দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

শেখ মাহমুদ শাহ মসজিদ
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে এক গম্বুজ বিশিষ্ট প্রাচীন শেখ মাহমুদ শাহ্ মসজিদ (Sheikh Mahmud Shah Mosque) অবস্থিত। ১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে এগারসিন্ধুরের তৎকালীন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী শাহ্ মাহমুদ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির মূল নাম শাহ্ মাহমুদ মসজিদ হলেও ইউনেস্কো মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে শাহ্ মোহাম্মদ মসজিদ নামে লিপিবদ্ধ করে।

শের আলী গাজীর মাজার
শেরপুর জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে গাজীর খামারের কাছে গাজীর দরগা হিসেবে পরিচিত শের আলী গাজীর মাজার (Sher Ali Gaji Majar) অবস্থিত। শের আলী গাজী ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে শেরপুর পরগনার শেষ মুসলিম জমিদার। তিনি দীর্ঘ ২১ বছর শাসনকার্য পরিচালনা করেন। তাঁর নামানুসারে শেরপুর জেলার নামকরণ করা হয়। মৃত্যুর পর শের আলী গাজীকে খামারের গীদদাপাড়া ফকির বাড়িতে সমাহিত করা হয়। এ স্থানটিই শের আলী গাজীর মাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

শিমুল বাগান
শিমুল বাগান (Shimul Bagan) সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর নিকটবর্তী মানিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১০০ বিঘা জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা এই শিমুল বাগানে আছে প্রায় ৩ হাজার শিমুল গাছ। ২০০৩ সালের দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন এই বাগান শুরু করেন। তাঁর নাম অনুসারেই এই জায়গার নাম জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান।

সোহাগ পল্লী
কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সোহাগ পল্লী রিসোর্ট ( Shohagh Polli Resort ) বাংলাদেশের সেরা একটি স্থান। গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে কালামপুর গ্রামে প্রায় ১১ একর জায়গার জায়গা জুড়ে কোলাহল মুক্ত পরিবেশে সবুজের আলিঙ্গনে গড়ে তোলা হয়েছে সোহাগ পল্লী। সোহাগ পল্লীতে নির্মিত ঝুলন্ত সাঁকোর পিলার এবং বেলকনিতে খোঁদাই করা কারুকাজ এখানে আগত অতিথিদের আকর্ষণ করে। এখানে রয়েছে কৃত্রিমভাবে নির্মিত লেক, যেখানে সারা বছরই পানি থাকে আর সেই পানিতে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সোহাগ পল্লীতে আবাসনের জন্য রয়েছে বেশকিছু উন্নতমানের কটেজ। আর কটেজের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া লেক যেন ইতালির ভেনিসের কোন সাজানো গ্রামের প্রতিচ্ছবি।

ষোলআনী সৈকত
ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানায় মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষা ষোলআনী প্রজেক্ট বর্তমানে ষোলআনী সৈকত (Sholoani Saikat) নামে পরিচিত। এই স্থানটি আগে দৌলতপুর নামে পরিচিত ছিল। নদী ভাঙ্গন রোধ করতে মেঘনা নদীর পাড়ে সিসি ব্লক দিয়ে বাধ নির্মাণের ফলে এই স্থানটির সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায় এবং তা প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। ঢাকা থেকে দূরত্ব কম হওয়ার কারণে বাইকারদের কাছে এই স্থান অতি অল্প সময়ে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

শংকর মঠ
বরিশাল জেলা শহরের নতুন বাজার এলাকায় শংকর মঠের (ShreeShree Shangkar Moth) অবস্থান। ১৮৮৪ সালের ১২ আগস্ট গলাচিপায় জন্মগ্রহণকারী বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের নেতা স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ সরস্বতী ১৯১২ সালে শ্রী শ্রী শংকর মঠ নামের এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ সরস্বতীর আসল নাম সতীশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়। আশ্রম স্থাপনের পরও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে স্বামী প্রজ্ঞানানন্দের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। এমনকি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শংকর মঠ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল হিসাবে সর্বদা উন্মুক্ত ছিল।

শুভলং ঝর্ণা
রাঙ্গামাটি সদর হতে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে শুভলং বাজারের পাশেই শুভলং ঝর্ণার অবস্থান। বাংলাদেশের অন্য সকল ঝর্ণার মত শুভলং ঝর্ণাতেও শুকনো মৌসুমে পানি খুব কম থাকে। বর্ষা মৌসুমে প্রায় ১৪০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে বিপুল জলধারা কাপ্তাই লেকে আছড়ে পড়ে। এছাড়া শুভলং ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার পথের সৌন্দর্য্য আপনাকে আবেগময় করে তুলতে পারে। দুই পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া লেক দেখে থাইল্যান্ড বলে ভ্রম হতে পারে!

