দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

কার্জন হল
কার্জন হল (Curzon Hall) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত প্রায় ১১৫ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক ভবন ও পুরাকীর্তি। বর্তমানে কার্জন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান অণুষদের পাঠদানে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯০৪ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল জর্জ কার্জন এই ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর থেকে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত কার্জন হল ঢাকা কলেজ ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হত।

ধর্মপালের গড়
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার দেওনাই নদীর পূর্বতীরে ধর্মপাল ইউনিয়নে গড় ধর্মপাল গ্রামে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নাম ধর্মপালের গড় (Dharmapal Gar)। ১৯৯০ সালে এখানে খনন কাজ শুরু করা হলে তা পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পুনঃখনন করলে ধর্মপাল গড় আবিষ্কৃত হয়।

ডিবির হাওর
ডিবির হাওর ( Dibir Haor ) সিলেটের জৈন্তাপুরে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে ডিবির হাওরের দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার। ইয়াম, ডিবি, হরফকাটা, কেন্দ্রী বিল নামে এখানে মোট চারটি বিল রয়েছে। বর্ষাকালের পর বিলগুলো শাপলার রাজ্যে পরিণত হয়। তখন সমস্ত বিল জুড়ে হাজার হাজার লাল শাপলা ছড়িয়ে থাকে। ভোরে হাজারো লাল শাপলা আলোকিত করে রাখে চারপাশ। প্রকৃতি যেন আপন ইচ্ছের মাধুরীতে লাল শাপলার হাসিতে বিলগুলোকে সাজিয়ে দেয় পরম মমতায়। যেকোনো ভ্রমণপিপাসুদের সারাজীবন মনে রাখার জন্য শাপলা বিলে একটি সকালই যথেষ্ট। ডিবির হাওর তাই শাপলা বিল নামেও সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। এছাড়া এখানে প্রায় দুইশত বছরের পুরাতন একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির রয়েছে। কথিত আছে, জৈন্তা রাজ্যের কোন এক রাজাকে ডিবির হাওরে কোথাও পানিতে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। ধারণা করা হয় তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এ মন্দির নির্মিত হয়েছে। এছাড়া হরফকাটা ও ডিবি বিলের মধ্যস্থলে রাজা রাম সিংহের সমাধিস্থল রয়েছে। শীতকালে এই হাওর জুড়ে অথিতি পাখিদের রাজত্ব শুরু হয়। তখন সাদাবক, জলময়ুরী ও পানকৌড়ি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির কলরবে মুখর হয়ে থাকে ডিবির হাওরের চারপাশ।

ভাসমান পেয়ারা বাজার
ঝালকাঠি, বরিশাল এবং পিরোজপুরের সিমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে উঠেছে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম পেয়ারা বাগান। ঝালকাঠী জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভিমরুলিতে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভাসমান পেয়ারা বাজার (Floating Guava Market) । তিন দিক থেকে আসা খালের মোহনায় বসে ভিমরুলির এই ভাসমান পেয়ারা বাজার। জুলাই, আগস্ট পেয়ারার মৌসুম হলেও মাঝে মাঝে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজার চলে। ভাসমান পেয়ারা বাজার দেখতে আগস্ট মাস সবচেয়ে উপযোগী সময়। সকাল ১১ টার পর পেয়ারা বাজারের ভীড় কমতে থাকে তাই ১১ টার আগে বাজারে যাওয়াই সবচেয়ে ভাল।

ফানসিটি শিশু পার্ক
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফানসিটি শিশু পার্ক (Funcity Amusement Park)। সকল বয়সের মানুষের চিত্তবিনোদনের উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই পার্কটি অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার অন্যতম পিকনিক স্পটে পরিণত হয়েছে। ফানসিটি শিশু পার্কের চমৎকার স্থাপত্য শৈলী এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড আগত দর্শনার্থীদের বিনোদিত করে।

ঘাগুটিয়ার পদ্মবিল
বাংলাদেশে একসময় অনেক জায়গাতেই পদ্মফুলের দেখা গেলেও দিন দিন তা কমে যাচ্ছে। এখানে ব্যতিক্রম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম ঘাগুটিয়ার পদ্মবিল। শত বছর ধরে ১২০ একর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অবস্থিত ঘাগুটিয়ার পদ্মবিলে ফুটে থাকে হাজার হাজার পদ্ম। যখন বিলে জুড়ে পদ্ম ফুটে তা দেখার জন্যে প্রতিবছর প্রকৃতিপ্রেমীরা দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসে।

