দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

নিজাম হাসিনা মসজিদ
বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় নির্মাণ করা হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ অত্যাধুনিক মসজিদ নিজাম হাসিনা মসজিদ (Nizam Hasina Mosque)। ভোলা শহরের উকিল পাড়া নামক স্থানে প্রায় দেড় একর জমির উপর দ্বিতল এই মসজিদটি স্থাপন করেছে নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন। দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ সম্বলিত অপূর্ব এই নিজাম হাসিনা মসজিদ নির্মাণে বিভিন্ন রঙয়ের মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। নিজাম হাসিনা মসজিদে রয়েছে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক অজুখানা এবং নামাজের আদায়ের স্থান। এই মসজিদে প্রায় দুই হাজার মুসল্লির একত্রে নামায আদায়ের সুযোগ রয়েছে। ২০১০ সালের জুন মাসে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয় এবং ২০১৬ সালে ৩০ ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার নিজাম হাসিনা মসজিদটি নিয়মিত নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে উদ্বোধন করা হয়।

নবরত্ন মন্দির
নবরত্ন মন্দির (Noborotno Mondir) সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গ্রামে অবস্থিত একটি মধ্যযুগীয় প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন। ১৬৬৪ সালে নায়েবে দেওয়ান রামানাথ ভাদুরী দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির এর অনুকরণে নবরত্ন মন্দিরটি নির্মাণ করেন। নবরত্ন মন্দিরের কাছে কারুকার্যময় একটি শিব মন্দির ও একটি পূজা অর্চনার চন্ডি মন্দির রয়েছে। পোড়ামাটির নকশায় লতাপাতা, ফলমূল এবং দেবদেবীর চিত্র খচিত মন্দিরের ৯ টি চূড়ার জন্য নবরত্ন মন্দির হিসাবে পরিচিতি পায়। বর্গাকার ১৫.৪ মিটার আয়তনের মন্দিরের চারদিকে রয়েছে ইটসুরকির গাঁথুনির দেয়াল। মধ্যযুগীয় শিল্পকর্মে পরিপূর্ণ মন্দিরের পূর্ব দিকে প্রবেশ পথ রয়েছে, আর কুঠুরির উত্তর দিকে আছে সিঁড়ি। নবরত্ন মন্দিরের কেন্দ্রীয় উপাসনা কক্ষের উপরে চারিদিকে বারান্দা দেয়া আরও একটি কক্ষ আছে। এছাড়া নবরত্ন মন্দিরের পাশে অবস্থিত পুকুরকে ঘিরে নানান গল্পকথা প্রচলিত রয়েছে।

নকশীপল্লী
রাজধানী ঢাকার কাছে একটি বিকেল কাটানোর জন্য নকশীপল্লী (Nokshi Polli) রেস্টুরেন্ট ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে। নান্দ্যনিক উপস্থাপনায় তৈরী নকশিপল্লী রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া ছাড়াও চারপাশে চমৎকার পরিবেশের আবেশে আড্ডায় কেটে যাবে ঘন্টার পর ঘন্টা।

নর্থব্রুক হল
১৮৭৪ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যরিং নর্থব্রুকের ঢাকা সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে মোগল স্থাপত্যরীতি ও ইউরোপীয় কারুকাজের অপূর্ব সংমিশ্রণে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফরাশগঞ্জ এলাকায় নর্থব্রুক হল (Northbrook Hall) নির্মাণ করা হয়। শুরুতে টাউন হল হিসাবে নর্থব্রুক হল নির্মাণ করা হলেও পরবর্তীতে একে গণগ্রন্থাগারের রূপ দিয়ে সাথে জনসন হল নামে একটি ক্লাব ঘর বানানো হয়। ভবনের রং লাল হওয়ার কারণে নির্মাণের পর থেকেই স্থানীয় লোকজনের কাছে নর্থব্রুক হল লালকুঠি নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নর্থব্রুক হলে সংবর্ধনা দেয়।

ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকার
নড়াইল জেলা সদরের কলোড়া ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রাম বাংলাদেশে ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকারের জন্য বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। দেশব্যাপী ভোঁদড় দ্বারা মাছ ধরার সনাতন এই পদ্ধতির বিলুপ্তি ঘটলেও গোয়ালবাড়ি গ্রামের প্রায় ২৬২৭ টি পরিবার আজো এই প্রাচীন পদ্ধতিতে মাছ ধরে থাকে। ভোদড় প্রচন্ডভাবে মাছের প্রতি আসক্ত একটি প্রাণী। ভোদড়ের এমন আচরণকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় জেলেরা মাছ শিকার করেন। এই পদ্ধতিতে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে ভোঁদড়কে পেট ভরে মাছ খাওয়ানো হয় তারপর নৌকায় বাঁধা জাল নদীতে ফেলে ভোদড় ছেড়ে দেয়া হয়। ভোদড় তার স্বভাবসুলভ আচরণে খাবার জন্য মাছ তাড়িয়ে নিয়ে যায়, আর মাছেগুলো জেলেদের জালে আটকা পড়ে। শিকারে পর জেলেদের ধরা মাছের একটা অংশ ভোঁদড়ের জন্য বরাদ্ধ রাখা থাকে। এ কারণে ভোঁদড় আর জেলেদের বিশ্বস্ততা বজায় থাকে। নড়াইল অঞ্চলের জেলেরা তাই ভোঁদড়কে অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর মত লালনপালন করেন।

অক্সফোর্ড মিশন
অক্সফোর্ড মিশন চার্চ ( Oxford Mission Church ) প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশাল বিভাগের বগুড়াগামী রোডে অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যতম শৈল্পিক গির্জা স্থাপত্যের নিদর্শন অক্সফোর্ড মিশন চার্চকে এশিয়ার ২য় বৃহত্তম চার্চ হিসাবে গন্য করা হয়। প্রাচীন এ গির্জার নাম ইপিফানি গির্জা হলেও এটি অক্সফোর্ড মিশন নামেই পরিচিতি লাভ করে। সিস্টার এডিথের নকশায় ১৯০৩ সালে গির্জাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ফাদার স্ট্রং এর নির্দেশনায় ১৯০৭ সালে এর কাজ শেষ হয়।

পাঁঁচগাও
নেত্রকোণা জেলার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচগাঁও (Pachgaon) গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি পাহাড়ি এলাকা। পাঁচগাঁও বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর গ্রাম। এখানকার চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড় স্থানীয়দের কাছে পাঁচগাঁও টিলা বা কলমাকান্দার পাহাড় নামেও পরিচিত।

পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট
ঢাকার কাছেই মুন্সিগঞ্জ জেলার পদ্মা পাড়ের নয়নাভিরাম পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট (Padma Luxury Resort) অবস্থিত।পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট ঢাকার নিকটবর্তী মাওয়া ঘাটের কাছে পদ্মা নদীর তীরে একটি সুন্দর দর্শনীয় স্থান। পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের নিয়ে ঢাকার কাছে স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্য আদর্শ গন্তব্য। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এখানে সহজে পৌঁছানো যায় বলে সবসময়ই পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে।

পাগলা বড় জামে মসজিদ
সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার নামক স্থানে মহাসিং নদীর তীরে শতবর্ষ পুরনো স্থাপত্য নিদর্শন পাগলা বড় জামে মসজিদ (Pagla Jame Masjid) অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি রায়পুর বড় জামে মসজিদ নামে পরিচিত। ১৯৩১ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী ইয়াসীন মির্জা ভারত থেকে দক্ষ স্থপতি মুমিন আস্তাগারের মধ্যমে পাগলা বড় জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৩৩১ বঙ্গাব্দের ৫ই আশ্বিন শুক্রবার মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। টানা দশ বছর কাজ চলার পর মসজিদটি বর্তমান রুপ লাভ করে। দ্বিতল এই মসজিদের মসজিদের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিটার। মসজিদের ছাদের ২৫ ফুট উচ্চতার ৩টি গম্বুজ ও ৬টি সুউচ্চ মিনার রয়েছে।

পাগলা মসজিদ
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ (Pagla Masjid) অবস্থিত। পাগলা মসজিদ মুসলিম অমুসলিম সকলের কাছেই একটি বিস্ময়। মূলত বিপুল পরিমানের টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনা রুপা দান হিসেবে পাবার জন্যে এই মসজিদ সর্বাধিক আলোচিত।

পাহাড়পুর জাদুঘর
নওগাঁ জেলায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাছে ষাটের দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে পাহাড়পুর জাদুঘর (Paharpur Bihar Museum) প্রতিষ্ঠা করা হয়। নওগাঁ থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত এই জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আগত দর্শনার্থীদের কাছে প্রধান আকর্ষণ।

