দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

লাউচাপড়া পিকনিক স্পট
লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র বা লাউচাপড়া পিকনিক স্পট ( Lauchapra Picnic Spot ) বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত ঘেষা জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের পশরা সাজিয়ে থাকা লাউচাপড়ার পাহাড়, অরণ্য, লেক এবং আদিবাসীদের স্বতন্ত্র জীবনধারা দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য জামালপুর জেলা পরিষদ ১৯৯৬ সালে গারো পাহাড়ে ২৬ একর জায়গা জুড়ে ‘নিকা’ পিকনিক স্পট নির্মাণ করে। পিকনিট স্পটের প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর আরও ৬০ ফুট উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। এই ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে সারি সারি সবুজ পাহাড়, মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আর লাউচাপড়া পিকনিক স্পটে শিশুদের জন্য রয়েছে দোলনা, স্লিপার সহ বেশকিছু রাইড এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। পার্কে প্রবেশ করতে দশ টাকা দিয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়।

মধুসূদন দত্তের বাড়ি মধুপল্লী
যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়িতে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, মধুসূদন জাদুঘর, লাইব্রেরি এবং সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করে মধুপল্লী (Modhupolli) নামকরণ করা হয়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রপিতামহ রাম কিশোর দত্ত খুলনা জেলার গোপালপুর গ্র্রামের বাস করতেন। পরবর্তীতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের পিতামহ রামনিধি দত্ত যশোরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে স্থানান্তরিত হয়ে জমিদারি ক্রয় করে দেবালয় স্থাপন করেন।

তোহাখানা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী মুঘল তোহাখানা (Mughal Tahakhana) বা তোহাখানা কমপ্লেক্সের অবস্থান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে তোহাখানার দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। ফার্সি শব্দ তোহাখানার অর্থ ঠান্ডা ভবন বা প্রাসাদ। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পু্ত্র সুলতান শাহ সুজা তাঁর মুর্শিদ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহর শীতকালীন বসবাসের সুবিধার্থে ফিরোজপুরে তাপনিয়ন্ত্রিত ৩ তলা বিশিষ্ট এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র মতে, ১৬৩৯-১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে এই তোহাখানাটি নির্মিত হয়।

মুসা খান মসজিদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের কাছে বাংলার বারো ভুঁইয়াদের স্মৃতি বিজড়িত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট প্রাচীন এক মসজিদের নাম মুসা খান মসজিদ (Musa Khan Masjid)। সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে নির্মিত মসজিদটির নাম ঈশা খা’র পুত্র মুসা খানের নামনুসারে রাখা হলেও মুসা খানের পুত্র মাসুম খান কতৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। মুসা খান মসজিদের কাছে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে মুসা খান।

পাথারিয়া পাহাড়
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত পাথারিয়া পাহাড় স্থানীয়দের কাছে আদম আইল হিসেবে পরিচিত। বড়লেখা থেকে ভারতের পূর্ব সীমান্তবর্তী খাসিয়া-জয়ন্তীয়া উচ্চভূমির আসাম অংশের ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পাথারিয়া পাহাড়ি অঞ্চলের বিস্তৃতি। প্রায় ১০০০ বছর আগে এই অঞ্চলটি গভীর অরণ্যে পূর্ণ ছিল। সেসময় পাথরি নামক নাগা জনগোষ্ঠীর একটি উপশাখার অধিবাসীরা এখানে বসবাস করতো। এই জনগোষ্ঠীর সাথে মিল রেখে এই অরণ্য অঞ্চলের নামকরণ করা হয় পাথরিয়া।

