রাস মেলা, সুন্দরবন
আসন্ন🇧🇩 বাংলাদেশআর ৫৮ দিন

রাস মেলা, সুন্দরবন

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৬ – মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৬

দুবলার চর

📅 কবে

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৬ – মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৬

📍 কোথায়

দুবলার চর

⏳ অবস্থা

আর ৫৮ দিন

ইভেন্ট সম্পর্কে

সুন্দরবনের গহীনে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত দুবলার চর (Dublar Chor) বাংলাদেশের অন্যতম রহস্যময় ও মনোমুগ্ধকর দ্বীপ। বাগেরহাট জেলার সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের অন্তর্গত, কুঙ্গা ও মরা পশুর নদীর মোহনায় অবস্থিত এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি তিনটি কারণে সারা দেশে বিখ্যাত:

  • বৃহৎ শুঁটকি পল্লী — দেশের অন্যতম বড় মাছ শুকানোর কেন্দ্র
  • বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য — চিত্রা হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ডলফিন
  • ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা — শতবর্ষী হিন্দু পুণ্যস্নান উৎসব

রাসমেলার ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

দুবলার চরের “আলোর কোল” নামক সাগরমোহনায় অনুষ্ঠিত এই রাসমেলার (Rashmela) সূচনা নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রচলিত মত রয়েছে:

ঐতিহাসিক মত: সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে, ১৯২৩ সালে ঠাকুর হরিচাঁদের অনুসারী হরিভজন নামের এক হিন্দু সাধু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে এই মেলার প্রচলন করেন। কথিত আছে, এই সাধু ২৪ বছরেরও বেশি সময় সুন্দরবনে কেবল গাছের ফলমূল খেয়ে জীবনযাপন করতেন।

ধর্মীয় বিশ্বাস ১: হাজারো পুণ্যার্থী বিশ্বাস করেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এক পূর্ণিমা তিথিতে দুবলার চরের আলোর কোলে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পুণ্যস্নান বা গঙ্গাস্নানের স্বপ্নাদেশ দেন — সেই থেকেই এই উৎসবের শুরু।

ধর্মীয় বিশ্বাস ২: আরেকটি মত হলো, শারদীয় দুর্গাপূজার পর পূর্ণিমার রাতে বৃন্দাবনের গোপীদের সঙ্গে নিয়ে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ দুবলার চরে রাসনৃত্যে মেতে উঠেছিলেন।

“রাস পূর্ণিমার ভোরে সাগরের নোনা জলে স্নান করলে জীবনের সকল পাপ মোচন হয়” — এই বিশ্বাসে প্রতি বছর হাজার হাজার পুণ্যার্থী এই দুর্গম দ্বীপে ছুটে আসেন।

২০২৬ সালের রাসমেলা কবে অনুষ্ঠিত হবে?

রাসমেলা প্রতি বছর কার্তিক বা অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের রাস পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়, তাই প্রতি বছর ইংরেজি তারিখ পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের ২২-২৪ নভেম্বর রাস মেলা অনুষ্টিত হবে যদিও মূল অনুষ্টান ২৪ তারিখ।

চূড়ান্ত তারিখ সরকারি পঞ্জিকা ও বন বিভাগের বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভরশীল। যাত্রার আগে বন বিভাগ বা রেজিস্টার্ড ট্যুর অপারেটরের সাথে নিশ্চিত হয়ে নিন।

রাসমেলায় যা যা হয়

৩ দিনব্যাপী এই উৎসবে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার এবং পুণ্যস্নান ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে।

পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার

দুবলার চরের রাসমেলাকে কেন্দ্র করে ভক্তরা চরের বালুকাবেলায় অস্থায়ী মন্দির নির্মাণ করে পূজা-অর্চনার আয়োজন করেন। সেখানে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার মূর্তি স্থাপন করে কীর্তন, ভজন ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ণিমার রাতে অসংখ্য প্রদীপ জ্বালিয়ে পুরো এলাকা আলোকিত করা হয়, যা এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। এছাড়া সমুদ্রের তীরে ভক্তরা সমবেত হয়ে প্রার্থনা, নামসংকীর্তন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, যা রাসমেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

পুণ্যস্নান যা এই মেলার প্রধান আকর্ষণ বলে বিবেচিত হয়

রাসমেলার শেষ দিন, অর্থাৎ রাস পূর্ণিমার ভোরে সূর্যোদয়ের সময় মূল পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হাজারো পুণ্যার্থী একসঙ্গে সমুদ্রের নোনা জলে পবিত্র স্নান করে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী আত্মশুদ্ধি ও পুণ্য লাভের আশায় অংশগ্রহণ করেন। পুণ্যস্নান শেষে অনেক ভক্ত সমুদ্রে ফুল, প্রদীপ ও অন্যান্য পূজার উপকরণ ভাসিয়ে দিয়ে ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করেন। এই পুণ্যস্নানই দুবলার চরের রাসমেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত।

