সংক্ষিপ্ত বিবরণ
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে পশ্চিম দিগন্তে তাকালে যে ঘন সবুজ অরণ্যের রেখা চোখে পড়ে, সেটাই হলো ফাতরার চর (Fatrar Char)। সুন্দরবনের টেংরাগিরি বনাঞ্চলের একটি বর্ধিত অংশ হিসেবে এই ফাতরার বন বা ফাতরার চর কুয়াকাটার পশ্চিমে ৯,৯৭,৫০৭ একর (পুরো সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ অঞ্চলসহ) জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। প্রাকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পর্যটকদের কাছে ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন’ হিসেবে ব্যাপকভাবে খ্যাত। যদি আপনি কুয়াকাটার সমূদ্রবিলাসের পাশাপাশি সুন্দরবনের মতো গহীন ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূল, ছমছমে অরণ্য আর বন্যপ্রাণীর স্বাদ একই সাথে নিতে চান, তবে ফাতরার চর আপনার জন্য একটি মাস্ট-ভিজিট প্লেস।
বিস্তারিত বিবরণ
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে পশ্চিম দিগন্তে তাকালে যে ঘন সবুজ অরণ্যের রেখা চোখে পড়ে, সেটাই হলো ফাতরার চর (Fatrar Char)। সুন্দরবনের টেংরাগিরি বনাঞ্চলের একটি বর্ধিত অংশ হিসেবে এই ফাতরার বন বা ফাতরার চর কুয়াকাটার পশ্চিমে ৯,৯৭,৫০৭ একর (পুরো সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ অঞ্চলসহ) জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। প্রাকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পর্যটকদের কাছে ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন’ হিসেবে ব্যাপকভাবে খ্যাত। যদি আপনি কুয়াকাটার সমূদ্রবিলাসের পাশাপাশি সুন্দরবনের মতো গহীন ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূল, ছমছমে অরণ্য আর বন্যপ্রাণীর স্বাদ একই সাথে নিতে চান, তবে ফাতরার চর আপনার জন্য একটি মাস্ট-ভিজিট প্লেস।
এখানে রয়েছে গেওয়া, সুন্দরী, কেওড়া, ফাতরা, গরান, গোলপাতা, বাইন ইত্যাদি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের অসংখ্য উদ্ভিদ। বনের ভেতরে ট্রেইল ধরে হাঁটার সময় একটু সতর্ক থাকলে চোখে পড়তে পারে বানর, বুনো শূকর, কাঠবিড়ালি, হরিন এবং হরেক রকমের বন্য পাখি। এছাড়াও এই চরে সাপ ও গুই সাপের মতো বেশ কিছু সরীসৃপের নিরাপদ আবাস রয়েছে। মূল সুন্দরবনের মতোই ফাতরার চরও দিনে দুবার জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়, যার ফলে প্রতি ১২ ঘণ্টায় এই বনের রূপ আমূল বদলে যায়।
ফাতরার চরে দেখার মতো আকর্ষণ
ফাতরার চরের প্রধান প্রবেশপথ বা খালের ভেতরে যখন ট্যুরিস্ট ট্রলারগুলো প্রবেশ করে, ঠিক তখন থেকেই অ্যাডভেঞ্চার শুরু হয়। খালের দুপাশের ঘন সবুজ ওয়ানখেড়াজাতীয় উদ্ভিদের ছায়া এবং শ্বাসমূল (Pneumatophores) দেখে মনে হবে আপনি সরাসরি সুন্দরবনের কোনো গহীন খাঁড়িতে চলে এসেছেন।
বনের ভেতরে পা রাখলেই প্রথমেই চোখে পড়বে বন বিভাগের একটি শান-বাঁধানো পুকুর ও বন বিভাগের প্রাচীন রেস্টহাউস। এই পুকুরটিই চরের অস্থায়ী বাসিন্দা, জেলে ও বনরক্ষীদের একমাত্র মিঠাপানির যোগানদাতা। সাধারণত বন বিভাগের বনরক্ষী ছাড়া ফাতরার চরে স্থায়ীভাবে কোনো সাধারণ মানুষ বসবাস করে না। বনের ভেতর দিয়ে তৈরি করা কাঠের তৈরি ও পাকা ট্রেইল বা হাঁটার রাস্তা ধরে বনের গভীরে যাওয়া যায়।
বনের পূর্ব দিকে রয়েছে একটি নির্জন, শান্ত ছোট সমুদ্র সৈকত। মূল কুয়াকাটার সৈকতের চেয়ে এটি অনেক বেশি নিরিবিলি। ভাটার সময় এই সৈকততে অনায়সেই সমুদ্রস্নান সেরে ফেলতে পারবেন। তবে জোয়ারের সময় সমুদ্র উত্তাল থাকে বলে গভীর পানিতে না নামার পরামর্শ দেন স্থানীয়রা।
ফাতরার চর কখন যাবেন
সাধারণত পর্যটকরা বছরের যেকোনো সময়ই কুয়াকাটা যেতে পারেন, তবে ফাতরার চর ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং নিরাপদ সময় হলো নভেম্বর থেকে মার্চ মাস (শীতকাল)। এই সময়ে সমুদ্র শান্ত থাকে এবং ট্রলার যাত্রা নিরাপদ হয়।
জরুরি সময়সীমা: বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে বন বিভাগ থেকে সাধারণত পর্যটকদের ফাতরার চরে অবাধে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় না। ট্রলারগুলো ঘাটে থামার পর পর্যটকরা সর্বোচ্চ ২ থেকে আড়াই ঘণ্টার জন্য ফাতরার চরের ভেতরে ঘুরে দেখার অনুমতি পান। তাই হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সকাল সকাল কুয়াকাটা ঘাট থেকে রওনা হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ফাতরার চর কিভাবে যাবেন
