সংক্ষিপ্ত বিবরণ
মিরিঞ্জা ভ্যালি (Mirinja Valley) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের বুকে অবস্থিত একটি নতুন পর্যটন স্থান। এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল পাহাড় আর মেঘের খেলা উপভোগ করা যায়। এখানে আকাশ-মেঘ ভ্রমণপিপাসু মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।
বিস্তারিত বিবরণ
মিরিঞ্জা ভ্যালি (Mirinja Valley) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের বুকে অবস্থিত একটি নতুন পর্যটন স্থান। এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল পাহাড় আর মেঘের খেলা উপভোগ করা যায়। এখানে আকাশ-মেঘ ভ্রমণপিপাসু মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।
প্রকৃতি এই এলাকাটিকে সাজিয়েছে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে। এখানে ইচ্ছে করলেই ছোঁয়া যায় মেঘ, আকাশকেও মনে হয় বেশ কাছে। মাতামুহুরী নদীর সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় এখান থেকে। বর্তমানে মিরিঞ্জা ভ্যালি ও মারাইংছা হিল পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় একটা জায়গা।
এখানে আপনি প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন নিজের মতো করে। পরিস্কার আকাশে হঠাৎ মেঘের আনাগোনা। এই রোদ তো এই বৃষ্টি। রাতভর শোনা যায় শিশির পতনের শব্দ। সকাল বেলা পুরো ভ্যালি ভেসে থাকে মেঘেতে। বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে মিরিঞ্জা দারুন এক আকর্ষণের নাম। সাজেক ভ্যালির মতই দিনে দিনে এর আকর্ষণ বেড়েই চলেছে।
শুধু মিরিঞ্জা ভ্যালি নয়, মিরিঞ্জা ভ্যালির আশেপাশে অন্য পাহাড় গুলোর ভ্যালি নিয়েও এখন অনেক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। কাছেই রয়েছে সুখিয়া ভ্যালি, সেখানেও অনেক গুলো রিসোর্ট আছে। এছাড়া মাতামুহুরী নদীর কূল ঘেঁষে বেশ কিছু ভালো রিসোর্ট তৈরি হয়েছে।
মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে আলীকদম গামী বাসে উঠে আলীকদমের আগেই মিরিঞ্জা বাজারে নেমে তারপর কিছুক্ষণ ট্রেকিং করে বা মোটরসাইকেলে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যাওয়া যায়। বাস ড্রাইভারকে বললেই আপনাকে মিরিঞ্জা বাজারে নামিয়ে দিবে।
যদি আলীকদমের বাসে যাবার সুযোগ না থাকে তবে দেশের যে কোন জায়গা থেকে কক্সবাজারগামী বাসে করে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে। সেখান থেকে লামা-আলীকদম পথে জিপ, চান্দের গাড়ি, বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়া যায়।
বাস কিংবা জিপের ভাড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সিএনজি ভাড়া ৯০-১০০ টাকা। চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জা বাজার যেতে ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগবে। লামা-আলীকদম সড়কে মিরিঞ্জা বাজারে গাড়ি থেকে নেমে ১০ মিনিট হাঁটলেই মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলো দেখতে পাবেন।
আপনার রিসোর্টের অবস্থান অনুযায়ী হেঁঁটে যাওয়ার সময় কম বেশি হতে পারে। রিসোর্টের অবস্থান দূরে হলে কিংবা ট্রেকিং এর কষ্ট করতে না চাইলে মোটরসাইকেল ভাড়ায় রিসোর্টে যেতে পারবেন, দূরত্ব অনুযায়ী মোটরসাইকেল ভাড়া ১০০-৩০০ টাকা লাগতে পারে।
এছাড়া আপনার সুবিধামতো চট্টগ্রাম এসে নতুন ব্রীজ বাস টার্মিনাল থেকে থেকে কক্সবাজার গামী বাসে উঠে চকরিয়া নেমে উপরে উল্লেখিত পথে যেতে পারবেন মিরিঞ্জা ভ্যালি।
