দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

রাজশাহী কলেজ
রাজশাহী কলেজ (Rajshahi College) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কলেজটি দেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এর দীর্ঘ ইতিহাস, সমৃদ্ধ একাডেমিক পরিবেশ এবং গৌরবময় সাফল্য রাজশাহী কলেজকে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

রামসাগর দীঘি
রামসাগর দীঘি (Ramsagar Dighi) মানুষের খনন করা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দিঘী যা দিনাজপুর (Dinajpur) জেলার তেজপুর গ্রামে অবস্থিত। রামসাগর দীঘির আয়তন প্রায় ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার এবং গভীরতা গড়ে প্রায় ১০ মিটার। দীঘির পশ্চিম পাড়ে একটি ঘাট রয়েছে। দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে রামসাগর দীঘি অবস্থিত। রামসাগর দীঘি কেন্দ্র করে একটি মনোরম রামসাগর জাতীয় উদ্যান (Ramsagar National Park) গড়ে উঠেছে। এছাড়া পূর্ণ চাঁদের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে রামসাগরের পারে ক্যাম্পিং খুবই মোহনীয় একটি বিষয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, পলাশী যুদ্ধের কিছুকাল পূর্বে রাজা রামনাথ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর পানির চাহিদা পূরণের জন্য এই দীঘিটি খনন করান। রাজা রামনাথের নাম থেকেই দীঘিটি রামসাগর দীঘি (Ramsagar Dighi) নামে পরিচিতি লাভ করে। চারপাশে সবুজ বৃক্ষময় রামসাগর দীঘিটি বর্তমানে পর্যটন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। রামসাগর দীঘির সৌন্দর্যবর্ধন এবং পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক রেস্ট হাউজ নির্মাণ করেছে।

রাংপানি
সিলেটের শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত সীমান্তবর্তী নদী ‘রাংপানি’ (Rangpani)। রাংপানির স্বচ্ছ জল মেঘালয়ের জৈন্তা পাহাড়ের রানহংকং জলপ্রপাত থেকে উৎপন্ন হয়েছে। অনেকের কাছে এটি ‘শ্রীপুর পাথর কোয়ারি’ নামেও পরিচিত। রাংপানি নদীর তীরে খাসিয়াদের মোকামপুঞ্জি গ্রাম অবস্থিত। খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি নামেই ডাকে। রাংপানি ও পুঞ্জির আশেপাশের এলাকায় ৮০-৯০ দশকে অনেক বাংলা চলচ্চিত্রের দৃশ্য ধারণ করা হতো। নাঈম-শাবনাজ জুটির প্রথম চলচ্চিত্র ‘চাঁদনী’র জনপ্রিয় গান ‘ও আমার জান, তোর বাঁশি যেন জাদু জানে রে’ ছাড়াও বেশ কিছু দৃশ্য শ্রীপুরের বিভিন্ন স্থানে চিত্রায়ন করা হয়েছিল।

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট
রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট (Ratargul Swamp Forest) । এটি সিলেট জেলা শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। রাতারগুল বনটি প্রায় ৩০,৩২৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এই বিস্তৃর্ণ এলাকার ৫০৪ একর জায়গায় রয়েছে বন আর বাকি জায়গা ছোট বড় জলাশয়ে পূর্ণ। তবে বর্ষায় পুরো এলাকাটিকেই দেখতে একই রকম মনে হয়।

রায়ের বাজার শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ
শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ (Shahid Intellectual Memorial) যা রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ও শহীদ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ নামেও পরিচিত। স্মৃতি স্মারকটির অবস্থান ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তিলগ্নে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের সহযোগীদের সহায়তায় দেশের যে-সকল শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী এবং অন্যান্যদের হত্যা করেছিল তাঁদের শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ এটি নির্মাণ করা হয়।

রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য
সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য (Rema Kalenga Reserved Forest) বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনাঞ্চল হিসাবে খ্যাত। ১৯৮২ সালে প্রায় ১৭৯৫ হেক্টর আয়তনের এ বনভূমি রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত রেমা, কালেঙ্গা ও ছনবাড়ীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের পরিধি বিস্তৃত। রেমা-কালেঙ্গা অভয়াশ্রমে প্রায় ৬৩৮ প্রজাতির বৃক্ষরাজি, প্রায় ৬২ স্তন্যপায়ী, উভচর ও সরীসৃপ প্রাণী এবং প্রায় ১৬৭ প্রজাতির পাখির আবাস।

ক্যাথলিক গির্জা, সৈয়দপুর
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে উত্তরাঞ্চলের সর্বপ্রথম ও প্রাচীনতম ক্যাথলিক গির্জা (Roman Catholic Church) অবস্থিত। ১৮৮৬ সালে সৈয়দপুর রেলওয়েতে কর্মরত অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ক্যাথোলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টানদের জন্য এই গির্জাটি নির্মাণ করা হয়। অতীতে সৈয়দপুর ব্যবসা ও বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে স্থাপিত হলে সৈয়দপুরের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। রেলওয়ে ষ্টেশনের ঠিক উত্তর পাশেই একটি ছোট লোকোশেড স্থাপন করা হয় এবং লোকোশেডকে ঘিরে প্রায় ১১০ একর জায়গা জুড়ে রেলওয়ে কারখানা গড়ে তোলা হয়। রেলওয়ে কারখানায় বাঙ্গালী ও বিহারীদের পাশাপাশি রোমান ক্যাথোলিক এবং প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের ব্রিটিশ ও অ্যাংলো ইন্ডিয়ান কাজ করতো। কর্মরত খ্রিষ্টানদের উপাসনার জন্য ব্রিটিশ সরকার সাহেব পাড়ার দুইপ্রান্তে রোমান ও ইউরোপীয় স্থাপত্য কলার সমন্বয়ে দুইটি গির্জা নির্মাণ করেন।

রোজ গার্ডেন প্যালেস
রোজ গার্ডেন প্যালেস ( Rose Garden Palace ) যা রোজ গার্ডেন হিসেবে পরিচিত, বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটির অবস্থান রাজধানী ঢাকা শহরের পুরান ঢাকার টিকাটুলিতে। ১৯ শতকে হৃষিকেস দাস নামের ধনী ব্যবসায়ী বিনোদনের জন্য রোজ গার্ডেন প্যালেসটি নির্মাণ করেন। এই প্রাচীন ভবনটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসাবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত।

শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা
উত্তরাঞ্ছলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রান্তরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগ্রহ নিয়ে গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা (RU Martyrs Memorial Museum)। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জাদুঘর হিসেবে পরিচিত এই সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও নানা স্মৃতি সংরক্ষিত আছে। তরুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে ১৯৭৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার কমপ্লেক্সে এই সংগ্রহশালাটি যাত্রা শুরু করে। প্রতিদিন এখানে অসংখ্য দর্শনার্থী সংগ্রহশালায় আসেন।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি
খুলনা জেলার রূপসা নদীর পূর্বপাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সামরিক সর্বোচ্চ খেতাবে সম্মানিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন (Birsresto Ruhul Amin Grave Yard)। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি একটি যুদ্ধ জাহাজে অবস্থানকালীন শত্রুপক্ষের বিমান হামলায় শহীদ হন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রতিবছর রুহুল আমিনের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও সশস্ত্রবাহিনী দিবসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন নানা কর্মসূচির আয়োজনের মাধ্যমে রুহুল আমিনের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।

