আই বাঁধ (I Badh) রাজশাহী শহরের শ্রীরামপুর এলাকায় অবস্থিত একটি বাঁধ শহর রক্ষা। এই বাঁধটি দেখতে অনেকটা ইংরেজি বর্ণ ‘I’ এর মতো হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘আই বাঁধ’। মূলত শহর রক্ষা ও ভাঙন রোধে এটি নির্মিত হলেও, এর নান্দনিক গঠন এবং নদীর বুকে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখার সুযোগ বাঁধটিকে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত করেছে। নদীর বুকে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এই পাথুরে পথ দিয়ে হাঁটলে মনে হবে আপনি পদ্মার বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছেন। শরতের নীল আকাশ আর কাশফুল, কিংবা বর্ষার ভরা যৌবনা পদ্মা প্রতিটি ঋতুতেই আই বাঁধ তার ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে ধরা দেয়। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বিকেল কাটানোর জন্য এটি রাজশাহীর সবচেয়ে সেরা জায়গা।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য সড়ক, রেল এবং আকাশপথ তিনটি মাধ্যমই বেশ সুবিধাজনক। ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর বা আব্দুল্লাহপুর থেকে হানিফ, দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল বা গ্রিন লাইনের বাসে করে সরাসরি রাজশাহী আসা যায়। ভাড়া লাগবে ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। এছারা কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে বনলতা, সিল্কসিটি বা পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টায় রাজশাহী পৌঁছাতে পারেন; ট্রেনের আসনভেদে ভাড়া ৪৫০ থেকে ১,৫৯৭ টাকা পর্যন্ত।
রাজশাহী রেল স্টেশন বা বাস টার্মিনাল থেকে অটো-রিকশা বা ইজি বাইকে করে মাত্র ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় সরাসরি আই বাঁধ বা শ্রীরামপুর এলাকায় পৌঁছানো যায়।
কোথায় থাকবেন
রাজশাহী শহরে থাকার জন্য আধুনিক ও মানসম্মত বেশ কিছু হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। আই বাঁধের কাছেই নদীর দৃশ্য উপভোগ করতে গ্র্যান্ড রিভার ভিউ হোটেল বা হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল বেছে নিতে পারেন। এছাড়া রেল স্টেশনের কাছে পর্যটন মোটেল, হোটেল হ্যালো রাজশাহী, শাহ মখদুম বোর্ডিং বা সাহেব বাজার এলাকার মাঝারি মানের হোটেলগুলো বেছে নিতে পারেন। যেহেতু আই বাঁধ শহর রক্ষা বাঁধের পাশেই অবস্থিত, তাই শহরের যেকোনো এলাকায় অবস্থান করলেই যাতায়াত করা খুব সহজ হয়।
আরও পড়ুনঃ রাজশাহীর সেরা হোটেল ও রিসোর্ট
কোথায় খাবেন
রাজশাহী ভ্রমণে এসে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ না নিলে ভ্রমণ অপূর্ণ থেকে যায়। আই বাঁধ এলাকায় বিকেলে প্রচুর স্ট্রিট ফুড, ফুচকা ও ঝালমুড়ি পাওয়া গেলেও মূল খাবারের জন্য নিকটস্থ সিঅ্যান্ডবি মোড় বা কোর্ট স্টেশনে যেতে পারেন। সেখানে রাজশাহীর বিখ্যাত কালাই রুটি, বেগুন ভর্তা ও হাঁসের মাংসের স্বাদ নিতে পারেন। ভালো মানের রেস্তোরাঁর জন্য মাস্টার শেফ রোস্ট, চিলিস বা নানকিং রেস্তোরাঁ বেশ পরিচিত, যেখানে দেশি খাবারের পাশাপাশি চাইনিজ ও কন্টিনেন্টাল খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া আমের মৌসুমে গেলে বাজারের টাটকা আম এবং পদ্মার সুস্বাদু ইলিশ খাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।