিবসে সকাল ১০:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তবে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অমর একুশে বইমেলা চলাকালীন জাদুঘরের সময়সূচিতে বিশেষ পরিবর্তন আসে এবং বইমেলার সাধারণ দর্শনার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণ ও বর্ধমান হাউসের এই জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পান। ভাষা আন্দোলন জাদুঘর ঘুরে দেখার জন্য কোনো প্রকার প্রবেশ ফি প্রদান করতে হয় না।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা টিএসসি-গামী যেকোনো গণপরিবহন বা বাসে চড়ে খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। এছাড়া ঢাকা মেট্রোরেলের (MRT Line-6) মাধ্যমে উত্তরা কিংবা মতিঝিল উভয় দিক থেকে এসে সরাসরি ‘শাহবাগ’ অথবা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ স্টেশনে নেমে পায়ে হেঁটে বা রিকশায় করে বাংলা একাডেমির ভেতরে অবস্থিত ভাষা আন্দোলন জাদুঘরে যাওয়া যায়।