সুলতান কমপ্লেক্স
নড়াইল জেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে মাছিমদিয়া গ্রামে বিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সুলতান কমপ্লেক্স (S M Sultan Complex) নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৩ সালে চিত্রা নদীর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রায় ২৭ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত সুলতান কমপ্লেক্সের চারপাশ দুর্লভ প্রজাতির বিভিন্ন সবুজ বৃক্ষে ঢাকা। অজশ্র পাখির কলতান মুখর করে রাখে এই কমপ্লেক্সের সবুজ প্রকৃতির মাঝে শায়িত এস এম সুলতানের সমাধিস্থল। সুলতান কমপ্লেক্সের দ্বিতল আধুনিক ফটোগ্যালারিতে শিল্পীর চিত্রকর্ম ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। প্রায় ৩৮ ফুট লম্বা আর্ট গ্যালারীতে সভ্যতার ক্রমবিকাশ, ধান মাড়াই, জমি কর্ষণ, গাঁতা চাষ সহ মোট ২৩টি ছবি রয়েছে। এস এম সুলতান শিশুদের ছবি আঁকা শিখানোর জন্য নদীতে বজরা নামের একটি “শিশু স্বর্গ” তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত শিশুস্বর্গে বাচ্চাদের ছবি আঁকা শেখানো হয়।

সাবিত্রী ও রসকদম্ব মিষ্টি
জাতি হিসাবে বাঙালিরা ভোজন প্রিয় এবং এই কথাটি সকল বাঙালিদের ক্ষেত্রেই কম বেশী প্রযোজ্য। কোন স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি সে অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার খাওয়ায় বাঙালীদের জুড়ি মেলা ভার। আবার অঞ্চল ভেদে রয়েছে খাবারের স্বাদের বৈচিত্রতা। মেহেরপুর জেলার তেমনি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নের নাম সাবিত্রী ও রসকদম্ব মিষ্টি (Sabitri and Rosh Kodom Sweet)। ১৮৬১ সাল থেকে সমগ্র বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে গেছে সাবিত্রী ও রসকদম্ব নামের দুইটি রসহীন (নীরস) মিষ্টির সুনাম।

সদরঘাট
সদরঘাট (Sadarghat) বাংলাদেশের ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নদী বন্দর। পদ্মা সেতু চালু হবার পরে যদিও সদরঘাটের জৌলুশ হারিয়েছে তারপরেও বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলা সমূহের যাতায়াতের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই নন্দী বন্দর।

সাগরদীঘি
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার পূর্বে ঐতিহাসিক সাগরদীঘি (Sagardighi) অবস্থিত। প্রায় ১৩ একর জায়গা জুড়ে পাল আমলের সাগর রাজার নেতৃত্বে এই বিখ্যাত দীঘিটি খনন করা হয়। সাগরদীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এলাকার পূর্ব নাম “লোহিনি” হলেও বর্তমানে এটি সাগরদীঘি নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

রেলওয়ে কারখানা ও জাদুঘর
বাংলাদেশের প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর অন্যতম। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও বাংলাদেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা (Railway Workshop) অবস্থিত হওয়ায় সৈয়দপুর অনেকের কাছে ‘রেলের শহর’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। ১৮৭০ সালে প্রায় ১১০ একর জমির উপর নির্মিত এই রেলওয়ে কারখানায় নাট-বল্টু থেকে শুরু করে রেলওয়ের ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনের বগি মেরামতসহ সব ধরণের কাজ করা হয়।

শংকরপাশা শাহী মসজিদ
হবিগঞ্জ জেলার রাজিউড়া ইউনিয়নে পঞ্চাদশ শতাব্দীর প্রাচীন শংকরপাশা শাহী মসজিদ (Sankarpasha Shahi Masjid) অবস্থিত। সুলতানী আমলের অন্যতম নিদর্শন এই মসজিদ তৈরীতে পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ৬ একর জায়গা জুড়ে একটি টিলার উপর স্থাপিত লাল রঙের শংকরপাশা শাহী মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে লাল টিলা মসজিদ হিসেবেও সুপরিচিত। ১৫১৩ সালে বিখ্যাত সুফি দরবেশ শাহ মজলিস আমিন (রা.) এই মসজিদের নির্মাণ শুরু করেলেও পরবর্তীতে মুসলিম স্বনামধন্য শাসনকর্তা সুলতান আলাউদ্দিন হোসাইন শাহের আমলে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।