সহস্রধারা ঝর্ণা
পার্বত্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় চন্দ্রনাথ রির্জাভ ফরেস্টের চিরসবুজ বনাঞ্চলের গড়ে তোলা হয়েছে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক। আর এই সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের শোভাবর্ধনকারী অনন্য এক প্রাকৃতিক নিদর্শনের নাম সহস্রধারা ঝর্ণা (Sohosrodhara Waterfall)। সারা বছর এই ঝর্ণায় অনেক কম পানি থাকলেও বর্ষাকালে সহস্রধারা ঝর্ণার পূর্ণরূপের দেখা মিলে। সহস্রধারা ঝর্ণার খুব কাছেই আছে সুপ্তধারা ঝর্ণা নামে আরো একটি জলপ্রপাত। তাই বর্ষায় এই ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী এসে ভীড় করেন সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে।

সোমেশ্বরী নদী, দুর্গাপুর
সোমেশ্বরী নদী (Someshwari River) ও তার সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে যেতে হবে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায়। ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের সীমসাংগ্রী নামক স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে সোমেশ্বরী নদীটি দুর্গাপুরে প্রবেশ করেছে। লোকমুখে প্রচলিত অনেককাল আগে সোমেশ্বর পাঠক নামে এক ব্যক্তির দ্বারা এ অঞ্চল দখল হয়ে যায়, পরবর্তীতে তার নামানুসারেই নদীটি সোমেশ্বরী নদী হিসাবে পরিচিতি পায়। বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময় সোমেশ্বরী নদী একেক রকম সৌন্দর্য মেলে ধরে। শীতকালে পানি কমে গেলেও সদা স্বচ্ছ জলের সোমেশ্বরী নদী বর্ষায় যেন যৌবন ফিরে পায়। বর্তমানে কয়লা খনি হিসেবে অধিক পরিচিত হলেও সোমেশ্বরী নদী সৌন্দর্য্যে একটুও ভাটা পরেনি।

সোনারচর
পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত নয়ানাভিরাম একটি সমুদ্র সৈকতের নাম সোনারচর (Sonarchar)। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা থেকে সোনারচরের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। সাগরের মাঝে অবস্থিত সোনারচর দ্বীপের দুর্গম ও বিপদসঙ্কুল যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন সৌন্দর্য পাগল পর্যটকদের অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে। তাই অনেকেই প্রকৃতির রূপ দেখতে ছুটে যান সোনারচরে। চঞ্চল সাগরের ঢেউ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ এবং জীববৈচিত্রপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পর্যটকদের মোহিত করে আপন মহিমায়।

সোনারং জোড়া মঠ
মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং গ্রামে রয়েছে বাংলাদেশের অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রাচীন এক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সোনারং জোড়া মঠ (Sonarong Jora Moth)। মঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও এটি মূলত একটি জোড়া মন্দির। মন্দিরের প্রস্থরলিপি অনুসারে, রুপচন্দ্র নামের এক হিন্দু বণিক ১৮৪৩ সালে বড় কালীমন্দির ও ১৮৮৬ সালে ছোট শিবমন্দিরটি নির্মাণ করেন এবং ১৮৩৬ সালে শম্ভুনাথ নামের এক ব্যাক্তি এই মঠ স্থাপন করেন। কথিত আছে, এই মন্দিরেই শ্রী রুপচন্দ্রের শেষকৃত্য সম্পন হয়েছিল। প্রায় ২৪৬ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট অষ্টভুজাকৃতি সোনারং জোড়া মঠ ভারত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ মঠ হিসাবে খ্যাত। চুন সুরকি নির্মিত পুরো দেয়াল বিশিষ্ট এই মঠের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ২১ ফুট এবং বড় মন্দিরের উচ্চতা ১৫ মিটার। মন্দিরের গোলাকার গম্বুজাকৃতি ছাদের শিখরে রয়েছে একটি ত্রিশূল। আর প্রত্যেক মূল উপাসনালয় ঘরের সাথে আছে একটি করে বারান্দা।

