দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

বোটানিক্যাল গার্ডেন
জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (National Botanical Garden) বোটানিক্যাল গার্ডেন নামেই অধিক পরিচিত। মিরপুরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পাশেই বোটানিক্যাল গার্ডেনের অবস্থান। ২০৮ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত এই জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে প্রায় ৮০০ প্রজাতির বিভিন্ন বৃক্ষ রয়েছে। এই সব বৃক্ষরাজির মধ্যে রয়েছে নানান ধরনের ফুল, ফল, বনজ এবং ঔষধি গাছ। বোটানিক্যাল গার্ডেনে ফুলের বাগান ছাড়াও রয়েছে পুকুর, দীঘি ও ঘাসে ঢাকা সবুজ মাঠ।

দুর্গাসাগর দিঘী
দুর্গাসাগর দিঘী ( Durga Sagar ) বরিশাল শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে স্বরূপকাঠি – বরিশাল সড়কে মাধবপাশায় অবস্থিত। ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে তৎকালীন রাজা শিব নারায়ণ এলাকাবাসীর পানির সংকট নিরসনের জন্য মাধবপাশায় একটি বৃহৎ দীঘি খনন করে তাঁর মা দুর্গা দেবীর নামানুসারে দিঘীটির দুর্গাসাগর নামকরণ করেন। ঐতিহাসিক এই দিঘীটির জলাভূমির আয়তন ২৭ একর এবং পাড় ও জমি সহ মোট আয়তন ৪৫.৪২ একর। বর্তমানে জেলা প্রশাসন দুর্গাসাগর দিঘী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। দুর্গাসাগর দিঘীর তিন দিকে ৩টি ঘাটলা এবং দিঘীর মাঝখানে একটি টিলা বা ছোট দ্বীপ রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই দুর্গাসাগর মাধবপাশা দীঘি (Madhobpasha Dighi) নামেও ব্যাপক পরিচিত।

গ্রীনল্যান্ড পার্ক
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত সবুজে মোড়া দৃষ্টিনন্দন গ্রীনল্যান্ড পার্ক (Greenland Park) একটি জনপ্রিয় পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠা এই পার্কে বাঁশের তৈরী ঝুলন্ত সাকো, গোল চত্বর, লেক, নান্দ্যনিক রেস্টুরেন্ট ছাড়াও পিকনিক আয়োজনের সকল ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রীনল্যান্ড পার্কের লেকের জলে নৌকা দিয়ে ঘুরতে ও সাতার কাটতে পারবেন।

অঙ্গীকার ভাস্কর্য
চাঁদপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধা সড়কের পাশের লেকে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে অঙ্গীকার ভাস্কর্য (Ongikar Monument) নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের স্থপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ এটি নির্মাণ করেন। চাঁদপুরের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ হিসেবে খ্যাত ১৫ ফুট উচ্চতার অঙ্গীকার ভাস্কর্য তৈরিতে সিমেন্ট, পাথর এবং লোহা ব্যবহার করা হয়েছে।

সোনাইমুড়ি টেক
নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার বাগাঘ ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়ায় লালমাটির শহর সোনাইমুড়ি টেক (Sonaimuri Tek) অবস্থিত । লাল মাটির পাহাড়ি টিলা, সমতল ভূমির বসতবাড়ি, পাখির কল-কাকলী ও অপার সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ সোনাইমুড়ি বিনোদন পার্কে ছুটির দিনগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়।

এয়ারফোর্স বেসক্যাম্প
এয়ারফোর্স বেসক্যাম্প (Air Force Basecamp) ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় বিমান বাহিনী জাদুঘরের পাশে অবস্থিত। অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটি যাদের পছন্দ তাদের জন্যে ঢাকার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ এই বেসক্যাম্প।

