দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

মানকালীর কুণ্ড
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার এক অন্যতম নিদর্শন মানকালীর কুণ্ড (Mankali’s Kund) । ষাটের দশকের শুরুর দিকে তৎকালীন পাকিস্থান প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মহাস্থানগড়ের উঁচু ঢিলার উপর বিদ্যমান এই নিদর্শনকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে নথিভুক্ত করে।

মনপুরা দ্বীপ
মনপুরা দ্বীপ (Manpura Island) বাংলাদেশের ভোলা জেলার অন্তর্গত একটি বিচ্ছিন্ন ভূমি। মনপুরা দ্বীপের পূর্ব, পশ্চিম এবং উত্তর দিকে মেঘনা নদী প্রবাহমান আর দক্ষিণ দিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। মনপুরা দ্বীপ থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল সুযোগ রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ
গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দূরে টুঙ্গীপাড়া গ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাদপুরুষ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধটি (Mausoleum of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman) অবস্থিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটে বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রাম-ময় বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান ঘটে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

মাওয়া ফেরি ঘাট
মাওয়া ফেরি ঘাট (Mawa Feri Ghat) পর্যটকদের জন্যে নদী ভ্রমণ এবং ইলিশ ভোজন এর জন্যে জনপ্রিয় একটি জায়গা। মাওয়া ফেরি ঘাটের পাড়ে রয়েছে বেশকিছু খাবার হোটেল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ খাওয়ার জন্য অনেকেই মাওয়া ঘাটে ছুটে আসেন। এখানকার মাছের বাজারে ইলিশ ছাড়াও অনেক বাহারি প্রজাতির তাজা মাছ পাওয়া যায়।

মায়াদ্বীপ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নে অবস্থিত মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা ত্রিভুজ আকৃতির চরের নাম মায়াদ্বীপ (Maya Dwip)। সবুজে ঘেরা মায়াদ্বীপ আপনার মনকে এক অপার্থিব প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেবে। খোলা প্রান্তর, নদীর ঢেউয়ের সমান্তরালে বয়ে চলা বাতাস আর মাতাল করা একটি দুপুর সব মিলিয়ে এই চর যেন সত্যিই মায়ায় ঘেরা জাদুপুরী।

মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ
কড়াপুর মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ (Mia Bari Mosque) বরিশাল জেলার সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৮০০ শতকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। মূল মসজিদটি উঁচু একটি আয়াতকার বেসমেন্টের উপর নির্মাণ করা হয়েছে। আর নীচের বেসমেন্টের কক্ষগুলো বর্তমানে মাদ্রাসার ছাত্রদের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

মিলনছড়ি
অ্যাডভেঞ্চার হোক কিংবা অবকাশ যাপন বান্দরবান জেলা পর্যটকদের কাছে আপন রূপের মহিমায় ব্যাপক জনপ্রিয় একটি ভ্রমণ স্থান। অপার প্রকৃতির হাতছানি ছাড়াও বান্দরবানে বসবাসকৃত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির আচার-আচরন, সংষ্কৃতি এবং বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় উৎসব পর্যটকদের পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানে টেনে নিয়ে যায়। প্রকৃতির রঙে রাঙা বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে নয়নাভিরাম সবুজের কোলে অবস্থিত মিলনছড়ি (Milonchori) তেমনি একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান। পাহাড়ি রাস্তা, দিগন্তজোড়া সবুজ আর সাঙ্গু নদীর মোহনীয় সৌন্দর্য যেন কল্পনায় আঁকা এক নান্দ্যনিক তৈলচিত্র।

মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র
বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় মহাকাব্যিক উপন্যাস বিষাদ সিন্ধু’র রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ ই নভেম্বর কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া গ্রামে তাঁর মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মীর মশাররফ হোসেনের পিতা মীর মোয়াজ্জ্বেম হোসেন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে বাস করতেন। জানা যায় মীর মশাররফ হোসেনের পূর্বপুরুষ সৈয়দ সাদুল্লাহ বাগদাদ থেকে প্রথমে দিল্লী এবং পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলার স্যাকরা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন।

মীর্জানগর হাম্মামখানা
১৬৪৯ সালে যশোরের ফৌজদার নিযুক্ত হন মীর্জা সফসিকান। তিনি ছিলেন বাংলার সুবেদার শাহ সুজা শ্যালক পুত্র। কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর ত্রিমোহিনীতে মীর্জা সফসিকানের বসবাসের এলাকাটির নাম রাখা হয় মীর্জানগর। মীর্জানগরের নবাববাড়িতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন হাম্মামখানা, যা মীর্জানগর হাম্মামখানা (Mirzanagar Hammamkhana) নামে পরিচিত। বর্তমানে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নবাববাড়ির এই হাম্মামখানার অস্তিত্ব এখনও বিদ্যামান এবং দূরদূরান্ত থেকে মোগল আমলের এই নিদর্শন দেখতে দর্শনার্থীরা মির্জানগরে ভিড় করেন।

