দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি
প্রায় একশত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি (Kirtipasha Zamindar Bari) ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত। ঐতিহাসিক এই জমিদার বাড়িটি ঝালকাঠি জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বর্তমানে জমিদার বাড়ির একটি অংশে রয়েছে প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়। নাটমঞ্চ ও হলরুমে কমলিকন্দ নবীন চন্দ্র বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আর মূল জমিদার বাড়ি ও দূর্গামন্দির লতা-পাতা, জঙ্গলে জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিক বাড়ী
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে গণজাগরণের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিক বাড়ি (Kobi Sukanta Bhattacharya’s House) অবস্থিত। বিপ্লবী তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী। কবি সুকান্ত ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার মহিম হালদার স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নিবারণ ভট্টাচার্য মাদারীপুরের ডাক বিভাগে চাকরি করতেন। ১৯৪৬ সালে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বাবা চাকরি ছেড়ে কলকাতায় চলে যাওয়ার এ বাড়িটি মানব শূন্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বংশের সর্বশেষ পুরুষ দেবেন ভট্টাচার্য সুকান্তের পিতৃব্য ও পিতার ফেলে যাওয়া এই বাড়িটি কিছু দিন আগলে রাখার চেষ্টা করলেও তা অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যায়। এক পর্যায়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্থানীয়ভাবে বাড়িটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়া হয়। ২০১০ সালে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিক বাড়ি সংস্কার করে কবি সুকান্ত পাবলিক লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম গড়ে তোলা হয়।

কমলা রাণী দিঘী
দুর্গাপুর উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ঐতিহ্যবাহী কমলা রাণী দিঘী (Komola Ranir Dighi) অবস্থিত। অনেকের কাছে এটি সাগর দিঘী নামেও সুপরিচিত। প্রচলিত আছে, পনের শতকের শেষ ভাগে সুসং দুর্গাপুরের রাজা জানকি নাথ কমলা দেবী নামে এক সুন্দরী রমনীকে বিয়ে করেন। প্রজা হিতৈষী রাজা জানকি নাথের ঘরে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সন্তানের নাম রাখা হয় রঘুনাথ। প্রজাদের পানির অভাব দূরীকরণের জন্য রাজা জানকি নাথ একটি পুকুর খনন করেন। তবে পুকুরে পানি না উঠায় রাজা চিন্তায় পড়ে গেলেন।

কির্সতং পাহাড়
প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় আর রোমাঞ্চের নাম বান্দরবান । কির্সতং (Kristong) পাহাড় বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় চিম্বুক রেঞ্জের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ২,৯০০ ফুট। ‘কির্সতং’ শব্দটি মারমা ভাষা থেকে এসেছে। ‘কির্স’ মানে একটি বিলুপ্তপ্রায় পাখি এবং ‘তং’ মানে পাহাড়। একসময় এই পাহাড়ের চূড়ায় এই বিরল পাখিগুলো দেখা যেত বলে এর এমন নামকরণ করা হয়েছে। এছারাও এই পাহাড় একসময় ধনেশ পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। ঘন অরণ্যে ঘেরা এই পাহাড়ে এখনও অনেক দুর্লভ পশুপাখির দেখা মেলে। ঘন জঙ্গল, শতবর্ষী বিশাল সব গাছ আর বন্যপরিবেশ কির্সতংকে অন্য সব পাহাড় থেকে আলাদা করেছে। এখানে পৌঁছানোর পথ যেমন দুর্গম, তেমনই রোমাঞ্চকর।

কুলুমছড়া ঝর্ণা
কুলুমছড়া ঝর্ণা (Kulumchora Waterfall) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে অবস্থিত। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে ছুটে চলা এই ঝর্ণার ধবধবে সাদা পানি আর সেই পানির তীব্র স্রোতেই জন্ম নিয়েছে এক অপরূপ পাথুরে ছড়া। এটি ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এক রহস্যময় ও মায়াবী স্থান। সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ‘ বিছনাকান্দি ‘র খুব কাছাকাছি হলেও, কুলুমছড়া অনেকটাই যেন প্রকৃতির এক গোপন ও অচেনা ঝর্ণা। যারা বিছনাকান্দি থেকে হাইকিং করে জাফলং যান, তারা অনেকেই এই ছড়ার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। এই ছড়ার পানির মূল উৎস ভারতের মেঘালয় পাহাড়। ছড়ার সামনে দাঁড়ালে যে গর্জন শোনা যায়, তা মূলত সীমান্ত পেরিয়ে আসা পানির সুর। তাই অনেকে মজা করে বলেন, এখানে এক পা রাখলেই যেন পৌঁছে যাওয়া যায় কুলুমছড়ার জন্মভূমিতে।

কুসুম্বা মসজিদ
কুসুম্বা মসজিদ ( Kusumba Mosque ) নওগাঁ জেলায় অবস্থিত প্রায় সাড়ে চারশত বছর পুরনো একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলাধীন ৮ নং কুসুম্বা ইউনিয়নের কুসুম্বা গ্রামে কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান। নওগাঁ থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং মান্দা উপজেলা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার।

লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট
রাঙ্গামাটি মানেই পাহাড়, ঝরনা আর বিশাল কাপ্তাই হ্রদের এক মায়াবী হাতছানি। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পর্যটন স্পট। কাপ্তাই উপজেলার বালুখালী ইউনিয়ন সংলগ্ন লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট (Lake Paradise Picnic Spot) বর্তমানে পর্যটকদের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, সবুজে ঘেরা পাহাড় আর হ্রদের নীল জলের মাঝখানে অবস্থিত এই স্থানটি প্রকৃতির সেরা উপহার।

লাক্কাতুরা চা বাগান
দুইটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ হিসেবে পরিচিত সিলেট জেলার চৌকিদেখি উপজেলার ওসমানী বিমান বন্দরের উত্তর প্রান্তে টিলার উপর লাক্কাতুরা চা বাগান অবস্থিত। ন্যাশনাল টি বোর্ডের অধীনস্ত এই সরকারী চা বাগান প্রায় ১২৯৩ হেক্টর বা প্রায় ৩২০০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। অসংখ্য চা গাছ ও উঁচু নিচু পাহাড়ে ঘেরা লাক্কাতুরা চা বাগান দেশের বৃহত্তম চা বাগানগুলোর মধ্যে অন্যতম। বছরে এই চা বাগান থেকে উৎপাদিত প্রায় ৫,০০,০০০ কেজি চা দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি
লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি ( Lakutia Zamindar Bari ) দেখতে যেতে হবে বরিশাল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লাকুটিয়া গ্রামে। ১৭০০ সালে রুপচন্দ্র রায়ের পুত্র রাজতন্ত্র রায়ের হাত ধরে ইট পাথর আর সূড়কি গাথুনিতে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে ৪০০ বছরের পুরনো লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি মঠ, সুবিশাল দীঘি, মাঠ এবং কারুকার্যমন্ডিত জমিদার বাড়ি।

লাল শাপলার বিল
গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ বিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মুলত বিলগুলোর বেশিরভাগই হচ্ছে এক ফসলি জমি। এই জমিতে শুধুমাত্র বোরো মৌসুমেই ধান চাষ করা হয়। বর্ষাকালে এসব জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন এসব বিলে প্রাকৃতিকভাবে শোভা ছড়ায় অসংখ্য লাল শাপলা। আর এই বিলগুলোকেই লাল শাপলার বিল (Lal Shapla Bill) বলা হয়।

লালাখাল
লালাখাল (Lalakhal) বিভাগীয় শহর সিলেট জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত। সিলেট থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই লালাখাল নদী ভারতের চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদী, পাহাড়ি বন, চা-বাগান এবং নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি লালাখালের ভূপ্রকৃতিকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। ভরা পূর্ণিমায় জ্যোৎস্না ধোয়া নদী কিংবা মেঘ পাহাড় আর নদীর মিতালী দেখতে আপনাকে লালাখাল ঘুরে আসতে হবে। বর্ষাকালে লালাখালের পানি খুব ঘোলা থাকে তাই নভেম্বর থেকে মার্চ অর্থাৎ শীতকাল হচ্ছে লালাখাল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

