সংক্ষিপ্ত বিবরণ
নেত্রকোণা জেলার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচগাঁও (Pachgaon) গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি পাহাড়ি এলাকা। পাঁচগাঁও বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর গ্রাম। এখানকার চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড় স্থানীয়দের কাছে পাঁচগাঁও টিলা বা কলমাকান্দার পাহাড় নামেও পরিচিত।
বিস্তারিত বিবরণ
নেত্রকোণা জেলার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচগাঁও (Pachgaon) গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি পাহাড়ি এলাকা। পাঁচগাঁও বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর গ্রাম। এখানকার চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড় স্থানীয়দের কাছে পাঁচগাঁও টিলা বা কলমাকান্দার পাহাড় নামেও পরিচিত।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, শত শত বছর আগে চাঁদ সওদাগরের নৌকা এখানে ডুবে গিয়েছিল। পাহাড়টির আকৃতি নৌকার মতো হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে চন্দ্রডিঙ্গা বা চন্দ্রডিঙ্গি। পাঁচগাঁও ভ্রমণে গেলে চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়ের পাশাপাশি ছোট ছোট ঝর্ণা, ঝিরিপথ এবং সবুজ সমতল ভুমি দেখতে পাওয়া যায়, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।
পাঁচগাঁও ও আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচগাঁও গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি স্থান। পাঁচগাঁও ভ্রমণের সময় নিম্নলিখিত দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে পারেনঃ
চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়: স্থানীয়দের মতে, এই পাহাড়টি চাঁদ সওদাগরের ডুবে যাওয়া নৌকার আকৃতির জন্য চন্দ্রডিঙ্গা বা চন্দ্রডিঙ্গি নামে পরিচিত। এটি পাঁচগাঁও টিলা বা কলমাকান্দার পাহাড় নামেও পরিচিত। পাহাড়ের চূড়া থেকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়গুলোর প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়।
বটগাছ: পাঁচগাঁও গ্রামে প্রবেশ করলে একটি বিশাল ও প্রাচীন বটগাছ দেখতে পাবেন, যার ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেওয়া যায়। বর্তমানে এর আশেপাশে কিছু ছোট দোকান গড়ে উঠেছে।
ঝর্ণা ও ঝিরিপথ: পাঁচগাঁও টিলায় আরোহণ করলে ছোট-বড় বেশ কিছু ঝর্ণা এবং ঝিরিপথের দেখা মিলবে। তবে বর্ষাকালে এগুলোর পূর্ণ রূপ দেখা যায়।
বঙ্গটিলা ও পাতলার বন: পাঁচগাঁও থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত বঙ্গটিলা। এখান থেকে ভারতের সীমান্ত সড়ক বা বর্ডার রোড স্পষ্ট দেখা যায়। এর পাশেই রয়েছে পাতলার বন, যা মেঘালয়ের পাহাড়কে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে ছবি তোলার জন্য চমৎকার একটি জায়গা।
লেংগুরা টিলা ও মোমিনের টিলা: পাঁচগাঁওয়ের কাছাকাছি অবস্থিত এই টিলাগুলো থেকে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। মোমিনের টিলায় বর্তমানে একটি ভিউপয়েন্ট রয়েছে যা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
সাত শহীদের মাজার: কলমাকান্দা উপজেলার একটি ঐতিহাসিক স্থান। ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই নাজিরপুর সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ সাতজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সমাধি এটি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একদম সন্নিকটে লেংগুরা ইউনিয়নে সাত শহীদের মাজার অবস্থিত।
বিজয়পুরের চীনামাটির পাহাড়: কলমাকান্দা থেকে দুর্গাপুর যাওয়ার পথে অবস্থিত এই পাহাড়ের নীল জলরাশি এবং সাদা মাটির পাহাড় পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। একে অনেকে বিড়িশিরিও বলে থাকেন।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার মহাখালী থেকে প্রতি রাতেই বাস ছেড়ে যায় নেত্রকোণার কলমাকান্দার উদ্দেশ্যে। এই বাসগুলোতে ভ্রমণ করলে ভোরবেলায় আপনি কলমাকান্দা বাজারে পৌঁছাবেন। বাস ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকা। সেখান থেকে পাঁচগাঁও ঘুরে দেখার জন্যে বাইক বা সিএনজি পাওয়া যায়।
এছারা, মহাখালী থেকে নেত্রকোণা গিয়ে সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে পাঁচগাঁও যাওয়া সম্ভব। ঢাকা থেকে নেত্রকোনা পর্যন্ত বাস ভাড়া প্রায় ৩০০ টাকা। নেত্রকোণা পৌঁছে সিএনজিতে করে কলমাকান্দা যাওয়া যায়, যার ভাড়া প্রায় ১৫০ টাকা। সেখান থেকে বাইকে চড়ে পাঁচগাঁও টিলা বা কলমাকান্দার পাহাড়ে পৌঁছানো যায়।
এছাড়া, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে নেত্রকোনা যাওয়ার বিকল্পও রয়েছে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের বাস ভাড়া প্রায় ৩২০ টাকা। ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা পর্যন্ত বাস ভাড়া প্রায় ৮০ টাকা, এবং সিএনজিতে যেতে চাইলে ভাড়া প্রায় ১০০ টাকা লাগবে।
ট্রেনে করে নেত্রকোণা অথবা ময়মনসিংহ যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
থাকার ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে পাঁচগাঁও গিয়ে ঘুরে একদিনেই চলে আসা যায়। রাতে থাকার প্রয়োজন হলে নেত্রকোণা চলে আসতে হবে। নেত্রকোণা শহরের হোটেল সোনার তরী, হোটেল জয়া ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সুরমা ইত্যাদি হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
কি খাবেন
পাঁচগাঁও ভ্রমণের সময় সঙ্গে কিছু শুকনো খাবার ও পানি নিয়ে যেতে পারেন, কারণ সেখানে খাবারের দোকান সীমিত। স্থানীয়ভাবে কিছু খাবার হোটেল আছে, সেখানে খেতে পারবেন। কমলাকান্দা বাজারেও খাবারের কিছু হোটেল আছে। এছাড়া, নেত্রকোনায় পছন্দমত যেকোন হোটেলে খাবার খেয়ে নিতে পারেন। নেত্রকোণা শহরে গেলে সেখানের বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি পরখ করে দেখতে পারেন।
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
দ্রুত তথ্য
ঠিকানা
নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ
প্রবেশ মূল্য
বিনামূল্যে
সময়সূচি
সর্বদা খোলা
আরও দেখুন
সব দেখুন
মাধবকুন্ড জলপ্রপাত
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

নাফাখুম
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

নাফাখুম ও আমিয়াখুম
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

বিরিশিরি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আমিয়াখুম জলপ্রপাত
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

বিরিশিরি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
