দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

ধনিয়াচক মসজিদ
ধনিয়াচক মসজিদ (Dhania Chalk Mosque) বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। এটি ১৫ শতকের শেষের দিকে ইলিয়াস শাহী আমলে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মসজিদটি ইট ও টেরাকোটায় নির্মিত এবং মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর একটি চমৎকার নিদর্শন। একসঙ্গে এই মসজিদে শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

ঘোলদাড়ী শাহী মসজিদ
মোহাম্মদ ঘোরী শাসনকালে ওমর শাহ নামে ধর্মপ্রাণ দরবেশ ১০০৬ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোলদাড়ী গ্রামে ঘোলদাড়ী শাহী মসজিদ (Gholdari Shahi Mosque) নির্মাণ করেন। ঐতিহাসিক এ মসজিদে এখনো নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। প্রতিদিন অনেক পর্যটক ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে ঘোলদাড়ী শাহী মসজিদ দেখতে এবং নামায আদায় করতে আসেন।

হোসেনী দালান
হোসেনী দালান (Hossaini Dalan) বা ইমামবাড়া মূলত কারবালার প্রান্তরে শাহাদাৎ বরণকারী হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ)-এর স্মৃতির স্মরণে নির্মিত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি প্রাচীন উপাসনালয় ও সমাবেশস্থল। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো। নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, মোগল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে (১৭শ শতক) সুবাহদার শাহ শুজার প্রধান ইমারত পরিদর্শক মীর মুরাদের তত্ত্বাবধানে এই হোসেনী দালান ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

জোড়া শিবমন্দির
সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়েনের ছয়ঘরিয়া গ্রামের এক বিশাল দীঘির পাড়ে জোড়া শিবমন্দির দুটি অবস্থিত। বৈচিত্রপূর্ণ টেরাকোটা ইটে নির্মিত জোড়া শিবমন্দির এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ছয়ঘরিয়া জোড়া শিবমন্দির নামে পরিচিত। বাংলা ১২২০ সনের ১ বৈশাখ ফকিরচাঁদ ঘোষ জোড়া শিবমন্দির দুটি নির্মাণ করেন। ১৫ ফুট ৯ ইঞ্চি মাপের বর্গাকৃতির মন্দিরের গায়ের টেরাকোটায় ফুল, লতা-পাতা, বাদক, পরি, দেবদেবী, অশ্বারোহী ইত্যাদির নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে ছয়ঘরিয়া জোড়া শিবমন্দির দুটো পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও আগ্রহী দর্শনার্থীরা টেরাকোটার অপূর্ব কাজ দেখতে ছয়ঘরিয়া ছুটে আসেন।

কেওক্রাডং
কেওক্রাডং (Keokradong) পাহাড় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। প্রায় ৩১৭২ ফুট উঁচু এ পর্বতকে এক সময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মনে করা হত কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে পরিমাপে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসাবে এর অবস্থান পঞ্চম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর নিখুঁত উচ্চতা এবং চারপাশের পাহাড়ী ল্যান্ডস্কেপ একে ট্র্যাকার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে একটি স্বর্গরাজ্য বানিয়ে তুলেছে।

খেলারাম দাতার বাড়ি
ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের খেলারাম দাতাকে নিয়ে এই অঞ্চলে বেশকিছু লোককথা প্রচলিত আছে। জানা যায়, খেলারাম দাতা ছিলেন ডাকাত সর্দার। পাশাপাশি বিখ্যাত দানশীল হিসাবেও তার সুনাম ছিল সর্বত্র। গরিব মানুষের সমস্যায় তিনি দ্বিধাহীন ভাবে সাহায্য করতেন।

নবরত্ন মন্দির
নবরত্ন মন্দির (Noborotno Mondir) সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গ্রামে অবস্থিত একটি মধ্যযুগীয় প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন। ১৬৬৪ সালে নায়েবে দেওয়ান রামানাথ ভাদুরী দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির এর অনুকরণে নবরত্ন মন্দিরটি নির্মাণ করেন। নবরত্ন মন্দিরের কাছে কারুকার্যময় একটি শিব মন্দির ও একটি পূজা অর্চনার চন্ডি মন্দির রয়েছে। পোড়ামাটির নকশায় লতাপাতা, ফলমূল এবং দেবদেবীর চিত্র খচিত মন্দিরের ৯ টি চূড়ার জন্য নবরত্ন মন্দির হিসাবে পরিচিতি পায়। বর্গাকার ১৫.৪ মিটার আয়তনের মন্দিরের চারদিকে রয়েছে ইটসুরকির গাঁথুনির দেয়াল। মধ্যযুগীয় শিল্পকর্মে পরিপূর্ণ মন্দিরের পূর্ব দিকে প্রবেশ পথ রয়েছে, আর কুঠুরির উত্তর দিকে আছে সিঁড়ি। নবরত্ন মন্দিরের কেন্দ্রীয় উপাসনা কক্ষের উপরে চারিদিকে বারান্দা দেয়া আরও একটি কক্ষ আছে। এছাড়া নবরত্ন মন্দিরের পাশে অবস্থিত পুকুরকে ঘিরে নানান গল্পকথা প্রচলিত রয়েছে।

