রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক (Rana Resort & Amusement Park) দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খুলনা জেলায় অবস্থিত একটি আধুনিক ও নয়নাভিরাম বিনোদন কেন্দ্র। খুলনা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বটিয়াঘাটা উপজেলার বরুণপাড়ায়, পশুর নদীর তীরে ৯.২৫ একর জায়গা জুড়ে এই বিশাল পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। ওয়েস্টার্ন গ্রুপের চেয়ারম্যান এ.এস.এম আলাউদ্দিন ভূঁইয়া তার অকালপ্রয়াত ছেলে ইমরান উদ্দিন রানার স্মৃতি রক্ষার্থে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য এই বিশেষ স্থাপনাটি নির্মাণ করেছেন।
পর্যটকদের জন্য এখানে একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেল এবং বিভিন্ন রোমাঞ্চকর রাইড সমৃদ্ধ অ্যামিউজমেন্ট পার্ক আছে। পার্কের রাইডগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্যারোসেল, অক্টোপাস রাইড, নাগরদোলা, বাম্পার কার, সেল্ফ কন্ট্রোল্ড প্লেন, ট্রেন, ফ্লাইং কার, জাম্পিং ফ্রগ ও কেবল কার। তবে এই পার্কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর আধুনিক ওয়াটার পার্ক ও সুনামি পুল। এই পুলে কৃত্রিমভাবে সমুদ্রের মতো ৪-৫ ফুট উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি করা হয় যা দর্শনার্থীদের এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
পশুর নদীর তীরের স্নিগ্ধ বাতাস এবং সুসজ্জিত পরিবেশের কারণে এটি পারিবারিক ভ্রমণ ও পিকনিকের জন্য একটি আদর্শ স্থান। নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য যেমন এখানে লাক্সারি কটেজ রয়েছে, তেমনি দিনের বেলা ভ্রমণের জন্য রয়েছে সব ধরণের বিনোদন ব্যবস্থা। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রকৃতির সান্নিধ্যে বিনোদনের জন্য রানা রিসোর্ট বর্তমানে এই অঞ্চলের অন্যতম সেরা গন্তব্য।
প্যাকেজ ও খরচ
রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক পাঁচ (৫) ধরনের প্যাকেজ আছে।
প্যাকেজ অফার পরিবর্তনশীল, তাই যাওয়ার আগে পার্ক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে যান।
যোগাযোগ রানা রির্সোট এন্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক বরনপাড়া, দাকোপ রোড, গংরামপুর, বটিয়াঘাটা, খুলনা মোবাইলঃ 01709-934755, 01709-934758 ইমেইলঃ rrapl.wg@gmail.com Facebook Page
কিভাবে যাবেন
খুলনা শহর থেকে রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কে যাওয়ার যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক সহজ। শহর থেকে এই রিসোর্টের দূরত্ব প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার। যাতায়াতের সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম হলো খুলনা শহরের রয়েল মোড় বা সাতরাস্তা মোড় থেকে সরাসরি সিএনজি বা অটো-রিকশা দিয়ে যাতায়াত করা। এছাড়া কম খরচে যেতে চাইলে বাসে করে প্রথমে বটিয়াঘাটা বাজারে গিয়ে সেখান থেকে ইজিবাইক করে রিসোর্টে পৌঁছানো যায়। নিজস্ব গাড়ি বা মোটরসাইকেলে যারা যেতে চান তারা বটিয়াঘাটা রোড দিয়ে সরাসরি বরনপাড়া গ্রামে অবস্থিত এই রিসোর্টে পৌঁছাতে পারেন। শহর থেকে পার্কে পৌছাতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগবে।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার উপায়
কোথায় খাবেন
রানা রির্সোট এন্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কে এর ভিতরে খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া চাইলে বাঙ্গালি শাহি খাবার, ফাস্ট ফুড আইটেম, চাইনিজসহ সব ধরনের খাবার খুলনায় পাওয়া যায়। খুলনার জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে চুইঝালের ঘুগনি ও ঝালমুড়ি, চুইঝালের খাসি ও গরুর মাংস, খালিশপুরের মেগার মোড়ের বিরিয়ানি, ১ টাকার পুরি, সন্দেশ ও গলদা চিংড়ি অন্যতম।
কোথায় থাকবেন
রিসোর্টের ভেতরেই পশুর নদীর তীর ঘেঁষে আধুনিক ও সুসজ্জিত এসি কটেজ এবং ডিলাক্স রুম রয়েছে। রিসোর্টের কটেজগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে জানালা দিয়ে নদীর দৃশ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। যদি রিসোর্টে না থেকে খুলনা শহরে থাকতে পছন্দ করেন, তবে শহরের রয়েল মোড় বা শিববাড়ি মোড় এলাকায় অনেক ভালো মানের হোটেল (যেমন: হোটেল সিটি ইন, টাইগার গার্ডেন বা ক্যাসেল সালাম) রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ খুলনার সেরা আবাসিক হোটেল এর নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
খুলনার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড , শহীদ হাদিস পার্ক , করমজল পর্যটন কেন্দ্র , সুন্দরবন ও কটকা সমুদ্র সৈকত উল্লেখযোগ্য।