রাজধানী ঢাকার দোয়েল চত্বরের উত্তর পাশে অবস্থিত তিন নেতার মাজার (Teen Netar Mazar) বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন। বাংলার তিন বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক-এর স্মরণে এই সমাধিসৌধটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থপতি মাসুদ আহমদ ও এস.এ. জহিরুদ্দিনের নকশায় নির্মিত এই সমাধিসৌধটি ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিন নেতার মাজারের কাছেই রয়েছে হাইকোর্ট, শিশু একাডেমি এবং ঐতিহাসিক ঢাকা গেট।
স্বাধীনতার পূর্ব সময়ে এই তিন মহান নেতাই তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (মুখ্যমন্ত্রী) হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। তৎকালীন রাজনীতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরিতে এই তিন নেতার রাজনৈতিক চর্চার বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলার বাঘ খ্যাত শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার গুরুত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনি ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন এবং ১৯৫১ সালে তিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ১৯৬৪ সালের ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯২৪ সালে কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র হন এবং পরবর্তীতে খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রীসভায় শ্রমমন্ত্রী নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। গণতান্ত্রিক রীতির প্রতি তাঁর অবিচল নিষ্ঠার কারণে তাঁকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলা হয়। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বৈরুতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই তিন মহান নেতার মৃত্যুর পর তাঁদের স্মৃতি রক্ষার্থে এই যৌথ সমাধিসৌধ বা মাজারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কিভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকার যেকোন প্রান্ত থেকে নিজস্ব গাড়িতে, সিএনজি কিংবা গণপরিবহনে (বাস বা মেট্রোরেলে চড়ে টিএসসি বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন হয়ে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দোয়েল চত্বর সংলগ্ন তিন নেতার মাজারে আসতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
খাবারের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, টি.এস.সি, ডাকসু, হাকিম চত্বর এবং সেন্ট্রাল লাইব্রেরির চারপাশের বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকে লাল চা, সমুচা, চপ, সিঙ্গারা, চিকেন প্যাটিস থেকে শুরু করে ভাত, ডাল, আলুভর্তা, মুরগির মাংসের তরকারি, মুরগি ও ডিম খিচুড়ি এবং তেহারি খেতে পারবেন।