টাঙ্গাইল জেলা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে নাগরপুরে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত একটি পর্যটন এলাকা উপেন্দ্র সরোবর (Upendra Sorobor)। উপেন্দ্র দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই সরোবরে ১২টি ঘাট থাকায় স্থানীয়দের কাছে এই বিনোদন কেন্দ্রটি “বার ঘাটলা দীঘি” নামেও পরিচিত।
উপেন্দ্র সরোবরের পশ্চিম পাশে প্রধান প্রবেশপথ পার হলেই নজরে পড়বে ঘাট সংলগ্ন বিশাল বটবৃক্ষ। কথিত আছে কোন এক জ্যোৎস্না রাতে নাগরপুরের তৎকালীন জমিদার রায় বাহাদুর সতীশ চৌধুরী হঠাৎ দেখতে পেলেন কিছু নারী অদূর বিল থেকে পানি নিয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি খবর নিয়ে এলাকায় খাবারের পানির অভাবের কথা জানতে পারেন। প্রজাদের কষ্ট দূর করার লক্ষ্যে ১৩৪১ বঙ্গাব্দে প্রায় ১১ একর জায়গার উপর জমিদার রায় বাহাদুর তার পিতা উপেন্দ্র মোহন রায় চৌধুরীর নামানুসারে এই সুদৃশ্য দীঘি খনন করেন। প্রজাদের সুবিধার্থে সরোবরের তলায় স্বচ্ছ পানির ৬টি গভীর কুয়া খনন করা হয় এবং দীঘির চারপাশে নির্মাণ করা হয় ১২টি প্রশস্ত ঘাট। সেই সাথে চারপাশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য লাগানো হয় নানা প্রজাতির অসংখ্য গাছ।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে থাকা এই স্থান বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে পিকনিক স্পট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। ছুটির দিনগুলোতে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে অনেকেই এই স্থানে ছুটে আসেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরোবরটি তার আগের জৌলুস কিছুটা হারিয়েছে। পুকুরের কিছু অংশে কচুরিপানার উপস্থিতি এবং অধিকাংশ ঘাটের ক্ষয়ক্ষতি পর্যটকদের জন্য অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মৎস শিকারিদের জন্য উপেন্দ্র সরোবরে আছে মাছ ধরার সু-ব্যবস্থা।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে উপেন্দ্র সরোবরে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে টাঙ্গাইল শহরে আসতে হবে। ঢাকার মহাখালী বা কল্যাণপুর থেকে টাঙ্গাইল কিংবা ধনবাড়ীগামী যেকোন বাসে উঠে টাঙ্গাইল যেতে পারবেন। এছাড়া ঢাকার মহাখালী থেকে সরাসরি নাগরপুরগামী বাসেও আসা যায়। এছারা ট্রেনে আসতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে একতা এক্সপ্রেস অথবা রাজশাহী রুটে চলাচলকারী যেকোন ট্রেনে করে টাঙ্গাইল আসতে পারবেন। ট্রেনে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল আসতে ২ ঘন্টা সময় লাগে।
টাঙ্গাইল শহর থেকে সিএনজি নিয়ে সরাসরি নাগরপুর উপজেলা থেকে ২ কিলোমিটার দূরে উপেন্দ্র সরোবর যাওয়া যায়। নাগরপুরের কাঠুরি শিব মন্দিরের পাশেই দৃষ্টিনন্দন উপেন্দ্র সরোবর অবস্থিত।
কোথায় থাকবেন
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের উপেন্দ্র সরোবর ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসা সম্ভব। তবে রাত্রিযাপনের প্রয়োজনে টাঙ্গাইল শহরের মসজিদ রোড ও নিরালা মোড়ে আল ফয়সাল, হোটেল প্রিন্স, ব্যুরো হোটেল, আযান রেসিডেন্সিয়াল, হোটেল প্যারাডাইস ইন, হোটেল সাগর ও হোটেল শান্তির মতো আবাসিক হোটেলগুলোতে থাকতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে নিরালা ঘর, কবি রস ও নিউ তৃপ্তির মতো বেশ কিছু রেস্তোরা আছে। এছাড়া নাগরপুর বাজারে হালকা নাস্তা করার মত কিছু দোকান পাবেন।
টাঙ্গাইলের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
টাঙ্গাইলের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে গুপ্ত বৃন্দাবন , পরীর দালান , ২০১ গম্বুজ মসজিদ , মধুপুর জাতীয় উদ্যান , ধনবাড়ী, করটিয়া জমিদার বাড়ী, মহেরা জমিদার বাড়ি এবং পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী ।