রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবনের বয়স প্রায় দেড়শত বছর। প্রাচীন ঐতিহাসিক এই লাল ভবনটি রাজবাড়ী জেলার একটি অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। গোয়ালন্দ মহকুমার বাণীবহ এস্টেটের বাণীবহের জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার ভবনটিকে কাঁচারী ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন। ১৮৯২ সালে জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার এই লাল ভবনে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। আর রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে (Rajbari Government High School) বলা যায় শতাধিক বছরের পুরাতন গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুলের বর্তমান রূপ।
জানা যায়, ১৮৭১ সালে মাইনর স্কুলের মাধ্যমে চালু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ১৮৯২ সালে পূর্ণ রূপ লাভ করে। ১৮৯২ সালে জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার ও অভয় শংকর মজুমদার দি গোয়ালন্দ ইংলিশ হাই স্কুল নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল রাখা হয়, যা বর্তমানে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (Rajbari Government High School) নামে সুপরিচিত। দেড়শত বছরের পরিক্রমায় রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী ও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ঐতিহাসিক এই লাল ভবনকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলি থেকে রাবেয়া, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, রাজবাড়ী পরিবহণ, সপ্তবর্ণা, সাউদিয়া বাসে চড়ে পাদ্মা সেতু পার হয়ে রাজবাড়ী যেতে জনপ্রতি ৫০০ টাকা ভাড়া লাগে। এছাড়া ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজবাড়ী আসতে পারবেন। ট্রেনে আসনভেদে ভাড়া লাগবে ৩৪০ থেকে ৭৮২ টাকা। রাজবাড়ী জেলা সদরের যেকোন স্থান হতে রিক্সা/অটোরিক্সা নিয়ে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবন দেখতে যেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
রাজবাড়ী জেলায় কয়েকটি সরকারি ডাক বাংলো এবং বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে হোটেল গ্র্যান্ড প্যালেস, হোটেল সমবায় রেসিডেন্সিয়াল, হোটেল পার্ক, হোটেল গোল্ডেন, গুলশান বোডিং, প্রাইম হোটেল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
কোথায় খাবেন
রাজবাড়ী জেলায় অবস্থিত বিভিন্নমানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট থেকে প্রয়োজনীয় খাবারের চাহিদা মেটাতে পারবেন। পান বাজারে অবস্থিত ভাদু শাহার দোকানের চমচম, রেলগেইটের হৈরা শাহের চপ এবং ঝালাই পট্টির কুলফি মালাই রাজবাড়ীর অধিক জনপ্রিয় খাবার।