সংক্ষিপ্ত বিবরণ
কক্সবাজারের মহেশখালি উপজেলার ৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট সোনাদিয়া দ্বীপ (Sonadia Island) এডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্যে ক্যাম্পিং করার একটি আদর্শ জায়গা।
বিস্তারিত বিবরণ
কক্সবাজারের মহেশখালি উপজেলার ৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট সোনাদিয়া দ্বীপ (Sonadia Island) এডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্যে ক্যাম্পিং করার একটি আদর্শ জায়গা।
একটি খাল সোনাদিয়া দ্বীপকে মহেশখালি থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এ দ্বীপের তিন দিক থেকে আছে সমুদ্র সৈকত, আছে জীব বৈচিত্রের পরিপূর্ণ জলাবন, ছোট বড় খালের সমন্বয়ে প্যারাবন, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি এবং বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি।
ছোট এ দ্বীপে মাত্র ১০০ থেকে ১২৫ বছর আগে মানব বসতি গড়ে উঠেছে। নিরিবিলি এক সমুদ্র সৈকত ও জীববৈচিত্রের অপূর্ব সমন্বয় দেখতে পর্যটকরা সোনাদিয়া দ্বীপে ভীড় জমায়।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণের জন্যে যে কোন সময় যেতে পারবেন। তবে সবদিক বিবেচনায় শীতকালের সময়টাই অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই মাস গুলো ক্যাম্পিং করার আদর্শ। আপনি যদি একটু সবুজ প্রকৃতি পছন্দ করেন তবে যেতে পারেন বর্ষাকালেও।
সোনাদিয়া দ্বীপে ক্যাম্পিং
সোনাদিয়া দ্বীপের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে আপনাকে অবশ্যই এক রাত সেখানে থাকতে হবে। তবে সেখানে থাকার জন্যে হোটেল বা রিসোর্ট নেই। রাতে থাকতে হলে থাকতে হবে তাবুতে। সমুদ্র সৈকতের পাশে তাবুতে রাত যাপন আপনাকে ভিন্ন একটা অভিজ্ঞতা দিবে।
সোনাদিয়া দ্বীপের পূর্ব সৈকত এবং পশ্চিম সৈকত, এই দুই জায়গা ক্যাম্পিং করার জন্যে উপযুক্ত। পূর্ব সৈকত আর পশ্চিম সৈকতের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার। আপনি কোথায় ক্যাম্প সাইট ঠিক করবেন তা আগে পরিকল্পনা করে নিতে হবে।
তবে নিজস্ব ক্যাম্পিং করার সরঞ্জাম না নিয়ে গিয়েও সেখানে রাত যাপন করতে পারবেন। স্থানীয়দের বেশ কিছু ক্যাম্প সাইট রয়েছে। যেখানে খাওয়া দাওয়া, তাবুতে থাকা, ওয়াশরুম ও অন্যান্য কিছু সুবিধা নিয়ে বেশ কিছু প্যাকেজ পাওয়া যায়। আপনি সোনাদিয়া যাবার আগেই যোগাযোগ করে নিতে হবে।
নিজেরা ক্যাম্পিং করে থাকলে সবকিছুই নিজেদেরই আয়োজন করতে হবে। কক্সবাজার থেকে অথবা মহেশখালী থেকে আগেই প্রয়োজনীয় বাজার করে নিতে হবে। আর স্থানীয়ভাবে খাবারের কোন হোটেল নেই। প্রয়োজনে স্থানীয় কারও বাড়িতে বাজার করে দিলে খাবার রান্নার আয়োজন করতে পারবেন।
