দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা
World Luxury Hotel Awards প্রাপ্ত দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা (DuSai Resort & Spa) এর অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার গিয়াসনগরে। সুদৃশ্য লেক এবং পাহাড়ের ওপর সবুজ বনানী পরিবেষ্টিত এই রিসোর্টটি অবকাশ যাপনের জন্য একটি আদর্শ স্থান হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

নাগরিয়াকান্দি সানফ্লাওয়ার গার্ডেন ও পার্ক
নরসিংদী জেলার নাগরিয়া কান্দি এলাকায় অবস্থিত সানফ্লাওয়ার গার্ডেন (Nagoriakandi Sunflower Garden) ঢাকার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সূর্যমুখী বাগান হিসেবে পরিচিত। ফুলের সময়ে এখানে হাজারো সূর্যমুখী ফুলে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। শুধু সূর্যমুখী নয়, এখানে আছে টিউলিপ সহ শীতকালীন নানান ফুলের সমারোহ।

ফ্যান্টাসি কিংডম
রাজধানী ঢাকার অদুরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রায় ২০ একর জায়গা জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডম ( Fantasy Kingdom ) থিম পার্ক। সারা বিশ্বের জনপ্রিয় এবং আধুনিক সব রাইড দিয়ে সাজানো এই বিনোদন কেন্দ্রে আছে শান্তা মারিয়া, রোলার কোস্টার, ম্যাজিক কার্পেট, লেজি রিভার, লস্ট কিংডম, প্লে জোন, ওয়াটার ফল, ডুম স্লাইড, ড্যান্সিং জোন এবং ওয়াটার কিংডম।

মাতাই পুখিরি
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে মহালছরি উপজেলার নুনছড়িতে দেবতার আশীর্বাদস্বরূপ পাহাড়ের চূড়ায় প্রাকৃতিক হ্রদ মাতাই পুখিরি (Matai Pukhiri) অবস্থিত। মাতাই অর্থ দেবতা এবং পুখিরি অর্থ পুকুর। আর তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই হ্রদটি পর্যটকদের কাছে দেবতার পুকুর হিসেবে সুপরিচিত। মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালা মুখ থেকে এ হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০০ ফুট উচ্চতায় সাড়ে ৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত দেবতা পুকুরের দৈর্ঘ্য দেড় হাজার ফুট এবং প্রস্থ ছয়শ ফুট। পুকুরের চারদিকে আছে ঘন সবুজ অরণ্য ও সুবিন্যস্ত পর্বতশ্রেণি। দেবতার পুকুর হ্রদের পানি কখনো সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায় না এবং বর্ষাকালে এটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে।

ঘাগুটিয়ার পদ্মবিল
বাংলাদেশে একসময় অনেক জায়গাতেই পদ্মফুলের দেখা গেলেও দিন দিন তা কমে যাচ্ছে। এখানে ব্যতিক্রম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম ঘাগুটিয়ার পদ্মবিল। শত বছর ধরে ১২০ একর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অবস্থিত ঘাগুটিয়ার পদ্মবিলে ফুটে থাকে হাজার হাজার পদ্ম। যখন বিলে জুড়ে পদ্ম ফুটে তা দেখার জন্যে প্রতিবছর প্রকৃতিপ্রেমীরা দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসে।

