বরিশালের সাগরকন্যা খ্যাত জেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষে জেগে ওঠে দ্বীপ চর হেয়ার। স্থানীয়দের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরে কলাগাছিয়ার চর (Kalagachia Char) নামে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে পর্যটকদের কাছে চর হেয়ার (Char Hare) নামেই বেশি পরিচিত হয়ে উঠছে। চারপাশে অবারিত জলরাশি, দূরদিগন্তজোড়া আকাশ, অতিথি পাখির কোলাহল আর সবুজ ম্যানগ্রোভ বন সব মিলিয়ে চর হেয়ার যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক নীরব শিল্পকর্ম। এই চরের পূর্ব পাশে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি সোনারচর , পশ্চিমে চর তুফানিয়া, উত্তরে টাইগারদ্বীপ আর এর পাশেই চর কাশেম। কুয়াকাটা থেকে সাগরপথে এর দূরত্ব ৩৫.১৯ কিলোমিটার, আর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার।
গুগল আর্থের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪০৩ হেক্টর আয়তনের এই চরে রয়েছে চার কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত। চরের ভেতরে আছে হাতেগোনা কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়ি, কৃষিজমি আর মাছের ঘের। যার কারণে এখানে শহরের মত কোলাহল নেই, নেই কোন অতিরিক্ত আলোকসজ্জা। আছে শুধু নির্জনতা, প্রকৃতি আর খোলা দিগন্ত।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে চর হেয়ার যেতে সবচেয়ে সহজ ও সরাসরি উপায় হলো লঞ্চে করে চরমন্তাজ পৌঁছানো। প্রতিদিন ঢাকা সদরঘাট থেকে রাত পৌনে ৯ টার সময় তিনটি লঞ্চ রেডসান, পুবালি ও আসা-যাওয়া চরমন্তাজের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এই লঞ্চগুলো তুলনামূলকভাবে খুব বেশি লাক্সারিয়াস না হলেও যারা সরাসরি চরাঞ্চলে যেতে চান, তাদের জন্য এটিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। চরমন্তাজ পৌঁছে পরদিন সেখান থেকেই ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে করে চর হেয়ারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা যায়।
চরমন্তাজ পৌঁছানোর পর সেখান থেকে চর হেয়ারে যেতে হয় সম্পূর্ণ নদী ও সাগরপথে। স্থানীয়ভাবে এখানে সহজেই ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোট পাওয়া যায় যেগুলো পর্যটকদের চর হেয়ারে নিয়ে যায়। সাধারণত ট্রলারের আকার ও ধারণক্ষমতার ওপর ভাড়া নির্ভর করে প্রায় ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। শীত মৌসুমে সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকায় এই সময়ে যাতায়াত নিরাপদ। চরমন্তাজ থেকে চর হেয়ার পৌঁছাতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে সমুদ্র উত্তাল হয়ে যায় তখন এই রুটে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই আবহাওয়া বিবেচনা করে যাত্রা পরিকল্পনা করে নিবেন।
চরমন্তাজ থেকে প্রতিদিন দুপুর ১টার সময় লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এছাড়া বিকল্পভাবে পটুয়াখালী হয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। সময় ও রুট বিবেচনায় চরমন্তাজ হয়ে যাত্রা ঢাকা থেকে চর হেয়ার ভ্রমণের সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়।
কোথায় থাকবেন
চর হেয়ার ভ্রমণ মুলত অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী পর্যটকদের জন্য। তাই এখানে থাকার জন্য কোন রিসোর্ট বা হোটেল-কটেজ নেই। এখানে থাকতে হবে তাঁবুতে অথবা স্থানীয় উদ্যোগে পরিচালিত হোমস্টে সার্ভিস নিয়ে। তাঁবু সাথে নিয়ে যেতে পারেন অথবা ভাড়া নিলে ৩০০-৪০০ টাকা লাগবে। আর হোমস্টে করার জন্য প্রতি রাতে ভাড়া লাগবে ১,০০০ টাকা থাকা যাবে একসাথে ৪ জন।
কোথায় খাবেন
চর হেয়ার ভ্রমনে সম্পূর্ণ লোকাল বা স্থানীয় খাবার খেতে হবে। তবে এর জন্য আগে থেকেই অর্ডার দিয়ে রাখতে হবে কি খেতে চান। সাধারণত স্থানীয়ভাবে রান্না করা খাবার ডিম, ডাল, খিচুড়ি, সামুদ্রিক মাছ (যদি পাওয়া যায়) হাঁস, মুরগি ইত্যাদি পাওয়া যাবে।