সোনাদিয়ার জনপ্রিয় ক্যাম্প সাইট
সাধারণত জনপ্রতি ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকায় তাবুতে থাকা, ৩ বেলা খাওয়া ও ক্যাম্প সাইটের আরও কিছু সুবিধা সহ প্যাকেজ পাওয়া যায়। জনপ্রিয় কিছু ক্যাম্প সাইটের মধ্যে আছে-
ক্যাম্প ফায়ার সোনাদিয়া (Campfire Sonadia)
সোনাদিয়া পূর্ব পাড়া অর্থাৎ পূর্ব বীচে অবস্থিত সোনাদিয়ার জনপ্রিয় ক্যাম্পসাইট গুলোর একটি। কক্সবাজার থেকে কাছে হওয়ায় রিজার্ভ ট্রলার/স্পিডবোটে সহজে যাওয়া যায়। তবে ঘাট না থাকায় যাওয়া আসা করতে হয় পানিতে ভিজেই। আর ঘটিভাঙ্গা হয়ে গেলে আপনাকে বেশ কিছু পথ হেটে যেতে হবে রিসোর্টে পৌছাতে। এই সাইটে তাবুতে থাকার পাশাপাশি ইকো হাউজে থাকার সুযোগ আছে।
💰 প্যাকেজঃ জনপ্রতি ১২৫০ টাকা থেকে শুরু ☎️ যোগাযোগঃ 01635279147
স্যান্ডি হিল বীচ সোনাদিয়া (Sandy Hill Beach Sonadia)
সোনাদিয়ার পশ্চিম পাড়ায় অবস্থিত এই ক্যাম্প সাইটে গেলে পশ্চিম বীচ ঘুরে দেখতে পারবেন কাছ থেকেই। কক্সবাজার থেকে রিসার্ভ বোট নিয়ে যেতে একটু খরচ বেশি হয়। ঘটিভাঙ্গা হয়ে লোকাল ভাবে যাওয়াটাই বেশিরভাগ পর্যটক পছন্দ করে থাকেন।
💰 প্যাকেজঃ জনপ্রতি ১২৫০ টাকা ☎️ যোগাযোগঃ 01829606707
ওশান ব্রীজ রীসোর্ট সোনাদিয়া (Ocean Breeze Sonadia)
সোনাদিয়া পশ্চিম সৈকতে অবস্থিত ওশান ব্রীজ বর্তমানে সোনাদিয়ার বেশ গুছানো একটি ক্যাম্প সাইট। পশ্চিম ঘাট থেকে বেশ কিছুটা পথ হেটে যেতে হবে ক্যাম্প সাইটে। ৩ বেলা খাবার, রাতে থাকা, উন্নত ওয়াশরুম ও নানা সুবিধাসহ এখানে প্যাকেজ আছে।
💰 প্যাকেজঃ জনপ্রতি ১৪০০ টাকা থেকে শুরু ☎️ যোগাযোগঃ 01318887444
এছাড়াও আছে সোনাদিয়া গ্ল্যাম্পার্স হাট (পশ্চিম পাড়া), রেড ক্র্যাব ক্যাম্পিং (পশ্চিম পাড়া) সহ আরও কিছু ক্যাম্প সাইট। সোনাদিয়া ক্যাম্পিং দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। নতুন নতুন ক্যাম্প সাইট উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে আসছে। কোন ক্যাম্প সাইটে থাকার অভিজ্ঞতা থাকলে জানান কমেন্ট করে।
সোনাদিয়া দ্বীপ কিভাবে যাবেন
সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে দেশের যেকোনো স্থান থেকে নিজের পছন্দমত যানবাহনে করে প্রথমে কক্সবাজার আসতে হবে। কক্সবাজার থেকে সোনাদিয়া আসার সবচেয়ে সহজ পথ হচ্ছে সরাসরি বোটে করে চলে আসা। কক্সবাজার এর সাথে সোনাদিয়ার কোন লোকাল ঘাট না থাকায় বোট রিজার্ভ করে আসতে হবে। লোকাল বোটে সরাসরি সোনাদিয়া যাবার উপায় নেই।
