সংক্ষিপ্ত বিবরণ
দরিয়ানগর (Doria Nogor) পর্যটন কেন্দ্রটি হচ্ছে পাহাড়, সমুদ্র আর সূর্যের অপূর্ব মিলনস্থল। প্রকৃতির এ অপরূপ সমন্বয় অবলোকনের জন্য যেতে হবে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কলাতলী মোড় থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পূর্বদিকে। একদিকে দৃষ্টি জুড়ে বঙ্গোপসাগর আর অন্য দিকে পাহাড় এরই মাঝখান দিয়ে কক্সবাজার হতে টেকনাফগামী রাস্তা। এই রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে সামনে পড়বে বড়ছেড়া গ্রামের পাঁচটি পাহাড়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠা দরিয়ানগর বিনোদন কেন্দ্র।
বিস্তারিত বিবরণ
দরিয়ানগর (Doria Nogor) পর্যটন কেন্দ্রটি হচ্ছে পাহাড়, সমুদ্র আর সূর্যের অপূর্ব মিলনস্থল। প্রকৃতির এ অপরূপ সমন্বয় অবলোকনের জন্য যেতে হবে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কলাতলী মোড় থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পূর্বদিকে। একদিকে দৃষ্টি জুড়ে বঙ্গোপসাগর আর অন্য দিকে পাহাড় এরই মাঝখান দিয়ে কক্সবাজার হতে টেকনাফগামী রাস্তা। এই রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে সামনে পড়বে বড়ছেড়া গ্রামের পাঁচটি পাহাড়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠা দরিয়ানগর বিনোদন কেন্দ্র।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সুন্দর মনোরম পরিবেশে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে একটু নিরবিলিতে সমুদ্র দেখতে চাইলে দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকত হতে পারে আদর্শ জায়গা। দরিয়ানগরে উঁচু পাহাড়ের নিচ দিয়ে আঁকাবাঁকা একটি সুড়ঙ্গ পথ আছে, যা শাহেনশাহ গুহা নামে পরিচিত, আরও আছে ছোট কিছু ঝিরি ঝর্ণা। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলে ভিন্ন স্বাদ নিতে চাইলে ঘুরে আসুন সেই গুহা।
দরিয়ানগর সী ভিউ পার্ক দরিয়ানগরের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত দরিয়ানগর সী ভিউ পার্ক (Doria Nogor Sea View Park) পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড়ের ওপর থেকে সমুদ্রের বিশাল নীল জলরাশি দেখার অভিজ্ঞতা এখান থেকেই সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়। পার্কটিতে বসার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা, সিঁড়ি এবং ভিউ পয়েন্ট রয়েছে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় পাহাড়ের উপর থেকে সমুদ্রের রূপ দেখার জন্য এটি একটি অতুলনীয় স্থান। পরিবার নিয়ে নিরিবিলিতে সময় কাটানো এবং ছবি তোলার জন্য এই পার্কটি চমৎকার।
প্রবেশ মূল্য ও গাইডঃ দরিয়ানগর সী ভিউ পার্কে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৪০ টাকা। পার্কের ভেতরে পাহাড়ি পথ এবং গুহাগুলো ঘুরে দেখানোর জন্য স্থানীয় কিছু কিশোর গাইড হিসেবে কাজ করে। আপনি চাইলে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকার বিনিময়ে তাদের সাহায্য নিতে পারেন যা আপনার ভ্রমণকে আরও সহজ ও তথ্যসমৃদ্ধ করবে।
প্যারাসেইলিং ও অন্যান্য অ্যাক্টিভিটিজ
