সিলেট শহরের মির্জাজাঙ্গালে উনবিংশ শতাব্দীতে মণিপুরী রাজবাড়ি (Manipuri Rajbari) স্থাপিত হয়। প্রাচীন স্থাপত্য কীর্তির অন্যতম নিদর্শন এই মণিপুরী রাজবাড়ি। ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মণিপুরী রাজবাড়ি। ১৮২২-২৪ সালে সিলেট শহরের মির্জাজাঙ্গাল রোডে এই ঐতিহাসিক বাড়িটি নির্মাণ করেন মণিপুরের রাজা গম্ভীর সিং ও তার ভাইয়েরা। পরবর্তীতে চৌর্জিৎ সিং ও মার্জিত সিং ভানুগাছ এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করলেও রাজা গম্ভীর সিং থেকে যান মির্জাজাঙ্গালে।
রাজা গম্ভীর সিংয়ের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি বিভিন্ন সময়ের প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে স্বকীয়তা হারালেও আকর্ষণ হারায়নি। বাড়ির প্রধান ফটক, ঘেরা দেয়াল, সুন্দর কারুকাজ করা সিঁড়ি এবং বালাখানার ধ্বংসাবশেষ বর্তমান মণিপুরী রাজবাড়ির নিদর্শন। পর্যটকরাও বাড়িটির প্রশংসা করেন। পর্যটকদের কাছেও রয়েছে বাড়িটির বিশেষ কদর।
পূর্বসূরী রাজার রেখে যাওয়া নানা বস্তুকে স্বর্ণালী স্মৃতি হিসেবে ধারণ করে আছে পরিবারগুলো। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- একমণ ওজনের মন্দিরের একটি ঘন্টা যার গায়ে মনিপুরী ভাষায় লেখা আছে, ‘‘শ্রীহট্ট কুনোঙ্গী শ্রী মহাপ্রভুদা শ্রীলশ্রী পঞ্চযুক্ত মনিপুরে স্বরচন্দ কীর্ত্তি সিংহ মহারাজন্য কৎখিবী সরিকনি ইতিশকাব্দা ১৮০০ তারিখ ১৮ জৈষ্ঠ্য’’।
কিভাবে যাবেন
সিলেট থেকে মণিপুরী রাজবাড়ির দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। দেশের যেখান থেকেই মণিপুরী রাজবাড়ি যেতে চান আপনাকে প্রথমে সিলেট শহরে আসতে হবে। সিলেট শহর থেকে সিএনজি, অটোরিক্সা অথবা স্থানীয় যে কোন যানবাহন ভাড়া করে চলে যেতে পারেন মনিপুরী রাজবাড়ি। পড়ুনঃ ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার উপায়
কি খাবেন
স্থানীয় কিছু দোকান ছাড়া মণিপুরী রাজবাড়িতে তেমন কোন খাবার পাওয়া যায় না। এছারা সিলেটর জিন্দাবাজার এলাকার পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্টুরেন্টে কম খরচে নানা রকম দেশীয় খাবার খেতে পারেন। এছাড়া সিলেট শহরে বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট আছে, আপনার পছন্দ মত যেকোন জায়গায় খেয়ে নিতে পারেন।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
সিলেট জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে হযরত শাহজালালের মাজার , হযরত শাহপরাণের মাজার , ক্বীন ব্রীজ , মালনীছড়া চা বাগান , জাফলং , বিছনাকান্দি , রাতারগুল , লোভাছড়া, লালাখাল , পান্থুমাই ঝর্ণা, সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা, হাকালুকি হাওর , ভোলাগঞ্জ , ড্রিমল্যান্ড পার্ক এবং জাকারিয়া সিটি।