দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

মানকালীর কুণ্ড
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার এক অন্যতম নিদর্শন মানকালীর কুণ্ড (Mankali’s Kund) । ষাটের দশকের শুরুর দিকে তৎকালীন পাকিস্থান প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মহাস্থানগড়ের উঁচু ঢিলার উপর বিদ্যমান এই নিদর্শনকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে নথিভুক্ত করে।

মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ
কড়াপুর মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ (Mia Bari Mosque) বরিশাল জেলার সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৮০০ শতকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। মূল মসজিদটি উঁচু একটি আয়াতকার বেসমেন্টের উপর নির্মাণ করা হয়েছে। আর নীচের বেসমেন্টের কক্ষগুলো বর্তমানে মাদ্রাসার ছাত্রদের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া গ্রামে একসময়ের জনপ্রিয় উপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা (Mir Mosharraf Hossain Bastubita) অবস্থিত। মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জমিদার মীর মোয়াজ্জেম হোসেন কতৃক নিজ গৃহে নিয়োজিত মুন্সির দ্বারা আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে পড়াশুনার হাতেখড়ি হয়। এরপর কুষ্টিয়া স্কুল, কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল, কলকাতার কালীঘাট স্কুলে পড়াশুনার মাধ্যমে তাঁর শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

মিয়াওয়াকি বন
মিয়াওয়াকি বন (Miyawaki Forest) চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে এবং মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায় কৃত্রিমভাবে তৈরি এক চিলতে সবুজ অরণ্য। জাপানি উদ্ভিদবিজ্ঞানী আকিরা মিয়াওয়াকির (Akira Miyawaki) পদ্ধতিতে তৈরি এই বনগুলো নাগরিক ব্যস্ততার মাঝে সজীব নিশ্বাস। অল্প জায়গায় স্বল্প সময়ে জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার এই মডলেটি এখন পর্যটক এবং পরিবেশপ্রেমীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।

মহিষারের দিগম্বরী দীঘি
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ৬০০ বছরের পুরনো মহিষারের দিগম্বরী দীঘি (Mohisar Digumbori Dighi) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মোঘল আমলের স্বাধীন ১২ ভূঁইয়ার এক ভূঁইয়া বিক্রমপুর পরগনার জমিদার রাজা চাঁদ রায় দিগম্বরীর সন্ন্যাসীদের অনুরোধে ১০ একর জায়গার উপর এই দীঘি খনন করেন। মহিষারের দিগম্বরী দীঘির চারপাশে ইতিহাসের অমর সাক্ষী দিগম্বরী সন্ন্যাসী বাড়ি, মেলা চত্বর, জোড়া পুকুর, মনসা মন্দির, কালি মন্দির চত্বর ও লক্ষ্মী মন্দিরসহ অসংখ্য স্থাপনা ঘিরে রয়েছে। ১৯৮২ সালে দীঘিটি পুনঃখননের সময় ৪২ কেজি ওজনের কষ্টি মূর্তিসহ বেশকিছু দুর্লভ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়।

মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদ
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার উত্তরে বুড়িরচর গ্রামের আকন বাড়িতে কাঠের কারুকার্যমণ্ডিত মমিন মসজিদ (Momin Masjid) অন্যতম এক স্থাপত্য নিদর্শন। বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন মসজিদগুলোর মধ্যে শতবর্ষের প্রাচীন মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদের অবস্থান ২৩তম এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের তৈরি মুসলিম স্থাপত্যশিল্প। ১৯১৩ সালে মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন তৎকালীন বরিশাল জেলার স্বরূপকাঠি থেকে নিয়ে আসা ২১ জন কারিগরের সাহায্যে নিজ বাড়িতে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। দুষ্প্রাপ্য লোহাকাঠ ও বার্মা সেগুন কাঠের ওপর প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে মমিন মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের কাঠের দেয়ালে অপূর্ব নান্দ্যনিকতায় ইসলামিক সংস্কৃতি, ক্যালিগ্রাফি, বিভিন্ন ফুল, পাতা ও ফলের আকর্ষণীয় নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ৭ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ১৯২০ সালে ইন্দো-পারসিক আর ইউরোপীয় স্থাপত্যের মিশ্রণে তৈরি মমিন মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। বরিশালের রহমতগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহন করা বাংলার এই বীর সন্তান ১৯৭১ সালে মহানন্দা নদীর কাছে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করাকালীন প্রতিপক্ষ শত্রুর বুলেটের আঘাতে শহীদ হন। ঢাকা সেনানিবাসের প্রধান ফটক জাহাঙ্গীর গেইটের নামকরন করা হয়েছে মহান এই বীরশ্রেষ্ঠের সম্মানে।

মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর উপজেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূতিকাগার মুজিবনগরে সৃষ্টি এই ইতিহাসকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে দিতে শপথ গ্রহণের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স (Mujibnagar Complex Museum) ।

মোকনা জমিদার বাড়ি
নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মোকনা জমিদার বাড়ি (Munkona Zamidar Bari) টাঙ্গাইল জেলার প্রাচীন জমিদার বাড়ীগুলোর মধ্যে অন্যতম এক দর্শনীয় স্থান। দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট মোকনা জমিদার বাড়িটি ফুল লতা-পাতার বিভিন্ন কারুকার্যে সুসজ্জিত। কালের বিবর্তনে জমিদার বাড়ির আদিম সৌন্দর্য ও কারুকার্যময় নকশা বিলীন হয়ে গেলেও নাগরপুরের তৎকালীন জমিদারিত্বের প্রতীক হিসেবে শত বছরের পুরনো এই জমিদার বাড়িটি আজো টিকে আছে।