শঙ্খনিধি হাউস
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঐতিহ্যবাহী ৩২টি ভবনের মধ্যে অন্যতম, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৯৩টি ঐতিহাসিক নান্দনিক ভবনের তালিকাভুক্তি পুরান ঢাকার টিপু সুলতান রোডে অবস্থিত শতবর্ষী পুরাতন একটি ভবনের নাম শঙ্খনিধি হাউস (Songkhonidhi House)। বিংশ শতকের শুরুতে লালমোহন সাহা, ভজহরি সাহা ও গৌর নিতাই সাহা নামের বণিক ভ্রাতৃত্রয় ব্যবসায় ব্যপক উন্নতির ফলে বণিক উপাধি বর্জন করে শঙ্খনিধি অর্থাৎ শঙ্খের বাহক উপাধি গ্রহণ করেন। ১৯২০-১৯২৬ সালে তাঁরা পুরান ঢাকার টিপু সুলতান রোড থেকে ওয়ারীর র্যাঙ্কিন স্ট্রিটের বিভিন্ন জায়গায় বেশকিছু ভবন নির্মাণ করেন। তিন ভাইয়ের একজন লালমোহন সাহা ১৯২১ সালে শঙ্খনিধি হাউস নির্মাণ করেন।

সাউথ টাউন জামে মসজিদ
রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের সাউথ টাউন আবাসিক প্রকল্পে সাউথ টাউন জামে মসজিদ (South Town Jame Masjid) অবস্থিত। নজরকারা স্থাপত্যশৈলী ও বৈচিত্র্যময় নির্মাণ মসজিদকে দিয়েছে বাড়তি স্বতন্ত্রতা। মসজিদ মূলত প্রাথর্নার স্থান হলেও নির্মাণশৈলীর নান্দ্যনিকতায় সৌন্দর্য প্রেমী মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে সাউথ টাউন জামে মসজিদ। তাই সহজেই দেশজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে এই মসজিদের বার্তা। ফলে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসেন।

চা জাদুঘর
চা বাগানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে টি বোর্ডের উদ্যোগে ২০০৯ সালে চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা রিসোর্ট ও জাদুঘর (Sreemongol Tea Resort And Museum) প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশের চা শিল্পের প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন ইতিহাস এবং চা চাষ সম্পর্কিত সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চা গবেষণা কেন্দ্রের কাছে চারটি কক্ষে ৪৪ টির অধিক সংগ্রহ ও স্মারকের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে এই চা জাদুঘরকে। চা জাদুঘরের পাশে মনোমুগ্ধকর টি রিসোর্টের অবস্থান। মূলত পুরানো একটি বৃটিশ বাংলোকে আধুনিক রিসোর্টের রূপ দেয়া হয়েছে।

সেইন্ট নিকোলাস চার্চ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান সেইন্ট নিকোলাস চার্চ (St. Nicolas church) অবস্থিত। ১৯৬৩ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নির্মিত এই ঐতিহাসিক চার্চ বাংলাদেশের বৃহত্তম খ্রিষ্টান মিশনারীয় চার্চের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। সেইন্ট নিকোলাস চার্চ হতে কালীগঞ্জের আঞ্চলিক বাংলা ভাষায় প্রথম দ্বিভাষীয় বাইবেল অনুদিত হয়। এমনকি প্রথম দ্বিভাষিক অভিধান ও গদ্য বই প্রকাশিত হয় এই চার্চ থেকেই।

তারা মসজিদ
তারা মসজিদ ( Star Mosque ) পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত। মসজিদের গায়ে কোন শিলালিপি না থাকায় মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয় ১৮ শতকের শুরুর দিকে তৎকালীন ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর তারা মসজিদ নির্মাণ করেন। মোঘল স্থাপত্য কৌশলে নির্মিত মসজিদটি অনেকের কাছে সিতারা মসজিদ বা মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ নামে পরিচিত।