সাংস্কৃতিক পরিবেশ

দুবলার চরের রাসমেলায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভোরের আলোয় সমুদ্রের পাড়জুড়ে কীর্তন ও ভজনের সুর প্রতিধ্বনিত হয়, যা পুরো এলাকাকে ধর্মীয় আবহে মুখরিত করে তোলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তীর্থযাত্রী, সাধু-সন্ন্যাসী ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় এ স্থানটি পরিণত হয় সম্প্রীতি, ভক্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক প্রাণবন্ত কেন্দ্র হিসেবে।

২০১৭ সাল থেকে বন বিভাগ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে বাণিজ্যিক মেলা, দোকানপাট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে পুণ্যার্থীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পুণ্যস্নান আজও অব্যাহত রয়েছে।

সুন্দরবনের দুবলার চরের রাস মেলায় যাওয়ার উপায়

ধাপ ১ — ঢাকা থেকে খুলনা বা মংলা

বাসে যাওয়া

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে খুলনা ও মংলা যাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুত হয়েছে। ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, আরামবাগ বা ফকিরাপুল থেকে সোহাগ, হানিফ, গ্রিন লাইন, ফাল্গুনী বা কমফোর্ট লাইনের বাসে উঠে মাওয়া-পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট পেরিয়ে সরাসরি মোংলা বা খুলনায় পৌঁছানো যায়। এই পথে সময় লাগে মাত্র সাড়ে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা। ভাড়ার ক্ষেত্রে নন-এসি বাসে ৫০০–৮০০ টাকা এবং এসি বাসে ৮০০–১,৬০০ টাকার মধ্যে পড়বে।

ট্রেনে যাওয়া

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেসে চেপে সরাসরি খুলনায় যাওয়া যায়। পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে এখন মাত্র পৌনে চার ঘণ্টায় খুলনা পৌঁছানো সম্ভব। ভাড়া পড়বে শোভন চেয়ারে ৪৪৫–৫০০ টাকা এবং এসি স্নিগ্ধা শ্রেণিতে ৭৪০–৯০০ টাকা। খুলনায় নেমে সেখান থেকে মোংলা কমিউটার ট্রেনে অথবা বাস বা সিএনজিতে মাত্র এক ঘণ্টায় (প্রায় ৫০ কি.মি.) মোংলা পৌঁছানো যায়।

ধাপ ২ — মংলা বা খুলনা থেকে দুবলার চর

মংলা বা খুলনার রূপসা ঘাটে পৌঁছানোর পরই শুরু হয় মূল অ্যাডভেঞ্চার। এখান থেকে ট্যুরিস্ট লঞ্চ বা জাহাজে চেপে সুন্দরবনের গহীনে দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা দিতে হয়। সুন্দরবনের বুক চিরে আঁকাবাঁকা নদীপথে এই যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা। পুরো পথটাই এক অনন্য অভিজ্ঞতা — দুই পাশে ঘন ম্যানগ্রোভ বন, মাঝে মাঝে হরিণের দল, নদীতে ডলফিনের লাফালাফি। এই পথে একা বা স্বতন্ত্রভাবে না গিয়ে অবশ্যই কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরের সাথে যাওয়া উচিত, কারণ বন বিভাগের অনুমতি ও সশস্ত্র বনরক্ষী ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পরামর্শ: একাকী বা ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। সর্বদা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করুন।

থাকার ব্যবস্থা

দুবলার চরে কোনো হোটেল বা বাণিজ্যিক রেস্ট হাউস নেই। তাই পর্যটকদের থাকার জন্য বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সুবিধাজনক ব্যবস্থা হলো ট্যুর অপারেটরদের লঞ্চ বা জাহাজে রাত্রিযাপন করা। এসব জাহাজের কেবিনেই পর্যটকেরা রাত কাটান এবং জাহাজগুলো রাতে নদীতে নিরাপদ স্থানে নোঙর করে থাকে। একই সঙ্গে খাবার, নিরাপত্তা এবং অভিজ্ঞ গাইডের সুবিধাও ট্যুর প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া কাছাকাছি কটকা, কচিখালী (টাইগার পয়েন্ট) এবং নীলকমল (হিরণ পয়েন্ট)-এ বন বিভাগের রেস্ট হাউস রয়েছে। এসব রেস্ট হাউসে থাকার জন্য আগাম বন বিভাগ থেকে বুকিং করতে হয়। দেশি ও বিদেশি পর্যটকের ভিত্তিতে ভাড়া সাধারণত প্রতি রাতে ২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

