রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (University of Rajshahi) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যা ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৮ হাজারের বেশী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর সবুজে ঘেরা বিশাল ক্যাম্পাস, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য শিক্ষানুরাগী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে।
প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস
১৯১৭ সালে স্যাডলার কমিশন রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করলেও তা তখন বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৫২ সালে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বিল উত্থাপন করেন, যা ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ পাস হয়। ড. ইতরাৎ হোসেন জুবেরী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ৬ জুলাই ১৯৫৩ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস মতিহার এলাকায় অবস্থিত, যা প্রায় ২৯৮.২০ হেক্টর জমির উপর বিস্তৃত। এখানে ২টি প্রশাসনিক ভবন, সিনেট ভবন, ৮টি একাডেমিক ভবন, ১৫টি আবাসিক হল, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বাসভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, আইবিএস ভবন, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, নজরুল ইসলাম মিলনায়তন, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর , শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা এবং মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘সাবাস বাংলাদেশ’সহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।
সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। শুধু একাডেমিক উৎকর্ষ নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অগ্রগতিতেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনেক। রাবি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটি। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চারুকলা অনুষদ চিত্রকলা, ভাস্কর্য, মৃৎশিল্প, প্রাচ্যকলা ও কারুশিল্পের মাধ্যমে দেশের শিল্পচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ অনুষদ বার্ষিক প্রদর্শনী, পহেলা ফাল্গুন, পিঠা উৎসবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জাতীয় আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক, ১৪ জন কর্মচারী ও ৯ জন ছাত্র শহীদ হন।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশ পথে রাজশাহী যেতে পারবেন। ঢাকার মহাখালী, আব্দুল্লাহপুর, গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে গ্রীন লাইন, একতা, শ্যামলি, হানিফ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস এর এসি/নন-এসি বাসে করে রাজশাহী আসতে পারেন। এছারা ঢাকা থেকে ট্রেনে রাজশাহী যেতে চাইলে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস, ধুমকেতু এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে করেও আসতে পারবেন। রাজশাহী শহরে এসে স্থানীয় যে কোন পরিবহনে করে সহজেই যেতে পারবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
কোথায় থাকবেন
রাত্রিযাপনের জন্য রাজশাহী শহরের উল্লেখযোগ্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে রয়েছে পর্যটন কর্পোরেশন মোটেল, হোটেল গ্রিন সিটি ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল স্টার ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সিল্ক ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল ও মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল। আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন রাজশাহীর সেরা হোটেল ও রিসোর্ট রিভিউ গাইড।
কি খাবেন
রাজশাহীতে বিখ্যাত হাঁসের মাংসের স্বাদ নিতে পারেন মড়মড়িয়া এলাকায়। কাটাখালিতে গিয়ে খেতে পারেন জনপ্রিয় কালাভুনা। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় ও চাইনিজ খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। যেখানে আপনার পছন্দমত সবধরনের খাবার খেয়ে নিতে পারবেন।
রাজশাহীর অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
রাজশাহীর অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে টি-বাঁধ , পদ্মা গার্ডেন, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, শিশু পার্ক , বাঘা মসজিদ ও পুঠিয়া রাজবাড়ী সহ আরও বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা।