সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত রাঙ্গামাটি শুধু লেক আর পাহাড়ের জন্যই নয় এখানকার বহুমাত্রিক সংস্কৃতির জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি হলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাদুঘর (Museum of Ethnic Minorities), যা রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সড়কের আসামবস্তি এলাকায় অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (Cultural Institute of Minority Ethnic Groups)-এর অভ্যন্তরে।
বিস্তারিত বিবরণ
পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত রাঙ্গামাটি শুধু লেক আর পাহাড়ের জন্যই নয় এখানকার বহুমাত্রিক সংস্কৃতির জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি হলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাদুঘর (Museum of Ethnic Minorities), যা রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সড়কের আসামবস্তি এলাকায় অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (Cultural Institute of Minority Ethnic Groups)-এর অভ্যন্তরে।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি বাংলাদেশের প্রথম উপজাতীয় জাদুঘর হিসেবে স্বীকৃত যা বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ২০০৩ সালে উদ্বোধন হওয়া এই আধুনিক দ্বিতল ভবনটি বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রায় ১১টি জাতিগোষ্ঠীর জীবনধারা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অনন্য সংরক্ষণাগার। এখানে সংরক্ষিত আছে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অলঙ্কার, প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র, অস্ত্রশস্ত্র এবং দুর্লভ পাণ্ডুলিপি যা দর্শনার্থীদের এক নিমেষেই কয়েকশ বছর পিছনে নিয়ে যায়। আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসা পাহাড়ী জনপদগুলোর আদিম কৃষ্টি ও জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি এই জাদুঘরটি পর্যটকদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিবিড়ভাবে জানার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
জাদুঘরে কি দেখবেন
এই জাদুঘরটি মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক ভান্ডার, যেখানে তিন পার্বত্য জেলার প্রায় ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি একসাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে প্রবেশ করার পর আপনি পাহাড়ের জুমকেন্দ্রিক জীবনধারার এক বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন দেখতে পাবেন। এটি শুধু কিছু নিদর্শনের প্রদর্শনী নয় বরং একটি সম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থার গল্প, যা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের সাথে।
জাদুঘরে আপনি দেখতে পাবেনঃ
বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক, যা অধিকাংশই আদিবাসী নারীদের হাতে তৈরি। বিশেষভাবে চাকমা নারীদের বিখ্যাত ‘আলাম’ (নকশা করা কাপড়)
বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী অলঙ্কার ও গয়না
জুম চাষ পদ্ধতি, ধান ও অন্যান্য ফসল চাষের উপকরণ এবং কৃষিজীবনের বাস্তব চিত্র
পাহাড়ি মানুষের খাদ্য সংগ্রহ, রান্নার সরঞ্জাম ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী
প্রাচীন ও বিরল হস্তশিল্প, বাঁশ ও কাঠের তৈরি গৃহস্থালি জিনিসপত্র
ঐতিহাসিক নিদর্শন, যেমন বোমাং রাজার ব্যবহৃত শতবর্ষী আরাকানি কামান এবং চাকমা রাজ পরিবারের শ্বেত পাথরের তৈজসপত্র
ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র যেমন ঢোল, বাঁশি, ধুক, এবং অন্যান্য লোকজ সংগীতের উপকরণ
শিকার ও জুম চাষের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র—দা, তীর-ধনুক ও বল্লম
বিভিন্ন উৎসব (যেমন বিজু/বৈসাবি), ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং সামাজিক জীবনের ছবি ও ডকুমেন্টেশন
পাহাড়ি ঘরবাড়ির মডেল এবং তাদের বসবাসের ধরন
পুরনো পাণ্ডুলিপি ও দলিল, যেমন ১৮৬৮ সালের তালপাতায় লেখা চাকমাদের ধর্মগ্রন্থ ‘আঘারতারা’র অংশবিশেষ
এখানে ছোট ছোট বিষয়গুলো খুবই স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যা দেখে আপনি মুহূর্তেই তাদের জীবনযাত্রার চিত্র বুঝে নিতে পারবেন।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে রাঙ্গামাটি ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে রাঙ্গামাটি যাওয়া সবচেয়ে সহজ উপায়। এছাড়া আপনি প্রথমে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বাস বা সিএনজি দিয়ে রাঙ্গামাটি যেতে পারেন।
চট্টগ্রাম থেকে বাসে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম শহর থেকে রাঙ্গামাটির দূরত্ব ৬৩ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙ্গামাটি গামী বিভিন্ন পরিবহণের লোকাল ও গেইটলক/ডাইরেক্ট বাস পাওয়া যায়। ভাড়া একটু বেশি হলেও গেইটলক বা ডাইরেক্ট বাসে উঠা উচিত। চট্টগ্রাম হতে রাঙ্গামাটি ডাইরেক্ট বাস ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। চট্টগ্রামের বহাদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকেও রাঙ্গামাটি যাবার বাস পাবেন। বাসে উঠার সময় কন্ডাক্টরকে বলে রাখলে আপনাকে ভেদভেদি’ (Vedvedi) বা রেডিও স্টেশন (Radio Station) এলাকায় নামিয়ে দিবে। এটি রাঙ্গামাটি শহরের প্রধান বাস টার্মিনাল বা রিজার্ভ বাজারের বেশ আগেই অবস্থিত। ভেদভেদি বাজার থেকে সহজেই সিএনজি করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটটের ভিতরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাদুঘরে যেতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার উপায়, ভাড়া ও অন্যান্য তথ্য
প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচী
জাদুঘরে প্রবেশ করতে হলে ১২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য ১০ টাকা ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। আর বিদেশী দর্শনার্থীদের ১০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাদুঘর রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘরটি বন্ধ থাকে।
কোথায় থাকবেন
রাত্রিযাপনের জন্য রাঙ্গামাটি শহরের পুরাতন বাসস্ট্যন্ড এবং রিজার্ভ বাজার এলাকায় বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল পাবেন। রাঙ্গামাটির আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল গ্রিন ক্যাসেল, পর্যটন মোটেল, রংধনু গেস্ট হাউজ, হোটেল সুফিয়া, হোটেল আল-মোবা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
কোথায় খাবেন
পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে বনরূপা বা পেদা টিং টিং-এর মতো জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলোতে ঢুঁ মারতে পারেন। বিশেষ করে পাহাড়ের বাঁশ কোঁড়ল বা ব্যাম্বু চিকেন আপনার ভ্রমণের আনন্দ বাড়িয়ে দেবে। এছারাও রাঙ্গামাটি শহরে যেকোন রেস্টুরেন্টে খেয়ে নিতে পারবেন।
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
দ্রুত তথ্য
ঠিকানা
রাঙামাটি, চট্টগ্রাম
প্রবেশ মূল্য
বিনামূল্যে
সময়সূচি
সর্বদা খোলা
আরও দেখুন
সব দেখুন
সাজেক ভ্যালি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

লালবাগ কেল্লা
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আহসান মঞ্জিল
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

মহাস্থানগড়
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধ
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

সাজেক ভ্যালি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