ট্যুর প্যাকেজ ও খরচ (২০২৬)

  • প্যাকেজের ধরন: স্ট্যান্ডার্ড (নন-এসি লঞ্চ) | সময়কাল: ২ রাত ৩ দিন | জনপ্রতি আনুমানিক খরচ: ৬,০০০ — ১২,০০০ টাকা
  • প্যাকেজের ধরন: প্রিমিয়াম (এসি লঞ্চ) | সময়কাল: ২ রাত ৩ দিন | জনপ্রতি আনুমানিক খরচ: ১৫,০০০ — ২৫,০০০ টাকা
  • প্যাকেজের ধরন: গ্রুপ (পুরো লঞ্চ রিজার্ভ) | সময়কাল: ৩ রাত ৪ দিন | জনপ্রতি আনুমানিক খরচ: ৩–৪ লাখ টাকা (২৫–৪০ জন)

প্যাকেজে সাধারণত যা অন্তর্ভুক্ত থাকে

  • লঞ্চে থাকা ও তিনবেলা খাবার
  • বন বিভাগের প্রবেশপত্র ও পারমিট ফি
  • সশস্ত্র বনরক্ষী
  • অভিজ্ঞ ট্যুর গাইড
  • সরু খালে ঘোরার ছোট ইঞ্জিন নৌকা
  • বার-বি-কিউ পার্টি (অনেক অপারেটর)

বুকিং ও যোগাযোগ

  • রাসমেলার সময় প্রচুর ভিড় হয়, তাই অন্তত ৩–৪ সপ্তাহ আগে ট্যুর প্যাকেজ বুক করুন
  • সুন্দরবন ট্যুরের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটর বেছে নিন
  • বন বিভাগের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলুন

যাওয়ার আগে যা জানা দরকার

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট
  • বন বিভাগের প্রবেশপত্র (ট্যুর অপারেটর ব্যবস্থা করবে)

পোশাক ও সরঞ্জাম

  • হালকা রঙের (অলিভ, খাকি, ব্রাউন) আরামদায়ক পোশাক
  • রেইনকোট বা পাতলা জ্যাকেট
  • সানস্ক্রিন, সানগ্লাস ও টুপি
  • মশার কয়েল ও রিপেলেন্ট
  • টর্চলাইট ও পাওয়ার ব্যাংক
  • হালকা ট্রেকিং শু বা স্যান্ডেল

সুরক্ষা ও সতর্কতা

  • কখনো একা বনে প্রবেশ করবেন না — সর্বদা গাইড ও বনরক্ষীর সাথে থাকুন
  • নদী বা সাগরে নামার আগে গাইডের অনুমতি নিন
  • সুগন্ধি পারফিউম বা লোশন ব্যবহার করবেন না — বন্যপ্রাণী বিরক্ত হতে পারে
  • নিচু স্বরে কথা বলুন, শোরগোল করবেন না
  • প্লাস্টিক বা যেকোনো বর্জ্য বনে ফেলবেন না — পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকুন
  • বাঘ বা কুমিরের সম্ভাব্য আক্রমণের বিষয়ে সবসময় সজাগ থাকুন

দুবলার চরের রাসমেলা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয় — এটি মানুষ, প্রকৃতি ও বিশ্বাসের এক অসাধারণ মিলনক্ষেত্র। সুন্দরবনের গহীনে সাগরের মোহনায়, ভোরের লালাভ আলোয় হাজারো মানুষের পুণ্যস্নানের দৃশ্য — এমন অভিজ্ঞতা পৃথিবীর খুব কম জায়গায়ই পাওয়া যায়। তাই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে, সতর্কতার সাথে এই অনন্য উৎসবের অংশ হওয়ার সুযোগ নিন।

