পাহাড়ি বৈচিত্র্যের শহর বান্দরবান জেলার সর্বত্র রয়েছে সৌন্দর্যের ছোঁয়া। নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন পর্যটন লেক (Naikhongchhari Lake) এমনই এক সুন্দরতম স্থান। ১৯৯১ সালে বান্দরবান জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে ৬ একর জায়গা জুড়ে নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে এই উপবন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। চারদিক সবুজ অরণ্যে ঘেরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপবনে সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গের ঢালে সৃষ্ট দুইটি প্রাকৃতিক হ্রদের সৌন্দর্য সহজেই সকলের নজর কাড়ে। সারি সারি সবুজ গাছ, লেকের মাঝে অবস্থিত ঝুলন্ত ব্রিজ, বনের মাঝে গড়ে তোলা আকাশ বাড়ি, ছোট ছোট বিশ্রাম ঘর, ওয়াচ টাওয়ার এবং পাহারী সাজে মাচাং ঘর। উঁচুনিচু পাহাড়ি পিচঢালা পথ এই পর্যটন লেকের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন পর্যটন লেকে মাছ ধরা ও নৌকা ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। পর্যটকদের কাছে রাতের নাইক্ষ্যংছড়িই বেশী আকর্ষণীয়। আর তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড়কন্যা নাইক্ষ্যংছড়ি ইকো ট্যুর ও পিকনিক স্পট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
উপবন পর্যটন লেক থেকে কাছে ১৬২ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে প্রাণী সম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট। এই গবেষণা কেন্দ্রে প্রজাতি ভেদে গয়াল, শতাধিক হরিণ, বিশাল ভেড়া পাল, ১৪৮ টি ছাগল, ৪৫ টি ছাগল ও বিভিন্ন বন মুরগি সহ বেশকিছু প্রাণী রয়েছে যা পর্যটকদের ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ প্রদান করে।
প্রবেশ টিকেট মূল্য
সর্বসাধারনের জন্য এই উপবন পর্যটন লেকে প্রবেশ মূল্য ৪০ টাকা। এছারা ৫৫ মিনিট নৌকা রাইড (কায়াকিং) এর জন্য ১০০ টাকা দিয়ে টিকিট করতে হবে। আবার চাইলে ১২০ টাকার প্যাকেজ নিয়েও প্রবেশ করা যাবে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে প্রবেশ, কায়াকিং, ওয়াচ টাওয়ার ও কিডস জোন।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার আব্দুল্লাহপুর, আরামবাগ, কল্যাণপুর, গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে এস. আলম, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন পরিবহন, ইউনিক, হানিফ, শ্যামলি, ডলফিন ইত্যাদি পরিবহনের বাস বান্দারবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জনপ্রতি এসব বাসের ভাড়া যথাক্রমে নন এসি ৭০০-৮০০ টাকা ও এসি ১০০০-১৬০০ টাকা। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান যেতে সময় লাগে ৮-১০ ঘন্টা।
ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম গামী সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিতা, মহানগর গোধূলি এইসব ট্রেনে করে চট্রগ্রাম যেতে পারবেন। শ্রেনীভেদে ভাড়া ৩৪০ থেকে ১,৪৪৮ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে আকাশ পথে সরাসরি চট্রগ্রাম আসতে পারবেন।
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে পূবালী ও পূর্বানী নামের দুটি বাস বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এ দুটি বাসে জনপ্রতি ২২০ টাকা ভাড়া লাগে। চট্রগ্রামের ধামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ২০০-৩০০ টাকা ভাড়ায় বাসে করে বান্দরবান আসতে পারবেন। বান্দরবান থেকে সরাসরি নাইক্ষ্যংছড়ি বাস চলে, ভাড়া ২২০ টাকা। আর চাইলে কক্সবাজার থেকে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করেও এখানে আসতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন এলাকায় এখনও থাকার জন্য ভালো কোন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। তাই রাতে থাকার জন্য বান্দরবানে হলিডে ইন রিসোর্ট, হিল সাইড রিসোর্ট, হোটেল ফোর স্টার, হোটেল রিভার ভিউ ইত্যাদি সহ অসংখ্য রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল এবং রেস্টহাউজ রয়েছে, যেগুলোতে ১,০০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় সহজেই রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন এলাকায় বেশ কিছু সাধারণ মানের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এছারা বান্দরবানে কাজি’স ডাইন, কথা বন্ধু, নিউ পড়শি, তাজিং ডং ক্যাফে, নীলাচল রেস্তোরা, চড়ুইভাতি, তোহজাহ ও হিল ভিউ রেস্টুরেন্টের মতো বেশকিছু জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট আছে যেখানে আপনার প্রয়োজন খেয়ে নিতে পারেন।
বান্দরবান জেলার দর্শনীয় স্থান
বান্দরবানের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে নীলগিরি , নীলাচল , স্বর্ণ মন্দির , কেওক্রাডাং , বগালেক , নাফাকুম , চিম্বুক , শৈল প্রপাত ঝর্ণা , মারায়ন তং , তিন্দু , আলীর গুহা বা আলীর সুড়ঙ্গ , সাতভাইখুম , ঋজুক ঝর্ণা , আমিয়াখুম জলপ্রপাত , মিলনছড়ি , ডিম পাহাড় , দামতুয়া ঝর্ণা , নীল দিগন্ত , মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র ও সাইরু হিল রিসোর্ট অন্যতম।