মুপ্পোছড়া ঝর্ণা
মুপ্পোছড়া ঝর্ণা (Muppochora Jhorna) প্রস্থের দিক থেকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি ঝর্ণা। অনিন্দ্য সুন্দর মুপ্পোছড়া ঝর্ণা দেখতে হলে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বাঙ্গালকাটায় যেতে হবে। কাপ্তাই লেক পাড়ের এই উপজেলা সাথে সড়ক পথে কোন সংযোগ নেই। কাপ্তাই উপজেলা হতে শুধুমাত্র নৌ-পথে এই উপজেলায় যাওয়া যায়। দূর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ায় এখানে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড়ে আছে প্রচুর ঝর্ণা। চাকমা শব্দ বিলাই অর্থ বিড়াল এবং ছড়ি অর্থ পাহাড় হতে প্রাবাহিত ঝর্ণা। মুপ্পোছড়া ঝর্ণা বিলাইছড়িতে অবস্থিত বৃহত্তম ঝর্ণাগুলোর একটি। বিলাইছড়ি হতে শুধুমাত্র নৌপথে বাঙ্গালকাটাতে যাওয়া গেলেও বাঙ্গালকাটা হতে ট্রেকিং করে মুপ্পোছড়া ঝর্ণায় যেতে হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন লেক
পাহাড়ি বৈচিত্র্যের শহর বান্দরবান জেলার সর্বত্র রয়েছে সৌন্দর্যের ছোঁয়া। নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন পর্যটন লেক (Naikhongchhari Lake) এমনই এক সুন্দরতম স্থান। ১৯৯১ সালে বান্দরবান জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে ৬ একর জায়গা জুড়ে নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে এই উপবন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। চারদিক সবুজ অরণ্যে ঘেরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপবনে সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গের ঢালে সৃষ্ট দুইটি প্রাকৃতিক হ্রদের সৌন্দর্য সহজেই সকলের নজর কাড়ে। সারি সারি সবুজ গাছ, লেকের মাঝে অবস্থিত ঝুলন্ত ব্রিজ, বনের মাঝে গড়ে তোলা আকাশ বাড়ি, ছোট ছোট বিশ্রাম ঘর, ওয়াচ টাওয়ার এবং পাহারী সাজে মাচাং ঘর। উঁচুনিচু পাহাড়ি পিচঢালা পথ এই পর্যটন লেকের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

টুপামারী পুকুর
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শহরের একমাত্র পিকনিক স্পটের নাম টুপামারী পুকুর (Tupamari Dighi)। টুপামারী পুকুরকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে এই পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়েছে। কুড়িগ্রামের আশেপাশের জেলা থেকে শৌখিন মৎস্য শিকারিরা এই পুকুরে মৎস্য শিকারের জন্য এসে থাকেন। শীতকালে পুকুরের মনোরম পরিবেশে পিকনিক করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ঘুরতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

গাংচিল আইল্যান্ড
গাংচিল আইল্যান্ড (Gangchil Island) রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের বুকে কর্নফুলি ও মাইনি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পসাইট। এটি মুলত কাপ্তাই হ্রদের একটি দ্বীপ। চারপাশের সবুজ পাহাড়, কাপ্তাই লেকের শান্ত নীল জলরাশি ও নির্জনতাই এখানখার প্রধান আকর্ষণ। রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে নদী পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই নয়নাভিরাম গাংচিল আইল্যান্ড এর অবস্থান। এর কিছু দুরেই সীমান্তের ওপাড়ে রয়েছে ভারতের মিজোরাম। সম্প্রতি চালু হওয়া অফ বিট ক্যাম্পিং সাইট গাংচিল আইল্যান্ড কোলাহলের শহর ছেড়ে যারা নির্জনতায় কিছু সময় কাটাতে চায় তাদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। এখানে আসলে যে কেউ একদম প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে পারবে।

উয়ারী বটেশ্বর
উয়ারী বটেশ্বর বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার বেলাবো ও শিবপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এটি আড়াই হাজার বছরের পুরনো একটি সুসংগঠিত নগর সভ্যতা হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রাচীন দুর্গ, মুদ্রা ভাণ্ডার এবং বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে।

সুবর্ণগ্রাম অ্যামিউজমেন্ট পার্ক এন্ড রিসোর্ট
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতায় প্রকৃতিক সৌন্দর্য ও বিনোদনের সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রায় ১০০ একর জায়গা জুড়ে সুবর্ণগ্রাম অ্যামিউজমেন্ট পার্ক এন্ড রিসোর্ট (Suvarnagrama Amusement Park and Resorts) সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড, ওয়াটার পার্ক, রেস্টুরেন্ট, জুস বার, কফি শপ, লাক্সারী রিসোর্ট, কার পার্কিং এবং পিকনিক স্পট ছাড়াও এই পার্কে স্পিড বোটে চড়ে সমস্ত ওয়াটার পার্ক ঘোরে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