বর্তমানে দরিয়া নগরে সবচেয়ে বড় আকর্ষন প্যারাসেইলিং, জেট স্কি, স্পিডবোট ও বিচ বাইক। কক্সবাজার বেড়াতে আসা পর্যটকদের আনন্দ আরো বাড়িয়ে দিতে শুধুমাত্র দরিয়ানগর সৈকতেই রয়েছে প্যারাসেইলিং করার ব্যবস্থা। বর্তমানে দরিয়ানগরে দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্যারাসেইলিং করা যায়। স্যাটেলাইট ভিশন সি স্পোর্টস প্রতিষ্ঠানটির প্যারাসেইলিং সহ চারটি প্যাকেজ আছে। প্যারাসেইলিং প্যাকেজ, জেট স্কি প্যাকেজ, স্পিডবোট প্যাকেজ ও বিচ বাইক প্যাকেজ। এই প্যাকেজগুলোর যেকোনটি নিতে আপনাকে খরচ করতে হবে ৫০০ টাকা থেকে ৮,০০০ টাকা। প্যারাসেইলিং – ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা, জেট স্কি – ৫০০ টাকা (৩-৫ কিলোমিটার) ও ১ ঘন্টা ৮,০০০ টাকা, স্পিডবোট – ১,৫০০ টাকা (৫-৬ কিলোমিটার) ও ৩,০০০ টাকা (১২-১৫ কিলোমিটার), বিচ বাইক – ৫০০ টাকা (৩-৫ কিলোমিটার) ও ১ ঘন্টা ৩,০০০ টাকা। আর ফানফেস্ট বীচ এক্টিভিটিজ নামের প্রতিষ্ঠানটির প্যারাসেইলিং এর দুইটি প্যাকেজ রয়েছে। যেগুলো ২,০০০ ও ২,৫০০ টাকায় নেওয়া যায়। যোগাযোগঃ স্যাটেলাইট ভিশন সি স্পোর্টস মোবাইলঃ 01783598892 Facebook Page ফানফেস্ট বীচ এক্টিভিটিজ মোবাইলঃ 01730633757 Facebook Page
জেনে রাখা ভালো, প্যারাসেইলিং এর ২,০০০ টাকার রাইডে শুধু আকাশে উড়ায়। আর ২,৫০০ টাকার রাইডে আকাশে উড়ানোর পর নিচে সমুদ্রের পানিতে পা স্পর্শ করিয়ে আবার আকাশে উড়ানো হয়। সকল ক্ষেত্রেই ৫ থেকে ১২ মিনিট সময় পর্যন্ত ৩০০ থেকে ৪৫০ ফুট পর্যন্ত ওপরে উঠানো হয়।
দরিয়ানগর কিভাবে যাবেন
মেরিন ড্রাইভ রোডে ভ্রমণ করতে হলে আপনাকে কক্সবাজার আসতেই হবে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিভিন্ন উপায়ে আসা যায়। ঢাকা থেকে সৌদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বাস প্রতিদিন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার পর্যন্ত।
ঢাকা থেকে ট্রেনে সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে কক্সবাজার এক্সপ্রেস অথবা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রা করতে পারেন। এছারা ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার আসতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী ট্রেনে সুবিধানুযায়ী যাত্রা করতে পারেন। ট্রেনে আসনভেদে ভাড়া লাগবে ৪০৫-১৩৯৮ টাকা। এরপর চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকা, অলংকার মোড়, সিনেমা প্যালেস অথবা দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে এস আলম, হানিফ অথবা ইউনিক পরিবহনের বাসে কক্সবাজার আসতে পারবেন। বাস ভেদে ভাড়া ৪২০ থেকে ১০০০ টাকা নিবে।
এছাড়া বাংলাদেশ বিমান, এয়ার আস্ট্রা ও ইউএস বাংলা এয়ারওয়েজের বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া আকাশপথে চট্রগ্রাম এসে সড়ক পথে উপরে উল্লেখিত উপায়ে কক্সবাজার যেতে পারবেন।
কক্সবাজার থেকে দরিয়ানগর