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি
এককালের দাপুটে জমিদারদের বসবাসের বাড়িগুলোই বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসাবে খুঁজে পাওয়া যায়। কালের বিবর্তনে টিকে থাকা তেমনি এক শতবর্ষী জমিদার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি (Murapara Jamidar Bari) বা মঠেরঘাট জমিদার বাড়ি। যা বর্তমানে টিকে থাকা জমিদার বাড়িগুলোর মধ্যে বেশ আকর্ষণীয়। ডে আউটিং বা দিনে ঘুরতে গিয়ে দিনেই ফিরে আসবার জন্য মুড়াপাড়া হতে পারে আদর্শ নির্বাচন।

নন্দন পার্ক
নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততার ভীড়ে অল্প সময়ের অবসরে চিত্তবিনোদনের সুযোগ তৈরি করার উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা হাইওয়ের বাড়ইপাড়া এলাকায় নন্দন পার্ক (Nandan Park) গড়ে তোলা হয়। সবুজে ঢাকা প্রায় ৩৩ একর আয়তনের এই পার্কের রয়েছে নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন দেশি বিদেশি রাইড, ফাইভ-ডি মুভি থিয়েটার, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট এবং সুপরিসর কার পার্কিং সুবিধা।

নয়াবাদ মসজিদ
দিনাজপুর জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে কাহারোল উপজেলার নয়াবাদ গ্রামে ১.১৫ বিঘা জমির উপর নয়াবাদ মসজিদ (Nayabad Mosque) নির্মাণ করা হয়েছে। নয়াবাদ মসজিদের দেয়ালে প্রাপ্ত ফলকের তথ্য মতে, ১৭৯৩ সালে সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের রাজত্ব কালে এই মসজিদটি তৈরী করা হয়। তৎকালীন সময়ে রাজা বৈদ্যনাথ ছিলেন দিনাজপুর রাজ পরিবারের সর্বশেষ বংশধর। স্থানীয়দের মতে, ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে কান্তনগর মন্দির তৈরীতে আগত মুসলমান স্থপতি ও শ্রমিকদের মাধ্যমে নয়াবাদ মসজিদটি নির্মিত হয়।

নীল দিগন্ত
নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবান জেলা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে থানচি উপজেলার জীবন নগর এলাকায় অবস্থিত। প্রায় সাড়ে ৩ একর জায়গা নিয়ে পাহাড়চূড়ায় গড়ে উঠা পর্যটন কেন্দ্র থেকে হাত বাড়িয়ে মেঘ ছোঁয়ার অপার্থিব আনন্দ উপভোগ করা যায়। সারি সারি সবুজ পাহাড়ের সাথে সাদা মেঘের খেলা নীল দিগন্তকে করেছে মোহনীয়।

নেভারল্যান্ড
রাজধানী ঢাকার মিরপুর ১-এর চটবাড়ী এলাকায় আশুলিয়া বেড়িবাঁধ সড়কে প্রায় ১২ একর জমির উপর দৃষ্টিনন্দন পিকনিক ও শুটিং স্পট নেভারল্যান্ড – দ্যা আরবান এস্কেপ (Neverland) গড়ে তোলা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মধ্যে বৃক্ষের সুশীতল ছায়াঘেরা নদী তীরের মুক্ত বাতাস ও কোলাহলহীন পরিবেশে পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সাথে অবসর সময় কাটানোর জন্য নেভারল্যান্ড একটি সেরা বিনোদন কেন্দ্রের নাম।

নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ি
জনপ্রিয় বাঙ্গালী ঔপন্যাসিক নীহাররঞ্জন গুপ্ত পিতার কর্মসূত্রে ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। নড়াইল জেলা শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে তাঁর পৈত্রিক নিবাসের (Nihar Ranjan Gupta Family House) অবস্থান। প্রায় ৭০ শতক জায়গার উপর নির্মিত গাছগাছালিতে ঘেরা দ্বিতল বাড়ির উত্তর দিকের দোতালা অংশে বারান্দাসহ তিনটি কক্ষ ও একটি মন্দির এবং দক্ষিণের একতালা অংশে ৭টি কক্ষ ও খিলানযুক্ত সরু বারান্দা রয়েছে। ভবনের প্রতিটি কক্ষে আছে একাধিক কুলঙ্গী ও দেয়াল আলমারি। নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ির দরজা, জানালা ও দেয়াল আলমারিতে কাঠের কারুকার্যময় ফুল ও লতাপাতার অলংকরণ বাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বাড়ির সামনে দিকে একটি পুকুর রয়েছে।

নিকলী হাওর
দ্বিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ পেতে চাইলে চলে যান নিকলী হাওরে (Nikli Haor)। অথবা শীতে ভিন্ন এক সবুজ মাঠ ফসলের প্রকৃতি দেখতে যেতে পারেন কিশোরগঞ্জ জেলার অবস্থিত নিকলী উপজেলার হাওর এলাকায়। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলি উপজেলার দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। সড়ক পথেই নিকলী যাওয়া যায়।