দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

সুন্দরবন
সুন্দরবন (Sundarban) একটি প্রাকৃতিক বিস্ময়ের নাম। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বনাঞ্চল। সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা যৌথভাবে বাংলাদেশ ও ভারতে মধ্যে রয়েছে। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার। খুলনা , সাতক্ষীরা , বাগেরহাট , পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের সুন্দরবন। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

সুরা মসজিদ
সুরা মসজিদ (Sura Masjid) বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট ইউনিয়নে অবস্থিত। ঘোড়াঘাট উপজেলা কেন্দ্র থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে গেলে পাকা রাস্তার উত্তরধারে ৩৫০-২০০ গজ আয়তন বিশিষ্ট বিশাল একটি পাড়ওয়ালা দীঘির দক্ষিণ ধারে মসজিদটি অবস্থিত।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু
সড়কপথে ভৈরব ও আশুগঞ্জের মধ্যে অবাধ যোগাযোগের জন্য মেঘনা নদীর উপর নির্মিত নান্দ্যনিক এক সেতুর নাম সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু (Sayed Nazrul Islam Bridge) । ১৯৯৯ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০০২ সালে শেষ হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থিত ১.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৯.৬০ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এই সেতুটিতে ৭টি ১১০ মিটার স্প্যান এবং ২টি ৭৯.৫ মিটার স্প্যান রয়েছে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর পূর্ব নাম ছিল বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু, যা ২০১০ সালে পরিবর্তন করা হয়। যদিও স্থানীয়দের কাছে সেতুটি ভৈরব ব্রিজ নামে অধিক পরিচিত। সেতুতে দাঁড়িয়ে মেঘনা নদীর সৌন্দর্য অবলোকনের পাশাপাশি বিভিন্ন নৌযান ও জেলেদের কর্মব্যস্ততা প্রত্যক্ষ করা যায়।

সিলেট শাহী ঈদগাহ
বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে সিলেট শাহী ঈদগাহ (Sylhet Shahi Eidgah) অন্যতম। নিপুণ কারুকার্যময় শাহী ঈদগাহটি ১৭০০ সালের দিকে মোগল ফৌজদার ফরহাদ খাঁ নির্মাণ করেন। ২২ টি সিঁড়ি মাড়িয়ে ১৫ টি গম্বুজ সজ্জিত শাহী ঈদগাহের মূল চত্বরে প্রবেশ করতে হয়। সীমানা প্রাচীরের ঘেরা ঈদগাহের চারদিকে ছোট বড় ১০টি গেইট রয়েছে। এই ঈদগায়ে প্রায় দেড় লাখ মুসল্লী একত্রে ঈদের নাযাজ আদায় করতে পারেন। শাহী ঈদগাহের উত্তর দিকে একটি মসজিদ আছে, যা শাহী ঈদগাহ মসজিদ নামে পরিচিত। আর মসজিদের পাশে সুউচ্চ টিলার উপর রয়েছে বন কর্মকর্তার বাংলো। ঈদগাহের সামনে অবস্থিত বিশাল পুকুরে মুসল্লিরা অজুর করে থাকেন। এছাড়া দক্ষিণ দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট কেন্দ্র এবং পূর্ব দিকে হযরত শাহজালাল (র.) এর সফরসঙ্গী শাহ মিরারজী (র.) এর মাজার ও সিলেট আবহাওয়া অফিস রয়েছে।

টি বাঁধ
রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত ‘টি-বাঁধ’ (T Badh) শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ নয়; এটি রাজশাহী শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির এক অনন্য মিলনস্থল। ইংরেজি “T” অক্ষরের মতো আকৃতির এই বাঁধটি নদীভাঙন রোধে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তেমনি এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

তাজহাট জমিদার বাড়ি
তাজহাট জমিদার বাড়ি ( Tajhat Palace ) দেখতে হলে রংপুর বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে মাহিগঞ্জের তাজহাট গ্রামে যেতে হবে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে রত্ন ব্যবসায়ী মান্নালাল ব্যবসায়িক কারণে মাহিগঞ্জে এসে বসবাস এবং পরবর্তীতে তাজহাট জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা করেন। জমিদার মান্নালাল মারা যাবার পর তাঁর দত্তক পুত্র গোপাল লাল রায় বাহাদুর জমিদারি পরিচালনা শুরু করেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রায় ২০০০ রাজমিস্ত্রির নিরলস পরিশ্রমে বর্তমান তাজহাট জমিদার বাড়ি পূর্ণতা লাভ করে। ১৯১৭ সালে সম্পূর্ণ হওয়া এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করতে তৎকালীন সময়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হয়।