গলাকাটা মসজিদ
ঝিনাইদহ জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বারোবাজার ইউনিয়নে ঐতিহাসিক গলাকাটা মসজিদ (Golakata Mosjid) অবস্থিত। কালিগঞ্জে মাটি খনন করে প্রাপ্ত ১৯টি সুলতানি আমলের মসজিদের মধ্যে এই মসজিদ অন্যতম। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মাটির ঢিবি খনন করে গলাকাটা মসজিদের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার ও সংস্কার করেন। ধারণা করা হয়, ১৬শ শতকে খান জাহান আলীর আমলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এই মসজিদটি গলাকাটা দীঘি ঢিবি মসজিদ হিসেবেও সুপরিচিত। ৬টি গম্বুজ বিশিষ্ট গলাকাটা মসজিদের দেয়ালগুলো ২৫ ফুট উঁচু এবং ৫ ফুট চওড়া। ৪টি ষষ্ঠকোণাকৃতির পিলারের উপর স্থাপিত বর্গাকৃতি মসজিদে সূচাল খিলান বিশিষ্ট ৩টি পোড়ামাটির প্রবেশদ্বার বিদ্যামান। আর মসজিদের ভিতরে রয়েছে টেরাকোটার অলংকৃত ৩টি অর্ধবৃত্তাকার সুসজ্জিত মেহরাব ও ৮ ফুট উচ্চতার দুইটি কষ্টিপাথরের মিনার।

গুটিয়া মসজিদ
গুটিয়া মসজিদ ( Guthia Mosque ) এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম জামে মসজিদ, যা বরিশাল বিভাগে উজিরপুর থানার গুটিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত। বরিশাল শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে ১৪ একর জমির উপর বিশাল এই মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে। গুটিয়া মসজিদ নামে পরিচিতি পেলেও এর নাম বাইতুল আমান। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর গুঠিয়া ইউনিয়নের এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ এবং ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মাণ শুরু করেন। ২০০৬ সালে গুটিয়া মসজিদ ও ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মাণ শেষ হয়।

হরিণমারী শিব মন্দির
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে হরিণমারী হাটের উপর প্রায় চারশত বছরের প্রাচীন হরিণমারী শিব মন্দির (Harinmari Shiv Temple) অবস্থিত। ত্রিশ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বর্গাকৃতির এই মন্দিরের আয়তন ১৪ x ১৪ ফুট। চারচালা পদ্ধতিতে নির্মিত হরিণমারী শিব মন্দিরের দক্ষিণ দিকে দরজায় পোড়ামাটির ফলকে লতাপাতার নকশাকৃত বিভিন্ন মূর্তির প্রতিকৃতি রয়েছে। আর মন্দিরের পূর্ব দিকে আছে একটি বড় পুকুর। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে হরিণমারী শিব মন্দিরের ছাদ ও অন্যান্য অংশ আজ ধ্বংসের পথে।

রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আম
আঁশবিহীন সুস্বাদু আম হিসেবে রংপুর জেলার হাড়িভাঙ্গা আম (Haribhanga Mango) সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে সমাদৃত। জনপ্রিয় এই আমের উৎস রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছের তেকানি গ্রাম। হাড়িভাঙ্গা আমের নামকরণ নিয়ে বেশ প্রচলিত এক জনশ্রুতি রয়েছে। তেকানি ও তার আশেপাশের এলাকা বরেন্দ্রপ্রবণ অঞ্চল হবার কারণে চারা গাছে পানি দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হতো। সেই সময় নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক বৃক্ষবিলাসী প্রথম এই আমটির গোড়াপত্তন করেছিলেন ।

হাসন রাজার জাদুঘর
হাসন রাজার বাড়ি ও জাদুঘর দেখতে যেতে হবে সুরমা নদীর ঘেঁষা শহর সুনামগঞ্জ (Sunamganj) জেলায়। ১৮৫৪ সালে হাসন রাজা জন্মগ্রহন করেন। এখান থেকেই হাসন রাজা তার অনন্য সব গান রচনা করেন। বর্তমানে এই বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে মিউজিয়াম যা বাড়িটিকে হাসন রাজার জাদুঘর (Hason Raja Museum) হিসাবে পরিচিত করে তুলেছে। হাসন রাজার জাদুঘরের প্রবেশ পথে প্রথমেই চোখে পরে লালন শাহের ছবি। এরপর ১৯৬২ সালে কলকাতার একটি স্টুডিও থেকে সংগ্রহ করা হাসন রাজার একমাত্র আলোকচিত্র দেখতে পাওয়া যায়। যদিও বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা প্রায় ৮-৯ টি ছবি জাদুঘরে রক্ষিত আছে। হাসন রাজার জাদুঘরটি হাসন রাজার স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন জিনিসপত্রের সংগ্রহে যেন জীবন্ত হয়ে আছে।

হামহাম জলপ্রপাত
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে ২০১০ সালের শেষের দিকে পর্যটন গাইড শ্যামল দেববর্মাকে সাথে নিয় একদল পর্যটক হাম হামের এই অনিন্দ্য জলপ্রপাতটি আবিষ্কার করেন। স্থানীয়দের কাছে এই ঝর্ণা চিতা ঝর্ণা হিসাবে পরিচিত, তাদের মতে এই জঙ্গলে আগে চিতা পাওয়া যেত। প্রায় ১৪০ফিট উঁচু এই ঝর্ণার বুনো সৌন্দর্য দেখার জন্যে অনেক কষ্ট স্বীকার করে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে মানুষ ছুটে আসে। শীতকালে তুলনামূলক পানি অনেক কম থাকে তাই বর্ষা কাল হাম হামের বুনো সৌন্দর্য্য দেখার উপযুক্ত সময়।

জগদ্দল বিহার
নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৫২ কিলোমিটার দূরে ধামইরহাট উপজেলার একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান জগদ্দল বিহার (Jagaddal Vihara)। প্রায় নয়শ বছরের প্রাচীন এই স্থাপত্য নিদর্শন স্থানীয়দের কাছে বটকৃষ্ণ জমিদার বাড়ীর ধ্বংসাবশেষ হিসাবেও পরিচিত। মূলত জগদ্দল মহাবিহার ১১শ থেকে ১২শ শতাব্দীর দিকে প্রতিষ্ঠিত একটি বৌদ্ধ বিহার ও শিক্ষা কেন্দ্র। ঐতিহাসিক সূত্র মতে, একাদশ শতকে রাজা রামপাল ভীমকে পরাজিত করে প্রিয় পিতৃভূমি বরেন্দ্র উদ্ধার করে প্রজা সাধারণের জন্য পাহারপুরের কাছে রাজধানী রামাবতী ও শিক্ষা বিস্তারের জন্য জগদ্দল মহাবিহার (বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন। পাল শাসনামলের শেষার্ধে স্থাপিত প্রাচীন বাংলার শিক্ষা ও দীক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ এই বিহারে বিভূতিচন্দ্র, আচার্য দানশীল, আচার্য মোক্ষকর গুপ্ত, শুভাকর গুপ্তের মত খ্যাত নামা পণ্ডিতগণ শিক্ষা গ্রহন এবং গবেষণার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন ধর্মমঙ্গল কাব্যগ্রন্থ ও নীহারঞ্জন রায়ের বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে এই বিহারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

জামালপুর জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ
ঠাকুরগাঁওয়ের জামালপুর ইউনিয়নে রয়েছে ঐতিহাসিক জামালপুর জমিদার বাড়ী। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের তৎকালীন তাজপুর পরগনার রওশন আলীর বংশধর জামাল উদ্দিন এই অঞ্চলের জমিদারিত্ব পেয়ে ১৮৬২ সালে জমিদার বাড়ীর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন কিন্তু জমিদার বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই ১৮৬৭ সালে জামিদার বাড়ির সাথে একটি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মসজিদের নাম রাখা হয় জামালপুর জমিদার বাড়ী জামে মসজিদ (Jamalpur Zamindarbari Jame Mosque) এবং ব্যয়বহুল এই মসজিদ তৈরীর কারণে জমিদার বাড়ির নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়।

যশোরেশ্বরী কালী মন্দির
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত যশোরেশ্বরী কালী মন্দির (Shaktipeeth Shri Jeshoreshwari Kali Temple) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। যশোরেশ্বরী শব্দের অর্থ যশোরের দেবী। সত্য যুগে দক্ষ যজ্ঞের পর সতী মাতা দেহ ত্যাগের পর মহাদেব মৃত দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। বিষ্ণু দেব তাঁর সুদর্শন চক্র কতৃক সতীর দেহ ছেদন করেন। এতে সতী মাতার দেহ খণ্ড গুলো ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। সতী মাতার দেহ খণ্ড যে সকল স্থানে পতিত হয়েছে সেসব স্থানকে শক্তিপীঠ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যশোরেশ্বরী কালী মন্দির তেমনি একটি শক্তিপীঠ।

যশোর রোড
কালীগঞ্জের নলডাঙ্গার জমিদার কালী পোদ্দার ঐতিহাসিক যশোর রোড (Jessore Road) নির্মাণ করেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রমতে, জমিদার কালী পোদ্দারের মা যশোদা দেবী সড়ক পথে গঙ্গাস্নানের ব্রত নেন। এমতাবস্থায় জমিদার তাঁর মায়ের ইচ্ছা পুরণের উদ্দেশ্যে যশোরের কালীগঞ্জ থেকে বর্তমান ভারতের কলকাতার গঙ্গা তীরের কালীঘাট পর্যন্ত সড়কপথ নির্মাণ করেন। কিন্তু রাস্তার নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলেও রাজমাতা যশোদা দেবী প্রখর রোদ ভ্রমণের অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে যশোদা দেবীর পরামর্শক্রমে সড়কের দুই পাশে রেন্ট্রি/কড়ই গাছ রোপণ করা হয়। রাজমাতা যশোদা দেবীর নামানুসারে রাস্তাটিকে যশোর রোড নামকরণ করা হয়। শতবর্ষী সেই সব গাছ আজো যশোর রোডের শোভা বর্ধন করে আসছে।