রবি ঠাকুরের কুঠিবাড়ী
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় পতিসর গ্রামে নাগর নদীর তীরে অবস্থিত রবি ঠাকুরের কুঠিবাড়ী (Rabindra Kachari Bari) বাংলাদেশের একটি অন্যতম সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। নওগাঁ শহর থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৩৬ কিলোমিটার। ১৮৩০ সালে রবি ঠাকুরের পিতামহ ও জোড়াঠাকুর পরিবারের অন্যতম সদস্য দ্বারকানাথ ঠাকুর এই অঞ্চলে আগমন করেন। পরবর্তীতে ১৮৯১ সালে সর্বপ্রথম কালিগ্রাম পরগনার জমিদারী দেখাশোনা করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসরে আসেন। প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত পতিসর রবি ঠাকুরের কুঠিবাড়ীর সামনে সিংহ দুয়ার, প্রশস্থ আঙ্গিনা, দোতালা কুঠিবাড়ি এবং কুঠিবাড়িকে ঘিরে থাকা বেশকিছু ভবনের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। নান্দনিক প্রবেশ পথ দিয়ে সামনে আগালেই মূল ভবনের সামনে নজরে পড়ে কংক্রিটের তৈরী রবি ঠাকুরের একটি আবক্ষ মূর্তি ও মার্বেল পাথরে খোদিত রবীন্দ্র রচনার কিছু কথা। রবীন্দ্র কাচারি বাড়ির ভিতরে বিভিন্ন সংরক্ষিত নিদর্শনের মধ্যে আছে কবির ব্যবহৃত বিভিন্ন তৈজসপত্র, কবির স্বহস্তে লিখিত চিঠি, কবির বিভিন্ন বয়সের ছবি ও আসবাপত্র প্রভৃতি। এছাড়া কুঠিবাড়ির সামনে আছে রবীন্দ্র সরোবর, দীঘি ও কালিগ্রাম রবীন্দ্রনাথ ইন্সটিটিউট।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা
পদ্মার তীর ঘেঁষা এক সময়ের রেসকোর্স ময়দানের ৩২.৭৬ একর জায়গা জুড়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়েছে। রাজশাহী শহর থেকে চিড়িয়াখানার দূরত্ব মাত্র ৪.২ কিলোমিটার। ১৯৭২ সালে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জাম সড়কের কাছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানার নির্মাণ কাজ শুরু হলে ১৯৭৪-৭৬ সালে রাজস্ব বিভাগের অনুমতিক্রমে এখানে চিড়িয়াখানার পাশাপাশি একটি শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানাটি শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা (Shaheed A.H.M. Kamruzzaman Central Park & Zoo) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

রোজ গার্ডেন প্যালেস
রোজ গার্ডেন প্যালেস ( Rose Garden Palace ) যা রোজ গার্ডেন হিসেবে পরিচিত, বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটির অবস্থান রাজধানী ঢাকা শহরের পুরান ঢাকার টিকাটুলিতে। ১৯ শতকে হৃষিকেস দাস নামের ধনী ব্যবসায়ী বিনোদনের জন্য রোজ গার্ডেন প্যালেসটি নির্মাণ করেন। এই প্রাচীন ভবনটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসাবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত।

সারিঘাট
ঢাকা শহরের যান্ত্রিক কোলাহল থেকে দূরে, অপরূপ প্রকৃতির মাঝে একটি শান্ত বিকেল কাটাতে চাইলে বন্ধুবান্ধব বা পরিবার নিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারেন কেরানীগঞ্জের সারিঘাট (Sarighat) থেকে। ঢাকার দক্ষিণ প্রান্তে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর অববাহিকায়, হাসনাবাদের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রজেক্টের ঠিক পেছনে এই দর্শনীয় স্থানটির অবস্থান। আইন্তা ও আড়াকুল এই দুই গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খালের পাড় ধরে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রোপণ করা হয়েছে সারি সারি করই গাছ। ছায়া সুনিবিড় এই করই গাছের চমৎকার সারির কারণেই স্থানটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ‘সারিঘাট’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

সাতগ্রাম জমিদার বাড়ি
নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রামে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক সাতগ্রাম জমিদার বাড়ি (Satgram Zamindar Bari) অবস্থিত। এই জমিদার বাড়ী থেকেই জমিদাররা অত্র এলাকার শাসন কাজ পরিচালনা করতেন। সাতগ্রামের জমিদারেরা খুবই অত্যাচারী ছিলেন। তারা প্রজাদের খাজনার বিনিময়ে যে জমি বরাদ্দ দিতেন সেগুলোর খাজনা পরিশোধ না করতে পারলে প্রজাদের উপর নির্মম অত্যাচার করা হত। আর তাই অত্যাচারী জমিদারের নানা কাহিনী জড়িয়ে আছে সাতগ্রাম জমিদার বাড়ির প্রতিটি গাঁথুনিতে।

সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি
বরিশালের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ঝালকাঠি থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে রাজাপুর উপজেলায় বাংলার বাঘ হিসেবে পরিচিত এ কে এম ফজলুল হকের জন্মস্থান সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি অবস্থিত। ১৭শ শতকে ফজলুল হকের মাতামহ শেখ শাহাবুদ্দিন সাতুরিয়ায় ১০০ একর জায়গার উপর এই জমিদার বাড়ী প্রতিষ্ঠা করেন। মুঘল স্থাপত্যে নির্মাণ করা জমিদার বাড়ীর কমপাউন্ডটি ৩টি ভবনের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। কমপাউন্ডে প্রবেশের জন্য রয়েছে কারুকার্য খচিত প্রধান ফটক। মূল বাড়ির ভিতরে ফুলের বাগান, পুকুর ও কারুকার্যখচিত মুঘল আমলের ভবনগুলো বাড়ীর সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।

শাহ জামালের মাজার
জামালপুর জেলা সদরের ব্রহ্মপুত্র নদী তীরে চাপাতলি ঘাটের কাছে অত্র অঞ্চলের বিখ্যাত সাধক পুরুষ পীর শাহ জামালের মাজার শরীফ (Shah Jamaler Mazar) অবস্থিত। ১৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে হযরত শাহ জামাল (রহঃ) ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য ইয়েমেন থেকে এই অঞ্চলে আগমণ করেন। সুফি দরবেশ পীরে কামেল হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এর আধ্যাত্মিক ক্ষমতার কথা মুঘল দরবার পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। তখন বাদশা আকবর হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এর খানকা শরীফের সমস্ত ব্যয় বহন করার আগ্রহ পোষণ করেন। সেই সাথে হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এর কাছে কয়েকটি পরগনা দানের সনদ পাঠান। কিন্তু হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এই লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাণ করেন। হযরত শাহ জামাল (রহঃ)-এর কারণে এ অঞ্চল জামালপুর নামে পরিচিতি লাভ করে।

শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়া
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে ভাউলারহাটের কাছে ঐতিহাসিক শালবাড়ি মসজিদ (Shalbari Mosque) অবস্থিত। শালবাড়ি মসজিদের থেকে প্রাপ্ত শিলালিপির তথ্যানুসারে, ১২১৫ বঙ্গাব্দে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে সংস্কারের ফলে মসজিদটির মূল নকশায় বিপুল পরিবর্তন সাধিত হয়। শালবাড়ি মসজিদ থেকে কিছুটা দূরে ভগ্নাবস্থায় একটি ইমামবাড়া (Imambara) রয়েছে। শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়া এ দুটি স্থাপনাকে সমসাময়িক বলে ধারণা করা হয়। ইমামবাড়ার বাইরের অংশের দৈর্ঘ্য ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১৩ ফুট। এছাড়া পূর্ব ও পশ্চিম দিকের দেয়ালে ২টি করে ৪টি এবং উত্তর ও দক্ষিণে ১ করে ২টি দরজা রয়েছে। ইমামবাড়াতে বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

শঙ্খনিধি হাউস
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঐতিহ্যবাহী ৩২টি ভবনের মধ্যে অন্যতম, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৯৩টি ঐতিহাসিক নান্দনিক ভবনের তালিকাভুক্তি পুরান ঢাকার টিপু সুলতান রোডে অবস্থিত শতবর্ষী পুরাতন একটি ভবনের নাম শঙ্খনিধি হাউস (Songkhonidhi House)। বিংশ শতকের শুরুতে লালমোহন সাহা, ভজহরি সাহা ও গৌর নিতাই সাহা নামের বণিক ভ্রাতৃত্রয় ব্যবসায় ব্যপক উন্নতির ফলে বণিক উপাধি বর্জন করে শঙ্খনিধি অর্থাৎ শঙ্খের বাহক উপাধি গ্রহণ করেন। ১৯২০-১৯২৬ সালে তাঁরা পুরান ঢাকার টিপু সুলতান রোড থেকে ওয়ারীর র্যাঙ্কিন স্ট্রিটের বিভিন্ন জায়গায় বেশকিছু ভবন নির্মাণ করেন। তিন ভাইয়ের একজন লালমোহন সাহা ১৯২১ সালে শঙ্খনিধি হাউস নির্মাণ করেন।

সেইন্ট নিকোলাস চার্চ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান সেইন্ট নিকোলাস চার্চ (St. Nicolas church) অবস্থিত। ১৯৬৩ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নির্মিত এই ঐতিহাসিক চার্চ বাংলাদেশের বৃহত্তম খ্রিষ্টান মিশনারীয় চার্চের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। সেইন্ট নিকোলাস চার্চ হতে কালীগঞ্জের আঞ্চলিক বাংলা ভাষায় প্রথম দ্বিভাষীয় বাইবেল অনুদিত হয়। এমনকি প্রথম দ্বিভাষিক অভিধান ও গদ্য বই প্রকাশিত হয় এই চার্চ থেকেই।

তাজহাট জমিদার বাড়ি
তাজহাট জমিদার বাড়ি ( Tajhat Palace ) দেখতে হলে রংপুর বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে মাহিগঞ্জের তাজহাট গ্রামে যেতে হবে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে রত্ন ব্যবসায়ী মান্নালাল ব্যবসায়িক কারণে মাহিগঞ্জে এসে বসবাস এবং পরবর্তীতে তাজহাট জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা করেন। জমিদার মান্নালাল মারা যাবার পর তাঁর দত্তক পুত্র গোপাল লাল রায় বাহাদুর জমিদারি পরিচালনা শুরু করেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রায় ২০০০ রাজমিস্ত্রির নিরলস পরিশ্রমে বর্তমান তাজহাট জমিদার বাড়ি পূর্ণতা লাভ করে। ১৯১৭ সালে সম্পূর্ণ হওয়া এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করতে তৎকালীন সময়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হয়।