পার্বত্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড (Sitakunda) উপজেলায় চন্দ্রনাথ রির্জাভ ফরেস্টের চিরসবুজ বনাঞ্চলের ইকোপার্কে শোভাবর্ধন অনন্য প্রাকৃতিক সুপ্তধারা ঝর্ণা (Suptadhara Waterfall)। সাধারণত বর্ষার মৌসুম ছাড়া সারাবছর এই ঝর্ণায় পানি বেশ কম থাকে। তবে বর্ষাকালে সুপ্তধারা ঝর্ণা নিজেকে পূর্ণরূপে মিলে ধরে। সুপ্তধারা ঝর্ণার কাছেই সহস্রধারা ঝর্ণা নামে আরো একটি জলপ্রপাত রয়েছে। তাই ভরা বর্ষায় ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী সুপ্তধারা ঝর্ণা দেখতে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক এসে ভীড় করেন।
সুপ্তধারা ঝর্ণা দেখতে কিভাবে যাবেন
সীতাকুণ্ড ইকোপার্কেই সুপ্তধারা ঝর্ণার অবস্থান। ঢাকা থেকে সড়ক পথে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক আসতে এস.আলম, সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক ইত্যাদি পরিবহণের বিভিন্ন এসি, ননএসি বাস পাবেন। এইসব বাসগুলো মূলত ঢাকা সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তবে সবগুলো বাসই প্রয়োজন অনুযায়ী সীতাকুণ্ডে থামে। সীতাকুণ্ড ইকো পার্কে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে বাসে চড়ে আসলে সীতাকুন্ড বাস স্টপেজ থেকে ২ কিলোমিটার দূরে ফকিরহাট নামক জায়গায় বাস থেকে নামতে হবে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের দূরত্ব মাত্র ৩৫ কিলোমিটার। শহরের মাদারবাড়ী ও কদমতলী বাস ষ্টেশন থেকে সীতাকুণ্ড যাবার বাসগুলো ছাড়ে। এছাড়া অলঙ্কার থেকে মেক্সীতে করে সীতাকুণ্ডের ফকিরহাট যাওয়া যায়।
ঢাকা টু চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ঢাকা মেইল ট্রেনটিই শুধু সীতাকুণ্ড রেলস্টেশনে থামে। ঢাকা থেকে রাত ১১ টায় যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬ টা থেকে ৭ টার মধ্যে ট্রেনটি সীতাকুণ্ডে পৌঁছায়। আর যদি আন্তঃনগর ট্রেনে আসতে চান তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোন আন্তঃনগর ট্রেনে চড়ে ফেনী স্টেশনে নেমে সেখান থেকে ১০/১৫ টাকা অটো/রিক্সা ভাড়ায় মহিপাল বাসস্ট্যান্ড আসুন। মহিপাল বাসস্ট্যান্ড হতে ৫০-৮০ টাকা ভাড়ায় লোকাল বাসে সীতাকুণ্ড যেতে পারবেন।
সীতাকুণ্ড থেকে সারাদিনের জন্য সিএনজি ভাড়া নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সেক্ষেত্রে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা লাগতে পারে। সারাদিনের জন্য সিএনজি ভাড়া নিলে ইকো পার্ক ঘুরে অনেকটা সময় বাঁচাতে পারবেন। আর বাকি সময়টায় সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকার আরো কিছু ঝর্ণা ও ঝিরি ট্রেইল দেখতে পারবেন।
সীতাকুণ্ডে কোথায় থাকবেন
সীতাকুণ্ডে থাকার জন্য তেমন কোন ভালো মানের আবাসিক হোটেল নেই। সীতাকুণ্ড বাজারে কয়েকটি মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল আছে। এছাড়া এখানে টেলি-কমিউনিকেশনের অধীনস্থ একটি ডাকবাংলো আছে। অনুমতি নিয়ে সেখানে থাকার চেষ্টা করতে পারেন। অতি সম্প্রতি সীতাকুণ্ড পৌরসভার ডি টি রোডে হোটেল সৌদিয়া নামে একটি আবাসিক হোটেল চালু হয়েছে। হোটেলটিতে ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকায় কয়েক ধরণের রুম পাওয়া যায়। বুকিং দিতে ফোন করতে পারেন 01991-787979 , 01816-518119 নাম্বারে।
এছাড়া রাত্রিযাপনের জন্য চট্টগ্রামে চলে যেতে পারেন। সেখানে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে হোটেল প্যারামাউন্ট, হোটেল এশিয়ান এসআর, হোটেল সাফিনা, হোটেল নাবা ইন, হোটেল ল্যান্ডমার্ক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।