বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কালুরঘাটে অবস্থিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের পাশে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স (Shadhinata Complex) বা মিনি বাংলাদেশ পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমস্ত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং বিনোদনের বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে পার্কটিকে সাজানো হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সুপ্রিম কোর্ট, আহসান মঞ্জিল, কার্জন হল, লালবাগ কেল্লা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থাপনার আদলে নির্মিত নিদর্শনগুলো যেন একখণ্ড বাংলাদেশকে চোখের সামনে তুলে এনেছে। মজার মজার রাইডের পাশাপাশি এই পার্কটিতে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে চট্টগ্রামের সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটেছে।
প্রবেশ মূল ও সময়সূচী
স্বাধীনতা কমপ্লেক্স বা মিনি বাংলাদেশ পার্কটি সপ্তাহের সাত দিনই বেলা ১১ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। পার্কের প্রবেশ টিকেটের মূল্য ১৫০ টাকা।
কিভাবে যাবেন
চট্টগ্রাম শহরের যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি বা অটো রিক্সা ভাড়া করে কালুরঘাট মিনি বাংলাদেশ পার্ক যাওয়া যায়। অবস্থান ভেদে ভাড়া লাগবে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। আর বাসে করে যেতে চাইলে শহরের যেকোন স্থান থেকে কালুরঘাটগামী বাসে করে সরাসরি পার্কের সামনে নামতে পারবেন।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টি আর ট্রাভেলস, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী, সোহাগ, এস. আলম, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহনের এসি-নন এসি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৬৫০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে পর্যটক এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। ট্রেনে শ্রেনীভেদে ভাড়া লাগবে ৩৪০ থেকে ১৩৯৮ টাকা। এছাড়া বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
কোথায় থাকবেন
রাত্রি যাপনের জন্য চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। একটু যাচাই করে আপনার সুবিধামত হোটেল ম্যানেজ করতে পারবেন নিশ্চিন্তে।
কোথায় খাবেন
যদি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার চেখে দেখতে চান তবে আপনার জন্য রয়েছে সুখবর! ঐতিহবাহী খাবারে চট্ট্রগ্রাম বেশ সমৃদ্ধ, আর এ জন্য চলে যেতে পারেন হোটেল জামান-এ। আর মেজবানি খেতে চাইলে চলে যেতে পারেন চকবাজারে অবস্থিত “মেজবান হাইলে আইয়্যুন” রেস্তোরায়। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহরে ছড়িয়ে আছে বেশকিছু ভাল মানের রেস্টুরেন্ট এদের মধ্যে বারকোড ক্যাফে, মিলেঞ্জ রেস্টুরেন্ট, গ্রিডি গাটস, ক্যাফে ৮৮, সেভেন ডেইজ, ধাবা, হান্ডির নাম, গলফ গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, কোষ্টাল মারমেইড রেস্টুরেন্ট এন্ড লাউঞ্জ, বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।