পায়রাবন্দ
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার একটি গ্রামের নাম পায়রাবন্দ (Pairaband)। এই পায়রাবন্দ গ্রামে ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া (রোকেয়া খাতুন) জন্মগ্রহণ করেন। বেগম রোকেয়ার পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী। তাঁর মায়ের নাম রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। তৎকালীন সমাজব্যবস্থার সাথে মিল রেখে বেগম রোকেয়াকে নিজ গৃহে আরবী ও উর্দু শেখানো হত। বেগম রোকেয়া তাঁর বড় ভাই ইব্রাহীম সাবেরের কাছে গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শিখতে শুরু করেন। ১৮৯৬ সালে বেগম রোকেয়ার ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন মুক্তমনা ছিলেন এবং তিনি বেগম রোকেয়াকে লেখালেখি করতে উৎসাহ দিতেন। ১৯০২ সালে পিপাসা নামের একটি গল্পের মাধ্যমে সাহিত্যজগতে পদার্পণ করেন এই মহীয়সী নারী।

পাকুল্লা মসজিদ
টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পালপাড়ায় পাকুল্লা বাজারের কাছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট পাকুল্লা মসজিদ (Pakulla Jame Masjid) অবস্থিত। আনুমানিক ১৭শ শতকের শুরুর দিকে নির্মিত আয়তাকৃতির পাকুল্লা মসজিদের দৈর্ঘ্য ১৪.৭৭ মিটার, প্রস্থ ৫.৮৫ মিটার এবং মসজিদের দেয়ালগুলো ১.২৫ মিটার পুরু। পাকুল্লা মসজিদের সাথে দিল্লির আওরঙ্গজেবের মতি মসজিদ, বর্ধমানে খাজা আনোয়ার শহীদের সমাধি এবং ঢাকার কাজী খাজা শাহবাজের মসজিদের সাদৃশ্য রয়েছে।

পানাম নগর
পানাম নগর বা পানাম সিটি (Panam City) বাংলাদেশীদের কাছে “হারানো নগরী” হিসাবে সুপরিচিত। ঢাকার পার্শবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানায় ঐতিহাসিক পানাম নগর অবস্থিত। ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। সোনারগাঁয়ের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠে এই নগরী। ২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডের তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০ টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় পানাম নগর স্থান পায়।

পানিহাটা-তারানি পাহাড়
শেরপুর জেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী রামচন্দ্রকুড়া এলাকায় সারি সারি পাহাড় দিয়ে ঘেরা পানিহাটা ও তারানি গ্রামের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত অঞ্চল পর্যটকদের কাছে পানিহাটা-তারানি পাহাড় (Panihata-Tarani Hill) হিসেবে সুপরিচিত। তারানি পাহাড়ের উত্তরে রয়েছে মেঘের আবছা আবরণে ঢাকা ভারতের তুরা পাহাড়। তুরা পাহাড়ের দূরের টিলাগুলো যেন মেঘের রাজ্যের সাথে মিতালি করে চারপাশে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। তুরার অববাহিকা থেকে সামনের পশ্চিম দিকে বয়ে চলেছে পাহাড়ী ভোগাই নদী। এ নদীর স্বচ্ছ পানির নিচে রোদের আলোয় চিকচিক করা নুড়ি পাথর আর শত ফুট উঁচুতে থাকা সবুজে জড়ানো পাহাড় চারপাশে এক ভিন্নধর্মী সৌন্দর্যের আবহ তৈরি করেছে।

পান্থুমাই ঝর্ণা
‘পান্থুমাই’ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত মেঘালয় পাহাড়ের কোল ঘেঁষা একটি অপূর্ব গ্রামের নাম। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের এই গ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামগুলোর মধ্যে অন্যতম। মেঘালয় পাহাড় আর পিয়াইন নদীর পাড়ে অবস্থিত এই গ্রামেই আছে প্রকৃতির আরেক অপরূপ নিদর্শন পান্থুমাই ঝর্ণা (Panthumai Waterfall)। স্থানীয় মানুষের কাছে পান্থুমাই ঝর্ণা বিভিন্ন নামে পরিচিত। কেউ একে বলেন ‘ফাটাছড়ির ঝর্ণা’ আবার কেউবা ডাকেন ‘বড়হিল ঝর্ণা’, আর কারো চোখে এটি ‘মায়াবতী’!