যাওয়ার আগে জেনে নিন

🚌যাতায়াত

ধাপ ১ — ঢাকা থেকে খুলনা বা মংলা বাসে যাওয়া পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে খুলনা ও মংলা যাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুত হয়েছে। ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, আরামবাগ বা ফকিরাপুল থেকে সোহাগ, হানিফ, গ্রিন লাইন, ফাল্গুনী বা কমফোর্ট লাইনের বাসে উঠে মাওয়া-পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট পেরিয়ে সরাসরি মোংলা বা খুলনায় পৌঁছানো যায়। এই পথে সময় লাগে মাত্র সাড়ে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা। ভাড়ার ক্ষেত্রে নন-এসি বাসে ৫০০–৮০০ টাকা এবং এসি বাসে ৮০০–১,৬০০ টাকার মধ্যে পড়বে। ট্রেনে যাওয়া ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেসে চেপে সরাসরি খুলনায় যাওয়া যায়। পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে এখন মাত্র পৌনে চার ঘণ্টায় খুলনা পৌঁছানো সম্ভব। ভাড়া পড়বে শোভন চেয়ারে ৪৪৫–৫০০ টাকা এবং এসি স্নিগ্ধা শ্রেণিতে ৭৪০–৯০০ টাকা। খুলনায় নেমে সেখান থেকে মোংলা কমিউটার ট্রেনে অথবা বাস বা সিএনজিতে মাত্র এক ঘণ্টায় (প্রায় ৫০ কি.মি.) মোংলা পৌঁছানো যায়। ধাপ ২ — মংলা বা খুলনা থেকে দুবলার চর মংলা বা খুলনার রূপসা ঘাটে পৌঁছানোর পরই শুরু হয় মূল অ্যাডভেঞ্চার। এখান থেকে ট্যুরিস্ট লঞ্চ বা জাহাজে চেপে সুন্দরবনের গহীনে দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা দিতে হয়। সুন্দরবনের বুক চিরে আঁকাবাঁকা নদীপথে এই যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা। পুরো পথটাই এক অনন্য অভিজ্ঞতা — দুই পাশে ঘন ম্যানগ্রোভ বন, মাঝে মাঝে হরিণের দল, নদীতে ডলফিনের লাফালাফি। এই পথে একা বা স্বতন্ত্রভাবে না গিয়ে অবশ্যই কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরের সাথে যাওয়া উচিত, কারণ বন বিভাগের অনুমতি ও সশস্ত্র বনরক্ষী ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরামর্শ: একাকী বা ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। সর্বদা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করুন।

🏨থাকার ব্যবস্থা

দুবলার চরে কোনো হোটেল বা বাণিজ্যিক রেস্ট হাউস নেই। তাই পর্যটকদের থাকার জন্য বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সুবিধাজনক ব্যবস্থা হলো ট্যুর অপারেটরদের লঞ্চ বা জাহাজে রাত্রিযাপন করা। এসব জাহাজের কেবিনেই পর্যটকেরা রাত কাটান এবং জাহাজগুলো রাতে নদীতে নিরাপদ স্থানে নোঙর করে থাকে। একই সঙ্গে খাবার, নিরাপত্তা এবং অভিজ্ঞ গাইডের সুবিধাও ট্যুর প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া কাছাকাছি কটকা, কচিখালী (টাইগার পয়েন্ট) এবং নীলকমল (হিরণ পয়েন্ট)-এ বন বিভাগের রেস্ট হাউস রয়েছে। এসব রেস্ট হাউসে থাকার জন্য আগাম বন বিভাগ থেকে বুকিং করতে হয়। দেশি ও বিদেশি পর্যটকের ভিত্তিতে ভাড়া সাধারণত প্রতি রাতে ২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

⚠️নিরাপত্তা তথ্য

• কখনো একা বনে প্রবেশ করবেন না — সর্বদা গাইড ও বনরক্ষীর সাথে থাকুন • নদী বা সাগরে নামার আগে গাইডের অনুমতি নিন • সুগন্ধি পারফিউম বা লোশন ব্যবহার করবেন না — বন্যপ্রাণী বিরক্ত হতে পারে • নিচু স্বরে কথা বলুন, শোরগোল করবেন না • প্লাস্টিক বা যেকোনো বর্জ্য বনে ফেলবেন না — পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকুন • বাঘ বা কুমিরের সম্ভাব্য আক্রমণের বিষয়ে সবসময় সজাগ থাকুন দুবলার চরের রাসমেলা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয় — এটি মানুষ, প্রকৃতি ও বিশ্বাসের এক অসাধারণ মিলনক্ষেত্র। সুন্দরবনের গহীনে সাগরের মোহনায়, ভোরের লালাভ আলোয় হাজারো মানুষের পুণ্যস্নানের দৃশ্য — এমন অভিজ্ঞতা পৃথিবীর খুব কম জায়গায়ই পাওয়া যায়। তাই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে, সতর্কতার সাথে এই অনন্য উৎসবের অংশ হওয়ার সুযোগ নিন।

💡ভ্রমণ টিপস

• হালকা রঙের (অলিভ, খাকি, ব্রাউন) আরামদায়ক পোশাক • রেইনকোট বা পাতলা জ্যাকেট • সানস্ক্রিন, সানগ্লাস ও টুপি • মশার কয়েল ও রিপেলেন্ট • টর্চলাইট ও পাওয়ার ব্যাংক • হালকা ট্রেকিং শু বা স্যান্ডেল

ছবি

লোকেশন

Dublar Char, Mongla Upazila, Khulna, Bangladesh

দিকনির্দেশ দেখুন ↗
#dublarchor#fair#mela#purnima#rash#Sundarban#yatra