পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত নয়ানাভিরাম একটি সমুদ্র সৈকতের নাম সোনারচর (Sonarchar)। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা থেকে সোনারচরের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। সাগরের মাঝে অবস্থিত সোনারচর দ্বীপের দুর্গম ও বিপদসঙ্কুল যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন সৌন্দর্য পাগল পর্যটকদের অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে। তাই অনেকেই প্রকৃতির রূপ দেখতে ছুটে যান সোনারচরে। চঞ্চল সাগরের ঢেউ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ এবং জীববৈচিত্রপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পর্যটকদের মোহিত করে আপন মহিমায়।
পটুয়াখালী (Patuakhali) জেলায় আগত বেশির ভাগ পর্যটকই কুয়াকাটা দেখেই ফিরে যান। তাই পর্যটকের চাপহীন থাকে সোনারচরের সমুদ্র সৈকত ও বনাঞ্চল। সোনারচর সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। কুয়াকাটার মত সোনাচর দ্বীপের একই স্থান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্থ উপভোগ করা যায়। দিগন্ত বিস্তৃত সাগরের নীল জলরাশি ঘেরা সোনারচর সমূদ্র সৈকতে বালিতে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে যেন সোনার মতই মনে হয়।
প্রায় ৫ হাজার একরের বিশাল বনভূমি রয়েছে এই সোনারচরে। যা আয়তনের দিক থেকে সুন্দরবনের পরের স্থান দখল করে নিয়েছে। আর এই বনাঞ্চলের রয়েছে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র। সোনারচরের বনাঞ্চলে পর্যটকদের জন্য ডাকবাংলো ও বন বিভাগের ক্যাম্প রয়েছে। ২০০৪ সালে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা সোনার চরে পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগ বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি বিভিন্ন বন্য প্রাণী ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার সোনারচরকে বন্যপ্রাণীর অভয়রণ্য হিসাবে ঘোষণা করে।
কিভাবে যাবেন
নদী ও সড়ক পথে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়া যায়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়ক পথে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী অনেক কম সময়ে এবং সহজে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে পটুয়াখালী নন-এসি বাসের ভাড়া ৬০০-৮৫০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৯৫০-১৪০০ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি গলাচিপা যাওয়ার লঞ্চ রয়েছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে পানপট্টি লঞ্চঘাট। পানপট্টি লঞ্চঘাট হতে ট্রলার কিংবা লঞ্চযোগে আসোনারচরহয়ে মায়াবী দ্বীপচর তাপসীর কাছে আসতে সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘন্টা। তাপসীর কাছে পৌঁছালেই সোনারচরকে অনুভব করতে পারবেন। তাপসী থেকে সোনারচর যেতে প্রায় আধা ঘন্টা সময় লাগে।
এছাড়া গলাচিপা লঞ্চঘাট সরাসরি সোনারচরে যাওয়ার স্পিড বোট ও ট্রলার ভাড়া করা যায়। স্পিডবোটে যেতে মাত্র দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। আর গলাচিপা থেকে সোনারচরের যাওয়া আসা সহ ১ দিনের জন্য ট্রলার রিজার্ভ করতে ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা খরচ হবে। আবার কুয়াকাটা থেকে ইঞ্চিন চালিত ট্রলারে তিন ঘন্টায় সোনারচরে যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
সোনারচরে পর্যটকদের জন্য একটি ডাকবাংলো এবং বন বিভাগের ক্যাম্প রয়েছে। আরও ভালো কোথাও থাকতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা শহর অথবা গলাচিপা উপজেলা সদরে আসতে হবে। পটুয়াখালী এবং গলাচিপায় বিভিন্ন মানের বেশকিছু আবাসিক হোটেল পাবেন। এছাড়া সোনারচরে ক্যাম্পিং করে থাকতে পারবেন।
ভ্রমণের সময়: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (শীতকাল) সোনারচর ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযুক্ত সময়। বর্ষায় সমুদ্র উত্তাল থাকায় যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সোনারচরে ক্যাম্পিং : সোনারচরে ক্যাম্পিং করে থাকতে গেলে বা ঘুরতে গেলে একসাথে কয়েকজনের গ্রুপ করে গেলেই সবচেয়ে ভাল হবে।
নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ: দ্বীপে মোবাইল নেটওয়ার্ক বেশ দুর্বল হতে পারে এবং গ্রিড বিদ্যুৎ নেই। তাই সাথে পাওয়ার ব্যাংক রাখা জরুরি।
খাবার ও পানি: সোনারচরে ভালো মানের কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। তাই প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানযোগ্য পানি সাথে নিয়ে যেতে হবে।
পরিবেশ রক্ষা: অভয়ারণ্য হওয়ায় বনে প্লাস্টিক বা ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না এবং বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকুন।