সংক্ষিপ্ত বিবরণ
দ্বিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ পেতে চাইলে চলে যান নিকলী হাওরে (Nikli Haor)। অথবা শীতে ভিন্ন এক সবুজ মাঠ ফসলের প্রকৃতি দেখতে যেতে পারেন কিশোরগঞ্জ জেলার অবস্থিত নিকলী উপজেলার হাওর এলাকায়। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলি উপজেলার দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। সড়ক পথেই নিকলী যাওয়া যায়।
বিস্তারিত বিবরণ
দ্বিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ পেতে চাইলে চলে যান নিকলী হাওরে (Nikli Haor)। অথবা শীতে ভিন্ন এক সবুজ মাঠ ফসলের প্রকৃতি দেখতে যেতে পারেন কিশোরগঞ্জ জেলার অবস্থিত নিকলী উপজেলার হাওর এলাকায়। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলি উপজেলার দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। সড়ক পথেই নিকলী যাওয়া যায়।
পানিতে দ্বীপের মত ভেসে থাকা ছোট ছোট গ্রাম, স্বচ্ছ জলের খেলা, মাছ ধরতে জেলেদের ব্যস্ততা, রাতারগুলের মত ছোট জলাবন ও খাওয়ার জন্যে হাওরের তরতাজা নানা মাছ। এই সব কিছুর অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে নিকলীর অপরূপ হাওর ভ্রমণ আপনার জীবনে মনে রাখার মত একটি ভ্রমণ হিসেবে গেঁথে থাকবে।
নিকলী ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
হাওরের পানির রূপ দেখতে চাইলে আপনাকে বর্ষাকাল বা তার পর পর যেতে হবে। তাই নিকলী ভ্রমণের উপযুক্ত সময় জুলাই মাস থেকে অক্টোবর মাস। তারপর পানি কমতে শুরু করে, শীতের আগে আগে পানি একেবারে শুকিয়ে যায়। তখন শুধু নদীতে পানি থাকে। বছরের যে কোন সময়ই যেতে পারেন হাওরের ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য দেখতে।
নিকলী যাবার উপায়
ঢাকা বা কিশোরগঞ্জ জেলার আশপাশ থেকে একদিনে ঘুরে আসতে পারবেন নিকলী হাওর থেকে। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে এই দুইভাবেই নিকলী হাওরে যেতে পারবেন।
ঢাকা থেকে ট্রেনে যাওয়ার উপায়
ঢাকা হতে ট্রেনে গিয়ে একদিনে ঘুরে দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই আন্তঃনগর এগারো সিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনে আসতে হবে। এগারো সিন্ধুর প্রভাতী বুধবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে বিমানবন্দর, নরসিংদী ও ভৈরব ষ্টেশন হয়ে কিশোরগঞ্জ আসে। শ্রেণী অনুযায়ী ট্রেনের টিকেট এর মূল্য ১৩৫ থেকে ২৪৮ টাকা পর্যন্ত।
যদি ট্রেনে আসেন তাহলে সবচেয়ে ভাল হবে কিশোরগঞ্জ সদরে পোঁছার আগের স্টেশন মানিকখালী অথবা গচিহাটা ষ্টেশনে নেমে গেলে। ঢাকা থেকে ট্রেনে রওনা দিয়ে আপনি সকাল ১১ টার দিকে মানিকখালী ষ্টেশনে চলে আসতে পারবেন। ষ্টেশন থেকে ইজিবাইক অথবা সিএনজি দিয়ে সহজেই চলে যেতে পারবেন ১৪ কিলোমিটার দূরের নিকলী উপজেলা সদরে। ইজিবাইকে জনপ্রতি ৫০-৭০ টাকা অথবা রিজার্ভ নিলে ৩০০-৪২০ টাকা ভাড়ায় নিকলী যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘন্টা। সিএনজি রিজার্ভ নিলে খরচ হবে ৪০০-৪৫০ টাকা আর সময় লাগবে প্রায় ৪০ মিনিট। তবে ঐ দিনই ফিরতে চাইলে যাবার পথে আপনাকে বাসে যেতে হবে।
ঢাকা থেকে বাসে যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে বাসে নিকলী যেতে চাইলে চাইলে ঢাকার গোলাপবাগ, গুলিস্তান থেকে যাতায়াত ও অনন্যা সুপার বাস অথবা মহাখালী থেকে জলসিড়ি অথবা উজানভাটি বাসে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলায় প্রথমে আসতে হবে।
প্রতিদিন ভোর ৫:৩০ থেকে কিছুসময় পর পর বাস ছেড়ে যায়। বাসের ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। দিনে ঘুরে রাতের মধ্যে ফিরতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সকাল ৭টার আগেই বাসে রওনা দিতে হবে। যে বাসেই আসেন কিশোরগঞ্জের আগেই কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ড নেমে যাবেন।