লালদীঘি নয় গম্বুজ মসজিদ
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের লালদীঘি এলাকায় ঐতিহাসিক লালদীঘি নয় গম্বুজ মসজিদ (Laldighi Nine Dome Mosque) অবস্থিত। ভারতীয় উপমহাদেশে থাকাকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে এই মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসীন্দাগণ মসজিদটি পরিষ্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে। মসজিদের গায়ে কোন শিলালিপি না থাকায় লালদীঘি মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য জানা যায়নি। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ব্রিটিশ শাসনামলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। আবার শেষ মোগল যুগের স্থাপত্যশৈলীর সাথে মিল থাকায় অনেকে মনে করেন লালদীঘি মসজিদটি ১২১২ সালে নির্মিত। স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রচলিত আছে, একরাতের মধ্যেই মসজিদ ও মসজিদের পুকুর খনন করা হয়েছে।

লালদিয়া বন ও সমুদ্র সৈকত
লালদিয়া বন ও সমুদ্র সৈকত (Laldiya Forest And Sea Beach) বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণে অবস্থিত। সুন্দরবনের বরগুনা (Barguna) অংশে অবস্থিতে হরিণঘাটার ভেতর দিয়ে ঘণ্টা দুয়েক পায়ে হেঁটে এগিয়ে গেলে লালদিয়ার বন চোখে পড়ে। লালদিয়া বনের পূর্ব দিকে বিশখালী এবং পশ্চিম দিক দিয়ে বলেশ্বর নদী বয়ে গেছে। দুই নদী এবং সাগরের মোহনায় ঘেরা এ বনের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে সমুদ্র সৈকত। আয়তনে ছোট হলেও এ সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য্য কোন অংশেও কম নয়। লালদিয়া বনের পাখির কলরব, সমুদ্রের বুনো সৌন্দর্য্য, গাংচিল আর লাল কাকড়ার ছুটে চলা ভ্রমণ পিয়াসী মনকে প্রকৃতির সাথে একাত্ম করে দেয়।

ভাষা আন্দোলন জাদুঘর
বাংলা ভাষার ইতিহাস রক্তক্ষয়ী ত্যাগের ইতিহাস। ১৯৫২ সালে সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউর সহ নাম না জানা আরো অনেক শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই ভাষা অর্জিত হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মৃতি চির স্মরণীয় করে রাখতে ২০১০ সালে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের দ্বিতীয় তলায় ভাষা আন্দোলন জাদুঘর (Language Movement Museum) উদ্বোধন করা হয়।

লাউচাপড়া পিকনিক স্পট
লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র বা লাউচাপড়া পিকনিক স্পট ( Lauchapra Picnic Spot ) বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত ঘেষা জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের পশরা সাজিয়ে থাকা লাউচাপড়ার পাহাড়, অরণ্য, লেক এবং আদিবাসীদের স্বতন্ত্র জীবনধারা দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য জামালপুর জেলা পরিষদ ১৯৯৬ সালে গারো পাহাড়ে ২৬ একর জায়গা জুড়ে ‘নিকা’ পিকনিক স্পট নির্মাণ করে। পিকনিট স্পটের প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর আরও ৬০ ফুট উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। এই ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে সারি সারি সবুজ পাহাড়, মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আর লাউচাপড়া পিকনিক স্পটে শিশুদের জন্য রয়েছে দোলনা, স্লিপার সহ বেশকিছু রাইড এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। পার্কে প্রবেশ করতে দশ টাকা দিয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়।

লেবুর চর
পটুয়াখালী জেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্বে লেবুর চর (Lebur Char) অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে লেবুর চর নেম্বুর চর হিসেবেও পরিচিত। ১০০০ একর আয়তনের লেবুর চরে কেওড়া, গেওয়া, গোরান, কড়ই, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে। অতীতে এটি সুন্দরবনের অংশ হিসাবে থাকলেও বর্তমানে এই চর সুন্দরবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।