টাকা জাদুঘর
বাংলাদেশ এবং সারাবিশ্বের অতীত ও বর্তমান মুদ্রার ইতিহাস সংরক্ষণ, মুদ্রার ঐতিহ্য ও বিকাশের ক্রমধারা সবার কাছে উপস্থাপনের লক্ষে ২০১৩ সালের ৫ই অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের প্রথম টাকা জাদুঘর (Taka Museum) প্রতিষ্ঠা করেন। রাজধানী ঢাকার মিরপুর দুই নাম্বার সেক্টরে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির ২য় তলায় টাকা জাদুঘরের অবস্থান। টাকা জাদুঘরের দেয়ালে সাজানো আছে রঙ-বেরঙের নকশায় সজ্জিত বৈচিত্র্যময় টাকার সংগ্রহ। প্রাচীন আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই অঞ্চলে প্রচলিত প্রায় সকল ধরণের মুদ্রা দেখতে পারবেন এই জাদুঘরে। এছাড়া ডিজিটাল কিয়স্ক, ডিজিটাল সাইনেজ, এলইডি টিভি, থ্রিডি টিভি, ফোটো কিয়স্ক, প্রোজেক্টর এবং স্যুভেনির শপ স্থান পেয়েছে এই জাদুঘরে।

তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে তেঁতুলিয়া গ্রামে ১৮শ শতকের মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ (Tetulia Jame Masjid) অবস্থিত। মসজিদটি স্থানীয়ভাবে মিয়ার মসজিদ কিংবা তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ নামে পরিচিত হলেও মসজিদের মূল নাম তেঁতুলিয়া খান বাহাদুর কাজী সালামতউল্লাহ জামে মসজিদ। মসজিদের গায়ে প্রাপ্ত শিলালিপি হতে জানা যায়, ১২৭০ বঙ্গাব্দে জমিদার সালামতুল্লাহ খান কলকাতার ‘সিন্দুরে পট্টি’ মসজিদের নকশার অনুকরণে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

দ্যা বেস ক্যাম্প বাংলাদেশ
এডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩৭ কিলোমিটার দূরে ২০১৩ সালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে দেশের প্রথম আউট ডোর একটিভিটি ক্যাম্প দ্যা বেস ক্যাম্প বাংলাদেশ (The Base Camp Bangladesh) গড়ে তোলা হয়েছে। গতানুতিক রিসোর্ট থেকে ভিন্ন ধাঁচের এই ক্যাম্পে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি বিভিন্ন এডভেঞ্চারমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহনের সুযোগ রয়েছে।

তুষভান্ডার জমিদার বাড়ি
প্রায় চারশত বৎসর আগে জমিদার মুরারিদেব ঘোষাল ভট্টাচার্য লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে তুষভান্ডার জমিদার বাড়ি (Tushbhander Jaminderbari) প্রতিষ্ঠা করেন। কথিত আছে, ১৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে মহারাজা প্রাণ নারায়ণের শাসনামলে মুরারিদেব ঘোষাল ভট্টাচার্য চব্বিশ পরগনা জেলা হতে রসিক রায় বিগ্রহ নামক একটি ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোচবিহারে আসেন। তৎকালীন সময়ে ধর্মীয় কাজের জন্য ভূমি দান করা হত। মহারাজা প্রাণ নারায়ণ ঘোষাল ভট্টাচার্যকে বিগ্রহ পূজা করার জন্য ৯টি মৌজা দান করেন। কিন্তু ঘোষাল ভট্টাচার্য একজন ব্রাহ্মণ ছিলেন তাই তিনি মহারাজার দান ভোগে আপত্তি জানান এবং তিনি রাজাকে সেই সম্পত্তি ভোগের উপর খাজনা নেওয়ার প্রস্তাব করেন। তবে রাজা খাজনা হিসেবে ধানের তুষ নেওয়ার জন্য দাবী করেন। ফলে কোচবিহারের রাজাকে দেওয়ার জন্য পুরো জমিদারি এলাকা ধানের তুষ সংগ্রহ করে জমিদার বাড়ির পূর্ব পাশে রাখা হত। এই ঘটনা থেকে এই জমিদার বাড়িটি তুষভাণ্ডার জমিদার বাড়ি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।

উদয়পুর ডেসটিনেশন
উদয়পুর ডেসটিনেশন (Udaipur Destination) মূলত একটি প্রকৃতি-নির্ভর (Nature-based) ট্যুরিস্ট স্পট এবং ডে-আউট সেন্টার। এটি ঢাকার বাড্ডা এলাকার ১০০ ফিট মাদানী এভিনিউতে অবস্থিত। এক সময় ‘ঠিকানা ডে আউটারস’ (Thikana Day Outers) ছিল দারুণ জনপ্রিয়। সেই চিরচেনা ঠিকানা ডে আউটারস এখন নতুন আঙ্গিকে, রাজকীয় সাজে এবং আভিজাত্যের এক অনন্য মেলবন্ধনে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘উদয়পুর ডেসটিনেশন’ নামে।

উপেন্দ্র সরোবর
উপেন্দ্র সরোবর টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত পর্যটন এলাকা। এটি 'বার ঘাটলা দীঘি' নামেও পরিচিত, যেখানে ১২টি ঘাট রয়েছে। জমিদার রায় বাহাদুর সতীশ চৌধুরী তার পিতা উপেন্দ্র মোহন রায় চৌধুরীর নামে এই দীঘি খনন করেন।

জিন্দা পার্ক
জিন্দা পার্ক নারায়ণগঞ্জ জেলার দাউদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি মনোরম স্থান, যেখানে ২৫০ প্রজাতির দশ হাজারেরও বেশি গাছ, ৫টি জলাধার এবং অসংখ্য পাখি রয়েছে। সবুজে ঘেরা এই পার্কটি পিকনিক বা ডে আউটের জন্য আদর্শ।