ইরানের বিখ্যাত পার্সিয়ান সুফি বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার ( Shrine of Bayazid Bostami ) চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের পাহাড়ের উপর অবস্থিত। ১৮৩১ সালে পাহাড়ের উপরের অংশে দেয়ালঘেরা আঙ্গিনার মধ্যে সমাধিস্থল আবিষ্কৃত হয়। সমাধিস্থলের নির্মাণ শৈলী দেখে এটিকে মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে তৈরী বলে মনে করা হয়। তৎকালীন সুফী সাধকগণ ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য নির্জন পাহাড় কিংবা জঙ্গল ঘেরা স্থানকে বেছে নিতেন এবং এসব জায়গায় মাজার অথবা বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করেতেন। জনশ্রূতি আছে, বায়েজিদ বোস্তামী তাঁর সফর শেষ করে চট্টগ্রাম থেকে প্রস্থানের সময় ভক্তদের অনুরোধে কনিষ্ঠ আঙ্গুল কেঁটে কয়েক ফোঁটা রক্ত দিয়ে মাজার গড়ে তুলবার জায়গা চিহ্নিত করে যান। বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার মূলত বায়েজিদ বোস্তামীকে উৎসর্গ করে নির্মিত একটি প্রতিরূপ। বিভিন্ন সময়ে বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার সংস্কার এবং আধুনিকায়ন করা হয়।
বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার পাহাড়ের পাদদেশে মোঘলরীতিতে নির্মিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ঠ একটি আয়তাকার মসজিদ এবং সুবিশাল দীঘি রয়েছে। আর দীঘিতে বায়েজিদ বোস্তামীর বিখ্যাত কাছিম ও গজার মাছ রয়েছে। বোস্তামীর কাছিমের প্রজাতি পৃথিবীতে অত্যন্ত বিরল এবং বিপন্নপ্রায় প্রাণী। বর্তমানে বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারের দীঘিতে ২০০ থেকে ৩৫০ টি কচ্ছপ রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। প্রতি বছর ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য দর্শনার্থী বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার পরিদর্শনে আসে।
কিভাবে যাবেন
চট্টগ্রাম শহরের যেকোন স্থান থেকে ট্যাক্সি, সিএনজি চালিত অটোরিকশা অথবা বাসে চড়ে বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার যাওয়া যায়।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টি আর ট্রাভেলস, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী, সোহাগ, এস. আলম, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহনের এসি-নন এসি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৬৫০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে পর্যটক এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। ট্রেনে শ্রেনীভেদে ভাড়া লাগবে ৩৪০ থেকে ১৩৯৮ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে বেশকিছু এয়ারলাইন্স সরাসরি চট্টগ্রামগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
কোথায় থাকবেন
চট্টগ্রামে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। বাজেট হোটেলের মধ্যে হোটেল প্যারামউন্ট, হোটেল এশিয়ান এসআর, হোটেল সাফিনা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।