সেইক্ষেত্রে কক্সবাজারের নাজিরার টেক ঘাট অথবা ৬ নাম্বার ঘাট হতে বোট ভাড়া পাওয়া যায়। নাজিরার টেক লাইফ বোট করে যেতে চাইলে যাওয়া ও আসার জন্যে ভাড়া লাগবে ৪০০০ টাকা। লাইফ বোটে সর্বোচ্চ ৩০ জন উঠতে পারবেন। নাজিরারটেক থেকে সোনাদিয়ার কোন প্রান্তের নামবেন তার উপর নির্ভর করে সময় লাগবে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা।
যদি স্পিডবোট এ করে ৬ নাম্বার ঘাট থেকে যেতে চান তাহলে যাওয়া ও আসার ভাড়া লাগবে ৬০০০-৭০০০ টাকা। এক স্পিড বোটে ৯-১০ জন বসতে পারবেন। সময় লাগবে ২০-৩০ মিনিট। স্পিডবোটে যাত্রায় কিছুটা রোলিং হতে পারে। ছোট বাচ্চা বা অনেকের খারাপ লাগতে পারে এই যাত্রা।
৬নং ঘাট থেকে যদি লাইফ বোটে করে যাওয়া আসা করেন তাহলে ভাড়া লাগবে ৬০০০ টাকা। একসাথে ৩০ জন যেতে পারবেন। সময় লাগবে প্রায় ১ ঘন্টা বা তার চেয়ে একটু বেশি।
যদি আপনারা সংখ্যায় কম হয়ে থাকেন তাহলে অন্য গ্রুপের সাথে মিলে একটা স্পিডবোট বা ইঞ্জিন বোট ভাড়া করতে পারেন। এতে যাত্রা যেমন সহজ হবে, খরচ ও কম হবে।
কক্সবাজার থেকে কম খরচে সোনাদিয়া যেতে চাইলে অথবা আপনার যদি প্ল্যান থাকে মহেশখালী দ্বীপ ও সোনাদিয়া ভ্রমণ একসাথে করবেন তাহলে নিচের মত করে যেতে পারেন।
কক্সবাজার ৬ নাম্বার ঘাট থেকে লোকাল স্পিড বোটে ৯০-১০০ টাকা ভাড়ায় মহেশখালি ঘাটে যেতে হবে। সেখান থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে ঘটিভাঙ্গা যেতে হবে অটোরিক্সায়/সিএনজিতে। মহেশখালি ঘাট থেকে রিসার্ভ অটোরিক্সা নিলে ভাড়া লাগবে ২৫০-৩০০ টাকার মতো। লোকাল ভাবে গেলে, গোরকঘাটা বাজার হয়ে ঘটিভাঙ্গা যেতে জনপ্রতি ৫০টাকা লাগবে।
ঘটিভাঙ্গা ঘাটে সোনাদিয়া পূর্ব পাড়া বা পশ্চিম পাড়া যাওয়ার লোকাল বোট থাকে, লোকাল ভাড়া ৫০ টাকা। তবে মনে রাখতে হবে ঘটিভাঙ্গা থেকে সোনাদিয়া যাবার বোট জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে ছেড়ে যায়। তাই এই পথে যেতে চাইলে জোয়ারে সময় কখন এবং ঘটিভাঙ্গা থেকে কখন বোট ছাড়বে তা আগেই জেনে যেতে হবে।
আপনি যদি সোনাদিয়ার কোন ক্যাম্প সাইটের প্যাকেজ বুকিং দিয়ে যান তাহলে তাদের কাছ থেকে আগেই জেনে নিবেন কক্সবাজার হতে যাওয়া আসা সহ প্যাকেজ আছে কিনা। যদি না হয় তাহলে তাদের কাছে যাওয়া আসার ব্যাপারে হেল্প নিতে পারেন।
ভিন্ন পথে সোনাদিয়া
কক্সবাজার না গিয়েও সোনাদিয়া যাওয়া যায়। এক্ষেত্রে চট্টোগ্রাম নতুন ব্রিজ থেকে সিএনজিতে কক্সবাজারের বদরখালী আসতে হবে, সেখান থেকে সিএনজি দিয়ে ঘটিভাঙ্গা যাওয়া যায়। অথবা বাসে চকরিয়া নেমে সেখান থেকে বদরখালী হয়ে ঘটিভাঙ্গা ঘাট দিয়ে নৌকায় সোনাদিয়া যাওয়া যায়।
সোনাদিয়া ভ্রমণ টিপস
