দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
১৯৬৫ সালের ২৬ এপ্রিল, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ঢাকায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর (National Museum of Science and Technology) প্রতিষ্ঠিত করে। প্রতিষ্ঠা সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাদুঘরটি ঢাকা গণগ্রন্থাগার ভবনে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে, ১৯৭০ সালের এপ্রিল মাসে এটি চামেলীবাগে স্থানান্তর করা হয়, এবং পরের বছরের মে মাসে ধানমন্ডির ১নং সড়কে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭২ সালে, সরকার এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা প্রদান করে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৮৭ সাল থেকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর নিজস্ব ভবন থেকে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর রাজধানী ঢাকার আগারগাও বিএনপি বাজারে অবস্থিত।

সেনাপতির দিঘী
মাদারীপুর জেলার আমড়াতলা ও খাতিয়াল গ্রামের মধ্যবর্তী কালকিনি উপজেলায় অবস্থিত সেনাপতির দিঘী (Senapati Dighi/Shenapoti Lake) ঐতিহাসিক এক নিদর্শন। ১৬৬৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর শায়েস্তা খাঁর বড় ছেলে বুজুর্গ উমেদ খাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি ইসলাম খাঁ প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে ৬০,৭০৩ বর্গমিটার আয়তনের এই দিঘীটি খনন করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে সুবাদার শায়েস্তা খাঁর নেতৃত্বে উমেদ খাঁ চট্টগ্রাম থেকে মগ জলদস্যুদের বিতাড়িত করে ঢাকায় আসার পথে কিছুদিন কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যবর্তী আমড়াতলা ও খাতিয়াল এলাকায় অবস্থান করেছিলেন। সেই সময় এলাকার জনগণদের পানির অভাব দূর করার জন্য সেনাপতি ইসলাম খাঁর সেনাবাহিনী এই দীঘিটি খনন করেন। এই কারণে দীঘিটির নামকরণ করা হয় সেনাপতির দিঘী। ছুটির দিনে প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের পুরনো মোঘল আমলের এই দিঘীর পাড়ে অনেক দর্শনার্থী ঘুরতে ও পিকনিক করতে আসেন।

শহীদ সাগর
১৯৭১ সালের ৫ মে নাটোর জেলার গোপালপুরের আজিমপুর এলাকার নর্থ বেঙ্গল চিনি কারখানায় পাকবাহিনীর নির্মমতা ও গণহত্যার এক জ্বলন্ত সাক্ষী শহীদ সাগর (Shahid Sagar)। পাকিস্থানি সেনারা সুগার মিলের শতাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সুগার মিলের অতিথি ভবনের সামনের পুকুর পাড়ে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। সেদিন গোপাল সাগর হিসেবে পরিচিত পুকুরের পানি শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠেছিল। যদিও এই ঘটনায় কয়েকজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হবার পর দুঃসহ স্মৃতিবিজরিত এই পুকুরটিকে শহীদ সাগর নামকরণ করা হয়। ১৯৭৩ সালের ৫ মে শহীদের স্মরণে শহীদ সাগর স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিস্তম্ভের পূর্ব দিকে একটি ফুলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০০ সালের ৫ মে শহীদ সাগর চত্বরে একটি স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর ৫ মে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে গোপালপুরের শহীদের স্মরণে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল গনহত্যা দিবস পালন করা হয়।

শৈলপ্রপাত ঝর্ণা
শৈলপ্রপাত ঝর্ণা বান্দরবান জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান-থানচি রোডের পাশে অবস্থিত। বাংলাদেশে অতিপরিচিত ঝর্ণা গুলোর মধ্যে শৈলপ্রপাত অন্যতম। পর্যটন নগরী বান্দরবানের কাছে হওয়ায় সারা বছরই পর্যটক সমাগমে মুখরিত থাকে স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানির এই ঝর্ণাটি। এ ঝর্ণার বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে সবসময় বহমান হীম শীতল পানির ধারা, যা শৈলপ্রপাতকে বান্দরবানের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসাবে করে নিয়েছে। এছাড়া এই ঝর্ণার পাশে পিকনিক করার জন্য রয়েছে আদর্শ পরিবেশ। পাহাড়, ঝর্ণা এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মিতালী দেখতে আপনাকে অবশ্যই শৈলপ্রপাতে যেতে হবে।

শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত
অথৈ সাগরের ঢেউ ও সবুজ ঝাউবনে ঘেরা বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়ায় অবস্থিত এক দৃষ্টিনন্দন সৈকতের নাম শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত (Shuvo Sondha Sea Beach)। পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মিলনস্থলের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে তুলেছে প্রায় ৪ কিলোমিটার লম্বা বেলাভূমির শুভ সন্ধ্যা। সোনাকাটা ইকোপার্ক সংলগ্ন শুভ সন্ধ্যা মূলত নলবুনিয়া এলাকার একটি চর।

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির
মেহেরপুর জেলা সদরের কাছে বড় বাজারে প্রাচীন আমলের শ্রী শ্রী সিদ্ধেশরী কালী মন্দির (Sree Sree Siddheshwari Kali Mandir) অবস্থিত। স্থানীয় হিন্দুদের কাছে এটি জেলা কেন্দ্রীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা এই মন্দির আক্রমণ করে মন্দিরের ভিতরের বালা দেবীর বিগ্রহটি গুড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার পর স্থানীয় হিন্দুরা পুনরায় মন্দিরের অভ্যন্তরে মূর্তি স্থাপন করে নিয়মিত পূজা অর্চনা শুরু করেন। প্রতি বছরই এই কালী মন্দিরে কালী পূজা, দূর্গা পূজা ও সরস্বতী পূজাসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। বৈশাখ মাসের শেষ সংক্রান্তিতে শ্রী শ্রী সিদ্ধেশরী কালী মন্দিরকে ঘিরে বৈশাখ সংক্রান্তির মেলা বসে। সেসময় সারাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য আগ্রহী দর্শনার্থীরা মেলা দেখতে আসেন।

সোনাইছড়ি ট্রেইল
চট্টগ্রামের বারৈয়াঢালা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত মীরসরাইয়ের হাদি ফকিরহাট বাজার সংলগ্ন সোনাইছড়ি ট্রেইল (Sonaichhari Trail) ডে ট্রিপের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। চট্টগ্রামের সবচেয়ে সুন্দর সোনাইছড়ি ট্রেইলের বৈচিত্র্যময় বুনো পাথুরে সৌন্দর্য অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের অদ্ভুত মায়ায় আকর্ষণ করে।

সোনারং জোড়া মঠ
মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং গ্রামে রয়েছে বাংলাদেশের অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রাচীন এক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সোনারং জোড়া মঠ (Sonarong Jora Moth)। মঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও এটি মূলত একটি জোড়া মন্দির। মন্দিরের প্রস্থরলিপি অনুসারে, রুপচন্দ্র নামের এক হিন্দু বণিক ১৮৪৩ সালে বড় কালীমন্দির ও ১৮৮৬ সালে ছোট শিবমন্দিরটি নির্মাণ করেন এবং ১৮৩৬ সালে শম্ভুনাথ নামের এক ব্যাক্তি এই মঠ স্থাপন করেন। কথিত আছে, এই মন্দিরেই শ্রী রুপচন্দ্রের শেষকৃত্য সম্পন হয়েছিল। প্রায় ২৪৬ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট অষ্টভুজাকৃতি সোনারং জোড়া মঠ ভারত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ মঠ হিসাবে খ্যাত। চুন সুরকি নির্মিত পুরো দেয়াল বিশিষ্ট এই মঠের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ২১ ফুট এবং বড় মন্দিরের উচ্চতা ১৫ মিটার। মন্দিরের গোলাকার গম্বুজাকৃতি ছাদের শিখরে রয়েছে একটি ত্রিশূল। আর প্রত্যেক মূল উপাসনালয় ঘরের সাথে আছে একটি করে বারান্দা।

শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ি
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের শ্রীফলতলী গ্রামে শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ি (Shreefaltali Court Of Estate) অবস্থিত। রহিম নেওয়াজ খান চৌধুরীর মাধ্যমে এই জমিদার বাড়ির গোড়াপত্তন ঘটে। রহিম নেওয়াজ খানের পিতা খোদা নেওয়াজ খান শ্রীফলতলী জমিদার এস্টেটের কর্ণধার ছিলেন। শ্রীফলতলী জমিদার বাড়িটি জমিদারী পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হত। রহিম নেওয়াজ খানের প্রচেষ্টার ফলে প্রায় ১০০ বছর আগে কালিয়াকৈর থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

তারা মসজিদ
তারা মসজিদ ( Star Mosque ) পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত। মসজিদের গায়ে কোন শিলালিপি না থাকায় মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয় ১৮ শতকের শুরুর দিকে তৎকালীন ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর তারা মসজিদ নির্মাণ করেন। মোঘল স্থাপত্য কৌশলে নির্মিত মসজিদটি অনেকের কাছে সিতারা মসজিদ বা মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ নামে পরিচিত।

তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে ভারতের সীমান্তবর্তী মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো (Tetulia Dak Bungalow) অবস্থিত। ভিক্টোরিয়ান রীতিতে কুচবিহারের রাজা ভূমি থেকে প্রায় ১৫-২০মিটার উঁচু গড়ের উপর এই ডাক বাংলোটি নির্মাণ করেছিলেন। বর্ষাকালে তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো থেকে মহানন্দা নদীর অপূর্ব সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

ঠাকুরপুর জামে মসজিদ
ঠাকুরপুর জামে মসজিদ (Thakurpur Jame Mosque) ঐতিহ্য আর নান্দ্যনিকতায় চুয়াডাঙ্গা জেলার একটি অন্যতম প্রাচীন ইসলামিক স্থাপত্য নিদর্শন। চুয়াডাঙ্গা থেকে ২ কিলোমিটার দূরে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের পার্শ্ববর্তী ঠাকুরপুর গ্রামে অবস্থিত ঠাকুরপুর জামে মসজিদটি বর্তমানে পীরগঞ্জ জামে মসজিদ হিসেবে সুপরিচিত। মসজিদের মূল অংশ নির্মাণের ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ১৬৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাধক পুরুষ হযরত আফু শাহ্ ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশ্যে ঠাকুরপুরে এসে খানকা স্থাপন করেন। তিনি জীনদের সাহায্যে এক রাতের মধ্যেই মসজিদটি নির্মাণ করেন। একারণে স্থানীয় অনেকে এই মসজিদটি “জিনের মসজিদ” হিসেবে অভিহিত করেন।

দ্যা বেস ক্যাম্প বাংলাদেশ
এডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩৭ কিলোমিটার দূরে ২০১৩ সালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে দেশের প্রথম আউট ডোর একটিভিটি ক্যাম্প দ্যা বেস ক্যাম্প বাংলাদেশ (The Base Camp Bangladesh) গড়ে তোলা হয়েছে। গতানুতিক রিসোর্ট থেকে ভিন্ন ধাঁচের এই ক্যাম্পে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি বিভিন্ন এডভেঞ্চারমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহনের সুযোগ রয়েছে।

আতিয়া মসজিদ
আতিয়া মসজিদ (Atia Mosque) টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার আতিয়া গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৪০০ বছর পুরনো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। টাঙ্গাইল শহর থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। বাইজিদ খান পন্নীর পুত্র জমিদার সাইদ খান পন্নী ১৬১০ সালে আতিয়া মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১২ মিটার প্রস্থের মসজিদটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে লৌহজং নদী। আতিয়া মসজিদে একটি বড় ও তিনটি ছোট গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের নীচে এবং চারকোণার চারটি পিলারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চমৎকার নকশা।

বারোবাজার
ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বারোবাজার (Barobazar) বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ৭০০ বছরের প্রাচীন ১০ বর্গমাইল পরিধির বারোবাজার নগরী বারোটি পৃথক বাজারের জন্য তৎকালীন সময়ে বেশ প্রসিদ্ধ ছিল। বারোবাজার নগরীর গ্রামগুলো হল- পিরোজপুর, খোশালপুর, সাদেকপুর, বাঁদুরগাছা, সাতগাছিয়া, দৌলতপুর, মুরাদগড়, এনায়েতপুর, মোল্লাডাঙ্গা, রহমতপুর এবং বাদেডিহি।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান
রাজধানী ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরের জয়দেবপুরের ছায়া সুনিবিড় পরিবেশে গড়ে উঠেছে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান (Bhawal National Park)। গজারি বৃক্ষের আধিক্যের কারণে অনেকের কাছে এটি ভাওয়ালের গজারির গড় হিসাবেও পরিচিত। প্রায় ৫০২২ হেক্টর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ১৯৮২ সালে জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি লাভ করে। উদ্যানের ২২১ প্রজাতির গাছের মধ্যে রয়েছে ৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৩ প্রজাতির পাম, ২৭ প্রজাতির ঘাস, ২৪ প্রজাতির লতা ও ১০৪ প্রজাতির ঔষধি গাছ। এছাড়াও রয়েছে ৬৪ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী যাদের মধ্যে ১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫ প্রজাতির পাখি ও উভচর প্রাণী অন্তর্ভুক্ত। প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রে পরিপূর্ণ এই উদ্যানে ছুটির দিনে অনেকে পিকনিক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।