সংক্ষিপ্ত বিবরণ
অষ্টগ্রাম হাওর কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম (Astagram) উপজেলায় অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হতে অষ্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। উত্তরে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন ও ইটনা, দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছির নগর, পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলা ও হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা, পশ্চিমে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর ও নিকলি উপজেলা। অষ্টগ্রামের অবস্থান হাওরের মাধখানে।
বিস্তারিত বিবরণ
অষ্টগ্রাম হাওর কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম (Astagram) উপজেলায় অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হতে অষ্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। উত্তরে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন ও ইটনা, দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছির নগর, পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলা ও হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা, পশ্চিমে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর ও নিকলি উপজেলা। অষ্টগ্রামের অবস্থান হাওরের মাধখানে।
বর্ষাকাল হলো অষ্টগ্রাম হাওর ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত সময়। চারপাশে যে দিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। পানির মাঝেই ছবির মত সুন্দর ছোট ছোট গ্রাম গুলো ভেসে আছে। উত্তাল বতাস, মাঝিদের গান, জেলেদের ব্যস্ততা, ছোট ছোট নৌকায় মানুষের যাতায়াত, সব কিছু মিলিয়েই চারপাশটা হয়ে উঠে দেখার মত। তবে শুধু বর্ষা নয়, যখন পানি নেমে যায় তখন ভিন্ন রূপে এই হাওর জেগে উঠে। ভিন্ন স্বাদ পাওয়ার জন্যে একবার শীতেও যেতে পারেন কিশোরগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান অষ্টগ্রাম হাওরে।
অষ্টগ্রাম হাওর যাবার উপায়
অষ্টগ্রাম তথা অষ্টগ্রাম হাওরে সরাসরি যাওয়ার সুযোগ নেই। যেতে হবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে। আবার বর্ষাকালে যাওয়ার উপায় একরকম, শীতে যাওয়ার উপায় আরেক রকম। মূলত চারটি পথে অষ্টগ্রাম যাওয়ার উপায় আছে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে নৌকায় অষ্টগ্রাম। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে নৌকায় অষ্টগ্রাম। কিশোরগঞ্জ থেকে মিঠামইন হয়ে অষ্টগ্রাম। কিশোরগঞ্জের নিকলি থেকে অষ্টগ্রাম। আপনি কোন সময় যাবেন এবং কোন পথে গেলে আপনার সুবিধা হবে সেই ভাবে প্ল্যান করা উচিত।
সহজ ও সব মৌসুমে যাওয়া যায় এমন হিসেবে বাজিতপুর থেকে অষ্টগ্রাম কিংবা কিশোরগঞ্জ শহর হয়ে মিঠামইন হয়ে অষ্টগ্রাম যাওয়ার উপায়টাই বর্তমানে জনপ্রিয়।
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের ট্রেনে এসে বাজিতপুর নেমে পড়ুন। বাজিতপুর স্টেশন থেকে দীঘিরপাড় ঘাটে যান। সেখান থেকে শুকনো সময়ে ইজিবাইকে ফেরী পার হয়ে যেতে পারবেন অষ্টগ্রাম। অথবা বর্ষাকালে ফেরী বন্ধ থাকলে লোকাল নৌকা বা রিসার্ভ নৌকা করে অষ্টগ্রাম যেতে পারবেন।
যদি বাসে করে আসেন তবে ঢাকা থেকে বাজিতপুরের একটি বিআরটিসি বাস সার্ভিস আছে। এছাড়া ঢাকার গোলাপবাগ থেকে কিশোরগঞ্জগামী যেকোন বাসে করে কটিয়াদি নেমে বাস স্টপ থেকেই বাজিতপুরের সিএনজি পাবেন। বাজিতপুর বাজার থেকে ইজিবাইক বা সিএনজি যোগে চলে আসুন দিঘির পাড়।
অথবা যে কোন ট্রেনে ভৈরব রেল স্টেশনে নেমে, রিক্সায় ভৈরব বাজারে চলে আসুন। সেখান থেকে লোকাল সিএনজিতে করে বাজিতপুর চলে আসতে পারবেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হয়ে অষ্টগ্রাম যেতে চাইলে কিশোরগঞ্জ থেকে বালিখোলা ঘাটে চলে আসুন। শুকনো সময়ে ইজিবাইক/মোটরসাইকেল দিয়ে ফেরী পার হয়ে মিঠামইন যেতে পারবেন। সেখান থেকে ইজিবাইকে/মোটরবাইকে হাওর রোড হয়ে অষ্টগ্রাম যেতে পারবেন।