সোনাদিয়াতে বিদ্যুত নেই, তবে ক্যাম্প সাইটে সোলার পাওয়ারে অথবা ছোট জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল চার্জ দেবার ব্যবস্থা আছে। প্রয়োজনে পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন।
সোনাদিয়া ভ্রমণ ছোট বাচ্চা, বয়স্ক মানুষ অথবা যারা রিলাক্স ট্যুর পছন্দ করেন তাদের জন্যে উপযোগী নাও হতে পারে।
যেহেতু এডভেঞ্চার ধরণের ট্যুর, তাই অনেক কিছুই আপনাকে মানিয়ে নেবার মনোভাব থাকতে হবে।
ঘটিভাঙ্গা হয়ে যেতে চাইলে অবশ্যই জোয়ার ভাটার সময় মেনে চলতে হবে। তা না হলে কাদাময় পানিতে নেমে নৌকায় উঠা বা নামার জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে।
যে কোন প্রয়োজনে আপনার বুকিং দেওয়া ক্যাম্প সাইট ম্যানেজারের সাথে কথা বলুন।
রোদ থেকে বাচতে সাথে সানগ্লাস, সানস্ক্রিন, ক্যাপ, গামছা ও ছাতা রাখুন
প্রয়োজনীয় ঔষুধ সাথে রাখুন, কিছু শুকনো খাবার ও রাখতে পারেন।
যদি ভাবেন সোনাদিয়া দ্বীপ থেকে একদিনেই চলে আসবেন কিংবা রাত্রি যাপন করবেন না তবে সকালের কিছু অপূর্ব মুহূর্ত থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন। এখানের প্রকৃতি সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তকে সাজিয়েছে অকৃত্রিম ভালবাসায় যা বাংলাদেশের আর কোথাও আপনি পাবেন না। তাই সবচেয়ে ভাল হয় অন্তত দুই দিনের সময় নিয়ে সোনাদিয়া দ্বীপ ও মহেশখালী দ্বীপ এর দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা।
মনে রাখা ভালো ঘুরাঘুরি আর ক্যাম্পিং এর জন্য সোনাদিয়া দ্বীপ নিরাপদ। তারপরেও অযাচিত ঝামেলা এড়াতে কোথাও ক্যাম্পিং করার আগে স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিন।
ফটো গ্যালারি
সুযোগ-সুবিধা
খাবার
নেই
থাকার ব্যবস্থা
নেই
পার্কিং
নেই
টয়লেট
নেই
গাইড
নেই
হুইলচেয়ার
নেই
অনুমতি
ফটোগ্রাফি
অনুমোদিত
ড্রোন
নিষিদ্ধ
ক্যাম্পিং
নিষিদ্ধ
ভ্রমণকারীদের মতামত
যারা এখানে ঘুরতে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা
(0 রিভিউ)
সতর্কতা রিপোর্ট
এই স্থান সম্পর্কে সতর্কতামূলক রিপোর্টসমূহ
রিপোর্ট লোড হচ্ছে...
দ্রুত তথ্য
ঠিকানা
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম
প্রবেশ মূল্য
বিনামূল্যে
সময়সূচি
সর্বদা খোলা
আরও দেখুন
সব দেখুন
জাফলং
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

মাতামুহুরী নদী
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

বিরিশিরি
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

শৈল-চূড়া ক্যাফে
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

কালিনদীর কাঠের পুল
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন

আদিনাথ মন্দির
এই স্থানটি সম্পর্কে আরও জানুন