ফাতরার চর দেখতে হলে প্রথমে কুয়াকাটা আসতে হবে। কুয়াকাটা থেকে প্রতিদিন বেশকিছু ট্রলার জনপ্রতি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা ভাড়ায় (ভাড়া সিজনের উপর নির্ভর করে) ফাতরার চরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। অথবা ট্রলার রিজার্ভ নিয়েও ২ ঘন্টায় ফাতরার বনে পৌঁছাতে পারবেন। নদী ও সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। লঞ্চে ঢাকা সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী বা বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। আর বাসে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। তবে সবচেয়ে সহজ ও আরামের কথা বিবেচনা করলে কুয়াকাটা যেতে নদী পথই উত্তম। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চে করে পটুয়াখালীতে গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। অথবা লঞ্চে সদরঘাট থেকে বরিশাল গিয়ে সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।
ঢাকা থেকে লঞ্চে কুয়াকাটা পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় যাত্রী সংকটের কারনে ঢাকার সদরঘাট থেকে আগের মত ভালো সার্ভিসের লঞ্চ চলাচল করেনা। তাই লঞ্চে যেতে চাইলে আগেই খোজ নিতে হবে আপনার ভ্রমনের দিনে কোন ভালো লঞ্চ চলবে কিনা।
সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় পটুয়াখালি যাবার লঞ্চ ছেড়ে যায় এবং সকাল ৭টার দিকে পটুয়াখালি পৌছায়। লঞ্চ ভাড়া ডেক ৪০০-৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১৩০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২৪০০ টাকা, ভি আই পি কেবিন ভাড়া ৭০০০ টাকা।
পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাট থেকে অটোতে বাস স্ট্যান্ড গিয়ে লোকাল বাসে যেতে হবে কুয়াকাটা। যেতে সময় লাগবে ২ঘন্টার মত, আর বাস ভাড়া ১৫০-১৬০ টাকা।
এছাড়া সদরঘাট থেকে সন্ধ্যার পর বরিশালের উদ্দেশ্যে একাধিক লঞ্চ ছেড়ে ভোরে বরিশাল পৌঁছায়। বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলি বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে কুয়াকাটা যাবার বাস পাওয়া যায়। বাসে যেতে সময় লাগবে ৩ ঘন্টার মত, বাস ভাড়া ১৮০-২৫০ টাকা।
বাসে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে কুয়াকাটার দূরত্ব প্রায় ২৯৪ কিলোমিটার। বাসে যেতে সময় লাগবে প্রায় ৬-৭ ঘন্টা। ঢাকার সায়েদাবাদ, আবদুল্লাপুর, আরামবাগ অথবা গাবতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে সাকুরা পরিবহন, শ্যামলী, গ্রীনলাইন, ইউরো কোচ, হানিফ, টি আর ট্রাভেলস সহ আরও অনেক পরিবহনের বাস সরাসরি কুয়াকাটা যায়। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা নন-এসি বাসের ভাড়া ৭৫০- ৯০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ১১০০-১৬০০ টাকা।
ফাতরার চর কোথায় থাকবেন
ফাতরার চরে সাধারণ পর্যটকদের জন্য রাতে থাকার কোনো বাণিজ্যিক হোটেল, রিসোর্ট বা আবাসন ব্যবস্থা নেই। তবে আপনি যদি রিসার্চ করতে চান, তবে বন বিভাগের পূর্ব অনুমতি সাপেক্ষে তাদের রেস্ট হাউসে সীমিত সুবিধায় রাত্রিযাপন করার সুযোগ পেতে পারেন (যা সাধারণ পর্যটকদের জন্য বেশ কঠিন)।
তবে কুয়াকাটায় বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে। মান ও শ্রেনী অনুযায়ী এসব হোটেলে ৪০০-৫,০০০ টাকায় থাকতে পারবেন। শেয়ার করে থাকলে খরচ কম হবে। সিজন ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া গেলে আগে থেকে হোটেল বুক করার প্রয়োজন পরে না। আর অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন।
আরও পড়ুনঃ কুয়াকাটার সেরা হোটেল ও রিসোর্ট
কোথায় খাবেন
ফাতরার চরে ভ্রমণের সময় নিজের সাথে হালকা শুকনো খাবার (যেমন: বিস্কুট, কেক, চিপস) এবং অবশ্যই পর্যাপ্ত খাবার পানি নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে উত্তম ও বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কারণ, পুরো ফাতরার চরে মাত্র একটি স্থানীয় ছোট দোকান বা হোটেল রয়েছে। এই দোকানে সাধারণত মোটা চালের ভাত, দেশি মুরগির মাংস বা স্থানীয় নদী-খালের তাজা মাছ ছাড়া অন্য কোনো ভারী খাবার বা মুখরোচক মেনু পাওয়া যায় না। আপনি যদি সেখানে দুপুরের খাবার খেতে চান, তবে ট্রলার থেকে নেমেই প্রথমে ওই দোকানে গিয়ে অর্ডার দিয়ে আসতে হবে, যাতে বনের ভেতর থেকে ঘুরে আসার পর খাবার তৈরি পাওয়া যায়।
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
দ্রুত তথ্য
ঠিকানা
পটুয়াখালী, বরিশাল
প্রবেশ মূল্য
বিনামূল্যে
সময়সূচি
সর্বদা খোলা
আরও দেখুন
সব দেখুন
জাফলং
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

মাতামুহুরী নদী
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

বিরিশিরি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

কালিনদীর কাঠের পুল
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আলীপুর মাছ বাজার
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

বারেক টিলা
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