মিঠামইন হাওর
মিঠামইন (Mithamoin) কিশোরগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। মিঠামইন এর উত্তরে ইটনা ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে অষ্টগ্রাম উপজেলা, পূর্বে বানিয়াচং ও অষ্টগ্রাম, পশ্চিমে করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলা। হাওর এলাকা হলেও এটি একটি প্রাচীন জনপদ। মিঠামইনকে অন্যান্য নামেও ডাকা হয় তার মধ্যে মিঠামন, মিটামইন বা মিটামন বলে উচ্চারণ করে থাকেন। নামের উৎস নিয়ে যে মত আছে তার একটি হলো গ্রামের পাশ্ববর্তী এলাকায় এক সময় প্রচুর মিষ্টি বা মিঠা রসের খাগড়া গাছের বন ছিল। এই খাগড়ার বন থেকে মিঠাবন এবং সেখান থেকে মিঠামন বা মিঠামইন হয়েছে।

মিয়ার দালান
ঝিনাইদহ জেলা সদর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে মুরারীদহ গ্রামে অবস্থিত মিয়ার দালান ( Miyar Dalan ) একটি ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান। ১২৩৬ বঙ্গাব্দে জমিদার কতৃক নির্মিত মিয়ার দালানটি ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় সেলিম চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। তাই স্থানীয়ভাবে অনেকের কাছেই এটি সেলিম চৌধুরীর বাড়ি হিসাবেও পরিচিত। এছাড়া মিয়ার দালানকে বিশেষভাবে পরিচিত করেছিল এখানে থাকা একটি খেজুর গাছ। আর এই খেজুর গাছটির ১২টির বেশি চূঁড়া ছিল, যার প্রতিটি চূঁড়া থেকেই রস আহরণ করা যেত।

মধুমতি বাওড়
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে মধুমতি বাওড় (Modhumoti Baor) অবস্থিত। কাশিয়ানি উপজেলার ফুকরা, ধানকোড়া, রাতইল, চাপ্তা, ঘোনাপাড়া, পরানপুর, সুচাইল, তারাইল, পাংখার চর ও চরভাটপাড়া মৌজা জুড়ে মধুমতি বাওরের অবস্থান। সত্তর দশকের শেষের দিকে মধুমতি নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ১.৫ কিলোমিটার দূরে দুই দিকে দুইটি বাঁকের সৃষ্টি হয়। যার একটি বাঁকের মুখে পলি জমে উজানের মুখটি বন্ধ হয়ে একটি জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। আর এই জলাশয়টিই মধুমতি বাওড় নামে পরিচিত।

মোকাররম আলী শাহ (র:) দরগাহ
মাগুরা জেলার ইছাখাদা গ্রামে হযরত পীর মোকররম আলী শাহ (র:) দরগাহ (Mokarram Ali Shah (R) Dargah) অবস্থিত। মাগুরা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাছে পূর্ববাহিনী নবগঙ্গা নদীর তীরে দরগার অবস্থান। নদীর পাড়ে সবুজ বৃক্ষের ছায়ায় রয়েছে আধ্যাত্মিক সাধক হযরত পীর মোকাররম আলী শাহ (র:) -এর সমাধি। জানা যায়, হন আনুমানিক ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দে বিখ্যাত ধর্ম প্রচারক খান জাহান আলী (র:) ১২ জন শিষ্য নিয়ে যশোরের বারবাজারে আগমণ করেন। এরপর খান জাহান আলী (র:) বাগেরহাট গমণ করেন।

মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদ
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার উত্তরে বুড়িরচর গ্রামের আকন বাড়িতে কাঠের কারুকার্যমণ্ডিত মমিন মসজিদ (Momin Masjid) অন্যতম এক স্থাপত্য নিদর্শন। বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন মসজিদগুলোর মধ্যে শতবর্ষের প্রাচীন মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদের অবস্থান ২৩তম এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের তৈরি মুসলিম স্থাপত্যশিল্প। ১৯১৩ সালে মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন তৎকালীন বরিশাল জেলার স্বরূপকাঠি থেকে নিয়ে আসা ২১ জন কারিগরের সাহায্যে নিজ বাড়িতে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। দুষ্প্রাপ্য লোহাকাঠ ও বার্মা সেগুন কাঠের ওপর প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে মমিন মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের কাঠের দেয়ালে অপূর্ব নান্দ্যনিকতায় ইসলামিক সংস্কৃতি, ক্যালিগ্রাফি, বিভিন্ন ফুল, পাতা ও ফলের আকর্ষণীয় নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ৭ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ১৯২০ সালে ইন্দো-পারসিক আর ইউরোপীয় স্থাপত্যের মিশ্রণে তৈরি মমিন মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। বরিশালের রহমতগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহন করা বাংলার এই বীর সন্তান ১৯৭১ সালে মহানন্দা নদীর কাছে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করাকালীন প্রতিপক্ষ শত্রুর বুলেটের আঘাতে শহীদ হন। ঢাকা সেনানিবাসের প্রধান ফটক জাহাঙ্গীর গেইটের নামকরন করা হয়েছে মহান এই বীরশ্রেষ্ঠের সম্মানে।

মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর উপজেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূতিকাগার মুজিবনগরে সৃষ্টি এই ইতিহাসকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে দিতে শপথ গ্রহণের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স (Mujibnagar Complex Museum) ।