মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত পরিকুন্ড জলপ্রপাত (Parikunda Waterfall) অনেকের কাছেই অপরিচিত একটি নাম। অনন্য সুন্দর বিস্ময়কর এই জলপ্রপাত মাধবকুন্ড ঝর্ণা থেকে মাত্র ১০/১৫ মিনিটের পায়ে হাটা দূরত্বে অবস্থিত। গভীর বন ও প্রচারণার অভাবে ১৫০ ফুট উচু খাড়া পাহাড় হতে নেমে আসা পানির ধারা দেখতে খুব বেশি পর্যটকের চলাচল নেই। তবে অপ্রচলিত এই জলপ্রপাতের বুনো সৌন্দর্যের কোন কমতি নেই।
চারপাশে ঘন সবুজ বৃক্ষঘেরা ঝর্ণার জলের ধারা ছোট বড় পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলার সময় যে শব্দের সৃষ্টি হয় তা মনকে তৃপ্ত করে দারুণ অপার্থিবতায়। আর শীতল জলের ধারায় গা ভিজিয়ে নেয়ারও এখানে কোন বাধা নেই। প্রকৃতির নৈসর্গিক নিরবতায় জলপ্রপাতের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য পরিকুন্ড জলপ্রপাত অনন্য এক স্থান।
কখন যাবেন : বর্ষাকাল পরিকুন্ড ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার আদর্শ সময়। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ঝর্ণার পূর্ণ সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে মে মাস থেকেই পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ লক্ষ্য করা যায়।
পরিকুন্ড জলপ্রপাত কিভাবে যাবেন
মাধবকুন্ড ইকোপার্কের ভেতর দিয়ে পরিকুন্ড জলপ্রপাত দেখতে যেতে হয়। মাধবকুন্ড পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করে মাধবকুন্ড ঝর্ণায় যাওয়ার মূল রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে হাতের হাতের বা পাশে একটি শিব মন্দির দেখতে পাওয়া যায়। শিব মন্দিরের বিপরীত দিকে একটি সিড়িপথ রয়েছে। এই সিড়িপথ ধরে নিচে নামলে মাধবকুন্ড ঝর্ণার পানির ছড়ার দেখা পাবেন। ছড়ার পাথর বিছানো পথ ধরে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাটলে দেখা মিলবে স্বপ্নময় পরিকুন্ড জলপ্রপাতের।
ঢাকা থেকে মাধবকুন্ড ইকোপার্ক: ঢাকা থেকে বিয়ানীবাজারগামী শ্যামলী পরিবহন অথবা এনা পরিবহনের বাসে করে সরাসরি কাঠালতলী বাজার নেমে সেখান থেকে রিজার্ভ সিএনজি (২৫০-৩০০ টাকা) বা লোকাল সিএনজি (জনপ্রতি ৪০-৫০ টাকা) ভাড়া দিয়ে মাধবকুন্ড ইকোপার্ক পৌঁছাতে পারবেন।
বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেন মৌলভীবাজার হয়ে সিলেট যায়। পারাবত, উপবন, জয়ন্তিকা ও কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া স্টেশনে নেমে যেতে হবে। ভাড়া লাগবে শ্রেণিভেদে ৩৪৫ – ৭৯৪ টাকা পর্যন্ত। কুলাউড়া স্টেশন থেকে কাঠালতলী বাজার হয়ে মধবকুন্ড যেতে হবে। এইক্ষেত্রে আপনি রিজার্ভ সিএনজি ৬০০-৮০০ টাকায় ভাড়া করে মাধবকুন্ড যেতে পারবেন অথবা কুলাউড়া থেকে লোকাল সিএনজি দিয়ে কাঠালতলী বাজার গিয়ে সেখান থেকে আবার লোকাল সিএনজিতে মাধবকুন্ড যেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
মাধবকুন্ডে থাকার জন্য জেলা পরিষদের ২টি বাংলো ও ২টি আবাসিক
হোটেল রয়েছে।
অগ্রিম বুকিং দিয়ে থাকতে পারবেন সেখানে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সিলেট, মৌলভীবাজার বা
শ্রীমঙ্গলে রাত্রি যাপন করলে এতে পরদিন যেকোন জায়গায় আপনার যাত্রা সহজ হবে। আর সেসব জায়গায় থাকার অনেক ব্যবস্থা
আছে। আপনি
আপনার পছন্দমত হোটেল বা কটেজে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
মাধবকুন্ডে থাকার জন্য জেলা পরিষদের বাংলো ও পর্যটন মোটেলে থাকতে পারেন। তবে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় সিলেট, মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গলে রাত্রি যাপন করলে। শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে অনেক উন্নতমানের ইকো-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে যা আপনার ভ্রমণকে আরামদায়ক করবে। আপনি আপনার পছন্দমত হোটেল বা কটেজে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ শ্রীমঙ্গলের সবচেয়ে সুন্দর ২০টি রিসোর্ট ও হোটেল
কোথায় খাবেন
মাধবকুণ্ডে মাঝারি মানের রেস্টুরেন্ট আছে তবে সেখানে খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। তাই প্রয়োজনে নিজেদের খাবার বাইরে থেকে কিনে নিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গল শহরে বর্তমানে বেশ কিছু ব্র্যান্ডেড ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট হয়েছে। সিলেট ফিরে জিন্দাবাজার এলাকায় পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্টুরেন্টে ঐতিহ্যবাহী সব খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।