বিরিশিরি (Birishiri) নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। বিরিশিরির বিজয়পুরে আকর্ষনীয় চীনামাটির পাহাড় ও নীল পানির হ্রদ রয়েছে। বিজয়পুরের এই চীনামাটির পাহাড় এবং সমভূমি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৬ কিলোমিটার ও প্রস্থে ৬০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। হ্রদের নীল জল নিমিশেই সমস্ত ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে দেয়। হ্রদের অপরুপ নীল জলের প্রধান উৎস হচ্ছে সমেশ্বরী নদী। এই নদী বর্তমানে কয়লা খনি হিসেবে অধিক পরিচিত। নীল জ্বলের হ্রদের মতই সোমেশ্বরী নদী আপন রুপে অনন্যা।
বিরিশিরিতে আর যা যা দেখবেন
বিরিশিরিতে চীনামাটির পাহাড়, নীল জলের হ্রদ এছাড়াও সোমেশ্বরী নদী, রানীখং গির্জা এবং কমলা রানীর দীঘি ভ্রমণের জন্য আদর্শ জায়গা। সোমেশ্বরী নদীর তীরে কাশবন আর দূরের গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য্য বিরিশিরিতে আসা সকল ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। বর্ষাযকালে সোমেশ্বরী নদী সমস্ত রুপ মেলে ধরে, তখন বিরিশিরির যৌবনের সৌন্দর্য্য দেখতে পর্যটকরা এসে ভিড় জমায়। এছাড়াও এখানে আছে পাহাড়ী কালচারাল একাডেমী, গারো, হাজং ইত্যাদি নৃগোষ্ঠী, হাজং ভাষায় টুঙ্কা বিপ্লব বা তেভাগা আন্দোলনের বেশকিছু স্মৃতিস্তম্ভ এবং সেন্ট যোসেফের গির্জা।
বিরিশিরি যাওয়ার উপায়
ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সরাসরি দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে সরকার ও জিন্নাত পরিবহনের বাস ছেড়ে যায়। এ দুটি বাসে চড়ে দুর্গাপুর যেতে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা লাগে। বাস সাধারণত সুখনগরী পর্যন্ত যায়। সুখনগরী থেকে ট্রলারে করে সোমেশ্বরী নদী পার হতে হয় — জনপ্রতি ১০ টাকা, বাইক থাকলে আরও ১০ টাকা যোগ হবে। নদী পার হয়ে রিকশা, বাস বা মোটরসাইকেলে দুর্গাপুর যাওয়া যায়। বাসে ২০ টাকা, রিকশায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং মোটরসাইকেলে দুজনে ১০০ টাকায় দুর্গাপুর পৌঁছানো যায়।
ট্রেনে ঢাকা থেকে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হাওড় এক্সপ্রেস অথবা রাত ১টা ১৫ মিনিটে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে শ্যামগঞ্জ স্টেশনে নেমে সেখান থেকে বাস বা সিএনজি ভাড়া নিয়ে বিরিশিরি বাজার যাওয়া যায়। অথবা হাওড় এক্সপ্রেস বা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে নেত্রকোনা এসে চল্লিশা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় সব স্পট দেখে ফিরতে পারবেন। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভোর ৪টা/৪টা ৩০-এ যাত্রা করা জারিয়া স্টেশনগামী ট্রেনে করে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় জারিয়া এসে ট্রলার, অটো, সিএনজি বা মোটরসাইকেলে দুর্গাপুর যাওয়া যায়।
চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকেও কিছু বাস বিরিশিরির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে, ভাড়া ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা।
স্থানীয় যাতায়াত: বিরিশিরি বাজার থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে সবগুলো দর্শনীয় স্থান ৫-৬ ঘন্টায় ঘুরে দেখতে পারবেন। একদিনে সব দেখতে চাইলে সারাদিনের জন্য বাইক ভাড়া করাই ভালো ভাড়া পড়বে ১০০০ টাকার মতো এবং বাইকে দুজন আরামে যেতে পারবেন।
দুর্গাপুর থেকে ঢাকা ফিরতে তালুকদার প্লাজার সামনে থেকে রাত ১১টা ও ১১টা ৩০ মিনিটে দুটি নাইট কোচ মহাখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সকালের বাসও পাওয়া যায়। এছাড়া জারিয়া ট্রেন স্টেশন থেকে দুপুর ১২টায় একটি ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।
কোথায় থাকবেন
সুসং দুর্গাপুরে রাত্রিযাপনের জন্য জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, বেশকিছু গেস্ট হাউস এবং মধ্যম মানের আবাসিক হোটেল আছে। প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন – জেলা পরিষদ ডাক বাংলো ( 01558380383 , 01725571795 ), ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমসিএ-এর রেস্ট হাউস( 01818613496 , 01716277637 , 01714418039 , 01743306230 , 01924975935 , 01727833332 ), YWCA গেষ্ট হাউজ( 01711027901 , 01712042916 ), ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমী গেষ্ট হাউজ ( 09525-56042 , 01815482006 )
দুর্গাপুরে মধ্যম মানের হোটেলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – স্বর্ণা গেস্ট হাউস ( 0171228698 , 01728438712 ), হোটেল সুসং ( 01914791254 ), হোটেল গুলশান( 01711150807 ), হোটেল জবা ( 01711186708 , 01753154617 ), নদীবাংলা গেষ্ট হাউজ ( 01771893570 , 01713540542 )। এই হোটেলগুলোতে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।
কোথায় খাবেন
বিরিশিরিতে ঘুরার সময় হালকা খাবার সাথে রাখতে পারেন কারণ যত্রতত্র খাবারের কিছু পাওয়া যায় না। এখানে মধ্যম মানের কিছু খাবার হোটেল বা রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেখানে ভাত, ডাল, মাছ, মাংসের পাশাপাশি বকের মাংসও পাওয়া যায়। দূর্গাপুর বাজারে নেত্রকোণার বিখ্যাত বালিশ মিষ্টির স্বাধ নিতে ভুল করবেন না।