কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকায় ঐতিহাসিক নওয়াব ফয়জুন্নেসা হাউজ (Nawab Faizunnesa House) নামের জমিদার বাড়ির অবস্থান। জমিদার গাজী চৌধুরীর সাথে বিয়ে হবার কিছুদিন পর বিবাহ বিচ্ছেদ হলে দেনমোহরের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ১৮৭১ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী এই বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন।
আধুনিক নির্মাণ শৈলীতে স্থাপিত এই জমিদার বাড়ির ভিতরের মূল বাড়িটি দক্ষিণমুখী। বাড়ির ভিতরে একটি প্রবেশদ্বার, দ্বিতল বাগানবাড়ি, একটি কাছারি ঘর ও পশ্চিম- দক্ষিণ পাশে একটি বৈঠকখানা রয়েছে। এছাড়া পশ্চিম পাশে রয়েছে মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান ও নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারী কলেজ। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে থাকা বাড়িটিতে বর্তমানে উন্মুক্ত জাদুঘর ও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডাকাতিয়া নদীর তীরে অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করে।
গত ৬ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি শাখা হিসেবে লাকসামে নওয়াব ফয়জুন্নেসা জমিদার বাড়ি জাদুঘর (Nawab Faizunnesa Zamindar House Museum) এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
নবাব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও-এ জন্মগ্রহণ করেন। নওয়াব ফয়জুন্নেসা একাধারে ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী জমিদার, নারী শিক্ষার অগ্রদূত, সমাজকর্মী ও মুসলিম সাহিত্যক। তাঁর প্রজাবান্ধব জমিদারিত্ব ও নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার কারণে তৎকালীন ব্রিটিশ রাণী ভিক্টোরিয়া তাকে “নওয়াব” উপাধিতে ভূষিত করেন। পুরো ভারত উপমহাদেশে একমাত্র উনিই এই সম্মানীয় উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯০৩ সালে মহীয়সী এই নারী মৃত্যু বরণ করেণ। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৪ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে সম্মানিত করা হয়।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে কুমিল্লা বা লাকসামগামী বাসে করে সরাসরি যাওয়া যায়। সায়েদাবাদ বা জনপথ মোড় থেকে হিমাচল, উপকূল, মিয়ামি বা তিশা পরিবহনের বাসে উঠতে পারেন। বাসে যেতে ভাড়া লাগবে ৩০০-৪০০ টাকা। বাসে ওঠার সময় সরাসরি লাকসাম যাওয়ার বাসে ওঠা সবচেয়ে ভালো। যদি লাকসামের সরাসরি বাস না পান, তবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নেমে সেখান থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে লাকসাম যেতে হবে। এছারা ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বা নোয়াখালীগামী যেকোনো আন্তঃনগর ট্রেনে উঠে আপনি লাকসাম জংশন স্টেশনে নামতে পারেন। আসন ভেদে ভাড়া লাগবে ১৫০ থেকে ৭০০ টাকা।
পরিদর্শনের সময়সূচী ও প্রবেশ মূল্য
নওয়াব ফয়জুন্নেসা জমিদার বাড়ি জাদুঘর বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। শুক্রবার দুপুর ২:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০ পর্যন্ত এবং সপ্তাহের বাকি ৫ দিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। জাদুঘর প্রবেশ করতে জনপ্রতি ২০ টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।
কোথায় থাকবেন
আপনি যদি জমিদার বাড়ির খুব কাছে থাকতে চান, তবে লাকসাম জংশন সংলগ্ন হোটেল রয়েল প্যালেস বা স্থানীয় সাধারণ আবাসিক হোটেলগুলোতে থাকতে পারেন। এছারা কুমিল্লা শহরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে অবস্থিত হোটেল নূরজাহান অথবা শহরের ভেতরের হোটেল সিটি প্যালেস অথবা রেড রুফ ইন এ থাকতে পারেন।
কোথায় খাবেন
খাওয়ার জন্য লাকসাম বাজারে হোটেল রাজমহল বা হোটেল ক্যাফে মদিনা অনেক জনপ্রিয়। এখানে ঘরোয়া পরিবেশে দেশি খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া লাকসাম জংশন এলাকায় সাধারণ মানের অনেক হোটেল রয়েছে। ভালো মানের খাবারের জন্য কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার রেস্টুরেন্টগুলো বেছে নিতে পারেন। আর কুমিল্লায় গেলে বিখ্যাত মাতৃভাণ্ডারের রসমালাই খেয়ে দেখতে ভুলবেন না।
কুমিল্লা অন্যান্য জেলার দর্শনীয় স্থান
কুমিল্লার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে শালবন বৌদ্ধ বিহার , ময়নামতি জাদুঘর , রাণী ময়নামতির প্রাসাদ, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক , নব শালবন বিহার, ইটাখোলা মুড়া, বার্ড, ফান টাউন পার্ক, আনন্দ বিহার, ডাইনো পার্ক, ও ধর্মসাগর দীঘি উল্লেখযোগ্য।