বর্ষায় আসলে ফেরী বন্ধ থাকে সেইক্ষেত্রে লোকাল নৌকায় বা রিসার্ভ নৌকায় মিঠামইন হয়ে অষ্টগ্রাম যেতে পারবেন।
অষ্টগ্রাম হাওরে যা দেখবেন
যতক্ষণ আপনি নৌকায় ঘুরে বেড়াবেন নিশ্চিত তা আপনার ভালো লাগবে। হাওরের রূপ দেখা ছাড়াও মিটামইন অষ্টগ্রাম হাওর রোডে একটি বিকেল অতিবাহিত করে যেতে পারেন।
অষ্টগ্রাম থানা সদরে আছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যের মিশিলে নির্মিত পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট কুতুবশাহ মসজিদ । এই মসজিদের নান্দ্যনিকতা সবাইকে আকর্ষণ করে।
যদি কোন ভরা পূর্নিমায় হাওরে যেতে পারেন তবে তা হতে পারে আপনার জন্য মনে রাখার মত একটি রাত। নৌকায় ভাসতে ভাসতে চাঁদের আলোয়া গা ভেজাতে পারেন কিংবা পছন্দমতো জায়গা দেখে ক্যাম্পিং করে ফেলতে পারেন। ক্যাম্পিং করতে অবশ্যই প্রয়োজনীয় জিনিস তাবু, হ্যামক ইত্যাদি ঢাকা থেকেই সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।
অষ্টগ্রামের হোটেল ও রিসোর্ট
অষ্টগ্রামে থাকার জন্যে খুব ভাল মানের আবাসিক হোটেল নেই। প্রথম ও প্রধান জায়গা হলো জেলা পরিষদ ডাক বাংলো। রুম ভেদে ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা ভাড়া। ডাক বাংলোতে থাকতে হলে আগে থেকেই যোগাযোগ করে যাওয়া ভালো। ০১৭১-০২৯১২২৫ / ০১৯১৪-৯৭৫৩৮৯ এই নাম্বারে ফোন করে কেয়ারটেকারের সাথে কথা বলে সব ঠিক করে নিন। অষ্টগ্রাম বাজারে রংধনু আবাসিক হোটেল (০১৯১৬-১২২৪১৯), মৌ-মিতু আবাসিক (০১৭১৫-৩৪৫১৪২) ও ঝলক আবাসিক হোটেল (০১৯৭৩-২৭৮৪৩১) নামে তিনটি সাধারণ মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। রুম ভেদে ভাড়া লাগবে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা।
আর ক্যাম্পিং করতে চাইলে তাও পারবেন। তবে ক্যাম্পিং করার জন্যে ভালো একটা জায়গা নির্বাচন করার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখবেন। প্রয়োজন হলে স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিন।
কোথায় খাবেন / কি খাবেন
নিজেরা রান্না করতে চাইলে সকাল সকাল স্থানীয় বাজার থেকে কিনে নিয়ে রান্না করতে পারেন। অষ্টগ্রাম বাজারে অবস্থিত নাজির কিংবা প্রভাতি হোটেলে হাওরের তাজা মাছের বিভিন্ন পদের তরকারি পাওয়া যায়। সদ্য হাওর থেকে ধরে মাছের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। অষ্টগ্রামে বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা পনির পাওয়া যায় তবে এর জন্য আপনাকে অন্তত এক-দুইদিন আগে স্থানীয় পনীর বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে পরিমাণ জানাতে হবে। শীতকালে অষ্টগ্রাম ভ্রমণে গেলে এখনকার বিখ্যাত প্রায় ১০ ইঞ্চি লম্বা মুরালি খেয়ে দেখতে পারেন।
ভ্রমণ সতর্কতা
ক্যাম্পিং করার ক্ষেত্রে অষ্টগ্রামের মূল ভূখণ্ড অর্থাৎ অষ্টগ্রাম বাজারের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন। ১৫ বা এর বেশী মানুষ গেলে হয়তো স্থানীয় থানায় ওসির কাছে রিপোর্ট করতে হতে পারে, নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করুন। যদি নৌকায় সারা রাত পার করার ইচ্ছা থাকে তবে যথাযম্ভব কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন, স্থানীয় কেউ সাথে থাকলে ভাল হয়।
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
আরও দেখুন
সব দেখুন
টাঙ্গুয়ার হাওর
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

শেখ সাদী জামে মসজিদ
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

নীলাদ্রি লেক
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

নিকলী হাওর
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

হাওড় জনপদ
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

টাঙ্গুয়ার হাওর
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