মিরিঞ্জা ভ্যালির দূরত্ব ঢাকা থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার, চকরিয়া থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে এবং কক্সবাজার থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার।
মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্ট
মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ৪০টিরও বেশি জুম ঘর ও রিসোর্ট রয়েছে। যেহেতু জায়গাটি খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে, দিন দিন জুম ঘর স্টাইলের রিসোর্টের সংখ্যা বেড়ে চলছে। প্রতিটি জুম ঘরের জন্য ভাড়া ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। একটা জুম ঘরে ৪-১০ জন পর্যন্ত থাকা যায়।
বর্তমানে এটাচ বাথরুম ও ব্যালকনি সহ কিছু গুছানো ভালো রিসোর্ট তৈরি হয়েছে, যে গুলোতে থাকতে খরচ হবে ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা। কাপল রুম যেমন আছে তেমনি গ্রুপ করে একসাথে থাকার জুম ঘরও পাবেন।
মিরিঞ্জা ভ্যালির জনপ্রিয় রিসোর্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
মিরিঞ্জা হিল রিসোর্ট (Mirinja Hill Resort) এ জুম ঘরে থাকতে খরচ হবে ২,০০০ টাকা, থাকতে পারবেন একসাথে ৬/৭ জন। যোগাযোগঃ 01866-286095
মারাইংছা হিল রিসোর্ট (Maraingcha Hill) এ পড-হাউজ অথবা প্রিমিয়াম কটেজে থাকতে খরচ হবে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা ও তাঁবুতে থাকতে খরচ হবে ৯০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01886673717
লামা হিল স্টেশন (Lama Hill Station) এই রিসোর্টের পড হাউজ ও কটেজে থাকতে খরচ হবে ২,৫০০ টাকা থকে ৪,৫০০ টাকা, জুম ঘরে ২,০০০ টাকা ও তাঁবুতে ৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01886-301006 | Facebook Page
চুংদার বক (একটু ভিতরে) রিসোর্টে এ পড হাউজ ও প্রিমিয়াম রুমে থাকতে খরচ হবে ৪,৫০০ থকে ৬,৫০০ টাকা একসাথে থাকা যাবে ৬ জন। জুমঘরে খরচ হবে ২,৫০০ টাকা, থাকতে পারবেন ৮ জন ও তাঁবুতে জনপ্রতি খরচ হবে ৩০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01316764051 | Facebook Page
মিরিঞ্জা মেঘ মাচাং রিসোর্টে (Mirinja Megh Machang Resort) পড হাউজ ও কটেজে থাকতে খরচ হবে ৩,৫০০ টাকা থকে ৬,০০০ টাকা, জুমঘরে ২,৫০০ টাকা ও তাঁবুতে তিন বেলা খাবার সহ ১,১০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01538-236836 । Facebook Page
আরও কিছু জনপ্রিয় রিসোর্টঃ
ডেঞ্জার হিল রিসোর্ট (Danger Hill Resort)
আগারং রিসোর্ট (একটু ভিতরে)
মেঘকুঞ্জ রিসোর্ট (Meghkunjo Resort)
মিরিঞ্জা হ্যাভেন রিসোর্ট (Mirinja Heaven Resort)
মিরিঞ্জা হাফং রিসোর্ট (Mirinja Haphong Resort)
জঙ্গল বিলাস রিসোর্ট (একটু ভিতরে)
মিরিঞ্জা ইকো রিসোর্ট (Mirinja Eco Resort)
জুম ঘর ছাড়াও এখানে তাবুতে থাকার ব্যবস্থা আছে। ভিন্ন স্বাদ নিতে থাকতে পারেন তাবু ঘরেও। ২/৩ বেলা খাবারের প্যাকেজ সহ জুম ঘর বা তাবুর ভাড়া সাধারণত জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা হয়ে থাকে। ছুটির দিন গুলোতে গেলে আগেই পছন্দের রিসোর্ট বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো হবে।
মিরিঞ্জা রিসোর্ট বুকিং টিপস
মিরিঞ্জা ভ্যালি যাবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সকালের মেঘ। প্রায় সারা বছর এখানে মেঘের আনাগোনা থাকে, তবে সবচেয়ে বেশি মেঘের দেখা মিলে জুন থেকে নভেম্বর মাসে। তাই মিরিঞ্জা যাওয়ার উপযুক্ত সময় তখনই। যদিও শীতের সময় পর্যটকের ভীড় বেশি থাকে।
মিরিঞ্জা ভ্যালি প্রবেশ পথের ডান পাশের রিসোর্ট গুলো থেকে ভ্যালি সুন্দর দেখা যায়, তাই মেঘের সুন্দর ভিউ ডান পাশের রিসোর্ট গুলো থেকেই পাবেন। অথবা সবার উচুতে যে সব রিসোর্ট আছে।
মিরিঞ্জা বাজার থেকে পাহাড়ের উপরে যতই যেতে থাকবেন, দুই পাশে অনেক রিসোর্টের দেখা পাবেন। প্রায় ১ ঘন্টা হেঁটে গিয়ে শেষ হয়েছে মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্ট গুলো। শুকনো সময়ে হেঁটে যেতে সমস্যা না হলেও বৃষ্টির সময়ে রাস্তায় অনেক কাদা থাকে। বিশেষ করে ভিতরের দিকে রিসোর্ট গুলোতে যাওয়া কষ্টকর হতে পারে।
জুম ঘরে সাধারণ মানের বিছানা বালিশ কাঁঁথা থাকে। খুব আয়েশি কিছু ভাবলে ভুল হবে। এছাড়া কমন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হয়। বিদুৎ না থাকলে দিনের বেলায় বেশ গরমও লাগতে পারে। সেইসব মাথায় রাখবেন। একটু লাক্সারি পছন্দ হলে প্রিমিয়াম মানের রুম সহ রিসোর্টে থাকতে পারেন।
মিরিঞ্জা ভ্যালির শুরু দিকে কিছু রিসোর্টে বিদ্যুত সংযোগ থাকলেও পিছনের দিকে রিসোর্ট গুলোতে সংযোগ নেই এখনো। ফ্যান ও লাইটের জন্যে সোলার প্যানেলের সাহায্যে বিদুৎ ব্যবস্থা আছে।
পর্যটকদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস চার্জ করতে অল্প সময় জেনারেটর চালানো হয় অনেক রিসোর্টে। তাই বুকিং এর আগে জেনে নিন ডিভাইজ চার্জের কি কি সুবিধা আছে।
একটু নিরিবিলি পরিবেশ চাইলে ভিতরের দিকে রিসোর্ট গুলো পছন্দ করতে পারেন। তবে রিসোর্টে যাওয়া আসার জন্যে সময় লাগবে বেশি।
মিরিঞ্জা যাবার আগেই রিসোর্ট পছন্দ করে যোগাযোগ করে যান। আগেই বুকিং করতে চাইলে প্যাকেজ ও সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলাপ করে নিন।
কোথায় খাবেন
মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলোতে তিন বেলা প্যাকেজ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে সকালে ডিম-খিচুড়ি কিংবা মুরগির মাংস। দুপুরে সাদা ভাত, ডাল, মুরগি এবং সবজি ও সালাদ। এ ছাড়া রাতে বারবিকিউ, চিকেন, কাবাব ও পরোটার ব্যবস্থা রয়েছে। তিন বেলা খাবারের প্যাকেজের মূল্য ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
মিরিঞ্জা ভ্যালির কাছেই আছে সুখিয়া ভ্যালি , মাতামুহুরী নদী, আলিকদমে রয়েছে মারাইংতং পাহাড় ও আলীর গুহা । যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ডিম পাহাড় হয়ে বান্দরবান। এছাড়া মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে কক্সবাজার খুব কাছেই তাই মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের সাথে যুক্ত করতে পারেন কক্সবাজার ভ্রমণ ।
ভ্রমণ টিপস
কিছু রিসোর্টে বিদ্যুত এর ব্যবস্থা থাকলেও বেশ কম সময় বিদ্যুত পাওয়া যায়, আর ভিতরের দিকে রিসোর্ট গুলোতে বিদ্যুৎ এর সংযোগ নেই সেখানে, তাই সাথে করে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়া ভালো হবে।
আর সাথে করে অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কিংবা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে, যাত্রাপথে চেক পোস্টে আপনার এই পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
দ্রুত তথ্য
ঠিকানা
বান্দরবান, চট্টগ্রাম
প্রবেশ মূল্য
বিনামূল্যে
সময়সূচি
সর্বদা খোলা
আরও দেখুন
সব দেখুন
সাজেক ভ্যালি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

নাফাখুম
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

সাজেক ভ্যালি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

মেলখুম গিরিপথ
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

বাড়বকুণ্ড ট্রেইল
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