আমিয়াখুম জলপ্রপাত
বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত একটি অসাধারণ জলপ্রপাতের নাম আমিয়াখুম (Amiakum Waterfall)। এটি বাংলাদেশের দুর্গম জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সবুজে মোড়া পাহাড় আর পাথরের বাধা পেরিয়ে দুধসাদা রঙের ফেনা ছড়িয়ে তুমুল বেগে নিচে নেমে আসছে শীতল পানির ধারা। লোকালয় থেকে অনেক দূরে বিশুদ্ধ প্রকৃর মাঝে জলের পতন আর প্রবাহের শব্দতরঙ্গের সুরের মূর্ছনা পর্যটকদের মোহাবিষ্ট করে তোলে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা আমিয়াখুম জলপ্রপাত অনেকের কাছে পেয়েছে বাংলার ভূস্বর্গ নামের সুখ্যাতি। ঝর্ণার রূপে মুগ্ধ হয়ে কেউ কেউ আবার একে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর জলপ্রপাত হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

অঙ্গনা রিসোর্ট
রাজধানী ঢাকার কাছে গাজীপুরের কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে অঙ্গনা রিসোর্ট (Angana Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০৪ সালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার ভাই সৈয়দ আলী মুরাদ ১৮ বিঘা জমিতে অঙ্গনা রিসোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন। নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততার বাইরে স্বস্তিতে একটি দিন কাটাতে গ্রামীণ পরিবেশের এই রিসোর্ট ইতিমধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।

আটকান্দি মসজিদ
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আটকান্দি গ্রামে মাওলানা আলিম উদ্দিন প্রায় ১৫০ বছর আগে ঐতিহাসিক আটকান্দি মসজিদ (Atkandi Nilkuthi Mosque) নির্মাণ করেন। কোন শিলালিপি না থাকায় মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুমান করা হয় আটকান্দি মসজিদটি ১৮৯০ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে আটকান্দি মসজিদটি নীলকুঠি মসজিদ নামে সুপরিচিত।

ফ্যান্টাসি কিংডম
রাজধানী ঢাকার অদুরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রায় ২০ একর জায়গা জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডম ( Fantasy Kingdom ) থিম পার্ক। সারা বিশ্বের জনপ্রিয় এবং আধুনিক সব রাইড দিয়ে সাজানো এই বিনোদন কেন্দ্রে আছে শান্তা মারিয়া, রোলার কোস্টার, ম্যাজিক কার্পেট, লেজি রিভার, লস্ট কিংডম, প্লে জোন, ওয়াটার ফল, ডুম স্লাইড, ড্যান্সিং জোন এবং ওয়াটার কিংডম।

নব শালবন বিহার
প্রাচীন সভ্যতায় সমৃদ্ধ কুমিল্লা জেলার ঐতিহাসিক স্থাপনায় নতুন এক সংযোজন কোটবাড়ি এলাকার নব শালবন বিহার (Nobo Shalbon Bihar) । প্রায় আড়াই একর জায়গার উপর ১৯৯৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নব শালবন বিহার ও বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট কালচারাল একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা হয়। শৈল্পিক এই বৌদ্ধ উপাসনালয় দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম “শান্তি বিহার” হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের উপহার হিসেবে পাওয়া ধাতব পদার্থে তৈরি প্রায় ৬ টন ওজনের ৩০ ফুট উচ্চতার বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপন করা হয় বিহারে।

শকুনি লেক
শকুনি লেক (Shokuni Lake) মাদারীপুর জেলার একটি পরিচয় বহনকারী ঐতিহাসিক নাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর শকুনি লেকের পরিবেশ সহজেই মনকে প্রশান্ত করে তোলে। কাগজপত্রে ‘শকুনি লেক’ নামে পরিচিত হলেও স্থানীয়দের কাছে এই লেক ‘মাদারীপুর লেক’ হিসেবে সুপরিচিত। কয়েকশ বছর পূর্বে জনৈক রাজা প্রজাদের পানির সংকট নিরসনের জন্য শকুনি লেক খনন করেন। যা বর্তমানে মাদারীপুরবাসীর কাছে বিনোদন কেন্দ্রের চাহিদা পূরণ করে চলেছে। এখানে আছে ওয়াচ টাওয়ার, কৃত্রিম ঝর্ণা, কফি শপ, রেস্টুরেন্ট এবং বিশ্রামের জন্য ছাউনি।