রমনা পার্ক
রমনা পার্ক (Ramna Park) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র রমনা এলাকায় অবস্থিত সুনিবিড় ছায়া ঘেরা পরিবেশের একটি মনোরম উদ্যান। প্রতিষ্ঠার সময় অর্থাৎ ১৬১০ সালে রমনা পার্কটি পুরানো হাইকোর্ট ভবন থেকে বর্তমান সড়ক ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কালের বিবর্তনে বর্তমানে এর আয়তন দাঁড়িয়েছে ৬৮.৫০ একরে। প্রতি বছর ছায়ানটের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রমনা পার্কের বটমূলে পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা বাঙালির সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য
সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য (Rema Kalenga Reserved Forest) বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনাঞ্চল হিসাবে খ্যাত। ১৯৮২ সালে প্রায় ১৭৯৫ হেক্টর আয়তনের এ বনভূমি রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত রেমা, কালেঙ্গা ও ছনবাড়ীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের পরিধি বিস্তৃত। রেমা-কালেঙ্গা অভয়াশ্রমে প্রায় ৬৩৮ প্রজাতির বৃক্ষরাজি, প্রায় ৬২ স্তন্যপায়ী, উভচর ও সরীসৃপ প্রাণী এবং প্রায় ১৬৭ প্রজাতির পাখির আবাস।

সাবিত্রী ও রসকদম্ব মিষ্টি
জাতি হিসাবে বাঙালিরা ভোজন প্রিয় এবং এই কথাটি সকল বাঙালিদের ক্ষেত্রেই কম বেশী প্রযোজ্য। কোন স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি সে অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার খাওয়ায় বাঙালীদের জুড়ি মেলা ভার। আবার অঞ্চল ভেদে রয়েছে খাবারের স্বাদের বৈচিত্রতা। মেহেরপুর জেলার তেমনি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নের নাম সাবিত্রী ও রসকদম্ব মিষ্টি (Sabitri and Rosh Kodom Sweet)। ১৮৬১ সাল থেকে সমগ্র বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে গেছে সাবিত্রী ও রসকদম্ব নামের দুইটি রসহীন (নীরস) মিষ্টির সুনাম।

সোহাগ পল্লী
কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সোহাগ পল্লী রিসোর্ট ( Shohagh Polli Resort ) বাংলাদেশের সেরা একটি স্থান। গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে কালামপুর গ্রামে প্রায় ১১ একর জায়গার জায়গা জুড়ে কোলাহল মুক্ত পরিবেশে সবুজের আলিঙ্গনে গড়ে তোলা হয়েছে সোহাগ পল্লী। সোহাগ পল্লীতে নির্মিত ঝুলন্ত সাঁকোর পিলার এবং বেলকনিতে খোঁদাই করা কারুকাজ এখানে আগত অতিথিদের আকর্ষণ করে। এখানে রয়েছে কৃত্রিমভাবে নির্মিত লেক, যেখানে সারা বছরই পানি থাকে আর সেই পানিতে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সোহাগ পল্লীতে আবাসনের জন্য রয়েছে বেশকিছু উন্নতমানের কটেজ। আর কটেজের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া লেক যেন ইতালির ভেনিসের কোন সাজানো গ্রামের প্রতিচ্ছবি।

বগালেক
বগাকাইন লেক বা বগালেক (Bogalake) বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে কেওক্রাডং পাহাড়ের কোল ঘেসে সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ১২০০ ফুট উচ্চতায় ২০০০ বছর আগে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এক হ্রদ। ভূ-তত্ত্ববিদগনের মতে এটি মৃত কোন আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ অথবা উল্কাপিণ্ডের পতনের ফলে এই লেক তৈরী হয়েছে। বগালেক অনেকের কাছে ড্রাগন লেক বলে পরিচিত।

সদরঘাট
সদরঘাট (Sadarghat) বাংলাদেশের ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নদী বন্দর। পদ্মা সেতু চালু হবার পরে যদিও সদরঘাটের জৌলুশ হারিয়েছে তারপরেও বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলা সমূহের যাতায়াতের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই নন্দী বন্দর।