ঢাকা থেকে কটিয়াদি আসতে অতিরিক্ত জ্যামের কারণে সময় নষ্ট না হলে সময় লাগবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা। সেখান থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের নিকলী যেতে সিএনজি সবচেয়ে ভালো উপায়। কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ডেই সিএনজি পেয়ে যাবেন। রিজার্ভ করে গেলে ভাড়া লাগবে ৪৫০ টাকা। লোকাল সিএনজিতে যেতে ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৯০ টাকা। কটিয়াদি হতে সিএনএজিতে নিকলি যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘন্টা।
কিশোরগঞ্জ থেকে নিকলী
যদি কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে নিকলী যেতে চান তবে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনের সংলগ্ন নিকলীগামী সিএনজি ষ্টেশনে চলে আসুন। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলীর দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। সিএনজি ষ্টেশন থেকে লোকাল বা রিজার্ভ নিয়ে নিকলী যেতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগে। লোকাল যেতে জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা আর সিএনজি রিজার্ভ নিতে ৪০০-৪৫০ টাকা ভাড়া লাগে।
ভৈরব থেকে নিকলী
এছাড়া ভৈরব থেকেও লোকাল কিংবা রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে নিকলী যাওয়া যায়। লোকালে যেতে জনপ্রতি ভাড়া ১২০ টাকা আর রিজার্ভ নিলে ৬০০ টাকা। ভৈরব থেকে সিএনজিতে নিকলী যেতে সময় লাগবে দেড় ঘন্টার মত।
ট্রেনে আসলে গচিহাটা বা মানিকখালি স্টেশনে নেমে গেলে এবং বাসে আসলে কটিয়াদি নেমে গেলে কম সময় নিকলী যেতে পারবেন।
গচিহাটা, কটিয়াদি বা কিশোরগঞ্জ যেখান থেকেই নিকলী আসেন না কেনো আসার পথের দুইপাশের গ্রাম বাংলার দৃশ্য আপনার ভাল লাগবেই। যতই নিকলীর কাছাকাছি যেতে থাকবেন ততই সুন্দর লাগবে সবকিছু। দুপাশের দৃশ্য দেখতে দেখতেই কখন যে নিকলী পৌঁছে যাবেন সেটা বুঝতেই পারবেন না।
কোথায় খাবেন
নিকলী যেখানে নামবেন সেখানেই মোটামুটি মানের কয়েকটি খাবার হোটেল আছে। তার মধ্যে হোটেল সেতু, ক্যাফে ঢেউ উল্লেখযোগ্য। হাওরের তাজা মাছের নানা পদ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ভরপেট খেয়ে নিতে পারবেন।
কিভাবে ঘুরবেন
খাওয়া দাওয়া ও প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ইজিবাইকে বেড়ি বাঁধের শেষ প্রান্তে চলে আসুন। সেখানে দরদাম করে ঘন্টা প্রতি নৌকা ঠিক করে নিবেন হাওর ঘুরে দেখার জন্যে। ছোট নৌকা ভাড়া করতে ঘন্টা প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং একটু বড় নৌকা ভাড়া করতে ঘন্টা প্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হবে। আর একসাথে আপনারা কয়েকজন থাকলে আপনার পছন্দমত নৌকা রিসার্ভ হিসেবে ঠিক করে নিন। এক নৌকায় অনায়াসে ১০-৩০ জন পর্যন্ত উঠতে পারবেন। তবে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।
আপনার হাতে কত সময় আছে সেই হিসেবেই নৌকা ভাড়া করুন। চেষ্টা করুন অন্তত ৩ ঘন্টা যেন হাতে থাকে নৌকা দিয়ে ঘুরার জন্যে। নৌকা দিয়ে হাওরে ভাসতে ভাসতে চারপাশের মোহনীয় রূপ দেখতে প্রথমেই চলে যেতে পারেন ছাতিরচর গ্রামে। সিলেটের রাতারগুলের মত জলাবনের মুগ্ধতা দেখতে দেখতে দু’চোখ জুড়িয়ে নেয়ার পাশাপাশি শীতল জলে গা ঢুবিয়ে শরীর শান্ত করার কাজটা এখানেই সেরে ফেলতে পারেন। তবে ভরা বর্ষায় পানি অনেক বেশি থাকে। তাই গোসল করতে চাইলে সাথে করে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
জলাবনের সৌন্দর্য দেখে তারপর আবার নৌকা নিয়ে চলে যান চর মনপুরায়। পানি বেশি হলে যদিও ডুবে যায় তবে কম থাকলে আধো ভাসমান এই চরে ঘুরে বেড়াতে পারেন কিছুটা সময়। তারপর উন্মুক্ত হাওরে শেষ বিকেলের সূর্য্য দেখতে দেখতে পূনরায় নিকলী বেড়ি বাঁধে এসে বাড়ি ফেরার পথ ধরতে হবে। যদি ট্রেনে ঢাকায় ফিরতে চান তাহলে বিকেল ৪টার আগেই গচিহাটা অথবা মানিকখালী স্টেশনে ফিরতে হবে কিশোরগঞ্জ টু ঢাকার শেষ ট্রেন কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন ধরার জন্যে। তা না হলে আপনাকে বাসেই ফিরতে হবে। এই জন্যে নিকলী উপজেলা মোড়ে এসে সিএনজি ঠিক করে চলে যান কটিয়াদিতে। কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাবার শেষ বাস ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৭টায়। তাই সময়ে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।
নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম ট্যুর প্লান
নিকলী ঘুরে দেখার পাশাপাশি আপনি চাইলে মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের হাওর রোড ও ঘুরে দেখার প্ল্যান করতে পারেন। নিকলী থেকে নৌকায় মিঠামইন যেতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টা। তাই যাওয়া আসা এবং সেখানে ঘুরে বেড়ানোর সময় আপনার হবে কিনা সেই বিবেচনা করে প্ল্যান করুন।
নিকলী থেকেই নানা মানের ইঞ্জিন নৌকা রিসার্ভ কিংবা লোকাল ভাড়াতে মিঠামইন গিয়ে থাকে। সিজন ও ছুটির দিন অনুযায়ী ভাড়া কম বেশি হয়ে থাকে। নৌকায় করে মোটরবাইক নেবার ও সুযোগ আছে। মিঠামইন গিয়ে সেখানে রিক্সা, বাইক দিয়ে হাওর রোড ধরে অষ্টগ্রাম যাওয়া যায়।
তবে নৌকায় নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম ভ্রমণ শুধুমাত্র বর্ষাকালেই করা সম্ভব। শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেলে নৌকা দিয়ে ভ্রমণ কঠিন।
ঢাকা থেকে একদিনের ট্যুর প্ল্যান
আপনি যদি ঢাকা থেকে সকালের ট্রেনে বা সকালের কোন বাসে রওনা দেন তাহলে একদিনেই নিকলী হাওর দেখে আবার রাতের ভিতর ঢাকায় ফিরে যেতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাসে আসলে চেষ্টা করতে হবে যত ভোরে রওনা দেওয়া যায়। যে ভাবেই আসেন সারাদিন ঘুরে ফেরার জন্যে আপনাকে বাসেই যেতে হবে। সেই ক্ষেত্রে নিকলী থেকে সিএনজি তে করে কটিয়াদি এসে সেখান থেকে ঢাকা যাওয়ার বাস পাবেন। কটিয়াদি থেকে ঢাকা যাওয়ার শেষ বাসের সময় সন্ধ্যা ৭টা।
থাকার ব্যবস্থা
নিকলীতে বর্তমানে কিছু মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল তৈরি হয়েছে পর্যটকদের কথা ভেবে। নিকলী বেড়িবাঁধের কাছেই আলম রিসোর্ট, চেয়ারম্যান গেস্ট হাউজ ছাড়াও আরও কিছু মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল আছে। এছাড়া সুযোগ থাকলে উপজেলা ডাক বাংলো তে থাকতে পারবেন। যদি নৌকায় বা ক্যাম্পিং করে রাত পার করতে চান তবে নিরাপত্তার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় কারও সাহায্য নিতে পারেন।
নিকলীর আরও কিছু দর্শনীয় স্থান
গুরই শাহী জামে মসজিদ : রিকশা বা মোটর সাইকেল করে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। নিকলী বেড়ি বাঁধ : নিকলী উপজেলা অফিসের সামনে থেকে বেড়িবাঁধ শুরু তাই হেটে – হেটে দেখা যাবে তার সৌন্দর্য। পাহাড় খাঁর মাজার : নিকলী উপজেলা থেকে ট্রলারে করে ও মোটর সাইকেল করে যাওয়া যায়। গুরই প্রাচীনতম আখড়া : কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায় গুরই ইউনিয়নে এই আখড়া অবস্থিত। শুকনো মৌসুমে রিকসা, মোটর সাইকেল, সিএনজি দিয়ে যাওয়া যায় কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নৌকা বা ট্রলার যোগে যেতে হয়।
কিশোরগঞ্জের অন্যান্য হাওর
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা ছাড়াও, অষ্টগ্রাম উপজেলা, মিঠামইন উপজেলা, ইটনা উপজেলার প্রায় পুরোটাই হাওর অঞ্চল। এই হাওর গুলোও বেশ সুন্দর। সেই সম্পর্কে জানতে বিস্তারিত পড়ুন নিচের লিংক গুলো থেকে।
অষ্টগ্রাম হাওর ভ্রমণ
মিঠামইন হাওর ভ্রমণ
ইটনা হাওর ভ্রমণ
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
আরও দেখুন
সব দেখুন
টাঙ্গুয়ার হাওর
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

শেখ সাদী জামে মসজিদ
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

নীলাদ্রি লেক
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

নিকলী হাওর
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

হাওড় জনপদ
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

টাঙ্গুয়ার হাওর
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