কক্সবাজারের যে কোন জায়গা থেকে দরিয়া নগর যেতে পারবেন খুব সহজেই। অটোরিক্সা/ইজিবাক বা সিএনজি দিয়ে মেরিন ড্রাইভ রোডের সৌন্দর্য দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাবেন কলাতলী বীচের মোড় থেকে ৪ কিলোমিটার দূরের দরিয়ানগরে। লোকাল অটোরিক্সা ভাড়া ২০ টাকা। ইজিবাইক/অটোরিক্সা বা সিএনজি রিজার্ভ করে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। দরিয়ানগর থেকে একটু আগালেই হিমছড়ি, আর এই রোড দিয়েই যেতে হয় ইনানী বীচ। তাই ভ্রমণ পরিকল্পনা করে নিতে পারেন সেইভাবেই। ইনানী বা হিমছড়ি যাওয়া বা আসার পথে একটু সময় কাটাতে পারেন দরিয়ানগরে। তবে দরিয়ানগরে সবচেয়ে ভালো হয় বিকেলের সময়টায় গেলে। সুন্দর সূযার্স্ত দেখার জন্যে অতুলনীয়।
কোথায় থাকবেন
কক্সবাজার প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল বা কটেজ আছে। এদের মধ্যে মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সায়মন বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে, হেরিটেজ, সী প্যালেস, সী গাল, কোরাল রীফ, নিটোল রিসোর্ট, আইল্যান্ডিয়া, বীচ ভিউ, সী ক্রাউন, ইউনি রিসোর্ট, উর্মি গেস্ট হাউজ, কোরাল রীফ, ইকরা বিচ রিসোর্ট, অভিসার, মিডিয়া ইন, কল্লোল, হানিমুন রিসোর্ট, নীলিমা রিসোর্ট উল্লেখ্য।
অফ সিজনে অগ্রিম হোটেল বুকিং না দিলেও রুম পাবার নিশ্চয়তা থাকে কিন্তু ডিসেম্বরের ১৫ থেকে জানুয়ারী ১৫ তারিখ পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং দিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।অফসিজনে সাধারণত হোটেলের ভাড়া অর্ধেকেরও কম থাকে। সময় থাকলে কক্সবাজার নেমেই একটু দরদাম করে হোটেল খুঁজে নিলেই ভালো। বিচ ও মেইন রোড থেকে হোটেল যত দূরে হবে থাকার ভাড়া সাধারণত কম হয়ে থাকে। হোটেল খোঁজার ক্ষেত্রে রিকশাওয়ালা বা সিএনজিওয়ালার পরামর্শ নেয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে হোটেলের ফেইসবুক পেইজ বা ওয়েবাসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।
কোথায় খাবেন
মেরিন ড্রাইভ রোডের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। চাইলে এসব রেস্টুরেন্টের একটাতে উদরপূর্তি করে ফেলতে পারেন। আবার কক্সবাজারে সব ধরণ ও মানের রেস্টুরেন্ট আছে। মধ্যম মানের বাজেট রেস্টুরেন্টের মধ্যে রোদেলা, ঝাউবন, ধানসিঁড়ি, পৌষি, নিরিবিলি ইত্যাদি উল্লেখ করার মত। সিজন অনুসারে অন্য অনেক কিছুর মত এখানে খাবারের দামও কম/বেশী হতে পারে।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
দরিয়ানগর দেখার জন্যেই হয়তো আপনি কক্সবাজার যাবেন না। আপনার হাতে সময় ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে দরিয়ানগরের আশেপাশে যা আছে ঘুরে দেখে নিতে পারবেন।
হিমছড়ি
ইনানী সৈকত
কক্সবাজার বীচ
রামু
মহেশখালী
সেন্টমার্টিন
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
দ্রুত তথ্য
ঠিকানা
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম
প্রবেশ মূল্য
বিনামূল্যে
সময়সূচি
সর্বদা খোলা
আরও দেখুন
সব দেখুন
জিন্দা পার্ক
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

শৈল-চূড়া ক্যাফে
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আবি রিভার পার্ক
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আদিনাথ মন্দির
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আলাদিন পার্ক
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আলভিনা গার্ডেন – কৃষি পর্যটন কেন্দ্র
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
