সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বারেক টিলা (Barek Tila) সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত এক অপরূপ প্রাকৃতিক বিস্ময়। স্থানীয়ভাবে এটি বারাইক্কা টিলা (Barikka Tila) বা বারিক টিলা (Barik Tila) নামেও পরিচিত। প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু এই টিলার ওপর দাঁড়ালে চোখের সামনে উন্মোচিত হয় ভারতের মেঘালয়ের সুউচ্চ খাসিয়া পাহাড়, ঘন সবুজ অরণ্য আর নিচে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলা নীলচে-সবুজ যাদুকাটা নদী।
বিস্তারিত বিবরণ
বারেক টিলা (Barek Tila) সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত এক অপরূপ প্রাকৃতিক বিস্ময়। স্থানীয়ভাবে এটি বারাইক্কা টিলা (Barikka Tila) বা বারিক টিলা (Barik Tila) নামেও পরিচিত। প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু এই টিলার ওপর দাঁড়ালে চোখের সামনে উন্মোচিত হয় ভারতের মেঘালয়ের সুউচ্চ খাসিয়া পাহাড়, ঘন সবুজ অরণ্য আর নিচে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলা নীলচে-সবুজ যাদুকাটা নদী।
বারিক্কা টিলায় প্রায় ৪০টি আদিবাসী পরিবারের (মূলত গারো ও খাসিয়া সম্প্রদায়) বাস। সবুজে পরিপূর্ণ টিলার বুক চিরে টেকেরঘাট যাবার চমৎকার পিচঢালা রাস্তা নির্মিত হয়েছে, যা পর্যটকদের কাছে এখন অন্যতম জনপ্রিয় একটি বাইক-রাইডিং ও ড্রাইভিং রুট। বারেক টিলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভারতের খাসিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা রূপালী যাদুকাটা নদী। বর্ষায় যাদুকাটা নদী বেয়ে ভারত হতে বাংলাদেশে প্রচুর বালু ও পাথর আসে। তখন শত শত নৌকায় স্থানীয় মানুষদের বালু ও পাথর তোলার কর্মব্যস্ততা ভ্রমণপিপাসুদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
বারেক টিলা থেকে ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিলেই চোখে পড়বে বড়ছড়া চারাগাঁও শুল্ক স্থলবন্দর। বারেক টিলার উপর থেকে যাদুকাটা নদীর দিকে তাকালে যে নৈস্বর্গিক দৃশ্য চোখে পড়ে তার রেশ নাগরিক জীবনের ক্লান্তি নিমিষেই মুছে ফেলার জন্য যথেষ্ট। যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের ক্যাম্পিং করার জন্য বারিক্কা টিলা একটি আদর্শ জায়গা। এখান থেকে ভোরে কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখা এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা।
বারেক টিলা ভ্রমণের সেরা সময় কখন?
আপনি যদি মেঘ আর পাহাড়ের লুকোচুরি দেখতে চান, তবে বর্ষাকাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) হচ্ছে বারেক টিলা ভ্রমণের সেরা সময়। এই সময়ে যাদুকাটা নদী পানিতে টইটুম্বুর থাকে এবং মেঘালয়ের পাহাড়গুলো ঘন সবুজ রূপ ধারণ করে। তবে শীতকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) নদী শান্ত থাকে, যাদুকাটার পানি কাঁচের মতো স্বচ্ছ দেখায় এবং টিলার ওপর চমৎকার ঠাণ্ডা হাওয়া ও কুয়াশার আমেজ পাওয়া যায়।
বারেক টিলা ও তার আশেপাশে আর যা দেখবেন
বারিক্কা টিলায় দুইটি মিষ্টি পানির ছড়া বা পাহাড়ি ঝিরি রয়েছে। সাধারণত বর্ষাকাল ছাড়া এই ছড়া দুইটিতে তেমন পানি থাকে না। বারিক্কা টিলায় বসবাসকারী স্থানীয় লোকেরা এই ছড়ার পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে থাকে। অপেক্ষাকৃত বড় ছড়াটির অবস্থান তাহিরপুরের দিকে যেতে হাতের বাম পাশে। এই ঝিড়ি দুইটা দেখতে চাইলে কিছুটা ট্র্যাকিং করে নিচে নামতে হবে। ট্র্যাকিংয়ের সময় অবশ্যই গ্রিপ ভালো এমন জুতো পরবেন এবং পথ চিনতে স্থানীয় আদিবাসী যে কাউকে বললে তারা আনন্দের সাথে পথ দেখিয়ে দেবে।
লাউড়ের গড় ও শাহ্ আরিফিনের মাজার: প্রাচীন লাউর রাজ্যের স্মৃতির সাক্ষী লাউড়ের গড় (Laurer Garh) গ্রামটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষা যাদুকাটা নদীর তীরে অবস্থিত। এই গ্রামের খুব কাছেই রয়েছে সুফি সাধক শাহ্ আরিফিনের মাজার বা মোকাম। প্রতি বছর এই মোকামকে কেন্দ্র করে এখানে ঐতিহ্যবাহী ওরস ও মেলা বসে। এই মেলা প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষের মেলবন্ধনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
নিকটবর্তী অন্যান্য আকর্ষণ: বারেক টিলা ভ্রমণে এলে একসাথেই আপনি দেখে নিতে পারবেন সুনামগঞ্জের আরও কয়েকটি বিখ্যাত স্পট। টিলা থেকে খুব কাছেই রয়েছে বাংলাদেশের ‘কাশ্মীর’ খ্যাত নীলাদ্রি লেক (শহীদ সিরাজ লেক), চোখ জুড়ানো শিমুল বাগান এবং বিখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওর । তাই ট্যুর প্ল্যান করার সময় এই জায়গাগুলো একসাথে যুক্ত করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কীভাবে যাবেন
বারিক্কা টিলা বা বারেক টিলা দেখতে চাইলে প্রথমে সুনামগঞ্জ আসতে হবে। প্রতিদিন ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন ও শ্যামলী পরিবহণের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং মহাখালী থেকে ছেড়ে যায় এনা পরিবহণের বাস। এসব নন-এসি বাসে জনপ্রতি টিকেট কাটতে ৮০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা লাগে আর সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘন্টা সময় লাগে।
সুনামগঞ্জ নতুন বাস স্টেশন বা আবদুজ জহুর সেতু থেকে আপনি সিএনজি, লেগুনা অথবা মোটরবাইক ভাড়া করে সরাসরি বারেক টিলা বা টেকেরঘাট চলে আসতে পারবেন। লোকাল বা রিজার্ভ দুইভাবেই যাওয়া যায়। মোটরবাইকে চালকসহ দুজন বসা যায়, যা যাতায়াতের জন্য বেশ দ্রুত ও রোমাঞ্চকর। বর্ষাকালে নদীপথে ট্রলার বা স্পিডবোট ভাড়া করেও যাদুকাটা নদী হয়ে বারেক টিলা পৌঁছানো যায়।
কোথায় থাকবেন
বারেক টিলার কাছেই বড়ছড়া বাজার। সেখানে সাধারণ মানের কয়েকটি রেস্ট হাউজ ও বোর্ডিং আছে। সাধারণ মানের রুমে থাকতে হলে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়া তাহিরপুর বাজারেও মাঝারি মানের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যদি একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা চান, তবে নীলাদ্রি লেকের কাছে পুরাতন চুনা পাথরের কারখানার গেস্ট হাউজে বা লেকের আশেপাশের কটেজে রাত কাটাতে পারবেন। উন্নত ও নিরাপদ সুবিধার জন্য সুনামগঞ্জ শহরে ফিরে এসে থাকাই সবচেয়ে ভালো। সুনামগঞ্জ শহরে ৫০০ টাকা থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট পাবেন।
কয়েকটি হোটেলের নাম ও ঠিকানা:
হোটেল সারপিনিয়া – জগন্নাথবাড়ী রোড, সুনামগঞ্জ
হোটেল নূর – পূর্ব বাজার স্টেশন রোড, সুনামগঞ্জ
হোটেল মিজান – পূর্ব বাজার, সুনামগঞ্জ
সুরমা ভ্যালী আবাসিক রিসোর্ট – সুনামগঞ্জ
হোটেল নূরানী – পুরাতন বাস স্ট্যান্ড, সুনামগঞ্জ
হোটেল প্যালেস – পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড
কোথায় খাবেন
বারিক্কা টিলার ওপরেই আদিবাসী ও স্থানীয়দের পরিচালিত ছোট খাবারের হোটেল বা চায়ের দোকান রয়েছে, যেখানে দেশি মুরগি, পাহাড়ি আলু বা ভর্তা-ভাত পাওয়া যায়। এছাড়া বড়ছড়া বাজার কিংবা যাদুকাটার পাশের টেকেরঘাটের ছোট বাজারে মোটামুটি মানের বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে। নদী থেকে সদ্য ধরা তাজা মাছের পদ দিয়ে এখানে দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন।
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
আরও দেখুন
সব দেখুন
টাঙ্গুয়ার হাওর
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

জাফলং
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

নীলাদ্রি লেক
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

হাওড় জনপদ
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

টাঙ্গুয়ার হাওর
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

মাতামুহুরী নদী
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