মাওয়া রিসোর্ট
রাজধানী ঢাকা শহর থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামে প্রকৃতির সংস্পর্শে মাওয়া রিসোর্ট (Mawa Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। নিরাপদ এবং নির্জন প্রকৃতির সৌন্দর্য্যে অনন্য মাওয়া রিসোর্টকে ভ্রমণের জন্য একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। মাওয়া ১নং ফেরিঘাট থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাওয়া-ভাগ্যকূল রাস্তার পাশে পদ্মার পাড়ে নির্মিত মাওয়া রিসোর্ট প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছে।

মায়াবিনী লেক
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ভাইবোনছড়ার কংচাইরি পাড়ায় মায়াবিনী লেক ( Mayabini Lake) অবস্থিত। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে মাত্র ৩০ মিনিট দূরত্বে হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা করার সুযোগ নেই। ৪০ একর উঁচু-নিচু পাহাড়ি জায়গায় ১৫ একর নিসর্গময় লেক নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই মায়াবিনী লেক পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ের নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্য, বিশাল আকাশ আর লেকের স্বচ্ছ শান্ত জল সহজেই মনকে নির্মল আনন্দে মাতিয়ে তোলে। মায়াবিনী লেকের মাঝখানে ছোট্ট সুন্দর দ্বীপে পর্যটকদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিশ্রামাগার। আর লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে নৌকার ব্যবস্থা।

তৈদুছড়া ঝর্ণা
খাগড়াছড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা উপজেলার বুনো জঙ্গলের মাঝে আঁকাবাঁকা পাহাড়ের ভাঁজ দিয়ে বয়ে চলছে নয়নাভিরাম তৈদুছড়া ঝর্ণা। ত্রিপুরা ভাষায় তৈদু মানে পানির দরজা এবং ছড়া মানে ঝর্ণা। ১০০ ফুট উচু ঝর্ণা মুখ থেকে বয়ে যাওয়া শীতল ও স্বচ্ছ পানির কলকল শব্দে মুখরিত হয়ে থাকে তৈদুপাড়া এলাকার চারপাশ। প্রাকৃতিক অসাধারন বিচিত্রের এই ঝর্ণা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে। ট্র্যাকিং প্রেমীরা দীঘিনালার দুর্গম গিরি পথ পাড়ি দিয়ে খাগড়াছড়ির বৃহত্তম এই ঝর্ণা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স বান্দরবান জেলার প্রবেশ পথে বান্দরবান-কেরাণীহাট সড়কের পাশে পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে মেঘলার দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। উঁচু নিচু পাহাড় পরিবেষ্টিত একটি কৃত্রিম লেককে ঘিরে সাজানো হয়েছে এই জায়গাটি। চারদিকের ঘন সবুজ, লেকের স্বচ্ছ পানি ও অপূর্ব প্রকৃতি পর্যটকদেরকে দূর্নিবার আকর্ষনে কাছে টানে। বৈচিত্র্য পিয়াসী মানুষ তাই আত্মিক ক্ষুধা মেটাতে মেঘলায় ছুটে আসে বারবার।

তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে ভারতের সীমান্তবর্তী মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো (Tetulia Dak Bungalow) অবস্থিত। ভিক্টোরিয়ান রীতিতে কুচবিহারের রাজা ভূমি থেকে প্রায় ১৫-২০মিটার উঁচু গড়ের উপর এই ডাক বাংলোটি নির্মাণ করেছিলেন। বর্ষাকালে তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো থেকে মহানন্দা নদীর অপূর্ব সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।