সিলেটের শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত সীমান্তবর্তী নদী ‘রাংপানি’ (Rangpani)। রাংপানির স্বচ্ছ জল মেঘালয়ের জৈন্তা পাহাড়ের রানহংকং জলপ্রপাত থেকে উৎপন্ন হয়েছে। অনেকের কাছে এটি ‘শ্রীপুর পাথর কোয়ারি’ নামেও পরিচিত। রাংপানি নদীর তীরে খাসিয়াদের মোকামপুঞ্জি গ্রাম অবস্থিত। খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি নামেই ডাকে। রাংপানি ও পুঞ্জির আশেপাশের এলাকায় ৮০-৯০ দশকে অনেক বাংলা চলচ্চিত্রের দৃশ্য ধারণ করা হতো। নাঈম-শাবনাজ জুটির প্রথম চলচ্চিত্র ‘চাঁদনী’র জনপ্রিয় গান ‘ও আমার জান, তোর বাঁশি যেন জাদু জানে রে’ ছাড়াও বেশ কিছু দৃশ্য শ্রীপুরের বিভিন্ন স্থানে চিত্রায়ন করা হয়েছিল।
এক সময় পাথর উত্তোলনের কারণে শ্রীপুর তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাবে বলে মনে করা হলেও, বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে এই নদী থেকে সব ধরনের যান্ত্রিক ও অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ফলে রাংপানি এখন তার হারানো রূপ ফিরে পাচ্ছে। এই প্রজন্মের পর্যটকদের কাছে এটি ধীরে ধীরে একটি প্রিয় ‘অফবিট’ গন্তব্য হয়ে উঠছে। পাহাড়ি সরু রাস্তা ধরে নিচে নামলেই দেখা মিলবে দুই পাশে কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য (শরৎকালে) এবং স্বচ্ছ নীল জলরাশির।
পর্যটনের অপার সম্ভাবনার এই স্থানটি বহু বছর অবহেলার কারণে জনসাধারণের কাছ থেকে আড়ালে থেকে যায়। আপনি যদি সিলেটের জৈন্তাপুর শ্রীপুরের পর্যটন কেন্দ্রের পাশ দিয়ে হেঁটে মোকামপুঞ্জি এলাকায় যান, তার মাত্র আধা কিলোমিটার সামনেই রাংপানির দেখা মিলবে। বর্তমানে স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় পর্যটকদের জন্য গাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। মোকামপুঞ্জির প্রবেশদ্বার থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় গাইড নিয়ে রাংপানি ঘুরে দেখা যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশের টহলও নিয়মিত থাকে এই এলাকায়।
যাওয়ার উপায়
রাংপানি’র সৌন্দর্য্য দেখতে হলে আপনাকে সিলেট আসতেই হবে। ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার উপায় জানতে পোস্টটি পরে দেখুন।
সিলেট শহর থেকে সিলেট-তামাবিল সড়কে বাস, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যাওয়া যায় জৈন্তাপুরের শ্রীপুরে। সারা দিনের জন্য সিএনজি ভাড়া করলে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ পরবে। জৈন্তাপুর বাজার থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে শ্রীপুর চা বাগান। এর উল্টো দিক ধরে সরু পথ পাড়ি দিলেই রাংপানি নদী। স্থানীয় বারকি নৌকা ভাড়া নিয়ে নদী পার হতে পারবেন। নৌকার ভাড়া দরদাম করে আগেই ঠিক করে নিন।
কোথায় থাকবেন
রাংপানিতে থাকার জন্য এখনও তেমন কোন আবাসন ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। তাই রাতে থাকতে চাইলে জৈন্তা হিল রিসোর্টে থাকতে পারেন। এছাড়া পর্যটকরা রাতে থাকার জন্য সিলেটেই ফিরে আসেন। লালা বাজার এলাকায় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত রেস্ট হাউস আছে৷ যেখানে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকায় বিভিন্ন ধরণের রুম পাবেন। এছাড়াও হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা, কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে থাকতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
খাবারের জন্য জৈন্তাপুর বা মোকামপুঞ্জির স্থানীয় ছোট হোটেলগুলোয় দেশি খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া জৈন্তা হিল রিসোর্টে সব ধরনের বাংলা খাবার পাওয়া যায়। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে জিন্দাবাজার এলাকার পানসী, পাঁচ ভাই, পালকি অথবা রয়্যাল ডাইন ও গ্র্যান্ড বাফেটে পছন্দমতো খাবার খেতে পারবেন।