জনপ্রিয় বাঙ্গালী ঔপন্যাসিক নীহাররঞ্জন গুপ্ত পিতার কর্মসূত্রে ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। নড়াইল জেলা শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে তাঁর পৈত্রিক নিবাসের (Nihar Ranjan Gupta Family House) অবস্থান। প্রায় ৭০ শতক জায়গার উপর নির্মিত গাছগাছালিতে ঘেরা দ্বিতল বাড়ির উত্তর দিকের দোতালা অংশে বারান্দাসহ তিনটি কক্ষ ও একটি মন্দির এবং দক্ষিণের একতালা অংশে ৭টি কক্ষ ও খিলানযুক্ত সরু বারান্দা রয়েছে। ভবনের প্রতিটি কক্ষে আছে একাধিক কুলঙ্গী ও দেয়াল আলমারি। নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ির দরজা, জানালা ও দেয়াল আলমারিতে কাঠের কারুকার্যময় ফুল ও লতাপাতার অলংকরণ বাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বাড়ির সামনে দিকে একটি পুকুর রয়েছে।
২০০৩ সালে বাংলাদেশ
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ঐতিহাসিক এই বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ৯০ শতকে শিশুদের চিত্রকলা শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে চিত্রশিল্পী
আলী আজগর রাজা ও শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়িতে শিশু
স্বর্গ-২ গড়ে তুলেন। তবে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক
নিদর্শনটি কালের বিবর্তনে অনেকটাই বিবর্ণ হয়ে গিয়েছে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে চড়ে পদ্মা সেতু হয়ে নড়াইল জেলায় যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, নবিনগর ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দেশ ট্র্যাভেলস, সেন্টমার্টিন পরিবহন, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, সোহাগ পরিবহন, ঈগল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ও এ কে ট্রাভেলস এর বাসে করে নড়াইল যেতে জনপ্রতি ৫৫০-১২০০ টাকা ভাড়া লাগবে। নড়াইল জেলা শহর পৌঁছে স্থানীয় যানবাহনে বাঁধা ঘাট যেতে পারবেন। এছাড়া ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে খুলনাগামী রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস অথবা জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে করে নড়াইল যেতে পারবেন। ট্রেনে যেতে আসনভেদে ভাড়া লাগবে ৩৭০ টাকা থেকে ৮৫১ টাকা। নড়াইল শহর পৌঁছে সিএনজি বা ইজিবাইকের মত স্থানীয় যানবাহনে লোহাগড়া উপজেলা হতে ৭.৫ কিলোমিটার দূরে নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ি যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
নড়াইলে বিভিন্ন আবাসিক
হোটেল ও রিসোর্টের মধ্যে হোটেল ডলফিন, সম্রাট, মর্ডাণ, অরুনিমা রিসোর্ট, চিত্রা রিসোর্ট প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
কোথায় খাবেন
লোহাগড়া উপজেলায় ভালমানের খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে।
নড়াইল জেলার অন্যান্য
দর্শনীয় স্থান
নড়াইলের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পট , চিত্রা রিসোর্ট , নিরিবিলি পিকনিক স্পট ও অরুণিমা ইকো পার্ক অন্যতম।