সুরেশ্বর দরবার শরীফ
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় সুরেশ্বর গ্রামে সুরেশ্বর দরবার শরীফ (Sureswar Darbar Sharif) অবস্থিত। পদ্মা পাড়ের এই জেলার সুরেশ্বর গ্রামে হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহঃ) জন্ম গ্রহণ করেন। অনেক ভক্তগণ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহঃ) কে “জানু বাবা” এবং “দয়াল বাবা” বলে ডাকেন।

ভূতিয়ার পদ্মবিল
খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলায় ভূতিয়ার পদ্মবিল (Bhutia Padma Beel) অবস্থিত। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই পদ্মবিল যেন এক স্বর্গ রাজ্য। হাজার হাজার পদ্ম ফোটে থাকে সমগ্র বিল জুড়ে। মোহনীয় এ দৃশ্য কর্মব্যস্ত নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ঘুচাতে কাজ করে ম্যাজিকের মত। ভূতিয়ার পদ্মবিল আবহমান গ্রাম বাংলার অপরূপ প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি, যা আগের মত আর সবখানে দেখা যায় না। সকাল ৬টা থেকে ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পদ্ম ফুল দেখতে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কারণ বেলা যতই বাড়তে থাকে পদ্মও ফুলের ততই পাপড়ি বুজে যেতে থাকে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস ভূতিয়ার পদ্মবিল ভ্রমণের সবচেয়ে আদর্শ সময়।

কাজির বাগ ইকো পার্ক
কাজির বাগ ইকো পার্ক (Kazir Bagh Eco Park) ফেনী জেলার সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নে অবস্থিত। ফেনী জেলা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে ফেনী-পরশুরাম সড়কের পাশে অবস্থিত এই পার্কটি প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। বিশেষ করে যারা যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেয়ে কিছুটা সময় সবুজের মাঝে কাটাতে চান, তাদের জন্য এই পার্কটি অনন্য।

টেংরাগিরি ইকোপার্ক
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে সোনাকাটা ইউনিয়নে সুন্দরবনের একাংশের বিশাল বনভূমি নিয়ে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য টেংরাগিরি ইকোপার্ক (Tengra Giri Eco Park) গড়ে তোলা হয়েছে। টেংরাগিরি ইকোপার্কের পাশে আরেকটি পর্যটন আকর্ষণ সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত অবস্থিত। ১৯৬০ সালের ১২ জুলাই সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণাকৃত এই বনাঞ্চলটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ফাতরার বন/পাথরঘাটার বন/হরিণঘাটার বন ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও ১৯৬৭ সালে বনাঞ্চলটিকে টেংরাগিরি বন হিসেবে নামকরণ করা হয়। সুন্দরবনের পর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, যা দিনে দুইবার জোয়ার ভাটায় প্লাবিত হয়। লবনাক্ত ও মিষ্টি মাটির অপূর্ব মিশ্রণের কারণে এই বনে রয়েছে বিলুপ্তি প্রজাতির অসংখ্য সারি সারি গাছ, পশু পাখি ও সরীসৃপ প্রাণী। টেংরাগিরির সবুজ ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, সৈকতের তটরেখায় লাল কাঁকড়াদের ছুটোছুটি, পাখির কলকাকলি ও শেষ বিকেলের দিগন্ত রেখায় সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য যেকোনো পর্যটকদের মুগ্ধ করার মতো। আর তাই তো নাগরিক কোলাহল এড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাগরের বিশালতার মাঝে হারিয়ে যেতে অনেকে ভ্রমণ পিপাসুরা দূর দূরান্ত থেকে এখানে ঘুরতে আসে।